গল্পের পরবর্তী অংশঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে ১ লিখে সার্চ করুন ।
তামাম বাগদাদ যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। যেদিকে তার নজর যায় কেবল ধূ-ধূ ফাকা মাঠ।
চাদ আলী হাঁটতে হাঁটতে হয়রান হয়ে পড়ে। বিরক্ত হয়। ভাবে হতচ্ছাড়া বুড়াে কি আর থামবে না!
হ্যা, বুড়াে যাদুকর জহুরী এক সময় থমকে দাঁড়াল। ঠোট নেড়ে অনুচ্চ কণ্ঠে কি যেন মন্ত্রটন্ত্র আওড়াল। তাজ্জব ব্যাপার। উন্মুক্ত প্রান্তরে সুবিশাল এক মঞ্জিল গড়ে উঠল।
শুটকি মাছের কারবারী বুড়াে জুরেক-এর বাৎ বিলকুল সাচ্চা। মঞ্জিলটি সােনা আর রুপা দিয়ে তৈরি।
এবার আরও তাজ্জব ব্যাপার ঘটল। বুড়াে জহুরী-খচ্চরটির পিঠে চাপল। চোখের পলকে খচ্চরটি সমেত সে বিলকুল হাফিস হয়ে গেল।
কয়েক মুহূর্ত বাদে বুড়াে জহুরীটি ফিন দৃশ্যমান হ'ল। এক জানলায় দাঁড়িয়ে। একটি বড়সড় থালায় এক লেড়কির সােনার সালােয়ার কামিজ—বিলকুল সাজগােছ, এক জোড়া সােনার জুতা, মাথায় হীরা-জহরৎ খচিত সােনার তাজ।
তাজ্জব ব্যাপার। হাড়গিলা পাখির মাফিক গলা বাড়িয়ে নচ্ছার জহুরী চিল্লিয়ে বলতে লাগল—“শােন কায়রাের লালু। তােমার ডরে নাকি তামাম আরব, ইরাক, ইরান আর পারস্যের আদমি জুজু হয়ে থাকে ? তােমার তাকত একবারটি দেখতে চাই। যদি পার আমার লেড়কির এসব সামানপত্র নিয়ে যাও তাে দেখি। যদি পার তবে আমার বিলকুল সম্পত্তি তােমাকে দিয়ে দেব। আর আমার লেড়কিকে তােমার সাথে শাদী দেব।
চাদ আলী বিবেচনা করে দেখল, জুরেক-এর সঙ্গে তার যে সন্ধি হয়েছে সে কথা তাকে জানানাে দরকার। চাদ আলী জোর করে দিলকে শক্ত করল। বুড়াে জহুরীর কামরায় গেল।
বুড়াে শুধাল-“কি নাম তােমার ? এখানে কোন্ মতলবে এসেছ, বল তাে?
‘আমার নাম চাদ আলী। শুটকি মাছের কারবারী বুড়াে জুরেক-এর এক ভাগ্নী আছে।”
–হ্যা, সাচ্চা বাৎ বটে। —“তার নাম জাইনাব। আমি তাকে শাদী করতে আগ্রহী। বুড়াে যাদুকর জহুরী নীরবে তার বক্তব্য শুনতে লাগল।
চাদ আলী এবার বলল লেকিন সে-বুড়াে শাদীর দেনমােহর হিসাবে আমার কাছে আজব সব সামানপত্র দাবী করেছে।
–‘আজব সামানপত্র? কি? কি সে সামানপত্র ?
-“আপনার লেড়কির ব্যবহারের সােনার সালােয়ার-কামিজ ও অন্যান্য সােনার পােশাক, সােনার জুতাে আর হীরা-জহরৎ খচিত মাথার সােনার তাজ। এসব জোগাড় না করলেই নয়, আশা করি বুঝতে পারছেন।
-তােমার কি এই বিশ্বাস যে চাইলেই আমি দিয়ে দেব? দান খয়রাৎ করার জন্য আমি তৈরি হয়ে বসে নাকি হে?”
—এমন বহুমূল্য সামানপত্র যে কেউ কাউকে এমনিতে দিয়ে দেয় না তা কি আমি বুঝি না। কিভাবে সেগুলাে আমার হাতে আসতে পারে সে-মতলব এঁটে তবেই আমি পা বাড়িয়েছি।'
-মতলব এটেই এসেছ? এ কিরকম বাৎ হ’ল মালুম হচ্ছে না তাে। তবে কি তুমি হাফিস করে দেয়ার ধান্দায় আছ নাকি হে? –হ্যা, চুরি-ডাকাতি যা হােক কিছু তাে করতেই হবে।
-জানের মায়া যদি না কর তবে অবশ্য গােরে যাওয়ার মতলব থাকলে কোশিস করে দেখতে পার। শােন, এসব সর্বনেশে ধান্দা ছেড়ে কাম কাজের ধান্দা কর গে। এর আগে অনেকেই এধান্দা করতে এসে বেঘােরে জান দিয়েছে। তােমারও বিলকুল একই গতি হবে। ইয়াদ রেখাে।
কয়েক মুহূর্তের জন্য যাদুকর বুড়াে জহুরী নীরব হ’ল। তার পর ফিন মুখ খুলল—একটু থাম বেটা, আমি গুণে দেখছি। যদি গণনার ফল দেখা যায় তােমার জান আমারই হাতে যাবে লেখা আছে তবে তােমার দেহ আর মুণ্ডু আলাদা করে ছাড়ব, ইয়াদ রেখাে।
বুড়াে আঁক জোক কেটে গণনা করল। তারপর সে যেন বিলকুল বদলে গেল। এমন ভাব দেখাতে লাগল সে যেন চাঁদ আলীর নিতান্ত অনুগত নােকর। চাঁদ আলীর বাঞ্ছা পূরণ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ল। আদতে এ তার বাহানা মাত্র। কয়েক লহমা পেরােতে না পেরােতেই বুড়াে যাদুকর একদম খেকিয়ে উঠল।
তুমি আমার ওপরে যে-হাত তুলেছ সে-হাতটি পাথর বনে যাক। বিলকুল পাথর বনে যাক।
ব্যস, এক লহমায় চাদ আলীর হাত থেকে তরবারিটি' টপ করে খসে পড়ল। হাতটি কেমন নিঃসার হতে লাগল। সে চোখের পলকে বাঁ-হাতে তরবারিটি তুলে নিল। বুড়াে যাদুকর এবার বলল –তােমার ডান-হাতের মত বাঁ-হাতটিও পাথর বনে যাক।
ব্যস, তার বাঁ-হাতের তরবারিটিও খসে পড়ল। চাদ আলী রাগে বিলকুল ফেঁটে পড়ার জোগাড় হ’ল। আচমকা সে বুড়াে ইহুদী যাদুকরের তলপেটে সজোরে এক লাথি মারল। বুড়াে লুটিয়ে পড়ল। মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। এবার বলল—“তােমার ডান-পাটিও পাথর বনে যাক। চাদ আলীর ডান পা পাথর বনে যাওয়ায় সে একমাত্র বাঁ-পায়ের ওপর নির্ভর করে। খাড়া হয়ে রইল।
এমন সময় ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
চারশ’ বাষট্টিতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বাদশাহ শারিয়ার উপস্থিত হলে বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন জাহাপনা, যাদুকর বুড়াের যাদুবিদ্যার বলে চাদ আলী তার দুটো হাত এবং ডানপা হারাল। সে বিলকুল পাথর বনে যা নিতে বল ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতি প্রয়াস চালাল। ব্যর্থ প্রয়।
বড়াে যাদুকর বিশ্রী সুরে হেসে বল্ল-কি বুঝলে? এবার কি করবে। এখনও কি আমার লেড়কির সামানপত্র হাফিস মতলব আছে?' কথা ক’টি বলে তামাটে দাঁতগুলাে বের ক বুড়াে ফিন ফিক ফিক করে হাসতে লাগল। | আলী অসহায় দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে করুণ স্বরে বলল—“আমি | এখন বেকায়দায় পড়ে নাজেহাল হচ্ছি বটে। বিলকুল অসহায় লেকিন আমার মতলব থেকে এক তিলও সরছি না। ফিকির কিছু বের করতেই হবে। জাইনাব আমার চোখের মণি। আমার বর্তমান-ভবিষ্যৎ—সবকিছু। তাকে আমার বুকে পেতেই হবে। জান কবুল করেও তাকে পেতেই হবে। তাই আপনার লেড়কির সামানপত্র যে করেই হােক আমাকে হাতাতেই হবে।
যাদুকর বুড়াের মুখে আবার বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। ব্যঙ্গের স্বরে বলল—সে না হয় আমার লেড়কির সামানপত্র গায়েব করলে। আমি ভাবছি অন্য কথা। তুমি কায়রাের শের। এমন মান ইজ্জৎ যার সে কি এতগুলাে সামানপত্র নিজে কাধে করে বইবে নাকি! ইজ্জৎ বিলকুল পথে লুটাবে যে! তার চেয়ে বরং তােমাকে একটি খচ্চর বানিয়ে দিচ্ছি। তখন পিঠে সামানপত্র বইলে কেউ আর মস্করা করবে না। কথা বলতে বলতে বুড়াে এক গণ্ডুষ পানি নিল। বিড়বিড় করে কি সব মন্ত্র আওড়ে তা চাদ আলীর ওপর দিল ছিটিয়ে। ব্যস, সে বিলকুল এক খচ্চর বনে গেল।
যাদুকর বুড়াে ফিক ফিক করে হেসে এবার খচ্চররূপী চাদ আলীর দিকে তাকিয়ে বলল —বহুৎ আচ্ছা! খুবসুরৎ এক খচ্চর বনে গেছে। বিলকুল আদৎ খচ্চর! তােমার সুরৎ নিজে যদি দেখতে পারতে একদম তাজ্জব বনে যেতে।
চাদ আলী ভেতরে ভেতরে ফুসতে লাগল। গাধা বনার সঙ্গে সঙ্গে সে মুখের ভাষাও হারিয়ে ফেলল। তার কলিজার জ্বালা, তার আশা-হতাশা—কিছুই প্রকাশ করতে পারল না। যাদুকর এবার এক টুকরাে কয়লা দিয়ে চাঁদ আলীর চার দিকে একটি বৃত্ত এঁকে তাকে বন্দী করে ফেলল। দিল চাইলেও যাতে দৌড়ে পালাবার ধান্দা করতে না পারে।
চাদ আলী তামাম রাত্রি ফাঁকা জায়গায় অসহায়ভাবে খাড়া হয়েই গুজরান করে দিল। থেকে থেকে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া সে কিছুই করতে পারল না।
সকাল হ'ল। যাদুকর বুড়াে নিচে নেমে এল। তার পরনে বেরােবার সাজ পােশাক। খচ্চররূপী চাদ আলীর পিঠে চেপে এবার তাকে তাড়িয়ে নিয়ে চলল। পথে যেতে যেতে বলল - “ ‘একটু-আধটু ফয়দা তাে হ’ল। আমার বুড়াে খচ্চরটি একটি দিনের জন্য বিলকুল রেহাই পেল। পা ছড়িয়ে শুয়ে আরাম করতে পারল। আর তােমাকে হাটে বেচে কিছু আয় উপার্জনের ফিকির করে নিতে পারব।
খচ্চররূপী চাদ আলীর মুখে ভাষা নেই। সে দীর্ঘশ্বাস আর চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বুড়াে যাদুকরকে পিঠে বয়ে নিয়ে। বাজারের পথে নীরবে হাঁটতে লাগল। মুহূর্তে একদম হাফিস হয়ে গেল।
বদ্ধ যাদুকর জহুরী অন্যদিন যে-জায়গায় তার খচ্চরটিকে বেঁধে বাখত আজ সে-জায়গাতেই চাদ আলীকে বাঁধল। জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের মাফিক টকটকে লাল সূর্যটিকে মাথার ওপরে নিয়ে দিনভর সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। মাঝে একবার একটি গামলায় কিছু শুকনাে ছােলা দিয়ে গেল। ব্যস, খানাপিনা বলতে এটুকুই।।
খচ্চররূপী চাদ আলী টুলটুল করে তাকিয়ে দেখল, বুড়াে জহুরী দিনভর নিক্তিতে সােনা ওজন করে করে বস্তা বােঝাই করল। চাদ আলীর থেকে থেকে বিকট স্বরে চিৎকার করে নিজের অস্তিত্ব ঘােষণা করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। দিনের শেষে ধৈর্য ধরতে না পেরে গামলা থেকে পানি মুখে করে নিয়ে বৃদ্ধ জহুরীর গায়ে বার কয়েক ছিটিয়ে দিল।
বৃদ্ধ জহুরী দাঁত-মুখ খিচিয়ে উঠল—“শয়তান বেতমিস কাহিকার! দাঁড়াও তােমার মস্করা বের করছি।
বিকালের দিকে এক ইহুদী লেড়কা জহুরী আজারিয়াহর দোকানে ঢুকল। বল্ল-জহুরী সাহাব, বড় মুশকিলে পড়ে আপনার কাছে ছুটে এলাম। আমার ব্যবসা বিলকুল লাটে উঠে গেছে। বালবাচ্চা নিয়ে উপােষ যাবার ফিকির হয়েছে। আমার বিবির এক জোড়া বাজু নিয়ে এসেছি। বেচে দেব, হিসাব কষে যা হয় দিন। তা দিয়ে একটি গাধা আর ভিস্তি কিনব। ভেবেছি মহল্লার আদমীদের দুয়ারে দুয়ারে ঢুঁড়ে পানি বেচে বালবাচ্চাকে টিকিয়ে রাখব।
বৃদ্ধ জহুরী তার দিকে এক লহমায় তাকিয়ে নিয়ে বল্ল“বেটা, তােমাকে একদম পানির দামে এ-খচ্চরটি দিতে পারি। লেকিন এক শর্তে—এর পিঠে বড় বড় বােঝা চাপিয়ে কাজ করাতে হবে। একদম নটখট খচ্চর। গোঁত্তা মারলেও নড়তে চড়তে চায় না ।
হরদম চাবুক চালাতে হবে, রাজী? যদি কসম খাও হরবখত ওকে দিয়ে মাল বওয়াবে আর পিটবে তবে মাগনাও আমি দিয়ে দিতে রাজী।
—“আমি কসম খাচ্ছি জহুরী সাহাব, এমন বেধড়ক চাবুক চালাব যে, একদম চৌদ্দপুরুষের নাম ভুলে যাবে।”
বিনা পয়সায় নাদুস নুদুস একটি খচ্চরের মালিকানা লাভ করে ইহুদী লেড়কাটি যেন আশমানের চাঁদ হাতের মুঠোয় পেয়ে গেল। খচ্চররূপী চাঁদ আলীর পিঠে চেপে খুশীতে নাচতে নাচতে সে নিজের মকানে ফিরে গেল।
ইহুদী লেড়কা চাঁদ আলীকে তার মকানে নিয়ে গেলে তার বিবি আদর করে ছােলা খাওয়াতে গেল। খচ্চরের যা কাজ চাদ আলী তা-ই করে বসল। মারল সজোরে এক লাথি। সে ছিটকে গিয়ে পড়ল কয়েক হাত দূরে। বিলকুল চিৎ। ওঠার হিম্মৎ রইল না। এবার নিজের বুকের নিচে জেনানাটিকে বিলকুল চেপে ধরে জিভ দিয়ে তার তুলতুলে নরম গাল দুটো পরম তৃপ্তিতে চাটতে লাগল।
আচমকা আছাড় খেয়ে পড়ায় জেনানাটির কাপড় একদম জায়গা মাফিক রইল না। অর্ধ উলঙ্গ হয়ে পড়ল। খচ্চরটির কান্মােদনাটুকু তার অভিজ্ঞ চোখে সহজেই ধরা পড়ল। আঁৎকে উঠল। ডরে সরে যাওয়ার কোশিস করল। লেকিন খচ্চরটি সামনের পা দুটো দিয়ে তার কোমরের কাছে সাঁড়াশীর মাফিক এমন আঁকড়ে ধরল যে, তার আর নড়াচড়ার ফিকিরটুকুও রইল না ।
জেনানাটি বিকট চিলাচল্লি শুরু করে দিল। মহল্লায় কয়েকজন নওজোয়ান ছুটে এসে ইহুদী লেড়কিটিকে সাহায্য করল। সবাই মিলে বেধড়ক পিটে কামােন্মাদ খচ্চরটির কবল থেকে তাকে উদ্ধার করল।
একটু সুস্থ হয়ে জেনানাটি তার স্বামীর ওপর চটে একদম ব্যোম হয়ে গেল। সে-গােসসায় কাপতে কাপতে বলল—“তােমার মাফিক ভীতু স্বামীর ঘর করার আর দরকার নেই আমার। একটি খচ্চরের কবল থেকে যে বিবিকে উদ্ধার করতে পারে না, ইজ্জত বাঁচাতে পারে না এরকম মরদে আমার কাজ নেই। মহল্লার নওজোয়ানরা লাঠিসােঠা নিয়ে না এলে জানােয়ারটির লালচ থেকে আমাকে রক্ষা করার হিম্মৎ তােমার ছিল! কামজ্বালা মেটাতে গিয়ে সে আমাকে বিলকুল ছিড়ে-ফাটিয়ে দিত!
জহুরী লেড়কাটি বিবির হালৎ দেখে ডরে কাপতে লাগল। জেনানাটি এবার বলল - আমাকে রাখতে হলে একটিমাত্র পথই তােমার সামনে খােলা রয়েছে। খচ্চরটিকে মকান থেকে তাড়িয়ে দিতেই হবে। নইলে আমি তিন তালাক দিয়ে তােমার কাছ থেকে একদম দূরে সরে যাব। তােমার সংসার আর করছি না।'
ইহুদী লেড়কাটি এবার খচ্চরটিকে নিয়ে সােজা ইহুদী জহুরী আজারিয়াহর দোকানে হাজির হ’ল। উদ্ভূত সমস্যার কাহিনী তার কাছে ব্যক্ত করে খচ্চরটিকে ফেরৎ দিয়ে ফিরে গেল।
বৃদ্ধ ইহুদী এবার খচ্চররূপী চাদ আলীর পিঠে সােনার বস্তা চাপিয়ে বেধড়ক চাবুক চালাতে চালাতে নিজের মকানে ফিরে গেল। তাকে মকানে নিয়ে এসেই বৃদ্ধ জহুরী একটি পাচন দিয়ে বেধড়ক পিটতে শুরু করল। তারপর মন্ত্রঃপূত পানি ছিটিয়ে ফিন পূর্বের দেহ দান করল।
চাদ আলী ভেতরে ভেতরে ফুসতে লাগল।
বৃদ্ধ জহুরী বলল —এবার বল, তােমার মতিগতির কোন পরিবর্তন হয়েছে কি ?’ চাদ আলী ফোস করে ওঠে—‘আমার জান থাকতে মত পাল্টাচ্ছি না। যা একবার স্থির করেছি তা আমি করবই করব।' তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েই সে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ার মতলব করল। বৃদ্ধ তার মতলব ঠাহর করতে পেরে মন্ত্রঃপূত পানি ছিটিয়ে তাকে একটি ভল্লুকে পরিণত করে দিল। ইয়া মােটা একটি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখল। সকালে দোকানে নিয়ে গেল। একটি খুটির সঙ্গে বেঁধে রেখে দোকানদারী করতে লাগল।
বাজারের ক্রেতাদের একজন বৃদ্ধ জহুরীর কাছে ভল্লুকটিকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে বৃদ্ধ জহুরীকে বলল—“আমার বিবির কঠিন বিমারি হয়েছে। হেকিম দেখিয়েছি। তিনি বলেছেন, ভল্লুকের মাংস খাওয়ালে আর ভল্লুকের চবি দু' বেলা গায়ে মাখালে নাকি বিমারি সেরে যাবে।”
বৃদ্ধ জহুরী তাকে বেচতে রাজী হ’ল একটি মাত্র শর্তে আজই তাকে জবাই করতে হবে।
আগ্রহী ক্রেতাটি এক বাক্যে তার শর্ত মেনে নিল।
শেষে আর দাম দস্তুরের দরকার হল না। বৃদ্ধ জহুরী মাগনাই তাকে ভল্লুকটি দিয়ে দিল। সে আদমি খুশীতে নাচতে ভাল্লুকটি নিয়ে নিজের মকানে ফিরল। এবার সে জবাইয়ের প্রস্তুতি নিতে লাগল। এ তাে আর বকরি টকরি নয় যে যে কোন একটি ছুরি দিয়েই জবাইয়ের কাজ সেরে ফেলা যাবে। সে মহল্লারই এক দোস্তের ঘর থেকে বেশ বড়সড় ছুরি ধার করে এনে শান দিতে গিয়ে বিবির কাছে মন্তব্য করল-“কী তাগড়াই ভল্লুকটি। গোস্ত হবে বহুৎ তােমার বিমারির ইলাজ ভালভাবেই হয়ে যাবে।
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে যে কোন জানােয়ারের গায়ে হাতীর বল আসে। চাদ আলীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হল না। সে এক ঝটকায় আদমিটিকে ফেলে দিয়ে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে লাগল। সােজা বৃদ্ধ জহুরীর মকানে ফিরে এল।
বদ্ধতাে চাদ আলীর কাণ্ড দেখে তাজ্জব বনে গেল। সে বলল —“তুমি যখন জান নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছ তখন আমি তােমাকে আর একটি সুযােগ দেব। লেকিন তুমি যদি আগের মাফিকই গো ধরে বসে থাক তবে আমি অসহায়।
বৃদ্ধ এবার মন্ত্রঃপূত পানি ছিটিয়ে তাকে ফিন আদমির রূপ দান করল। তারপর তার লেড়কি কামরকে তলব করে বলল —এ নওজোয়ানের সঙ্গে বাৎচিৎ কর।
আলী উদ্ভিন্ন যৌবনা বৃদ্ধ জহুরীর লেড়কি কামর-এর সুরৎ দেখে ভিমরি খাওয়ার জোগাড় হ’ল। তার দেহে যৌবনের ঢল নেমেছে। এমন যৌবনের চিহ্নযুক্ত কোন লেড়কিকে সে জিন্দেগীতে দেখে নি।
বৃদ্ধ যাদুকর জহুরীর লেড়কিও চাদ আলীর সুরৎ দেখে মুগ্ধ হয়। এমন লম্বা-চওড়া নওজোয়ান, এমন সুঠাম দেহ আর এমন তাগৎ কোন পুরুষের দেহে যে থাকতে পারে আগে তার জানা ছিল না ।
খুবসুরৎ লেড়কি কামর মুখে কলিজা-নাচানাে হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে বলল—‘সাহাব, এক সাচ্চা বাৎ তােমার মুখ থেকে শুনতে চাই। তুমি কি কেবলমাত্র আমার গহনাপত্র আর সাজপােশাক পেলেই খুশী, আমাকে পাবার লােভ নেই ?
-তােমার গহনাপত্র আর সাজ পােশাকই আমার একমাত্র কাম্য। এগুলাের বিনিময়ে আমি আমার চোখের মণি জাইনাব কে আপন করে পেতে চাই। এগুলাে হাজির না করতে পারলে আমার
0 Comments