গল্পের পরবর্তী অংশঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে ১ লিখে সার্চ করুন ।
এদিক-ওদিক তাকাল। লেড়কি জাইনাব-এর দিকে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে গেল। মাথা ভারী। ঝিমঝিম করছে। নিঃসন্দেহ হ'ল। গত রাত্রে নির্ঘাৎ কেউ না কেউ খানা বা সরাবের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল।
চটজলদি বিছানা ছেড়ে উঠে সালােয়ার-কামিজ পরে নিল। এক লাফে বাইরে বেরিয়ে এল। থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। খলিফার সংবাদবাহী কবুতরগুলাে কে যেন হাফিস করে দিয়েছে। খলিফা জানতে পারলে জান খতম করে দেবেন। এখন উপায়? কোন ফন্দি ফিকিরই মাথা দিয়ে বেরলাে না।
ডিলাইলাহ এবার দৌড়ে নিচে গেল। দেখল কুকুরগুলাে এক একটি এখানে-ওখানে পা ছাড়িয়ে বেহুস হয়ে পড়ে।
ডিলাইলাহ-র দিমাক খারাপ হয়ে যাবার জোগাড় হ’ল। উন্মাদিনীর মাফিক নিগ্রো চৌকিদারদের ওখানে গেল। এদেরও একই হালৎ। কারােরই হুঁস নাই।
ডিলাইলাহ এবার তার একমাত্র লেড়কির ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে লাগল। তবে কি- - -তবে কি জাইনাব-এর কুমারীত্ব নষ্ট করার জন্যই কোন শয়তান লােচ্চার এ-পথ অবলম্বন করেছে ?
সে এবার বিবস্ত্রা বেহুস জাইনাব-এর পাশে এসে বসল। তার নিম্নাঙ্গ ভালভাবে পরীক্ষা করল। খুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল সব কিছু।
, তার কুমারীত্ব অক্ষুন্নই রয়েছে মালুম হচ্ছে। তবে তার সমুন্নত স্তন দুটোর গায়ে কেমন যেন লালচে ছােপ, দীর্ঘ সময় ধরে দলাই মলাই করলে ঠিক যেমনটি হয়ে থাকে। আর ? ঠোট দুটোতে যেন খুন জমে গেছে। ব্যস্ততার সঙ্গে চুম্বন করতে গিয়ে এক জায়গায় সামান্য কাটা। দাঁতের দাগ। তবে সর্বনাশ বলতে যা বুঝায় তেমন কিছু করে নি। খােদা ভরসা। এমন সুযােগ পেয়েও এর মাফিক খুবসুরৎ এক উদ্ভিন্ন যৌবনা লেড়কির ইজ্জৎ না নিয়েই শয়তানটি কেন যে বিদায় নিয়েছে বহু ভাবনা চিন্তা করেও ডিলাইলাহ.তার কিনারা করতে পারল না। খােদাতাল্লার মেহেরবানি না থাকলে এমনটি কিছুতেই হতে পারে না।
ডিলাইলাহ যখন তার লেড়কির বিবস্ত্র দেহের কাছে বসে আশমান-জমিন ভেবে চলছিল তখন তার হঠাৎ নজরে পড়ে তার মাথার কাছে রক্ষিত এক চিলতে কাগজ। তাতে কয়েক ছত্র লেখা —“কায়রাের চাদ আলী আমি। তামাম কায়রাে ঢুঁড়লেও আমার সমান সাহসী ও যােদ্ধা দ্বিতীয় একটি মিলবে না। এমন কি বাগদাদেও না পাওয়ারই কথা। এমন অসীম শক্তি-সাহসের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সবাই আমাকে সভ্য ভব্য বলেই জ্ঞান করে। তুমিও নিশ্চয়ই তা দিল থেকে মেনে নেবে যখন বুঝবে। তােমাকে বিলকুল হাতের মুঠোয় পেয়েও আমি তােমার কুমারীত্ব হরণ করি নি। আমার দিল কলিজাই আমাকে এরকমটি করার নির্দেশ দিয়েছে।” ডিলাইলাহ চিঠিটি পড়ে এত দুঃখের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে যার পর নাই খুশী হ'ল।
এক সময় জাইনাব-এর নিদ টুটল। ডিলাইলাহ লেড়কি’কে সব খােলসা করে বলল ।
লেড়কির সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে বাৎচিৎ করতে করতে এক সময় সে বলল —“বেটি, লেড়কাটি ইমানদার বটে। তাের ইজ্জৎ নেয় নি। তুই যখন নিদে বেহুস হয়েছিলি তখন আমি তাের সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। আমাদের সব কিছু চুরি করেছে বটে। লেকিন তাের ইজ্জৎ চুরি করে নি। কেবলমাত্র এটুকুর জন্যই আমাদের উচিত তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকা। খলিফা আমার বিচার করবেন, আমার অজানা নয়। তবু তাকে ঠগ জোচ্চর জ্ঞান করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দিল্ উদার। সে সাচমুচ মহৎ। নইলে কামতৃষ্ণাকে এমন করে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
তার লেড়কি জাইনাব গম্ভীর মুখে সালােয়ার-কামিজ পরতে লাগল।
ডিলাইলাহ মকান ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল চাদ আলী-র তাল্লাশে। হাজির হ’ল হাসান-এর মকানে। দরওয়াজার কড়া নাড়তেই চাদ আলী শিটকিনি খুলে সামনে দাঁড়াল। ডিলাইলাহ এক লহমায় চাদ আলীর মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে মুচকি হাসল।
হাসান কুরশীতে বসে নাস্তা সারতে ব্যস্ত ছিল। ঘাড় ঘুরিয়ে ডিলাইলাহ’কে দেখেই হেসে স্বাগত জানাল। কুরশী দেখিয়ে বলল-মেহেরবানি করে বসুন। আমরা কবুতরের গােস্ত দিয়ে নাস্তা... ডিলাইলাহ সচকিত হয়ে, চোখ দুটো কপালে তুলে বলল—কবুতরের গােস্ত ! আপনাদের বিবেকে এতটুকুও বাঁধল না। খলিফার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সংবাদবাহী কবুতরগুলােকে চুরি করে এনে--
হাসান যেন একদম আশমান থেকে জমিনে পড়ল। চোখ দুটো কপালে তুলে বল্ল-কবুতর! খলিফার কবুতর। আপনার চিড়িয়াখানা থেকে খলিফার কবুতরকে চুরি করেছে? কি যা-তা বকছেন, বলুন তাে?'
ডিলাইলাহ মুখ বিকৃত করে বলে উঠল—“ন্যাকামি করছেন, মালুম হচ্ছে। যেন কিছুই জানেন না, কে, কবে চুরি করেছে? চাদ আলীকায়রাের গুণ্ডা চুরি করে ভেগেছে।
—“ইয়া আল্লাহ! এ কী বাৎ শােনালেন? খলিফার সংবাদবাহী কবুতর! আমি তাে জানতাম সাধারণ, জঙ্গলী কবুতর। এতগুলাে কবুতর কেটে রসুইখানায়।
–‘বাজে ধান্দা ছাড়ুন! আমার কবুতর আমাকে ফিরিয়ে দিন। নইলে খলিফা আমার গর্দান নিয়ে ছাড়বেন। জান একদম খতম করে দেবেন।
হাসান এবার মােওকা বুঝে আদত মতলবটি ডিলাইলাহর কাছে তুলে ধরল—“শুনুন, কবুতর আমি ফিরিয়ে দিতে পারি। লেকিন আপনাকে তার বিনিময়ে আমার ছােট্ট একটি অনুরােধ রাখতে হবে। একে শর্তও বলতে পারেন।'
‘অনুরােধ? কি সে-অনুরােধ? কি সে-শর্ত ?
–‘চাঁদ আলীর সঙ্গে আপনার লেড়কির শাদী দিতে হবে, বলুন রাজী?'
বৃদ্ধা ডিলাইলাহ সােল্লাসে বলে উঠল—“আরে এ যে আমারই ইচ্ছা আপনার মুখ দিয়ে প্রকাশ পেল। বহুৎ আচ্ছা বহুৎ আচ্ছা প্রস্তাব। লেকিন।
তার মুখের বাৎ ছিনিয়ে নিয়ে হাসান বলল —এতে লেকিন টেকিনের সুযােগ নেই। বলুন, রাজী কি না?
—“ওই যে বললাম, আমি তাে এক পায়ে খাড়া। লেকিন লেড়কির আমার বয়স হয়েছে। তার নিজেরও তো মতামত থাকতে পারে। সে রাজী হলে আমি অবশ্যই খুশী হ’ব। লেকিন এতেও সমস্যা থেকে যায়। আমার বড়-ভাইয়া জুরেক-এর মতামতেরও দাম দিতে হয়। তবে আমি অবশ্যই আমার বেটি ও বড়-ভাইয়াকে বুঝিয়ে শুনিয়ে পথে আনার সাধ্যাতীত কোশিসই করব।”
হাসান এবার আশ্বস্ত হয়ে তার কবুতরের পিঞ্জরটি ফিরিয়ে দিল।
ডিলাইলাহ কবুতর নিয়ে নিজের মকানে ফিরল। জাইনাব’কে তলব করল। সে এলে সােল্লাসে বলল-“বেটি, তাের জন্য বহুৎ বড়িয়া এক খবর নিয়ে এসেছি!
জাইনাব – কুঁচকে বলল—বড়িয়া খবর ? কি সে-খবর আম্মা?’
চাদ আলী খুবসুরৎ লেডকা। হাজারাে গুণ তার। সে তোকে শাদী করতে চায়। আমি বলছি তাকে পেলে তাের নসীব খুলে যাবে।
–‘তােমার যখন দিলে ধরে গেছে তখন আমার আর কি বলার থাকতে পারে। আমার জিন্দেগী নিয়ে তােমার চেয়ে ভাল কে আর এ বুঝবে?’
লেড়কির মত পেয়ে ডিলাইলাহ এবার ছুটল তার বড়-ভাইয়ার কাছে।
আলী হাসানও চাদ আলীর ব্যাপারটি নিয়ে কম ভাবিত নয় সে তৎপরতার সঙ্গে একের পর এক ধাপ এগিয়ে চলল ।
ডিলাইলাহর বড় ভাইয়া শুটকিমাছের কারবারী। এক সময় শরীরে যখন তাকত ছিল, খুনের জোর ছিল তখন সে তামাম বাগদাদ নগরে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই আর খুন জখমের ব্যাপারে তার সমান কেউ ছিল না। এখন শুটকিমাছ সামনে নিয়ে জবুথবু হয়ে বসে থাকে। গুণ্ডা মস্তানরা বে-- কায়দায় পড়লে তার কাছে ছুটে আসে। শলাপরামর্শ করে। কাজ হাসিলের কায়দা কসরৎ জেনে যায় ।
আলী হাসান দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে—চাদ আলী, জুরেক আজ বুড়াে হয়েছে সত্য। চলাফেরা দৌড় ঝাপের হিম্মৎ আজ আর তার নেই। লেকিন বুড়াে হাড়েও সে আজ ভেল্কী দেখাতে পারে। আমরা আজও তার নাম শুনলে থমকে যাই। তার কাছে জাইনাব’কে শাদী করার প্রস্তাব দিয়ে কোন ফয়দা হবে বলে আমার অন্ততঃ বিশ্বাস হচ্ছে না। তােমার এই তাে বয়স চাদ আলী। তােমার জায়গায় আমি হলে কিন্তু ঐ লেড়কির তােয়াক্কাই করতাম না ।
জাইনাব সাচ্চা আগুনের হল্কা। এক লহমায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেবে। তার চেয়ে বরং তুমি এসব ধান্দা দিল থেকে মুছে ফেল। ভবিষ্যতে জাইনাব-এর চেয়ে খুবসুরৎ লেড়কি ঠিক জুটে যাবে। দিল থেকে তাকে একদম মুছে ফেল।'
–না, ওস্তাদ। সে যে হবার নয়। তার খুবসুরৎ মুখাবয়ব, তার হরিণের মাফিক চপল চাপল চাহনি যে আমার পক্ষে দিল থেকে মুছে ফেলা কিছুতেই সম্ভব নয়। শত কোশিস করলেও পারব না। তাকে বুকে না পেলে আমার জিন্দেগী একদম বরবাদ হয়ে যাবে।
—“ছায়ার পিছনে মিছে ছুটে কি ফয়দা হবে?
–‘আমি এর যা হােক হিল্লে করে ছাড়বই। জুরেক-এর দোকানে আমি যাবই। দেখাই যাক না তার মতিগতি কি? “আমি বললাম” ।
চাদ আলী কামরা ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
চারশ’ আটান্নতম রজনী
চাঁদ আলী হন্তদন্ত হয়ে বাজারে ঢুকল। তল্লাশী চালিয়ে জুরেক'কে বের করল। হাড্ডিসার এক বুড়াে। শুটকি মাছের পাহাড়ের মাঝে বসে। চাঁদ আলী দোকানের সামনে দাঁড়াতেই বুড়াে নিস্তেজ চোখের মণি দুটো মেলে তাকাল। ক্ষীণকণ্ঠে বলল
--মতলব কি হে?'
-“আপনার ভাগ্নীকে আমি শাদী করতে চাই। তার মত হয়তাে পাওয়া যাবে। আপনি রাজী হয়ে যান। আমাদের শাদীনিকার বন্দোবস্ত করে দিন।
--আমার ভাগ্নী জাইনাব? বহুৎ আচ্ছা। লেকিন মিঞার পেশা কি?
-বডিয়া ধান্দার কারবারী। আপনি তাে এ-ধান্দার শিরােমণি ছিলেন এক সময়। আপনার পুরনাে বিষয় সমাচার আমি জানি। আপনার বহিন ও ভাগ্নীও এখন আপনার সে-কারবারে হাত পাকিয়েছেন। ছলচাতুরী ও জোচ্চোরিতে তারা বাগদাদ নগরের মধ্যে সেরা। আর আমার হিম্মতের নমুনা খুব কমই আমি তাদের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমার নিজের মূলক কায়রাের আদমি আমার হিম্মতের পরিচয় বহুবারই পেয়েছে। আর তাতে আয়-আমদানিও কম হয় না।'
বুড়াে আড়চোখে তাকায়। তারপর স্বাভাবিক কণ্ঠেই বলে–হ্যা, বহুৎ আচ্ছা। লেকিন তােমার হিম্মতের পরিচয় যে কিছু আমি পেতে চাই মিঞা সাব।
—“পরিচয়। জরুর দেখাব। লেকিন কিভাবে আমার হিম্মতের পরিচয় দেব? কিভাবে আপনাকে আমি খুশী করতে পারি খােলসা করে বলুন?
—“অর্থ কড়ির ব্যাপার স্যাপার সম্বন্ধে বলছি। শাদী করলে দেনমােহর মেটাতে হবে তাে?”
‘জরুর দেব। কিভাবে তা পেতে চান ?
-শােন বেটা, এনগরে এক ইহুদী জহুরী বাস করে। যাদু বিদ্যায় পারদর্শী। আজারিয়াহ তার নাম। তার একটিমাত্র লেড়কি। তার এক প্রস্ত সােনার পােশাক, এক জোড়া সােনার জুতা, একটি সােনার তাজ আর কিছু হীরা-জহরতের গহনাপত্র রয়েছে। আমার ভাগ্নীকে শাদী করতে হলে ওইসব দেনমােহর হিসাবে দিতে হবে। হিম্মত যদি থাকে রাজী হয়ে যাও।
–‘জরুর পারব। আমার কাছে এ কোন ব্যাপারই নয়।
—“ইহুদী জহুরী যাদু জানে বললামই তাে। সােনা আর রুপা দিয়ে তৈরি ইয়া পেল্লাই এক মঞ্জিলে সে থাকে। নগর থেকে দূরবর্তী এক মাঠে সে-মঞ্জিল। ধারে কাছে কোন বসতি নেই। তাজ্জব ব্যাপার কি শােন, দিনের আলাে তার মঞ্জিলটির হদিস আজ পর্যন্ত কেউ-ই পায় নি। যাদু মন্ত্রের সাহায্যে মঞ্জিলটিকে অদৃশ্য করে দিয়ে তবে সে সকালে দোকানে আসে। ফলে চোর, ডাকাত বা গুণ্ডারা মঞ্জিল থেকে সামানপত্র গায়েব করতে পারে না।
বুঝছ মঞ্জিলটির হদিস পেলে তবে তাে চুরি-ডাকাতি বা লুটপাটের প্রশ্ন আসে। কি, পারবে আমার চাহিদা পূরণ করতে ?
–‘ধৎ! এ আবার আমার কাছে কোন সমস্যা নাকি। ঘাবড়াবেন না। দেখবেন, আমি ঠিক কাজ হাসিল করে সবকিছু এনে হাজির করব।
বুড়াে জুল জুল করে তাকিয়ে বলল—বহুৎ আচ্ছা! যদি হিম্মতে কুলােয় তবে আমি তােমাকে কায়রাের সাচ্চা লালু বলে মেনে নেব।
বুড়াে সুরেক-এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চাঁদ আলী জহুরী বাজারে হাজির হল। তার দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এক লহমায় দেখেই যাদুকর জরীকে সনাক্ত করে ফেলে। ভয়ঙ্কর রকমের কুদর্শন। প্রথম দর্শনেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। পুরােদমে গা ঘিন ঘিন করে ওঠে। গিদ্দরের মত তার চাহনি। হাড় গিলা পাখির মাফিক ভঙ্গিমায় দোকানের সামনে দাড়িয়ে কাজ করছে। একটি নাদুসনুদুস খচ্চর দাড়িয়ে। বুড়াে যাদুকর জহুরীটি তার পিঠে এক-এক করে সােনার বস্তা চাপাচ্ছে। কাজ সেরে এক অবিশাস্য কাণ্ড করল। যাদুমন্ত্র দিয়ে খচ্চরটিকে অদৃশ্য করে দিল। ব্যস, এবার দোকান বন্ধ করে কুঁজো হয়ে হাঁটা জুডল। এমন ভাব যেন অদৃশ্য খচ্চরটিকে সে অনুসরণ করে চলেছে। চাদ আলী বুড়াে যাদুকর জহুরীর পিছু নিল। তাজ্জব ব্যাপার। তারা হাঁটছে তাে হাঁটছেই। ধারে কাছে কোন লােকালয়ই নজরে পড়ছে না। তামাম বাগদাদ যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। যেদিকে তার নজর যায় কেবল ধূ-ধূ ফাকা মাঠ।
0 Comments