গল্পের পরবর্তী অংশঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে ১ লিখে সার্চ করুন ।
' জাইনাব কামরার ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বল্ল-এসাে, ভেতরে এসাে।
জাইনাব খানাপিনার বন্দোবস্ত করল। চাদ আলীকে দামী সরাব দিল পেয়ালা ভরে। হেসে হেসে বাৎচিৎ করল। লেকিন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার হাতের নাগাল থেকে নিজেকে দূরে দূরে রাখতে লাগল।
চাদ আলী অস্থির হয়ে পড়ে। সে নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে আচমকা জাইনাব’কে ধরার জন্য হাত বাড়ায়। জাইনাব ঝট করে দু’পা সরে গিয়ে বলে—“কেন এমন অস্থির হচ্ছ? সবুর কর। রাত্রি একটু গভীর হােক। মহল্লার মকানগুলির বাত্তি নিভতে দাও। তারপর শুরু হবে আমার খেল। তাজ্জব বনে যাবে। তােমার দিল একদম ভরিয়ে দেব। কলিজা বিলকুল ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।
খানাপিনা সেরে জাইনাব চাঁদ আলীকে নিয়ে ইদারার ধারে গেল। জল ভােলার বালতিটি সামান্য নামিয়েই সে আচমকা আর্তনাদ করে উঠল—“ইয়া আল্লাহ! আমার নসীব পুড়ল। একদম সর্বনাশ চাদ আলী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বল—“কি? কি হয়েছে। মেহেবুবা? হয়েছে কি?
—“কি আবার হবে, নসীবের ফের। অমন সুন্দর হীরার আংটিটি খসে পড়ল। চাদ আলী চমকে গিয়ে বলে উঠল—‘খসে পড়ল। খসে পড়ল মানে? একদম কুয়াের মধ্যে?
—“তা নইলে সর্বনাশ হতে যাবে কেন? ইয়া আল্লাহ। নসীবে এ-ও ছিল! মেহবুব, এখন উপায়? গতকাল ভিনদেশে যাবার আগে আমার স্বামী খরিদ করে দিয়ে যায়। পাঁচ শ’ দিনার দাম।
—“তাই তাে, এমন দামী জিনিস ‘কুয়াের পানি তেমন নেই। নেমে গিয়ে একটু হাতাহাতি করলেই মিলে যাবে। লেকিন কে নামবে। এত রাত্রে কাকে মিলবে। এক কাজ করি সালােয়ার কামিজ খুলে উলঙ্গ হয়ে আমিই নেমে যাই, কি বল? তুমি এক কাজ কর, দেয়ালের দিকে ফিরে থাক। খবরদার এদিকে ফিরবে না কিন্তু। আমি সাজ গােজ খুলে উলঙ্গ হচ্ছি। কথা বলতে বলতে জাইনাব কামিজের বােতাম খােলার বাহানা করল।
চাদ আলীর পনের-যােল সালের চনমনে পৌরুষে ঘা লাগল। সে বাধা দিয়ে বলল—“আরে করছ কি! করছ কি! তুমি জেনানা হয়ে কুয়ােয় নামবে আর আমি জোয়ান মরদ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখব, * হয় নাকি? তুমি এখানে থাক। আমি নেমে আঙটিটি তল্লাশ করে নিয়ে আসছি।
জাইনাব’কে মুখ খােলার সুযােগ না দিয়েই চাদ আলী তার কোর্তা পাতলুন খুলে ফেলল। এবার রশিটির এক প্রান্ত বেধে ফেলল একটি গাছের সঙ্গে। তারপর রশি বেয়ে দ্রুত নেমে গেল কুয়োর মধ্যে। এক লহমায় পানির নীচে তলিয়ে গেল।
জাইনাব এবার ঝট করে রশিটি তুলে নিল। ব্যস, চোখের পলকে চাদ আলীর পােশাক নিয়ে একদম বেপাত্তা হয়ে গেল।
প্রাসাদটি খলিফার দরবারের এক আমীরের। জাইনাব জানত, প্রাসাদে কেউ নেই। তালা দিয়ে কোথায় যেন গেছে। সে এসুযােগের সদ্ব্যবহার করল। তার কুয়ােতে চাদ আলীকে জিম্মা রেখে জাইনাব হাফিস হয়ে গেল।
ভােরে আমীর তার প্রাসাদে ফিরে এল। সদর-দরওয়াজা দিয়ে প্রসাদের ভেতরে পা দিয়েই আমীর ভড়কে যায়। দরওয়াজা খােলা। ব্যস্ত-পায়ে তামাম প্রাসাদটি ঘুরে ঘুরে দেখল। না একটি কামরায় খানাপিনা করা ছাড়া আর কোন ক্ষতি করে নি। আল্লাহর অপার মেহেরবানি।
আমীর এক সময় পানি তুলতে কুয়াের ধারে এল। দড়ি-বালতি কুয়াের ভেতরে নামিয়ে দিল। বালতি তুলতে গিয়ে তাজ্জব বনে যায়। নিচে তাকিয়ে দেখে কালাে কি যেন নজরে পড়ছে। আমীর বিলকুল ভড়কে গেল। চিল্লিয়ে ওঠে। আমীরের চিল্লাচিল্লি শুনে জোয়ান নােকর দৌড়ে এল।
আমীর বলল —“দেখ, কী তাজ্জব ব্যাপার! কুয়াের মধ্যে কালাে মাফিক কি যেন একটি দেখা যাচ্ছে।
নােকরটি বলল হুজুর, মালুম হচ্ছে, জঙ্গলী জানোয়ার, শুয়াের টুয়াের কিছু হবে।
-“ইয়া আল্লাহ। তােবা তােবা! জাত মান সব গেল দেখছি। শিগগির মৌলভীকে তলব দে। কোরাণ পাঠ করিয়ে পবিত্র করতে হবে। তােবা! তােবা! কী গুনাহ।
এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
চারশ’ পঞ্চান্নতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন -“জাহাপনা, আমিরের নির্দেশে নােকরটি ছুটল মৌলভীর কাছে। মৌলভীর পরামর্শে সে চারজন কোরাণ পাঠককে নিয়ে প্রাসাদে ফিরল।
কুয়াের ধারে চাদোয়া টাঙিয়ে শুরু হ’ল পুরােদমে কোরাণ পাঠ।
কয়েকজন জোয়ান মরদ টানাটানি করে বালতিটি ওপরে তুলে আনল। ওপরে এসে চাদ আলী তড়াক করে লাফিয়ে খাড়া হয়ে পড়ল।
আমীর কপাল চাপড়ে বলল—“ইয়া আল্লাহ! এ যে শুয়াের নয়, আদমী। এবার ডর ভয় কেটে গেল। হাত মাথার ওপরে তুলে চিল্লিয়ে উঠল—“হতচ্ছাড়া শয়তান কাহিকার! খালি বাড়ি পেয়ে চুরি করতে ঢুকেছিলি? মেরে একদম জান খতম করে ছাড়ব।
‘খােদার কসম! আমি চোর-ডাকু নই। মেহেরবানি করে মারধাের করবেন না। এক গরীব ছেলে। টাইগ্রীসে মছলি পাকড়াও করে দিন গুজরান করি। দিনভর খেটেখুটে নদীর ধারে শুয়েছিলাম। নিদে বিভাের হয়ে পড়ি। নিদ টুটলে দেখি কুয়াের কাদা আর পানির মধ্যে গড়াগড়ি যাচ্ছি। মেহেরবানি করে আপনি জান বাঁচিয়েছেন। খােদাতাল্লা আপনার ভালােই করবেন।
আমীর ভাবল এ-আদমি স্রেফ নসীবের ফেরে রাতভর কাদা আর পানির মধ্যে তকলিফ ভােগ করেছে। তার ওপর বিলকুল উলঙ্গ। নোকরকে দিয়ে পাৎলুন আনিয়ে পরতে দিল।
আমীর ব্যাপারটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিপাহী সেনাপতি আহমদ-এর দরবারে পাঠিয়ে দিল। এদিকে আহমদ সন্ধ্যায় মকানে ফিরে তার পুরানাে সাকরেদ চাদ আলী’কে না দেখে বড়ই ভাবিত হয়ে পড়ে। চল্লিশজন সিপাহীকে নিয়ে রাতভর হন্যে হয়ে তামাম বাগদাদ নগর চষে বেড়ায়। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে মকানে ফিরে আসে। এবার আমিরের নােকররা নিয়ে এলে তার কলিজায় যেন পানির ছিটা পড়ল। চাদ আলী মকান থেকে বেরনাের পর থেকে যা-যা ঘটেছে সবিস্তারে আহমদ-এর কাছে ব্যক্ত করল।
আহমদ সবকিছু শুনে নিঃসন্দেহ হল, একাজ নির্ঘাৎ জাইনাব-এর। সে এবার তার কাছে জাইনাব-এর হিম্মৎ ও কাণ্ডকারখানার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিল। সবশেষে বলল -যার দৌরাত্মে তামাম বাগদাদের মরদরা জুজু হয়ে থাকে তুমি তারই খপ্পরে পড়েছিলে। খােদাতাল্লার দোয়ায় জান নিয়ে ফিরতে পেরেছ।
ইতিমধ্যে হাসানও সেখানে হাজির হয়েছে। আহমদ থামলে হাসান মুখ খুলল—“চাদ আলী, সবই তাে শুনলে, এবার তুমি কি করতে চাও, বল?'
‘আমি তাকে ছাড়া বাঁচব না। তাকে শাদী করতে চাই। আপনি পরামর্শ দিন। কোশিস করুন। শাদীর বন্দোবস্ত করুন।
-হ্যা, বন্দোবস্ত আমি করে দেব। শাদী তােমাদের হবেই। লেকিন তােমাকে কসম খেতে হবে, আমার পরামর্শ ছাড়া অন্য কারাে বাৎ শুনবে না। রাজী?
—“রাজী। আজ থেকে আপনাকে আমি ওস্তাদ মানলাম। এবার হুকুম করুন—
–হুকুম? হ্যা, কোর্তা-পাৎলুন খুলে একদম উলঙ্গ হয়ে যাও। লাজ শরম টরম শিকেয় তুলে রাখ। নিতান্ত বাধ্য লেড়কার মাফিক চাদ আলী কোর্তা-পাৎলুন খুলে হাসান-এর সামনে একদম উদোম হয়ে খাড়া হ'ল। হাসান এবার ভুসাে কালি এনে তার সারা গায়ে লেপে দিল। খুবসুরৎ চাদ আলী এবার বিলকুল এক নিগ্রো নওজোয়ান বনে গেল। নিগ্রো নােকর। আসলি নিগ্রো।
হাসান এবার তাকে এক চিলতে কাপড় পরিয়ে লজ্জা নিবারণের বন্দোবস্ত করে দিল।
এবার চাঁদ আলী’কে পাঠিয়ে দেয়া হ’ল ধূর্ত বুড়ি ডিলাইলাহর মকানে। রসুইখানার পাচকের সঙ্গে ভাব জমিয়ে তার আশ্রয়ে থাকার জন্য।
হাসান জানে, পাচকটি কেবলমাত্র ডিলাইলাহ আর জাইনাব এর জন্য খানা পাকায় না। চল্লিশজন চৌকিদার ও শিকারী কুকুরগুলাের খানার বন্দোবস্তও তাকেই করতে হয়।
হাসান চাদ আলী’কে বলে দিয়েছিল, সে যেন ডিলাইলাহ-র পাচককে বলে, একদিন ভেড়ার গােস্তর কাবাব বানাবে। তাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য। তার রসুইখানায় এসে মৌজ করে কাবাব খেয়ে যায় যেন, সে তখন বলবে তার মালকিন কিছুতেই তাকে বাইরে যেতে দেবে না। সেই কাবাব বানাবে। আর চাঁদ আলী যেন পেটপুরে খেয়ে যায়। হাসান বার বার বলে দিয়েছে, চাদ আলী যেন কিছুতেই তার নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান না করে। এতেই নাকি কাজ হাসিল হয়ে যাবে।
চাদ আলী তার বাৎ শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছিল- কাজ তাে হাসিল হবে। লেকিন কিভাবে তা সম্ভব হবে? হাসান ব্যাপারটি খােলসা করে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে বলেছিল—চাদ আলী যেন কৌশলে ভেড়ার গােস্তর কাবাব নিজে কম খায়, ডিলাইলাহর পাচককে বেশী খেতে দেয়। এতে তার মেজাজ মর্জি পঞ্চমে চড়ে যাবে। তখন দিল খােলসা করে বাৎচিৎ করবে। তখন চাদ আলী যেন কৌশলে তার পেট থেকে যা কিছু জানার সব তথ্য টেনে বের করে নেয়। সবার আগে যেন জেনে নেয় ডিলাইলাহ ও জাইনাব কোন্ কিসিমের খানা পছন্দ করে। রসুইখানার চাবি কোথায় থাকে। খানাপিনা শেষ হলে ডিলাইলাহর পাচক সরাব নিয়ে আসবে। চাদ আলি যেন তার সরাবের পেয়ালায় একগুলি আফিঙ ফেলে দেয়। সে-সরাব গলায় ঢাললেই সে নেশায় বুদ হয়ে যাবে। বেহুঁশ হয়ে এলিয়ে পড়বে। ব্যস, তখন ব্যস্ত হাতে তার কোর্তা পাৎলুন খুলে চাদ আলী যেন নিজের গায়ে চাপিয়ে নেয়। আর উলঙ্গ পাচককে নিয়ে কাঠকুটোর কামরায় তালা বন্ধ করে ফেলে রাখে।
এবার তার কাজ রাত্রের খানা পাকানাে। খানার সঙ্গে যেন আফিঙ মিশিয়ে দেয়। ফলে সবাই খানাপিনার সারতে না সারতেই সংজ্ঞা হারিয়ে ঢলে পড়বে। ব্যস, চাদ আলী এবার যেন খেল শুরু করে দেয়। ডিলাইলাহ, জাইনাব এবং চল্লিশজন চৌকিদার—সবার গা থেকে পােশাক আশাক খুলে একদম উলঙ্গ করে দেয়। গহনাপত্র যা কিছু থাকবে যেন বিলকুল খুলে নেয়। ব্যস, এবার সবকিছু গাট্টি বেঁধে সােজা হাসান-এর কাছে চলে আসে যেন।
হাসান-এর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের প্রতিশ্রুতি দেয়। হাসান সবশেষে চাদ আলী’কে বলে দিয়েছিল, সে যেন ফেরার সময় চিড়িয়াখানা থেকে সবচেয়ে সেরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চল্লিশটি কবুতর আনতে না ভােলে।
ডিলাইলাহর রসুইখানায় তার পাচকের সঙ্গে চাদ আলীর ভেট হ’ল না। শুনল, বাজারে গেছে। চাদ আলী ব্যস্ত পায়ে বাজারের দিকেই ধাওয়া করল।
সবজীর দোকানে মােলাকাৎ হ’ল। বাৎচিৎ সারল। তারপর চাদ আলী পূর্ব পরিকল্পনামাফিক নিজের রসুইখানায় তাকে নিমন্ত্রণ করল। সে যেতে অক্ষমতা প্রকাশ করল। মালকিন জানতে পারলে নাকি জান নিয়ে নেবে।
ডিলাইলাহর পাচকটি বলল –“ভাইয়া, তারচেয়ে বরং তুমিই চলে আস না। মৌজ করে খানাপিনা করা যাবে। আমার মালকিনের ওপর দিয়েই খরচপাতি চালিয়ে নেব।
চাদ আলী সম্মত হয়ে নিগ্রো পাচকটির সঙ্গে ডিলাইলাহর বাড়ি চলে এল। হাসান-এর পরিকল্পনা মাফিকই কাজ হ’ল। সে পাচকের সরাবের সঙ্গে আফিঙ মিশিয়ে তাকে নেশায় বুদ করে ফেলল। তারপর তার পেট থেকে এক এক করে কথা বের করে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সে নেশার ঘােরে এলিয়ে পড়ল। চাঁদ আলী পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক তার কোর্তা-পাৎলুন খুলে নিজে পরে নিল। এবার তাকে উলঙ্গ অবস্থায় টানতে টানতে পাশের ছােট্ট একটা কামরায় ঢুকিয়ে দরওয়াজায় তালা বন্ধ করে দেয়া হল।
চাদ আলী এবার নিগ্রো পাচকটির কাছ থেকে শুনে রাখা খানাগুলি পাকাল। চৌকিদারদের শিকারী কুকুরগুলাের জন্যও খানা পাকাল। সবার খাবারের সঙ্গে দিল আফিঙ মিশিয়ে।
ডিলাইলাহ ও তার লেড়কি জাইনাব খানা খেয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চৌকিদার ও কুকুরগুলােও এলিয়ে পড়ল। চাদ আলী এবার ব্যস্ত-হাতে সবার পােশাক পরিচ্ছদ খুলে পােটলা বেঁধে ফেলল। উলঙ্গ, বৃদ্ধা ডিলাইলাহ ও তার যুবতী লেড়কি জাইনাব থেকে শুরু করে চৌকিদাররা পর্যন্ত সবাই বিলকুল উলঙ্গ হয়ে বেহুঁস অবস্থায় এলিয়ে পড়ে রইল। জাইনাব উলঙ্গ হয়ে পড়ে রয়েছে। তার যৌবনচিহ্নগুলাে চাদ আলীর চোখের সামনে ভেসে উঠল। পেঁজা তুলতুলে তার শরীর। স্তনদুটো একদম নিটোল। সমুন্নত। চাদ আলীর দিলকে পাগলা করে দিতে লাগল। তার কলিজায় কামনার আগুন জ্বলে উঠল। শিরা-উপশিরায় খুনের গতি মুহুর্তে শতগুণ বেড়ে গেল। খুনে লাগল মাতন। তার তলপেটটির দিকে চোখ পড়তেই শরীরের সব ক’টি স্নায়ু যেন এক সঙ্গে সচকিত হয়ে উঠল। তলপেটটি পর্বতের ঢালের মাফিক ক্রমশ ঢালু হতে হতে একটি বিশেষ জায়গায় গিয়ে মিশেছে। কী বাহার। ওঃ কী তার বাহার। তার মুখ দিয়ে আচমকা বেরিয়ে এল-ইয়া আল্লাহ। কী বাহার। মুহর্তে তার কলিজাটি মােচড় মেরে ওঠে। দিল চাইল নসীব সম্বল করে ঝাপিয়ে পড়ে। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে দু’পা সরে যায়। সে দুদিন বাদে যাকে বিবি বানাবে, তামাম জিন্দেগীর জন্য আপন করে পাবে, কাছে কাছে রাখতে পারবে তার কুমারীত্ব তস্করের মাফিক হরণ করতে সে রাজী নয়। চাদ আলী লালচ সংযত রাখলেও জাইনাব-এর যৌবনভরা, দিলু পাগলকরা দেহটিকে ফেলে সরে যেতে পারল না। তার পাশে বসল তার উলঙ্গ, বিলকুল উলঙ্গ দেহটির যৌবনচিহ্ন গুলােকে বার বার দলন, পেষণ ও চুম্বন করতে লাগল। জিন্দেগীতে যে এত সুখ আছে সে আজই প্রথম অনুভব করল।
চাদ আলীর মাথায় খেয়াল চাপল, সংজ্ঞাহীন জাইনাব-এর পায়ের তালুতে সুড়সুড়ি দিয়ে দেখবে, প্রতিক্রিয়া কি হয়। করলও তা-ই। ব্যস, মুহূর্তে জাইনাব দিল আচমকা পাটি ছুড়ে। একদম তার মুখে আঘাত লাগল।
আচমকা লাথি খেয়ে চাদ আলী একদম বেকুব বনে গেল। চাঁদ আলীর এখনও বহুৎ কাম কাজ বাকী। সবাই বেহুস অবস্থায় থাকতে থাকতেই তাকে কাজ মিটিয়ে এখান থেকে চম্পট দিতে হবে। তার হুস হ’ল হাসান বার বার বলে দিয়েছিল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কবুতরগুলিকে যেন তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এবার ব্যস্ত হাতে সবগুলি কবুতরকে একটি খাঁচায় পুরে ফেলল ।
গােছগাছ যা কিছু করার চাদ আলী ইতিমধ্যেই মিটিয়ে ফেলেছে।
ডিলাইলাহ ও জাইনাব-এর গায়ের যাবতীয় গহনাপত্রের পােটলাটি চাদ আলী কোর্তার জেবে চালান দিয়ে দিল। পােশাক আশাকের পােটলাটি নিল এক কাধে। আর অন্য কাধে কবুতরের খাঁচাটি তুলে নিয়ে সে পথে নামল। লম্বা লম্বা পায়ে হন হন করে এগিয়ে চলল হাসান-এর মকানের উদ্দেশ্যে।
_ হাসান পিঠ চাপড়ে সােল্লাসে বলল —‘সাবাস বাহাদুর নওজোয়ান। তুমি যে একদম কামাল করে দিয়েছ! ঘাবড়াও মাৎ বেটা, জাইনাব-এর সঙ্গে তােমার শাদীর বন্দোবস্ত আমি করবই, দেখে নিও।
এদিকে ভাের অনেক আগেই হয়ে গেছে। তবু ডিলাইলাহর মকানের কারােরই নিদ টুটল না। তবে সবার আগে চোখ মেলে তাকাল ডিলাইলাহ-ই। বুঝতে পারল সে বিলকুল উলঙ্গ। তাজ্জব বনল। এদিক-ওদিক তাকাল। লেড়কি জাইনাব-এর দিকে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে গেল। মাথা ভারী। ঝিমঝিম
0 Comments