সহস্র এক আরব্য রজনী পার্ট ১৪১ (Sahasra ek arabya rajani part 141)

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে সার্চ মেনুতে ১ লিখে সার্চ করুন ।

-“ইয়া আল্লা। আপনি বুঝি জানেন না? তার আম্মার তবিয়ৎ বহুৎ খারাপ।

‘আম্মার তবিয়ৎ খারাপ, বিমারি—আগে কিছু বলেন নি তাে? কালই তাে তিনি প্রাসাদ ছেড়ে আমাদের মুলুক সানায় গেছেন। এরই মধ্যে - 

—“আর বলবেন না। লেড়কা কাউকে কিছু না বলে প্রাসাদ ছেড়ে গেছেন। তার পাত্তা না পেয়ে ডরে তিনি সেই যে বেহুঁশ হয়েছেন, আজও আর সুস্থ হন নি। দেরী করবেন না শাহজাদী। চলুন, ঘােড়ার পিঠে চাপুন আমি আপনাকে সে-প্রাসাদে পৌছে দিচ্ছি।

–লেকিন—

তার মুখের বাৎ কেড়ে নিয়ে তিনি বলে উঠলেন—‘আমাকে দিয়ে আপনার কোন ডর নেই। নির্দ্বিধায় আমার সঙ্গে যেতে পারেন। প্রাসাদে তাে আর নােকর-নফরের অভাব নেই। লেকিন আমার ওপর শাহজাদার পুরাে ভরসা আছে বলেই না এমন একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত হতে পেরেছেন। আমার চুল সফেদ হয়েছে, চোখের জ্যোতি গেছে, হাড্ডি বুড়া হয়েছে, এমন একজনের দিকে কোন লেড়কি লালসা নিয়ে তাকাবে না ভেবেই তাে তিনি বেছে বেছে আমাকে বের করে কাজটি করতে হুকুম করেছেন। চলুন, তিনি আমাদের পথ চেয়ে বসে থাকবেন।


এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদা কিসসা বন্ধ করলেন।

চারশ’ সাতাশতম রজনী 

বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন--“জাহাপনা, যাদুকর সহজ-সরল আদমির মাফিক এমন চোখ-মুখ করে শাহজাদী সামস অল-এর কাছে বক্তব্য করলেন যে, তার মনে আর তিলমাত্র দ্বিধাও রইল না।

শাহজাদী সামস অল’কে যাদু ঘােড়ার পিঠে চাপিয়ে যাদুকর নিজে তার পিছনে বসলেন।

ঘােড়ার গায়ের ডানদিকের বােতামে মৃদু চাপ দিতেই সেটি ছােট্ট করে একটি ঝাঁকুনি দিয়ে শূন্যে উঠতে শুরু করল।

যাদুকর সামস অল’কে জাপটে ধরে বললেন—‘ঘাবড়াবেন না শাহজাদী। আমি আপনাকে ধরে রাখছি। আমরা চোখের পলকে সে-নয়া প্রাসাদে পৌছে যাব। 

যাদু-ঘােড়াটি সশব্দে বাতাস কাটিয়ে উল্কার বেগে ধেয়ে চলল আশমানের দিকে। এবার যাদুকর অন্য আর একটি বােতাম টিপে ধরলেন। এবার ঘােড়াটি সােজা অগ্রসর হতে লাগল। একের পর এক মুলুক পেরিয়ে সেটি কেবলই সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগল।

সামস অল তাজ্জব বনে যায়। নগরেরই অন্য প্রান্তে যদি সে প্রাসাদটি হয়ে থাকে তবে এ যাদু-ঘােড়াটির পক্ষে তাে এত দেরী হবার নয়। তবে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

ঘােড়াটি এবার মরুভূমির ওপর দিয়ে উল্কার বেগে ধেয়ে চলেছে। নিচের দিকে চোখ পড়তেই সামস অল বিকট আর্তনাদ করে উঠল—আমাকে কোথায় নিয়ে চলেছেন? আপনার মতলবটি কি, বলুন তাে?

—কোথায় আবার, শাহজাদা যে-প্রাসাদের ঠিকানা

তার মুখের বাৎ ছিনিয়ে নিয়ে সামস অল ফিন চিল্লিয়ে উঠল। আপনি তাে বললেন, সে নগরেই প্রাসাদ। লেকিন আমরা যে নদী, পাহাড়, মরুভূমি ডিঙিয়ে চলেছি—ব্যাপার কিছু আমার দিমাকে আসছে না।

‘কেন মিছে ঘাবড়াচ্ছেন। এই তাে এসে গেলাম বলে।’ 

লেকিন ঘােড়া উল্কার বেগে ধেয়ে চলেছে তাে চলেছেই।

সামস অল ফিন চিল্লিয়ে ওঠে—‘শয়তান, বেতমিস কাহিকার! এ কেমন ধান্দা আপনার! এই কি শাহজাদার বিশ্বাসী নফরের কাজ!

—নফর! নফর! হাে হাে রবে যাদুকর হেসে উঠলেন। এক সময় হাসি থামিয়ে বললেন—‘সুন্দরী, আমি নফরই বটে। আজ থেকে আমি তােমার নফরেরও নফর। আমি তােমার প্রকৃত পরিচয় এখনও পাই নি। তবু তােমাকে আমি বিবি করে পাকাপাকি তােমার নফর হয়ে যাব। 

যাদুকর একটি নদীর ধারে ঘােড়া নামালেন। ঘােড়া থেকে নামতে নামতে বললেন—সুন্দরী, নেমে এসাে। বড় পিয়াস পেয়েছে। একটু পানি দিয়ে গলাটি ভিজিয়ে না নিলে আর চলছে না ।

ঘােড়ার পিঠ থেকে নেমে সামস অল ঘাসের ওপর আছাড় খেয়ে পড়ে ডুকরে কাঁদতে লাগল। কাঁদতে কাঁদতে বলল—“তুমি দোজখের কীট শয়তান। আমাকে আমার মেহেবুবের কাছে নিয়ে যাবার ছল করে এখানে নিয়ে এসেছ। আমাকে দিয়ে তুমি অসৎ উদ্দেশ্য, কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে চাচ্ছ। জেনে রাখ শয়তান, আমার জান-থাকতে তুমি সে সুযােগ কিছুতেই পাচ্ছ না।

-দেখ সুন্দরী, পেয়ার মহব্বতের ব্যাপারে গােড়ায় একটু চটাচটি হয়-ই বটে। এখন দিমাক ঠাণ্ডা কর। আমি কসম খেয়ে বলছি, কামার অল থেকে তােমাকে আমি বহুৎ বহুৎ সুখ দেব।' | আমি যাদু জানি। যাদু বলে তাজ্জব সব কাণ্ড করতে পারি। আমি যাদু বলে এমন এক প্রাসাদ বানিয়েছি, তােমার চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। বাদশাহ সাবুর এমন প্রাসাদের চিন্তাও করতে পারে না। মন্ত্র প্রয়ােগ করে দ্বিতীয় বেহেস্ত বানিয়েছি।' তােমার সেবা যত্ন করার জন্য দাসী-বাঁদীরা সর্বদা ব্যস্ত থাকবে। মুখ ফুটে না চাইতেই সব পেয়ে যাবে।

সুন্দরী, আমার কাছে এমন অমৃত রয়েছে যা পান করলে যেকোন আদমি অমরত্ব লাভ করবে। আমার কাছে এমন দাওয়াই আছে যা সেবনে চির যৌবন লাভ করবে। কামার অল পারবে এমন অমূল্য সম্পদ দিতে? বিলকুল যাদু বলে আমি এসব সংগ্রহ করেছি। বাজারে দিনার দিয়ে খরিদ করতে পারা যায় না। সুন্দরী, আমার দিকে তাকিয়ে দেখ। বলতে পারবে, আমার উমর কত? ভাবছ নওজোয়ান। লেকিন আদতে আমি একশ’ সাল উৎরে গেছি। হাজার পালােয়ানও পাঞ্জা লড়ে আমাকে ঘায়েল করতে পারবে না।

বিশ্রী স্বরে হেসে এবার বললেন—এক শ’ সাল উমর হয়েছে। শুনে ভাবছ, আমি বুড়া বনে গেছি। তাগত গেছে, পুরুষত্ব লােপ পেয়েছে কিনা? লেকিন সুন্দরী, আদতে আমি তােমার মাফিক হাজার সুন্দরীকে এক সাথে দেহ ও দিলের সুখ দিতে পারি, ইয়াদ রাখবে। তাই বলি কি, চোখের পানি মুছে ফেল।

সুন্দরী, লেড়কিরা দুটো বস্তু পুরুষের কাছ থেকে চায়। পয়েলা কাম-সুখ দোসরা বিলাস ব্যসন। আমার কাছ থেকে দুটোই অফুরন্ত মিলবে। কামার অল তােমার কোন কামনা বাসনাই মেটাতে পারবে না।

আর একটি বাৎ ইয়াদ রাখবে, আমার সাহায্য নিয়েই সে তােমাকে খুঁজে পেয়েছে। এ যাদু-ঘােড়া আমার। এতে চেপেই সে তােমাদের প্রাসাদে গিয়ে তােমাকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। তাই বলছি কি–

সামস অল উন্মাদিনীর মাফিক চিল্লিয়ে ওঠে—“শয়তান, বেতমিস, ধান্দাবাজ কাহিকার! জানের মায়া থাকে তাে এখন বলছি, আমার সামনে থেকে সরে যাও। তােমার নসীবে অশেষ- 

যাদুকর হেসে গড়িয়ে পড়েন। সুন্দরী, খােদাতাল্লা আমার কপালে দুঃখের ব্যাপারটি লিখতে বিলকুল ভুলে গেছেন। আর এ দুঃখ-দুর্দশা কাকে বলে তুমিও একদম ভুলে যাবে।

সামস অল-এর কান্না শুনে আচমকা ইয়া দশাসই চেহারার দু’দু’জন সশস্ত্র সেনাপতি যাদুকরের পিছনে এসে দাঁড়ায়। তার ওপর অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে।

যাদুকর পারস্যের রুম মুলুকের সীমানায় ঘােড়া নামিয়ে ছিলেন। ভেবেছিল, সুন্দর নদী। একটু পানি পান করবেন। তারপর নিজের মুলুকে যাবেন।

রুমের বাদশাহের নগর নদী থেকে খুবই কাছে। বাদশাহ রােজ বিকালে নদীর ধারে হাওয়া খেতে আসেন। অন্যদিনের মাফিক সেদিনও উজির, সেনাপতি বেষ্টিত হয়ে নদীর ধারে হাজির হয়েছেন। হঠাৎ নারীর আর্তস্বর কানে যেতেই উদভ্রান্তের মাফিক চারদিকে তাকান। দেখেন, এক নারী। এক বুড়াে মরদের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত। ভাবলেন, এ শয়তান ডাকুটি লেড়কিটিকে ছিনিয়ে নিয়ে এসে ইজ্জৎ নষ্ট করতে চাইছে। তাই সেনাপতিদের পাঠিয়ে দিলেন লেড়কিটিকে উদ্ধার করতে। সেনাপতি দু’জন কদাকার বুড়াে যাদুকরকে বন্দী করে বাদশাহের সামনে হাজির করল।

বাদশাহ ব্যাপার জানতে চাইলে যাদুকর বলল —‘জাহাপনা, আল্লাতাল্লার কসম খেয়ে বলছি, এ আমার চাচার লেড়কি। আমার শাদী করা বিবি। 

ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সামস অল বলে উঠল--‘ঝুট, বিলকুল ঝুট বাৎ। জাঁহাপনা, আমাকে জোর করে ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এ শয়তান ডাকুটি। এর সঙ্গে আমার জান পরিচয়ও কোনদিন ছিল না। আমার স্বামী শাহজাদা তার কাছ থেকে শয়তানটি আমাকে ভাওতা দিয়ে নিয়ে এসেছে।

বাদশাহের হুকুমে সেনাপতিরা যাদুকরকে আচ্ছা করে উত্তমমধ্যম দিল। লেকিন তবু যাদুকর তার কসুর কবুল করল না।

বাদশাহের হুকুমে সেনাপতিরা তাকে পিটাতে পিটাতে কয়েদ খানায় ঢুকিয়ে দিল।

সামস অল যাদুকরের যাদু-ঘােড়াটিকে নিয়ে বাদশাহের প্রাসাদে এল। তাঁর মেহমান হয়ে বাস করতে লাগল।

বাদশাহ সামস অল-এর মুখ থেকে সব কিছু শুনে তাজ্জব বনে যান। কাঠের ঘােড়াটিতে চেপে তারা কি করে ভেগে এল? তাজ্জব কাণ্ডই বটে।

এদিকে শাহজাদা কামার অল ঘােড়া নিয়ে বিলকুল উন্মাদের মাফিক বন-জঙ্গল, মরু প্রান্তর ডিঙিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে তার মেহেবুবার খোঁজে ছুটতেই থাকে।

এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

চারশ’ আটাশতম রজনী 

বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করলেন —“জাঁহাপনা, কামার অল তার মেহেবুবার তল্লাসে দিনের পর দিন ঘােড়ার পিঠে চেপে ছুটোছুটি করতে থাকে। কতজনকে যে যাদুকর আর তার মেহেবুবার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। লেকিন কেউ কোন পাত্তাই দিতে পারল না।

দিনের পর দিন ঘােড়ার পিঠে চেপে ছুটতে ছুটতে কামার অল এক সকালে সানা নগরে হাজির হয়। লেকিন প্রয়াস ব্যর্থ হ’ল। কেবল জানতে পারল, লেড়কির শোকে বাদশাহ শয্যা নিয়েছেন।

কামার অল নসীব সম্বল করে ফিন ঘােড়ার পিঠে চাপল। শুরু হ’ল নতুন করে পথ চলা।

" দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঘােড়ার পিঠে কাটিয়ে কামার অল একদিন হাজির হল রুম মুলুকে। একে-ওকে জিজ্ঞাসা করল।

এখানেও তার মেহেবুবার পাত্তা মিলল না। অনন্যোপায় হয়ে হতাশায় জর্জরিত দিল নিয়ে এক সরাইখানায় গিয়ে সে মাথা গুজল।

সেখানে কয়েকজন পরদেশী সওদাগর খানাপিনা সেরে গােল হয়ে বসে বাৎচিৎ করছে। কামার অল তাদের কাছে দাঁড়াল।

একজন বলল —“আমি রুমের নগরে সওদা ফেরি করতে গিয়ে এক আজব খবর শুনে এসেছি।

শ্রোতারা অত্যুগ্র আগ্রহ প্রকাশ করে সমস্বরে বলে উঠল –‘আজব খবর? কি তােমার আজব-খবর, বল তাে শুনি ভাইয়া?

‘বাদশাহ নদীর ধারে হাওয়া খেতে গিয়ে এক বুড্ডা আর এক খুবসুরৎ লেড়কিকে ধরে নিয়ে এসেছেন। বুড্ডাকে কয়েদখানায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

সওদাগরদের মধ্য থেকে একজন মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠল—এ আবার এমন কি আজব খবর। এক আদমি এক আদমিকে নিয়ে ভেগেছে।

-“আরে ভাইয়া, ব্যস্ত হচ্ছ কেন? আদৎ বাৎ তাে এখনও চেপেই রেখেছি। আদমিটি নাকি একটি কাঠের ঘােড়ায় চেপে আশমান দিয়ে উড়ে এসেছিল। বাদশাহের প্রাসাদে ঘােড়াটি এখন রয়েছে। সে বুড়া এখন কয়েদখানায় ঝিমােচ্ছ। কামার অল চুপ করে দাঁড়িয়ে সওদাগরদের বাৎচিৎ শুনে আশান্বিত হ’ল। যার তল্লাশ করতে গিয়ে সে তামাম দুনিয়া হন্যে হয়ে ঢুঁড়ে বেড়াচ্ছে তার হদিস এমন হঠাৎ করে মিলে গেলে খুশীতে দিল্ ভরে তাে উঠবেই। সওদাগরটি কিসসা বন্ধ করে চুপ করলে কামার অল বলল ‘গােসসা করবেন না, আপনাদের বাৎচিতে নাক গলাচ্ছি। মেহেরবানি করে বলবেন কি, কোন্ নগরে কোন বাদশাহের প্রাসাদে লেড়কিটিকে রাখা আছে?

সওদাগরটি তাকে প্রাসাদের ঠিকানা বাৎলে দিল।

কামার অল ঘােড়া ছুটিয়ে রুম নগরের প্রবেশদ্বারে হাজির হয়। প্রহরী পথ আগলে দাঁড়াল। বলল —এ-নগরে ঢুকতে হলে দরবার থেকে বাদশাহের হুকুমনামা আনতে হবে।

এদিকে রাত্রি অনেক হয়ে গেছে। বাদশাহের দরবারে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

খুবসুরৎ নওজোয়ান কামার অল’কে দেখে প্রহরীটির মায়া হ'ল। সারা রাত্রি কোথায় পথে পথে ঢুঁড়ে বেড়াবে, তকলিফ হবে। ভেবে নিজের ডেরায় রাত্রিটুকুর জন্য আশ্রয় দিল।

রাত্রে খানাপিনা সারতে সারতে প্রহরী কামার অলকে জিজ্ঞাসা করল—“ভাইয়া, তােমার মুলুক কোথায় ?

‘পারস্য।

–‘গােসসা কোরাে না ভাইয়া, শুনেছি তােমার দেশে নাকি চোর, জোচ্চর, বদমায়েশ আর শয়তানের সংখ্যাই বেশী। আমাদের কয়েদখানায় তাে এখনও এক বুড়া রয়েছে। বুড্ডা হরদম ঝুট বাৎ বলে।

‘ঝুট বাৎ? কি বলেছে?

–‘গলা পর্যন্ত তার অহঙ্কার। এমন বড়াই করে শুনলে মালুম হবে শয়তানটি বুঝি এক পয়গম্বর হেকিমি বিদ্যাও নাকি জানে।

তার সামনে হেকিম তামাম দুনিয়ায় দ্বিতীয় কেউ নেই। শয়তান বুড়ার সঙ্গে একটি আজব কাঠের ঘােড়া ছিল। সেটায় চেপে এক খুবসুরৎ লেড়কিকে নিয়ে ভাগছিল। নদীর ধারে বাদশাহের সেনাপতিরা তাকে পাকড়াও করে। কলের ঘােড়া, বােতাম টিপলে নাকি ঘােড়াটি আশমানে উঠতে পারে।

—“ভাইয়া, বুড়াকে তাে বাদশাহের হুকুমে কয়েদখানায় ঠেলে দেয়া হয়েছে। লেকিন সে-লেড়কিটি এখন কোথায় ? 

‘লেড়কিটি? তার নসীব খুলে গেছে। বাদশাহ নাকি শাদী করে তাকে প্রধানা বেগমের মর্যাদা দেবেন। লেকিন সমস্যা

–‘সমস্যা? কিসের সমস্যা?

–‘লেড়কিটির নাকি দিমাক গড়বড় হয়ে গেছে। হরদম ঠোট নেড়ে কি সব বলে। গুম মেরে বসে থাকে। কারাে সঙ্গে বাৎচিৎ করে না। কিছু পুছতাছ করলে কোন জবাবই দেয় না।

-তারপর? তারপর?’ কামার কণ্ঠস্বরে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলে উঠল।

–‘তারপর আর কি ? উন্মাদিনীকে তাে আর শাদী-নিকা করা যায় না। তাই বাদশাহ তার দিমাক সারিয়ে তােলার জন্য দু’ হাতে দিনার খরচ করছেন। নামজাদা হেকিম দিয়ে ইলাজ করাচ্ছেন।

কয়েদখানায় বসে বুড়া হাত-পা ছােড়ে বলে, আমাকে লেড়কিটির সামনে হাজির কর তার বিলকুল বিমারি মুহুর্তে সারিয়ে তুলব। নচ্ছারটি নাকি রাত্রেও নিদ যায় না। আজব আদমি বটে!

খানাপিনা সারতে সারতে কামার অল ভাবল, হদিস তাে মিলল বটে। পাক্কা খবর। লেকিন কোন পথে এগােলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হতে পারে? 

এমন সময় প্রহরীটি বলল—“ভাইয়া, তােমাকে যে কয়েদখানায় রাত্রিটুকু গুজরান করতে হবে। এ মুলুকের নিয়ম —পরদেশীকে কয়েদখানায় রাত্রি গুজরান করতে হয়। ভাের হলে ফিন খালাস পেয়ে যাবেন।

খানাপিনা সারা হলে প্রহরীটি কামার অল’কে কয়েদখানায় ঢুকিয়ে দিল।

( চলবে )

Post a Comment

0 Comments