আরব্য রজনী পর্ব ১৩৫ (Arabyarajani Part 135)

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে সার্চ মেনুতে ১ লিখে সার্চ করুন ।

সুলতান লেড়কিটির দিকে বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন—এ নির্ঘাৎ মানবী নয়, সাগর কন্যা। কোন মানবীর শরীরে এমন সুরতের হাট তাে বসতে পারে না। সাগর কন্যা না হলে নির্ঘাৎ বেহেস্ত থেকে নেমে আসা কোন পরীটরী হবে।


সুলতান বারকয়েক ডাকাডাকি করার পর লেড়কিটি চোখ মেলে তাকাল। আধাে খােলা, আধাে বন্ধ চোখে সে সুলতানের মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।

সুলতান এবার বললেন—“কে গাে তুমি ? কোন মুলুকে তােমার ঘর? এখানে, নির্জন-নিরালা এ-সমুদ্রতটে এলেই বা কি করে?

গুলাবী এবার ক্ষীণকণ্ঠে কোন রকমে নিজের নাম বলল। তারপর পরপর দম নিয়ে নিজের পরিচয় দিল। কোন কিছুই ছুপাল না তার মহব্বৎ, বিচ্ছেদ, বিরহ জ্বালা বিলকুল খুলে বলল। সব শেষে তার করুণতম নির্বাসিত জীবন, জেলের মেহেরবানি সম্বল করে পালাবার ধান্দা, সাগরের তুফান বিলকুল ঘটনা এক এক করে বলল।

তুফানে পড়ে নৌকা সাগরের ঢেউয়ে নাজেহাল হতে থাকে। ব্যস, তারপর যে কি হ’ল কি করে এখানে সমুদ্রতটে এসে পড়ল এটুকু তার পক্ষে আর বলা সম্ভব হ’ল না। আদতে নৌকাটি বেপাত্তা হওয়ার আগেই সে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিল।

এমন সময় পূর্ব-আকাশ ফর্সা হয়ে আসতে থাকে । বেগম শাহ রাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

চার শ’ দশতম রজনী 

বেগম শাহরাজাদ কিসসার অবশিষ্ট অংশ শুরু করলেন –‘জাহাপনা, সুলতান গুলাবীর মহব্বৎ, বিরহ-যন্ত্রণা ও পর্বতমঞ্জিল থেকে ভেগে আসার কাহিনী শুনে মর্মাহত হন। তিনি সহানুভূতির স্বরে বললেন—নসীবে যা ছিল ঘটেছে। তােমার আর কোন ডর নেই। আমার ওপর ভরসা রাখতে পার। তােমার মেহবুবকে তােমার কাছে এনে দিতে পারব। তুমি নির্দ্বিধায় আমার প্রাসাদে যেতে পার। সেখানে থাকবে। আমি চারদিকে দূত পাঠিয়ে তােমার মেহবুবের তল্লাশী চালাব। চল, কোন ডর নেই।

গুলাবী সুলতানের সঙ্গে তার প্রাসাদে গেল।

সুলতান এবার তার উজির’কে বাদশাহ সামিখ-এর দরবারে পাঠাল। তার হাতে একটি চিঠি দিয়ে দিলেন বাদশাহের নামে। তাতে অনুরােধ জানালেন, বাদশাহ যেন মেহেরবানি করে রােশনকে পাঠিয়ে দেন। অন্যথায় গােলাবী-র জান বাঁচবে না।

বাদশাহ লিফাফা খুলে সুলতানের চিঠিটি পাঠ করলেন। চিঠিটি পাঠ করে বাদশাহ হতাশার দৃষ্টিতে উজিরের দিকে তাকিয়ে বললেন—সুলতানের অনুরােধ আমি রাখতে পারলাম না। দুঃখিত। আদতে রােশন এ-মুলুকেই নেই।

--নেই? রােশন নেই ?

-না। সে বর্তমানে কোথায় কোন মুলুকে আছে তা-ও আমার জানা নেই। সে বেপাত্তা। তার সন্ধান করেও হদিস মেলেনি। সে আজ জিন্দা আছে কিনা তা-ও আমার জানা নেই।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে উজির বলল-জাঁহাপনা, খালি হাতে সুলতানের সামনে গিয়ে আমার পক্ষে দাঁড়ানাে সম্ভব নয়। আমি ব্যর্থ হলে আমাকে উজিরের পদ থেকে নামিয়ে দেবেন, সাফ কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

বাদশাহ আরও গম্ভীর হলেন। নীরবে কর্তব্য সম্বন্ধে ভাবতে লাগলেন। মুহূর্তে কর্তব্য নির্ধারণ করে ফেললেন। নিজের উজির ইব্রাহিমকে সৈন্য সামন্ত দিয়ে রােশন-এর খোঁজে পাঠিয়ে দিলেন। বিশেষ করে নির্দেশ দিলেন— একের পর এক মুলুকে যাবে। রােশন এর পাত্তা লাগাবে। তাকে বের করা চাই-ই চাই।

উজির ইব্রাহিম একদল সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে রােশন -এর তল্লাশ করতে বেরােবার উদ্যোগ নিলেন। ইব্রাহিম বাদশাহকে কুর্ণিশ করে রােশন-এর তল্লাশ করতে বেরিয়ে পড়লেন।

উজির সদলবলে বহুৎ মুলুক ঢুঁড়ে রােশন-এর তল্লাশ চালাতে লাগলেন। বহুৎ তল্লাশী চালিয়েও রােশন-এর পাত্তা মিলল না, এমন সময় ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

চারশ’ এগারতম রজনী 

বেগম শাহরাজাদ কিসসা বলে চললেন— জাহাপনা, উজির ইব্রাহিম হতাশায় জর্জরিত দিল নিয়ে বাদশাহ সামিখ-এর দরবার থেকে বেরিয়ে এলেন, এখন উপায়? তার মাথায় আশমান ভেঙ্গে পড়ার জোগাড় হল। খালি হাতে সুলতানের সামনে গিয়ে দাঁড়ানাে সম্ভব নয়।

উজির ইব্রাহিম এবার নগরের পথে পথে ঢুঁড়ে রােশন-এর তাল্লাশ করতে লাগলেন।

উজির গােলাবীর মুখ থেকে রােশন-এর চেহারার যে-বিবরণ শুনে এসেছেন তার উল্লেখ করে পথচারীদের কাছে তার হদিস জানতে চাইলেন। লেকিন তার সব কোশিস বিফল হল। কেউ-ই রােশন নামে কোন নওজোয়ানের হদিস দিতে পারল না।

গ্রাম-গঞ্জ, পাহাড়-জঙ্গল আর মরুপ্রান্তর ঢুঁড়ে ঢুঁড়ে রােশন-এর তল্লাশ চালাতে চালাতে উজির এক সময় সদলবলে সমুদ্রের ধারে হাজির হলেন।

সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে উজির সমুদ্রের মধ্যবর্তী ওই পাহাড়, যেখানে গুলাবী বন্দিনী ছিলেন সেটিকে দেখে সুলতান দিরবাস এর উজির ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসা করলেন—ওই পাহাড়টির নাম কি বলুন তাে ?

ইব্রাহিম বলল—সবাই ‘নির্বাসিত আম্মা’ পাহাড় নামে জানে।

-কেন? এরকম নাম হ’ল কেন, বলতে পারেন? -এর নামকরণের ব্যাপারে একটি চটকদার কাহিনী রয়েছে। কোন এক সময়ে চীন দেশে এক জিনিয়াহ থাকত। জিনিয়াহটি ঘটনাচক্রে একবার এক মানব সন্তান নওজোয়ানের মহব্বতের ডােরে আটকা পড়ে যায়। তাদের মহব্বত ক্রমে গভীর থেকে গভীরতর হয়ে ওঠে।

নওজোয়ানটির ওপর জিন ক্ষুব্ধ হয়, মুখের খানা ছিনিয়ে নিলে গােসসা তাে হবেই।

জিনটির ক্ষোভের হাত থেকে নওজোয়ানটির জান বাঁচাবার জন্য জিনিয়াহ তার মেহেবুবকে নিয়ে চলে আসে সাগরে ঘেরা পাহাড়টিতে। এখানে তাকে লুকিয়ে রেখে জান বাঁচাবার বন্দোবস্ত করে।

নওজোয়ানটি পাহাড়টির এক গুহায় মাথা গুঁজে কোনরকমে দিন গুজরান করতে থাকে।

এদিকে জিনিয়াহ গােপনে আশমানে উড়ে তার মেহেবুবের সঙ্গে দেখা করে, কিছু সময় আনন্দ-ফুর্তির মাধ্যমে কাটিয়ে যায়।

সে-নওজোয়ান ও জিনিয়াহ-এর মিলনের ফলে জিনিয়াহ পরপর কয়েকবার গর্ভবতী হয়।

জিনিয়াহ এ-পাহাড়েই কয়েকটি লেড়কা-লেড়কি প্রসব করে, তাদের বাল বাচ্চা পাহাড়েই থাকত।

জাহাজ নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সময় নাবিকরা তাদের বালবাচ্চার কান্নাকাটি চিল্লাচিল্লি বহুবার শুনেছে। তারা এতে তাজ্জব বনেছে।

নাবিকরা কিন্তু এর রহস্য উদ্ধার করার জন্য কৌতূহলী হয়েছে সত্য। লেকিন সাহস করে কেউ-ই এগিয়ে গিয়ে ব্যাপারটি সম্বন্ধে তল্লাশী চালাতে সাহসী হয় নি। সে-সময় থেকেই এ পাহাড়টির নামকরণ করা হয়েছে নির্বাসিতের আম্মা।

সুলতান দিরবাস-এর উজিরকে নিয়ে উজির ইব্রাহিম নৌকা বেয়ে পাহাড়টির দিকে এগােতে লাগলেন।

উত্তাল-উদ্দাম সাগরে অতি কষ্টে নৌকা চালিয়ে তারা পাহাড়ের পাদদেশে এসে নৌকা থেকে নামলেন। সামনেই সদম্ভে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশচুম্বী পাহাড়।

পাহাড়ের গায়ে ঝুলছে সে-মঞ্জিল। গুলাবীর উৎপীড়ন ও নিপীড়নের কারণ সে--মঞ্জিলটি।

ইব্রাহিম দূরে দাঁড়িয়ে মঞ্জিলটির সদর-দরওয়াজার ওপর কড়া নজর রাখতে লাগলেন। দীর্ঘ অধীর প্রতীক্ষার পর ইব্রাহিম এক ছন্নছাড়া গােছের এক নওজোয়ানকে দেখতে পায়। তার পােশাক পরিচ্ছদ পাগলের মাফিক। মাথার চুল রুক্ষ রুষ্ট, তাকে উন্মাদের মাফিক মনে হলেও তিনি ঠিক চিনে ফেলেন—রােশন! হ্যা, ইনিই গুলাবীর মেহেবুবা রােশন।

ইব্রাহিম আশান্বিত হয়ে সদর-দরওয়াজার দিকে এগিয়ে গেলেন, খােজা প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করল—তােমাকে একটি বাৎ জিজ্ঞাসা করছি, বল তাে, এ-মুসাফির নওজোয়ানটি কে? কোন্ মুলুকে ঘর ? তার পরিচয়ই বা কি? 

‘হুজুর, নওজোয়ানটি এক বণিক, সাগরের তুফানে তার জাহাজ ডুবে যাওয়ায় এখানে আশ্রয় নিয়েছে। একদম ফকিরের হালচাল। বহুৎ আচ্ছা আদমি, খানাপিনা বা গােসল টোসলের দিকেও একদম খেয়াল নেই। উজির ইব্রাহিম আর কথা না বাড়িয়ে সােজা মঞ্জিলটির ভেতরে ঢুকে গেলেন, গুলাবীর তল্লাশ করলেন। তাকে না পেয়ে এক পরিচারিকাকে জিজ্ঞাসা করলেন—‘আমার লেড়কি কোথায় ? আমার গুলাবী?

—“হুজুর, আমরা তাজ্জব বনেছি, দুর্গের মাফিক এমঞ্জিলটি থেকে তিনি কী করে যে ভেগে গেলেন আমাদের দিমাকেই আসছে না।

পরিচারিকাদের বাৎ শুনে ইব্রাহিম-এর চোখে পানির ধারা নেমে এল। উন্মাদের মাফিক এদিক-ওদিক ঢুঁড়লেন। লেকিন কোথাও তার পাত্তা মিলল না। কী তাজ্জব বাৎ, এত দাসী-বাঁদী, নফর-নােকর থাকতে একটি লেড়কি কপূরের মাফিক হাফিস হয়ে গেল।

উজির ইব্রাহিম এবার ব্যস্ত পায়ে ছাদে উঠে গেলেন। ছাদের ওপর ঝুলে পড়া গাছের ডালটি দেখে নিঃসন্দেহ হলেন, এটিকে অবলম্বন করেই গুলাবী মঞ্জিল ছেড়ে ভেগে গেছে।

পাহারাদাররা পাহাড়ের প্রতিটি গুহা ও প্রতিটি আনাচে কানাচে ছুটোছুটি করে তল্লাশ করল। লেকিন গুলাবীর হদিস মিলল না, সবাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিল, গুলাবী বেহেস্তে চলে গেছে। তার ইন্তেকাল না হলে গেলই বা কোথায় ?

প্রহরীরা হতাশ হয়ে মঞ্জিলে ফিরে গিয়ে খবরটি দিলে রােশন কাঁদতে লাগল। আমার মেহেবুবা, আমার গুলাবী বলে উন্মাদের মাফিক কাঁদতে লাগল।

উজির ইব্রাহিম তো বেটির শােকে বিলকুল ভেঙে পড়লেন। তিনি বুক চাপড়ে বেটির শোকে বহুৎ কান্নাকাটি করলেন, চোখের পানি ঝরালেন বহুৎ।

সুলতান দিরবাসের উজির ভাবলেন, এ ভাবে দিশেহারা হয়ে উদভ্রান্তের মাফিক ছুটোছুটি করে কোন ফায়দা হবে না। হতাশ হয়ে তার একাই নিজের মুলুকে ফিরে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। এদিকে উজির ইব্রাহিম-এর হালৎ ভােলার নয়। বেটির শােকে বিলকুল ভেঙে পড়েছেন।

সুলতান দিরবাস-এর উজির ইব্রাহিম’কে বললেন –‘বেটির শােকে আপনি একদম ভেঙে পড়েছেন, আমি বুঝতে পারছি। আমাকে শূন্য হাতেই নিজের মুলুকে ফিরে যেতে হচ্ছে, আপনার কাছে আমার একটি অনুরােধ—এ-মঞ্জিলে যে ভবঘুরে নওজোয়ানটি রয়েছে আমি তাকে নিজের মুলুকে নিয়ে যেতে চাইছি। এর খুবসুরৎ চেহারা ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধ হয়ে সুলতান আমার ওপর তেমন ক্ষোভ প্রকাশ না-ও করতে পারেন।

–লেকিন।

–‘মেহেরবানি করে এতে আর আপত্তি করবেন না। আমি হলফ করে বলছি, কিছুদিন বাদে এ-নওজোয়ানটিকে আপনার মুলুকে ফিরিয়ে দিয়ে যাব।

উজির ইব্রাহিম আর আপত্তি করলেন না।

পাহাড়-মঞ্জিল থেকে বেরিয়ে উজির ইব্রাহিম ও সুলতান দিরবাস-এর উজির নিজ নিজ রাস্তা ধরলেন।

সুলতান দিরবাস-এর উজির সংজ্ঞাহীন রােশনকে একটি খচ্চরের পিঠে চাপালেন। নিজেও চাপলেন অন্য একটি খচ্চরের পিঠে। তিনদিন তিনরাত্রি খচ্চরটির পিঠে কাটানাের পর রােশন এর সংজ্ঞা ফিরে এল।

শহরে ঢুকেই উজির সুলতানের কাছে এক দূতকে দিয়ে নিজের আগমনবার্তা পাঠিয়ে দিলেন। একটু বাদে দূতটি ফিরে এসে জানাল, সুলতান তার শূন্য হাতে ফিরে আসার সংবাদ পাওয়া মাত্র ক্ষেপে একদম লাল। মাথায় খুন চাপার উপক্রম হয়েছে। তিনি কড়া হুকুম দিয়েছেন, উজির যেন শহরে না ঢােকেন।

সুলতান দিরবাস কৃপিত জানতে পেয়ে উজিরের কলিজা শুকিয়ে একদম কাঠ। কোন ফিকির করতে না পেরে সঙ্গী নওজোয়ানটির কাছে পরামর্শ চাইলেন।

সব শুনে রােশন বলল-“হুজুর, সুলতান আপনাকে কোন দায়িত্ব দিয়ে পরদেশে পাঠিয়ে ছিলেন যা হাসিল করতে না পারায় আপনাকে শহর ছেড়ে যেতে হুকুম জারি করেছেন?

উজির এবার ঘটনাটি খােলসা করে রােশন-এর কাছে ব্যক্ত করলেন। রােশন সব শুনে তাজ্জব বনল। লেকিন মুখে তেমন কিছু প্রকাশ করল না। ক্ষীণকণ্ঠে বলল-“হুজুর, রােশন-এর পাত্তা আমার আছে। আপনি আমাকে নিয়ে সুলতানের সামনে হাজির হােন। আমি তাকে বলব, রােশন-এর পাত্তা আমার কাছে আছে। তার পরের ব্যাপার সামাল দেবার দায়িত্ব বিলকুল আমার ওপর ছেড়ে দেবেন। উজির আর মুহূর্ত মাত্রও সময় নষ্ট না করে নওজোয়ান রােশন-এর হাত ধরে টানতে টানতে উদভ্রান্তের মাফিক সুলতানের সামনে হাজির হলেন। সুলতান গর্জে উঠলেন—“কি ব্যাপার, খালি হাতে কেন! রােশন-এর কোন পাত্তা মিলেছে? কোথায় সে?

উজির মুখ খােলার আগেই রােশন এগিয়ে এসে বলল—‘জাঁহাপনা রােশন-এর খবর আমার কাছে। সে কোথায় লুকিয়ে আছে আমি জানি। -নওজোয়ান, তুমি জান! রােশন কোথায় ? ‘কোথায়? কতদূরে সে এখন অবস্থান করছে? –একদম কাছে। আপনার নাগালের মধ্যেই হুজুর।

–‘এত কাছে, অথচ আমার কর্মচারীরা, অপদার্থ উজির তার পাত্তাই লাগাতে পারছেনা!

—জাহাপনা, রােশন-এর পাত্তা আমি-ই আপনাকে দেব। লেকিন তাকে দিয়ে আপনার কি জরুরৎ যে, এমন হন্যে হয়ে আপনি তার তাল্লাশ করছেন?

-নওজোয়ান, ব্যাপারটি তােমার কাছে ব্যক্ত করতে আমার কিছুমাত্রও অমত নেই।

—তবে মেহেরবানি করে বলুন, রােশন'কে আপনার এমন কি জরুরৎ?'

–কথা দিচ্ছি, তােমাকে সবই বলব। লেকিন দরবারে এখন ভিড়ভাট্টার মধ্যে বলতে বাঁধছে। বিলকুল ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেই। গােপনে একমাত্র তােমার কাছে বলতে চাইছি।'

সুলতান এবার রােশনকে নিয়ে দরবারের পার্শ্বস্থ এক গুপ্ত কক্ষে প্রবেশ করলেন। তার আন্তরিক ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।

রােশন এবার সুলতানের কাছ থেকে জরির কাজ করা ঝলমলে একপ্রস্ত পােশাক চেয়ে নিল। রােশন পােশাকগুলাে নিয়ে পাশের কামরায় চলে গেল সেগুলাে গায়ে চাপিয়ে হঠাৎ সুলতানের সামনে হাজির হল। বলল—‘জাহাপনা, রােশন আপনার সামনে হাজির।

সুলতান বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে তার মুখের দিকে নীরব চাহনি মেলে তাকিয়ে রইলেন। এমন সময় ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

চারশ’ তেরােতম রজনী 

রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বাদশাহ শারিয়ার বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগমের কোলে শির রেখে আধ-শােয়া অবস্থায় (চলবে)


Post a Comment

0 Comments