এমন সময় পিছন দিক থেকে গম্ভীর কণ্ঠস্বর গর্জে উঠল—“হেই, খাড়া হাে যাও!’ খলিফা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেন কয়েকজন সিপাহী। সিপাহীরা খলিফা ও তার সঙ্গীদের বন্দী করে আজব নকল খলিফার সামনে হাজির করল।
তখতে উপবিষ্ট সুবেশী খুবসুরৎ নওজোয়ান নকল খলিফা তাদের জিজ্ঞাসা করল-“কে তােমরা? এত রাত্রে এখানে কি করছিলে?
বৃদ্ধ উজির জাফর জবাব দিলেন—“জাহাপনা, আমরা পরদেশী, সওদাগরী কারবার করি। এমুলুকে সবে এসেছি। এখানকার আদব কায়দা অজানা। রাস্তা ঘাটও ঠিক মালুম নেই। তাই খালি খালি চক্কর মেরে বেড়াচ্ছি। মালুম ছিল না, এ-বাগিচায় সবার প্রবেশাধিকার নেই। তাই তাে আপনার সিপাহীদের হাতে হয়রান হতে হয়েছে। এখন আপনার হাতে পড়েছি, নসীবে আরও কি আছে, কে জানে?
মুহূর্তকাল নীরবে ভেবে আজব, নকল খলিফা বললেন--বহুৎ আচ্ছা, তােমরা যখন পরদেশী তখন তােমাদের কোন ডর নেই। তা নইলে তােমাদের ধড় থেকে মুণ্ডু নামিয়ে ছাড়তাম।
আজব খলিফার নির্দেশে সিপাহীরা খলিফা ও তার সঙ্গীদের হাতের বাঁধন খুলে দিল। আজব খলিফা বললেন—“তােমরা পরদেশী। আমাদের মেহমান। আজ তােমরা আমাদের সাথে খানাপিনা সারবে। নাচা-গানার মধ্যে দিয়ে আনন্দ-ফুর্তিও করা যাবে, কি বল ?
খলিফা ও তার সঙ্গীরা আজব খলিফা ও তার দলবলের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বাগিচাটির কেন্দ্রস্থলস্থ প্রাসাদে উঠে এলেন।
প্রাসাদটির সদর দরওয়াজায় একটি সায়ের খােদাই করা। যার মমার্থ হ’ল—একসময় এ-প্রাসাদ কারুকার্য আর রঙের জৌলুসে চকচক করত। আজ এর রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আর সৌন্দর্য অন্তর্হিত হয়েছে। তবু এর খানদান কিন্তু আজও এতটুকুও ম্লান হয়নি। মালিক আর মেহমান বিলকুল সমান, কোনই ফারাক নেই।” প্রাসাদটির সুবিশাল একটি কামরার কেন্দ্রস্থলে একটি কারুকার্য শােভিত দৃষ্টিনন্দন মসনদ। আজব ও নকল খলিফা প্রাসাদে বসলেন। অন্যান্যরা তাকে ঘিরে উচ্চাসনে বসল।
খানাপিনার আসর বসল। ঝকঝকে রেকাবিতে সবার হাতে হাতে হরেক কিসিমের খানা পরিবেশন করা হ’ল। খুসবুওয়ালা দামী গুলাবী সরাবের বন্যা বইয়ে দেওয়া হল। খলিফা হারুণ-অল-রসিদ খানা তাে দূরের কথা সরাবও স্পর্শ করলেন না।
আজব ও নকল খলিফা সবিনয়ে উজির জাফরকে বললেন—“তাজ্জব ব্যাপার! আপনার সওদাগর দোস্ত সরাবের পেয়ালা নিলেন না কেন?
–ওনার এখন এ সবে আর আসক্তি নেই। একদম ছেড়ে দিয়েছেন।
—“তবে অন্য কোন কিসিমের খানা—ফলমূল কিছু খেতে পারেন'।
নকল খলিফার নির্দেশে এক বাঁদী রূপার গ্লাসে পিস্তার সরবৎ নিয়ে এল। খলিফা আর আপত্তি না করে গ্লাসটি ঠোটের কাছে নিয়ে গেলেন।
খানাপিনার ব্যাপার মিটল। নকল খলিফা এবার তার হাতের সােনার ছড়িটিকে মেঝেতে তিনবার ঠুকলেন। ব্যস, মুহূর্তে দেয়ালের একটি গােপন দরওয়াজা খুলে গেল।
দু'জন গাট্টাগােট্টা নিগ্রো দেয়াল-আলমারিটি থেকে দুটি হাতির দাঁতের ছােট্ট একটি মসনদ বের করে আনল। সেটিকে এনে নকল মসনদটির পাশে স্থাপন করল। তাতে বসল এক খুব সুরৎ বাঁদী। তার সুরৎ যেন উপছে পড়ছে। শ্বেতাঙ্গিনী নকল খলিফার চোখের ইঙ্গিতে সে একটি ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র হাতে তুলে নিল। তারের বাদ্যযন্ত্র।
শ্বেতাঙ্গিনী বাঁদীটি গানা ধরল যার মর্মার্থ-মেহবুব আমার, আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ে তুমি কি করে যে শান্ত ছিলে, ভেবে পাইনা। তােমার বিহনে কি করে জান রাখব, বল? মাঝে-মধ্যে সঙ্গ -সুধা দান করে আমার জান টিকিয়ে রেখাে। আমার আতর দানি আজ ফাঁকা, বাগিচায় ফুল গেছে শুকিয়ে। আমার মহব্বতের বাঁশি আজ গায়েব হয়ে গেছে। তাই আমি আজ কূল কিনারা পাচ্ছি না।'
গানটি শেষ হতে না হতেই এক অবিশ্বাস্য তাজ্জব ব্যাপার ঘটে গেল। নকল খলিফা নওজোয়ানটি উন্মাদের মাফিক তর্জন গর্জন করতে করতে নিজের বহুমূল্য কোর্তা কামিজ যা কিছু গায়ে ছিল ছিড়ে কুচিকুচি করতে লেগে গেলেন। ছুঁড়ে ফেললেন শরীরের বিলকুল আভরণাদি। মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন। ব্যস, সংজ্ঞা হারিয়ে একদম এলিয়ে পড়লেন। প্রহরীদের একজন ব্যস্ত-হাতে নিজের কোর্তা খুলে তার বিবস্ত্র দেহটিকে ঢেকে দেয়।
আকস্মিক কাণ্ডটিতে খলিফা হারুণ-অল-রসিদ ও উজির জাফর হতভম্ব হয়ে পড়েন।
খলিফা এবার তার নগ্ন প্রায় দেহটির ওপর দৃষ্টি বােলাতে অনুচ্চ কণ্ঠে বললেন-“জাফর, মালুম হচ্ছে পলাতক দাগী আসামী। নইলে তার সারা গায়ে এমন কালশিটে পড়া চাবুকের দাগ কেন? তাজ্জব ব্যাপার তাে! ইতিমধ্যে নফররা এক প্রস্ত নয়া ঝলমলে বাদশাহী পােশাক এনে নকল খলিফাকে পরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার সংজ্ঞাও ফিরে এল। মসনদে জাঁকিয়ে বসলেন।
খলিফা ও তার সঙ্গী দু’জন সাধ্যমত গলা নামিয়ে কি যেন সব বাতচিৎ করতে লাগলেন।
নকল খলিফা ঠোটের কোণে হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে বললেন-“কি গাে সওদাগর সাহাবরা, ফিসফিসিয়ে কি সব বাতচিৎ হচ্ছে, বলতাে? গােপন কিছু?
উজির জাফর মুচকি হেসে বললেন- “আমার দোস্ত বলছেন, সওদাগরী কারবারের দৌলতে আপনি বহুৎ মুলুকে ঢুঁড়ে বেরিয়েছেন লেকিন এমন সৌখীন বাদশাহ কোথাও দেখেন নি। আপনি মুহূর্তে যে পােশাক পরিচ্ছদ ছিড়ে ফাতাফা করলেন তার দাম কম হলেও দশ হাজার দিনার তাে হবেই। লেকিন এতবড় ক্ষতিতেও আপনার মধ্যে এতটুকুও ভাবান্তর ঘটে নি।
ব্যস, কাজ হাসিল। দাওয়াই ধরেছে সামান্য তােষামদে। নওজোয়ানটি গলে একদম পানি হয়ে গেলেন। বহুমূল্য এক প্রস্ত বাদশাহী সাজসজ্জা এবং নগদ এক হাজার সােনার মােহর জাফর’কে বকশিস দেয়ার জন্য হুকুম দিয়ে দিলেন।
ফিন গান-বাজনার মজলিস শুরু হল।
খলিফা হারুণ-অল-রসিদ ও তার সঙ্গীরা গানের জোয়ারে ভেসে চললেন, যেন এক অচিন মুলুকের উদ্দেশে।
এমন সময় ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ’ ছিয়ানব্বইতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বেগম শাহরাজাদ কিসসাটির অবশিষ্টাংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন-“জাহাপনা, নওজোয়ানটির সর্বাঙ্গের সে-চাবুকের কালশিটে পড়া দাগগুলির ব্যাপার খলিফা কিছুতেই দিল থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে উজিরের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন—“জাফর, তাকে কালশিটে পড়া দাগগুলাের ব্যাপারে পুছতাছ করে দেখ না, কি বলে? সেগুলাে কিসের স্বাক্ষর বহন করছে, জানতে বড় ইচ্ছা করছে।
‘জাহাপনা, এখন ওসব নিয়ে মাথা ঘামানাে ঠিক হবে না। সবর করুন। দেখাই যাক না এর শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকে।
খলিফা গােসসায় একদম অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন। প্রায় কাপতে কাপতে বললেন—“শােন জাফর, তুমি যদি তাকে ওই দাগগুলির ব্যাপারে জিজ্ঞেস না কর তবে আমি আমার শির আর আব্বাস-এর তাজিয়ার নামে কসম খেয়ে বলছি, তার প্রাসাদে ফেরার পর তােমার ‘ধড়ে আর শির রাখব না। ভাল চাও তাে আজব ও নকল খলিফা চোখে-মুখে কৌতূহলের ছাপ এঁকে বললেন-‘সওদাগর সাহাব, খােদাতাল্লা-র কসম, বলুন তাে আপনারা এমন ফিসফিসিয়ে কি বাৎচিৎ করছেন?
উজির জাফর নিরুপায়। বাধ্য হয়ে বললেন-“আমার এ সওদাগর দোস্তটি জানতে চাইছেন, আপনার তামাম শরীর জুড়ে কালশিটে পড়া দাগগুলাে কিসের? তার বিশ্বাস, কোন বাজে ধান্দায় পড়ে আপনি -
উজির জাফর এর মুখের বাৎ কেড়ে নিয়ে আজব ও নকল খলিফা নওজোয়ানটি তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হেসে বললেন—এই সমাচার’ দেখুন, আপনারা পরদেশী মেহমান। আপনাদের খুশী করা আমার কর্তব্য। ধর্মও বটে। আমার সে বিচিত্র অভিজ্ঞতার কিসসা বলছি—
আমার আব্বা এক সাচ্চা আমীর আদমি ছিলেন। তিনি বেহেস্তে যাবার সময় আমার জন্য বহুৎ ধন দৌলত রেখে যান। সােনা, হীরা, মণি, মুক্তা, চুণী, পান্না সিন্দুক বােঝাই করা ছিল। আর রূপা যে কী পরিমাণ ছিল তার হিসাবই ছিল না। নগদ অর্থ আর ধন দৌলত ছাড়া প্রাসাদ, ইমারত, বাগিচা, জমি-জায়গা, দীঘি ও তলাও বহুৎ কিছুই আমার আব্বা রেখে গিয়েছিলেন। আমার কোন ভাগীদার না থাকায় বিলকুল বিষয় আশয়ের মালিক একা আমিই হলাম।
আমার আব্বার একটি চালু কারবারও ছিল। শহরের কেন্দ্রস্থলে বিরাট এক দোকান। এক সকালে আমি দোকানে বসে। বেচা-কেনা তখনও জমে ওঠে নি। হঠাৎ দেখি এক খুবসুরৎ লেড়কি খচ্চরের পিঠে চেপে আমার দোকানের দরওয়াজায় এসে দাঁড়াল। তার সঙ্গে কয়েকজন দাসী-বাঁদীও রয়েছে।
আমি ব্যস্ত হয়ে লেড়কিটিকে স্বাগত সম্ভাষণ জানালাম। সে খচ্চরের পিঠ থেকে নেমে আমার দোকানে ঢুকল। আমি কুরশি দেখিয়ে বসতে অনুরােধ করলাম। ঠোটের কোণে মনলােভা হাসির রেখা টেনে সে কুর্শিটি টেনে বসল। লেড়কিটি সুরেলা কণ্ঠে আমাকে জিজ্ঞাসা করল—“আমি কি জহুরী মহম্মদ আলির সঙ্গে বাৎচিৎ করছি?
আমি বিনয়ে একদম গদ গদ হয়ে জবাব দিলাম—“আমি কেবলমাত্র মহম্মদ আলীই নই, আপনার গােলামেরও গােলাম।
‘আপনার কাছে কি চেখনাই কোন বালা আছে? হীরা বসানাে বালা–
আমি তাকে নামিয়ে দিয়ে বল্লাম—‘আমার কাছে যত কিসিমের বালা রয়েছে এক এক করে আপনাকে দেখাচ্ছি। পছন্দ মাফিক বেছে নিন। আপনি পছন্দ করে যা হোক কিছু নিলে আমি বহুৎ খুশী হ’ব। আর যদি হতাশ হয়ে ফিরে যান তবে আপনার চেয়ে বেশী খুশী হ’ব আমি। আদতে তখন আমার দোকানে বহুৎ মন পছন্দ গহনাপত্র হরবখত মজুদ থাকত। আমি এক এক করে হরেক কিসিমের বালা বের করে তার সামনে রাখতে লাগলাম। দীর্ঘসময় নেড়ে চেড়ে দেখে এক সময় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-“ঠিক পছন্দ মাফিক হচ্ছে না। আদতে আমি এর চেয়ে আচ্ছা কিছুর তল্লাস করছি। এসব চলার মত নয়।
হঠাৎ আমার ইয়াদে এল, আমার আব্বা এক সময় হীরা বসানাে বহুৎ বাহারী এক জোড়া বালা বানিয়ে ছিলেন। আলমারীর এক কোণে রেখে দিয়েছিলেন। ঝট করে উঠে সে দুটো বের করে তার চোখের সামনে মেলে ধরলাম।
সে এক লহমায় দেখেই বলে উঠল-এর দাম কত লাগবে?
–‘এক লাখ দিনারের বিনিময়ে আমার আব্বা এটি খরিদ করেছিলেন। আপনার পছন্দ হলেই যথেষ্ট। এর জন্য দাম লাগবে না।
আমার বাৎ কানে যেতেই লেড়কিটি সচকিত হয়ে বন হরিণীর মাফিক ডাগর ডাগর চোখ দুটো মেলে আমার দিকে মুহূর্তের জন্য তাকাল। মুচকি হেসে বলল—“দাম লাগবে না কেন? আমি উচিত দাম দিয়েই খরিদ করতে চাই। বরং আপনার কেনা দামের চেয়ে পাঁচ হাজার বেশিই দেব। আপনি আপনার অর্থের সুদ বা সামানটির লাভ যা খুশী মনে করতে পারেন। আমি ভাববিমুগ্ধ দিল নিয়ে কোনরকমে উচ্চারণ করলাম—এ গহনাটি এবং এর বিক্রেতা দু'ই আজ থেকে আপনার বান্দা বনে গেল।
‘আমি তাে দাম বলেই দিয়েছি। এর বাইরে কিছু করতে গেলে আমি আপনার কাছে ঋণী হয়ে যাব। তাতে আমার দিল সায় দেবে না।
এরকম বাৎচিৎ করতে করতে লেড়কিটি দোকান থেকে বেরিয়ে খচ্চরটির পিঠে চেপে বসল। যাওয়ার আগে বলে গেল--‘গহনাটি নিয়ে আমার প্রাসাদে আসুন। দাম মিটিয়ে এটি নিয়ে নেব। আপনার জন্য আজ আমার এতদিনের বাসনা পূর্ণ হতে চলেছে। দেরী করবেন না, চলে আসুন।
আমি কি বলব, ভেবে পেলাম না। এক কর্মচারীকে বললাম, লেড়কিটির পিছু নাও, তার প্রাসাদটি চিনে আসাে।
আমি তার ফেলে যাওয়া পথের দিকে নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইলাম।
এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ’ সাতানব্বইতম রজনী
বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করলেন –‘জাহাপনা, সে নওজোয়ান নকল খলিফা তার জীবনের কিসসা বলে চলেছে—“পরদিন আমি ঠিকানা তল্লাশ করে লেডকিটির প্রাসাদে হাজির হলাম। এক লেড়কি সে-গহনাটি আমার হাত থেকে নিল। আমাকে বৈঠক খানায় বসিয়ে রেখে অন্দর মহলে চলে গেল।
একটু বাদে এক লেড়কি এসে আমাকে ভেতরের কামরায় নিয়ে গেল, একটি টুলে বসতে দিয়ে সে অদৃশ্য হয়ে গেল।
আর একটু বাদে অন্য একটি লেড়কি এল। সবিনয়ে বলল-~-জী হুজুর, মেহেরবানি করে আমার সঙ্গে পাশের কামরায় চলুন। একটু বিশ্রাম টিশ্রাম করুন। ইতিমধ্যেই আপনার প্রাপ্য অর্থ তৈরী হয়ে যাবে।'
আমি কামরায় ঢুকতে না ঢুকতেই সে-খুবসুরৎ লেড়কিটি আমার গহনাটি পরে কামরায় এল। সােনার একটি মসনদে বসল। পরনে বােরখা নেই। এই প্রথম তাকে বােরখাহীন অবস্থায় দেখলাম। আমার কলিজাটি আচমকা মােচড় মেরে উঠল। ইয়া আল্লাহ! ভাবলাম, আমি না জানি পাগলের মাফিক চিল্লিয়ে উঠি। গুটি সুটি মেরে বসে রইলাম।
খুবসুরৎ লেড়কিটি উঠে এসে আমার মুখােমুখি দাঁড়াল। সে সুরেলা কণ্ঠে বলে উঠল—“তােমার মাফিক খুবসুরৎ নওজোয়ান আজ পর্যন্ত আমার নজরে পড়েনি। প্রথম দর্শনেই আমি তােমাকে দিল জান অর্পণ করে দেউলিয়া হয়ে গেছি। আর তুমি কিনা আমাকে পাষাণের মাফিক দূরে ঠেলে রাখতে চাইছ, মেহবুব?’
আমি বিস্ময়ের ঘােরটুকু কাটিয়ে কৌনরকমে উচ্চারণ করলাম সুন্দরী, দুনিয়ার সব সুরই তাে তােমার দেহে আটকা পড়ে গেছে, এ কী ধনে যে তুমি ধনী তা নিজেই জান না। এমন সুরতের জৌলুস আমি জিন্দেগীতে দেখিনি।
সে আচমকা আমার একটি হাত চেপে ধরে বলল—‘মহম্মদ আলি, প্রথম দর্শনেই আমি তােমার মহব্বতে বাঁধা পড়ে গেছি। তােমার দোকানে যা বলেছি, কেবলমাত্র আমার প্রাসাদে তােমাকে কৌশলে নিয়ে আসার জন্য। বিলকুল ছলনা ছাড়া কিছু না।
সে এক ঝটকায় আমাকে তার সমুন্নত বুকে টেনে নেয়। আমি যেন এরকমই কোন মুহূর্তের প্রতীক্ষায় ছিলাম।
আমি তার বুকের সঙ্গে একদম লেপ্টে গিয়ে ওষ্ঠে ওষ্ঠ রেখে মােহমুগ্ধের মাফিক পড়ে রইলাম।
আমি পেশীবহুল হাত দুটো দিয়ে তাকে আরও ঘনিষ্ঠ করে বুকের সঙ্গে চেপে ধরলাম। ইতিমধ্যেই তার বুকে কামারের হাঁপর চলতে শুরু করেছে। আমি তার গাল, ঠোঁট ও চিবুকে ঘন ঘন চুম্বন করতে লাগলাম।
তার চোখের তারার আকস্মিক পরিবর্তনটুকু আমার নজর এড়াল না। কাছে, আমার আরও কাছে আসতে চায় সে। নিটোল ও উন্নত স্তন দুটোকে আমার বুকের সঙ্গে সাধ্যমত চাপ প্রয়ােগের মাধ্যমে নিষ্পেষিত করতে চায়।
কারাে মুখে রা নেই। কেবল দলন আর নিষ্পেষণের মাধ্যমে সুখটুকু নিঃশেষে কুড়িয়ে নেয়ার প্রয়াস।
আমার হালৎ দেখে তার হালৎ সম্বন্ধে ধারণা করা কঠিন নয়। তার কলিজার দাপাদাপি আমার কানে হাতুড়ির মাফিক হরদম

0 Comments