আরব্য রজনী পার্ট ১২৯ (Arabya Rajani Part 129)

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে সার্চ মেনুতে ১ লিখে সার্চ করুন ।

আমি বিলকুল মিশে গেলাম তার তুলতুলে দেহের সঙ্গে, আমার প্রশস্ত বুকের চাপে তার সমুন্নত নিটোল স্তন দুটো নিষ্পেষিত হতে লাগল। আমি চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনুচ্চ কণ্ঠে বলে উঠলাম—ইয়া আল্লাহ! লেড়কিদের স্তনের ছোঁয়া এত আরামদায়ক আগে তাে মালুম হয় নি। আমি তখন যেন নিজেকে বিলকুল হারিয়ে হিংস্র জানােয়ারে পরিণত হয়ে গেছি।


তারপর যা কিছু ঘটল সেসব ঘটনার কথা আপনার সামনে আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আমি মুখফুটে না বললেও, অবশ্যই অনুমান করতে পারছেন।

জাহাপনা, আমার খেটে খাওয়া পেশীবহুল শরীরে তাগত তাে কম নয়। একটি লেড়কিকে তৃপ্তি দিয়ে তার কামজ্বালা নির্বাপিত করার মত শক্তি সামর্থ্য আমার যে আছে তা আশা করি অবশ্যই অনুমান করতে পারছেন। মােদ্দা বাৎ, সে পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করল। তার যৌবনের জোয়ার লাগা দেহটি এক সময় অসার হয়ে বিলকুল এলিয়ে পড়ল। নিজের পুরুষত্বের জন্য মুহুর্তের জন্য হলেও গর্ব অনুভব করলাম।

লেড়কিটি তামাম রাত্রি লতার মত আমাকে জড়িয়ে পড়ে রইল। আমার হালৎ এমন হ’ল—আমি বুঝি খােয়াব টোয়াব দেখছি।

বাগিচায় পাখির ব্যস্ততা শুরু হল। লেড়কিটি এবার বিমর্ষ মুখে বলল —“ভাের হয়ে এল বলে। এবার আমাকে ছেড়ে যেতেই হবে। ওঠ, তৈরী হয়ে নাও।

আমি নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও পালঙ্কের ওপর উঠে বসলাম। লেড়কিটির মুখের দিকে চোখ মেলে তাকালাম। তাজ্জব ব্যাপার। তার মধ্যে কামনার লেশ মাত্র নেই। আমি কামরা ছেড়ে বেরােবার উদ্যোগ নিলাম। লেড়কিটি একটি নক্সা করা রেশমী রুমাল আমার হাতে গুঁজে দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল —এ রুমালটি সঙ্গে সঙ্গে রেখাে, আমার কথা ইয়াদ থাকবে। রুমালটির এক কোণে একটি গিট দেয়া কি যেন বাঁধা আর। অন্য কোণটিতে লেখা—গাধাটিকে খানা খরিদ করে দিও। আমি বিষন্নমুখে দরওয়াজার দিকে পা বাড়ালাম। লেড়কিটি আমার একটি হাত জড়িয়ে ধরে ভাবাপ্লুত কণ্ঠে বলল—“মাঝে-মধ্যে তােমাকে আমার প্রয়ােজন হবে। নফরকে দিয়ে খবর দেব, এসাে কিন্তু। আমি মুচকি হেসে বললাম—‘আলবৎ আসব। খবর পেলেই বান্দা হাজির হবে শাহজাদী।

প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে গাধাটিকে নিয়ে নাড়িভূঁড়ির দোকানে গিয়ে মালগুলাে বেচে দিলাম। এবার নিজেকে একটু হাল্কা বােধ হল।

রুমালের গিটের দিকে এবার নজর দেয়ার ফুরসৎ পেলাম। ধারণা ছিল, লেড়কিটি এক আধটি দিনার টিনার বেঁধে দিয়েছিল। রুমালের গিটটি খুলতেই আমি ভিমরি খাবার জোগাড় হলাম। দেখি পঞ্চাশটি সােনার দিনার। এতগুলাে মুদ্রা একসঙ্গে দেখা এর আগে কোনদিন নসীবে কুলােয় নি।

এতগুলাে সােনার দিনার সঙ্গে নিয়ে ঘােরা মােটেই নিরাপদ নয়। ভেবে নিরিবিলি একটি জায়গা খুঁজে মাটির তলায় পুঁতে রাখলাম। আখেরে কাজ দেবে।

আমি এবার দোকানের রােয়াকে বসে বিশ্রাম করতে লাগলাম। মাথার ভেতরে হাজার খানেক চিন্তা, বিশেষ করে গত রাত্রের প্রতিটি মুহুর্তের মধুময় স্মৃতি ভিড় করতে লাগল। তামাম দিন গালে হাত দিয়ে কিভাবে যে গুজরান করে দিলাম, আমার মালুমই হয় নি।

চারদিকে সন্ধ্যার আন্ধার নেমে এসেছে। আমি তখনও দোকানের রােয়াকে গালে হাত দিয়ে বসে তন্ময় হয়ে ভেবে চলেছি।

হঠাৎ এক মাঝবয়সী আদমি এসে বলল –চলুন। আমি সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বললাম—যেতে হবে? কোথায় যেতে হবে?

–‘চলুনই না, গেলেই তাে জানতে পারবেন। উঠুন—চলুন।

আমি আর কোন প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সময় নষ্ট করলাম না। নীরবে তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম।

মােহমুগ্ধের মত হাঁটতে হাঁটতে ফিন সে-প্রাসাদের হারেমে হাজির হলাম।

কামরায় ঢুকে দেখি, খুবসুরৎ লেড়কিটি পালঙ্কের ওপর আগের মত পাতলা একদম ফিনফিনে একটি মাত্র সেমিজ গায়ে চড়িয়ে মনলােভা ভঙ্গিতে বসে। তার একটি পায়ের অনেকাংশ উন্মুক্ত। সেমিজটিকে ইচ্ছা করে তুলে নেয়া হয়েছে নাকি তার অন্যমনস্কতার সুযােগে উঠে গেছে মালুম হ’ল না। আমার চোখ দুটো তার ধবধবে সফেদ ও নিটোল থাইয়ের ওপরে স্থির হয়ে গেল। আমার কলিজায় দপ করে আগুন জ্বলে উঠল। শিরায় শিরায় খুনের গতি গেল বেড়ে খুনে আমার মাতন লেগে গেল।

আমি তাকে কুর্নিশ জানাতে ভুলে গেলাম। 

সে আমার মুখের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই বলল—“কি গাে মিঞা, কি দেখছ এমন করে?”

তার কণ্ঠস্বর কানে যেতেই আমি যেন সম্বিৎ ফিরে পেলাম। আচমকা তাকে কুর্নিশ করে ফ্যাল ফ্যাল করে মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

লেড়কিটি আচমকা আমার একটি হাত ধরে এমন জোরে এক হেঁচকা টান দিল যে আমি টাল সামলাতে না পেরে একদম তার বুকের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। মুহুর্তে দু’বাহুর বন্ধনে আমাকে আবদ্ধ করে বলে উঠল—“দূর থেকে তুমি না হয় চোখ দুটোকে তৃপ্তি করছ কিন্তু আমার হালতের ব্যাপার একবারটি ভেবে দেখেছ? এদিকে আমি যে একটু একটু করে গলতে শুরু করেছি মেহবুব। বুকের ধন দূরে থাকলে দিল বরদাস্ত করবে কেন?”

জাঁহাপনা, আগের রাত্রের সে-নেশায় আমরা মেতে গেলাম। কি করে যে এতবড় রাত্রিটি গুজরান হয়ে গেল মালুমই হ’ল না। ভাের হতেই লেড়কিটি আমাকে তুলে দিল

আমি লেড়কিটির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দরওয়াজার কাছাকাছি যেতেই সে গতদিনের মাফিক একটি রুমাল আমার হাতে গুঁজে দিয়ে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলল—এটি নিয়ে যাও, আখেরে কাজে লাগতে পারে।

আমি সােনার দিনারগুলাে আগের দিনের জায়গাটিতেই গর্ত খুঁড়ে পুতে রাখলাম। আমি পর পর আটরাত্রি সম্ভোগসুখ লাভ ও পঞ্চাশটি করে সােনার দিনার উপার্জন করলাম। আর সে-সঙ্গে রােমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ব্যাপার তাে ছিলই।

একদিন সে খুবসুরৎ লেড়কির কামরায় হরেক কিসিমের উপাদেয় খানা ও দামী সরাব দিয়ে খানাপিনা সারলাম। তারপর গায়ের কোর্তাটি খুললাম। পালুনটি যেই খুলতে যাব অমনি এক বাঁদী ব্যস্ত পায়ে কামরায় ঢুকল। লেড়কিটির কানে কানে প্রায় ফিসফিসিয়ে কি যেন বলল। মুহূর্তেই লম্বা লম্বা পায়ে ফিন কামরা ছেড়ে বেরিয়ে গেল। লেড়কিটি এক লাফে পালঙ্ক থেকে নেমে পড়ল।

আমি লেড়কিটির মুখের দিকে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলে তাকালাম। আমি কিছু বােঝার আগেই সে আমার হাত ধরে টানতে টানতে ছাদের সিঁড়ির একটি কামরায় হাজির করল। বিলকুল গুমটির মাফিক ছােট কামরাটি। আমাকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে শিকল লাগিয়ে সে চুপিসারে চলে গেল।

আমি ঘুলঘুলি দিয়ে রাস্তার দিকে তাকালাম। হঠাৎ নজরে পড়ল কয়েকটি আদমি ঘােড়া হাঁকিয়ে এসে সদর-দরওয়াজায় নামল। সুঠামদেহী এক নওজোয়ান তাদের সঙ্গে রয়েছে। সে ঘােড়া থেকে নেমেই এক দৌড়ে খুবসুরৎ লেড়কিটির কামরায় ঢুকে পড়ল।

আমি এবার সরে এসে অন্য একটি ঘুলঘুলিতে চোখ রাখলাম। সেটি দিয়ে কামরাটির ভেতরের বেশ কিছু অংশ ভালই নজরে পড়ে।

দেখলাম, নওজোয়ানটি কামরায় ঢুকেই চোখের পলকে কোর্তা পাৎলুন খুলে একদম উলঙ্গ হয়ে পড়ল। মালুম হ’ল সে এক বীর যােদ্ধা। নির্ঘাৎ সেনাপতি গােছের কিছু হবে। কোর্তা-পালুন খুলেই সুঠামদেহী নওজোয়ানটি এক লাফে লেড়কিটির ওপর চেপে বসল।

কয়েকমুহুর্তের মধ্যেই কামােত্তেজনার ফোঁসফোসানি আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম। আর লেড়কিটি থেকে থেকে তৃপ্তি আহাঃ! উফ! ইস ইস প্রভৃতি বিচিত্র অস্ফুট আওয়াজ তুলতে লাগল। সে একের পর এক শীৎকারের মাধ্যমে তৃপ্তিটুকু নিঙড়ে নিঙড়ে উপভােগ করছে মালুম হ’ল। এরকম দৈত্যর মাফিক পৌরুষ না থাকলে লেড়কিদের কামজ্বালা নির্বাপিত হয় না। আমি রাতভর তাদের রতিরঙ্গ দেখে অব্যক্ত যন্ত্রণায় দগ্ধে মরতে লাগলাম অন্ধকার খুপরটির মধ্যে। নিজেকে বড়ই ছােট মনে হতে লাগল। নিজের দৈন্যদশা সে-মুহূর্তে অন্ততঃ আমার কাছে বড় হয়ে দেখা দিল। এমন আসুরিক পৌরুষ আমি কোথায় পাব? আমার গায়ে কি সে তাগদ আছে? আমি কি তাকে এরকম তৃপ্তি দিতে পেরেছি ? অবশ্যই না।

এমন সময় পূর্ব-আকাশে রক্তিম ছােপ ফুটে ওঠায় বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

তিন শ উননব্বইতম রজনী

রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশটুকু বলতে শুরু করতে গিয়ে বললেন—“জাহাপনা, আন্ধার খুপরীটির ভেতর দাঁড়িয়ে সে-আদমি ভাবছে এ-নওজোয়ানটি নির্ঘাৎ লেড়কিটির স্বামী। 

ভাের হওয়ার আগেই নওজোয়ানটি কোর্তা-পাৎলুন গায়ে চাপিয়ে ব্যস্ত-পায়ে কামরা ছেড়ে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ বাদে লেড়কিটি এসে খুপরীর শেকল খুলে আমাকে বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিল।

সে আবেগ-উচ্ছ্বাসে অভিভূত হয়ে বলল—“আমার স্বামীকে দেখেছ?' 

আমি ফ্যাকাসে মুখে বললাম—দেখছি। কিন্তু একটি বাৎ, তিনি তাে একদম নওজোয়ান। শরীর-স্বাস্থ্যও বহুৎ আচ্ছা। গায়ে তাগদও মাত্রাতিরিক্তই আছে বলে মালুম হচ্ছে। কিছুমাত্র ঘাটতিও তার আছে বলে মালুম হচ্ছে না। তাজ্জব ব্যাপার! এতকিছু সত্ত্বেও তিনি তােমার কামজ্বালায় শান্তি বারি ছিটিয়ে তােমাকে ঠাণ্ডা করতে পারে না?

-হ্যা, একদম সাচ্চা বাৎ বলেছ। আমার স্বামীর মাফিক গদ খুব কম আদমিরই আছে। আর এ-ই তাে আমার বড় সমস্যা। এরকম পুরুষত্ব যার তাকে কি কোন লেড়কি হরবখত তৃপ্তি দিতে পারে? আমিও পারি না। এতে আমার স্বামী গােসসায় একদম লাল হয়ে যায়। তােমার কাছে বলতে দ্বিধা নেই। একদিনের ঘটনা তােমাকে বলছি—সেদিন সন্ধ্যায় আমি আর আমার স্বামী বাগিচার এক বেঞ্চে পাশাপাশি, একদম গা-ঘেঁষাঘেষি করে বাৎচিৎ করছি। আচমকা সে উঠে চলে গেল। কেন, কি ব্যাপার আমি কিছুই ঠাহর পেলাম না। আমি পা টিপে টিপে তাকে অনুসরণ করলাম। কামরার ভেতরে উকি দিয়ে যা দেখলাম তাতেই আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। এক প্রৌঢ়া ঝিকে জড়িয়ে শুয়ে রয়েছে। ইয়া আল্লাহ! কোন আদমির রুচি এমনও হতে পারে, ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করে উঠল।

আমি সেখানে দাঁড়িয়ে সে-মুহূর্তেই আল্লাহর নামে কসম খেলাম, এর সমুচিত জবাব আমি দেবই দেব। আর আমি পথের নোংরা মেথরকে দিয়ে কামপ্রবৃত্তি নিবৃত্তি করব। তারপরই আমার বাঞ্ছিত আদমির তল্লাশী লাগালাম। পাঁচ পাঁচটি দিন তল্লাশী চালিয়ে তােমাকে পেয়ে গেলাম। তারপর তােমাকে দিয়ে আমার কামজ্বালা নিবিয়েছি। তার কাজের যােগ্য প্রতিশােধ নিয়েছি। ব্যাপারটি সে বুঝতে পেরে গেছে। তাই কালরাত্রে আমার কাছে ছুটে এসেছিল। রাতভর আমাদের মধ্যে বােঝাপড়া হ’ল। তারপর একটি ফয়সালাও হয়ে গেল। আমার কাছে কসম খেয়েছে, ওরকম নোংরা কাজ ভুলেও আর কোনদিন করবেনা। পুরুষদের কসম টসমের ওপর আমার আস্থা নেই। শােন, ভবিষ্যতে ফের সে যদি ওরকম কোন নােংরা কাজে প্রবৃত্ত হয় তবে আমি ফিন তােমাকে তলব করব। এখনকার মত তুমি বিদায় নিতে পার। সেদিন আমি কামরা ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় লেড়কিটি এক সঙ্গে চার শ’ সােনার দিনার ইনাম হিসাবে আমার হাতে গুজে দিল। ব্যস, তার পরদিন থেকেই আমি অপেক্ষা করছি কবে তার স্বামী ফিন সেরকম কোন নােংরা কাজে লিপ্ত হবে। ফিন নোংরা কোন লেড়কি বা জেনানার কাছে যাবে। একদিন দু’দিন করে পুরাে একটি বছর হয়ে গেল, আমার মেহবুবার কাছ থেকে ফিন ডাক এল না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বহুৎ তকলিফ করে, পয়দল এ-মক্কায় হাজির হয়েছি। আল্লাতাল্লার কাছে আমার বাসনা জানিয়েছি। কাবাহ প্রদক্ষিণ করার সময় আমি বার বার বলেছি আমার বাঞ্ছিতাকে পাওয়ার ফিকির করে দিতে। আপনি বলুন হুজুর, আমি এতে কোন্ কসুর করেছি? 

আমির আদমিটির কসুর মাফ করে দিলাম। তেমন কোন বড় রকম কসুর তাে তিনি করেন নি।

আবু ইসার কিস্সা 

বেগম শাহরাজাদ জানালা দিয়ে বাগিচার দিকে তাকিয়ে বুঝলেন, এখনও ঢের রাত্রি রয়েছে। তিনি নয়া একটি কিসসা শুরু করতে গিয়ে বললেন-“জাঁহাপনা, আপনাকে এবার আবু ইসার কিসসা শোনাচ্ছি। 

আবু ইসা ছিলেন হারুণ-অল-রসিদ-এর লেড়কা। তিনি একবার তার ফুফার লেড়কা আলী বন হিমাস-এর মকানে মেহমান হয়ে কিছুদিন ছিলেন। আলী বহুৎ ধনী। তার আছে দিনারের পাহাড়। একদম দিনারের কুমির। সুরমা নামে আলীর খুবসুরৎ এক বাঁদী ছিল। পূর্ণ যৌবন আবু ইসা আলীর মকানে যাওয়ার পর সুরমা’কে দেখেই তার মহব্বতে পড়ে যান। যাকে বলে একদম মহব্বতের সাগরে হাবুডুবু খাওয়ার হালৎ।

আবু ইসা বুকভরা দুঃখ হতাশা নিয়ে নিজের প্রাসাদে ফিরে আসেন। বাঁদীটির মহব্বতে পড়ে তিনি যে অবর্ণনীয় দুঃখ-যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছেন সে বাৎ কারাে কাছে মুখফুটে প্রকাশ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় নি। দিন যায়। মাহিনাও ক্রমে গুজরান হয়। কিন্তু আবু-র দিলের বিরহ-যন্ত্রণা উত্তরােত্তর বেড়েই চলে। বাঁদীটির চিন্তা দিল থেকে ঝেড়ে ফেলার প্রয়াস চালিয়েও কোনই ফয়দা হয় না। তাকে ভুলে থাকা বিষম দায় হয়ে পড়ল।

শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে এক সকালে আবু ফিন আলীর মকানে হাজির হল। মহব্বতের জ্বালায় দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত সে শরম ইজ্জৎ খুইয়ে দিলের সে-গােপন ইচ্ছা আলীর কাছে প্রকাশ করেই ফেলেন। বার কয়েক আমতা আমতা করে আবু বললেন—“ভাইয়া, তােমার ওই বাদাটি আমার বহুৎ পছন্দ। তুমি ওকে বেচতে রাজী থাকলে আমি উচিত দাম দিয়ে খরিদ করে নিতে চাই।

ইয়া আল্লাহ! সুরমা আমার হারেমের প্রধানা বাঁদী। ওর সুরৎ-ও সবচেয়ে বেশী। তামাম আরব দুনিয়া ঢুঁড়ে এলে ওর মাফিক সুরৎ খুব কম লেড়কির মধ্যেই দেখা মিলবে। কেনা-বেচার কারবার করতে তাে আর আমি ওকে দশ হাজার দিনার দিয়ে খরিদ করি নি ভাইয়া। 

' মােদ্দা বাৎ, আলী বিলকুল গররাজি।'

আলী উচিত দামের বিনিময়েও যদি বাঁদীটিকে বেচতে রাজী না হয় তবে তাে তার ওপর জোর জুলুম চলে না। উপায়ান্তর না দেখে আবু ব্যাজার মুখে নিজের প্রাসাদে ফিরলেন।

প্রাসাদে ফিরে আবু ফিন কোশিস করতে থাকেন বাঁদীটিকে দিল থেকে একদম ঝেড়েমুছে ফেলে দিতে। এবারও তার প্রয়াস ব্যর্থ হয়। বরং তার বিরহ-বেদনা তাকে অক্টোপাসের মাফিক আঁকড়ে ধরে। নিরুপায় হয়ে আবু তার ভাইজান খলিফা অলমামুনকে বিলকুল ঘটনা খােলসা করে বললেন। বাঁদীটিকে নিজের করে পাবার জন্য তীব্র আকাঙক্ষা প্রকাশ করেন। খলিফা অল-মাসুন সমঝাল। বাঁদটিকে না পেলে তার ভাইয়ার জিন্দেগী একদম বরবাদ হয়ে যাবে। দু'ভাইয়া ঘােড়ার পিঠে চাপলেন। ঘােড়া ছুটে চলল আলীর মকান-এর উদ্দেশে। খলিফা স্বয়ং হাজির। আলী ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মেহমান খলিফার সেবা যত্ন করার জন্য। হরেক কিসিমের খানার বন্দোবস্ত করলেন। দামী গুলাবী সরাব তাে রয়েছেই।

খানাপিনা মিটলে আলী মেহমানদের খুশী করার জন্য নাচাগানার বন্দোবস্ত করলেন। দশটি লেড়কি হরেক কিসিমের বাদ্যযন্ত্র হাতে কামরায় হাজির হল। সবার গায়ে কালাে রেশমী কাপড়ের সালােয়ার-কামিজ। সবার সুরৎ-ই চোখে লাগার মত। গায়ের রঙ তো যাকে বলে বিলকুল দুধে-আলতায় মেশানাে।

শুরু হ’ল সুরের মূর্ছনা । একটি লেড়কি কিন্নর কণ্ঠে গানা ধরল। মালুম হ’ল—এ যেন বেহেস্তে গানার জলসা বসেছে।

গান-বাজনা থামলে দশজনের মধ্যে যে-লেড়কিটির সুরৎ মনলােভা তার দিকে খলিফা আল মামুন অত্যুগ্র আগ্রহে ও কৌতূহলী দৃষ্টি মেলে নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইলেন।

এক সময় প্রশ্ন করলেন—‘তােমার নাম কি?

খুবসুরৎ লেড়কিটি মিষ্টি-মধুর স্বরে জবাব দিল—“লহরা। জাহাপনা, লহরা নামে সবাই আমাকে ডাকে।

( চলবে )

Post a Comment

0 Comments