‘অন্তত হাজার সােনার দিনার তাে বটেই।
--এক হাজার কিন্তু খুবই বেশী হয়ে যাচ্ছে।
–তা-ই যদি বলেন, আমি তখন বলব, অন্তত পাঁচশ তো দিন।
‘বহুৎ আচ্ছা বাৎ। কিন্তু তিনি যদি পচশ দিনারও বেশী বলে মনে করেন, তখন ?
–কই বাৎ নেহি, তিনশ তাে দেবেন?
–‘এটিকেও যদি বেশী ভাবেন, তবে?
তবে একশ দিনার –
‘যদি এর দাম একশ’ দিনারও বেশী ভাবেন, তখন?
বহুৎ আচ্ছা— পঞ্চাশ দিনার প্রার্থনা করব।
–‘এতেও যদি বলে এর দাম পঞ্চাশ দিনার হলে বেশীই হয়ে যাবে।
—ব্যস, আমি ত্রিশ দিনার চেয়ে নেব।
—“ত্রিশ দিনারের বাৎ শুনেও তিনি যদি বলেন দামটি আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না, তখন কি করবে?
আরবটি এবার চোখে-মুখে এমন এক ভাব ফুটিয়ে তুলল যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সে আচমকা বলে উঠল, ত্রিশ দিনারেও যদি তিনি আপত্তি তােলেন তবে আমি আমার গাধাটিকে সােজা তার হারেমে চালান দিয়ে দেব।
আরবটির বাৎ শুনে আমীর মুইন তাে হেসে গড়াগড়ি যাবার জোগাড়। সে কী হাসি। বিলকুল হাে হাে রবে হাসি জুড়ল।
আমীর মুইন-এর আর শিকারে যাওয়া হল না। অতর্কিতে ঘােড়ার মুখ ঘুরিয়ে নিজের প্রাসাদের দিকে যাত্রা করল। সে প্রাসাদে ফিরেই দেওয়ানকে তলব করল। আমীর-মইন এর তলব পেয়ে বুড়াে দেওয়ান হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে হুকুমের অপেক্ষায় সামনে দাঁড়াল।
মইন বলল-'দেওয়ানজী, একটু বাদে এক বুড়াে আরব গাধার পিঠে চেপে প্রাসাদের দরওয়াজায় হাজির হবে। তার গাধার পিছনে পােটলা বাঁধা কিছু শসা দেখতে পাবে। সে আদমি এলেই তাকে সােজা প্রাসাদে নিয়ে আসবে। তােয়াজ টোয়াজ করে আমার কাছে হাজির করবে।
বুড়াে দেওয়ান ‘জী হুজুর’ বলে সালাম জানিয়ে বিদায় নিল।
একটু বাদেই সে আরবটি গাধা নিয়ে সদর-দরওয়াজার সামনে দাঁড়াল।
দেওয়ান আরবটিকে সদর-দরওয়াজায় দেখতে পেয়েই ব্যস্ত পায়ে ছুটে গিয়ে তাকে মাত্রাতিরিক্ত আদর আপ্যায়নসহ মুইন সাহাবের সামনে হাজির করল।
দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে আমীর মুইন তার আসনে বসে। তার গায়ে সে-শিকারের পােশাক আশাকও নেই। চকমকে পােশাক ও বহুৎ কিসিমের চাকচিক্যের মধ্যে সে মুইনকে একদম চিনতে পারল না। এই যে সেই আদমি তা চেনাও সম্ভব নয়।
আমীর ইবন গম্ভীর মুখে আরবটিকে জিজ্ঞাসা করল- কি হে, বস্তাটিতে আমার জন্য কি ভেট নিয়ে এসেছ?
আগন্তুক আরবটি উত্তর দিল—‘জী হুজুর, আমার জমিনের প্রথম ফসল কিছু শসা নিয়ে এসেছি। কথা বলতে বলতে বস্তাটির মুখ খুলল।
–‘বহুৎ আচ্ছা! বহুৎ আচ্ছা! তুমি এর বিনিময়ে আমার কাছ থেকে ইনাম প্রত্যাশা করছ?
–এক হাজার সােনার দিনার।
–‘এক হাজার? এ বেশীই আশা করছ আরব ভাইয়া।
—‘তবে না হয় পাঁচশ দিনারই মঞ্জুর করুন।
–না, তা-ও বেশী হচ্ছে।'
‘তবে বরং এক কাজ করুন, একশ’ দিনার দিয়ে দিন।
–না হে, একশ’ দিনার হলেও বেশীই হয়।
—“তবে পঞ্চাশ দিনার ?
‘তবু বেশী হচ্ছে।
—“আর কিছু না হােক ত্রিশটি দিনার তাে মঞ্জুর করবেন?
–না হে, ত্রিশ দিনারও বেশীই হচ্ছে।
আগন্তুক আরবটি এবার চিল্লিয়ে উঠল –‘হুজুর,মাথার উপরে আল্লাতাল্লা রয়েছে। আদতে আমার নসীবই খারাপ দেখছি। মরুপথে ইয়া দশাসই এক আদমির মুখােমুখি হতে হয়েছিল। তখনই মালুম হয়েছিল, আমার কপালে আগ লাগল। কিন্তু হুজুর, ত্রিশ দিনারের কম দামে আমি কিছুতেই এতগুলাে শসা ছাড়তে পারব না।'
আরবটির বাৎ শুনে আমীর মুখে কিছুই বলল না। কেবল নীরবে ঠোট টিপে টিপে হাসল। আরবটি অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে আমীর মুইন-এর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এরপর আপন মনে বলে উঠল –“ইয়া আল্লা! কী তাজ্জব ব্যাপার। এ আদমিটিকেই তাে আমি মরুপথে দেখেছিলাম, মালুম হচ্ছে। আরও কয়েক মুহূর্ত নীরবে লক্ষ্য ক'রে নিঃসন্দেহ হ’ল।
আমীর মুইন এতক্ষণ নিজেকে কোন রকমে সামলে সুমলে রেখেছিল। আর সম্ভব হ'ল না। আচমকা সরবে হেসে একদম লুটোপুটি খেতে লাগল। তারপর হাসি থামিয়ে নায়েবকে বলল -এ-আরবটিকে তহবিল থেকে এক হাজার সােনার দিনার ইনাম স্বরূপ দিয়ে দাও।
আমীর মুইন-এর হুকুম তামিল করার জন্য সবে দরওয়াজার চৌকাঠ ডিঙিয়েছে অমনি মুইন তাকে ডেকে বলল –‘এক কাম করবে, সবার আগে এক হাজার সােনার দিনার দেবে। তারপর দেবে পাঁচশ’,তারপর তিনশ’ দেবে, তারপর দেবে একশ’, তারপর পঞ্চাশ আর সবশেষে দেবে ত্রিশ দিনার।
—“জী হুজুর। আপনার হুকুম মতই।
—“আর আগন্তুক আরবটিকে বুঝিয়ে দেবে, আমি এক হাজার নয়শ’ আশি দিনার তাকে ইনামস্বরূপ দিচ্ছি। সে যেন কিছুতেই না ভাবে, দিনারগুলাে আমি তাকে শসার দাম হিসাবে দিচ্ছি।
–‘জী হুজুর আপনার হুকুম মতই—'
—“আর এক কাম করবে, তাকে গােসল করিয়ে, আচ্ছা করে খানাপিনা করিয়ে তবে বিদায় দেবে। ইয়াদ রাখবে, এক আরব আমাকে বেকুব বানিয়ে আধ বস্তা শসার বিনিময়ে যে এতগুলাে সােনার দিনার নিয়ে যাচ্ছেনা এটা তাকে ভাল করে বুঝিয়ে দেবে কিন্তু। সে যেন বােঝে আমীরের মহানুভবতার জন্যই সে এতগুলাে দিনার পেয়েছে। কিসসাটি শেষ করে বেগম শাহরাজাদ চুপ করলেন। বাদশাহ শারিয়ার অত্যুগ্র আগ্রহে এবং ছােট বহিন দুনিয়াজাদ-এর অনুরােধে তিনি আর একটি কিসসা শুরু করলেন
শাদী ও তালাকের কিসসা
বৃদ্ধ উজির জাফর এক সন্ধ্যায় খলিফা হারুণ-অল-রসিদ’কে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করলেন। তার বহুৎ দিনের বাসনা আজ পূর্ণ হয়েছে।
খলিফাকে তৃপ্ত করার জন্য উজির জাফর তার বাবুর্চিকে দিয়ে হরেক কিসিমের খানার বন্দোবস্ত করালেন।
যথা সময়ে খলিফা উজির-এর মাকান-এর সদর দরওয়াজায় ঘােড়ার পিঠ থেকে নামলেন। জাফর হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এসে অভ্যর্থনা করে খলিফাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। খলিফা টেবিলে বসে খানাপিনা সারছেন এমন সময় এক বাদীর দিকে তার চোখ পড়ল।
খানা সমেত হাতটিকে নামিয়ে এনে খলিফা বললেন—“কি হে জাফর, তােমার মাকানে খুবসুরৎ এক বাঁদী রেখেছ দেখছি! তাে উজির জাফর হাত কচলে নিবেদন করলেন—“জাহাপনা, সবই তাে আপনারই মেহেরবানির ফলে সম্ভব হয়েছে।
–শােন জাফর, আমি বাঁদীটিকে তােমার কাছ থেকে খরিদ করে আমার প্রাসাদে নিয়ে যাব।
-“কিন্তু জাঁহাপনা একে বেচার আমার মন নাই। —“যদি না-ই বেচ তবে এমনিতেই দিয়ে দাও।
–‘জাঁহাপনা, আমি একে বিক্রিও করব না আবার এমনিতেও দিতে রাজী নই।
উজির জাফর-এর বাৎ শুনে খলিফা এবার রাগান্বিত হলেন। শােন জাফর, আমি খােদাতাল্লার নামে তিন কসম খেয়ে বলছি,- আমার ইচ্ছা যদি তুমি পূরণ না কর, উচিত দাম নিয়ে বিক্রি না কর বা এমনিতে বাঁদীটিকে আমার হাতে তুলে না দাও তবে আমি আজই আমার প্রধানা বেগমকে তালাক দিয়ে দেব, শুনে রাখ।
—“জাঁহাপনা, কসম আমিও খেতে জানি। আমি তিন তিনবার কসম খেয়ে বলছি, আপনার হুকুম যদি আমাকে তামিল করতেই হয় তবে আমার বিবিকে আমি তালাক দেব। গলা চড়িয়েই উজির বলে উঠলেন।
আদতে সরাবের নেশা উভয়কেই পেয়ে বসেছে। নেশার ঝোঁকে তারা এরকম কঠিন কসম খেয়ে বসেছে। কিন্তু একটু বাদেই যখন নেশার ঝোঁক একটু কমে এল তখন উভয়েই যেন সম্বিৎ ফিরে পেলেন। তখন ভাবলেন, কাজটি মােটেই সঙ্গত হয় নি।
এবার সমস্যা দেখা দিল কিভাবে এ কঠিন সমস্যার হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে। উভয়েই গালে হাত দিয়ে বসে ফিকির খুঁজতে লাগলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা ভাবনা করে খলিফার মাথায় বহুৎ আচ্ছা একটি মতলব এল। খলিফার মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠল। তিনি বললেন—“জাফর এক কাজ করা যাক। চল আমরা কাজী ইউসুফএর কাছে যাই, তাকে বলি সমস্যাটির একটি সমাধান বের করে দিতে। তিনি প্রধান আইনজ্ঞও। চিন্তা ভাবনা করে তিনি অবশ্যই একটি আচ্ছা ফন্দি ফিকির বাৎলে আমাদের মুশকিল আশান করে দিতে পারবেন। জাফর আশান্বিত হয়ে বলল—জাঁহাপনা, মতলবটি মন্দ বের করেন নি বটে।
খলিফার নির্দেশে এক দূত ছুটল কাজীকে তলব করতে। কাজী তখন গভীর নিদে আচ্ছন্ন। দরওয়াজার কড়া নাড়ার শব্দে কাজী হুড়মুড় করে উঠে বসলেন। দূতের মুখে খলিফার তলবের সমাচার শুনলেন।
এত রাত্রে খলিফার প্রাসাদে তার ডাক পড়েছে শুনেই তাঁর মুখ চুণ হয়ে গেল। ভাবলেন, ব্যাপার নির্ঘাৎ বে-গতিক। নিশ্চয়ই এমন কোন কারণ ঘটেছে বা ঘটতে চলেছে যাতে ইসলাম বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রধান কাজী ব্যাপারটিতে খুবই অস্থির হয়ে পড়লেন। একটি বাক্স কামরা থেকে বের করে এনে দূতের হাতে দিয়ে বললেন—তুমি এটিকে খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে খলিফার প্রাসাদের দিকে রওনা হয়ে যাও। আমি এক্ষুণি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ছি।
কাজী ইউসুফ খলিফার প্রাসাদে হাজির হলেন।
খলিফা এবং জাফর এতক্ষণ তারই অপেক্ষায় অস্থির ভাবে পায়চারি করছিলেন। কাজীকে প্রাসাদের দরবার কক্ষের দিকে অগ্রসর হতে দেখেই খলিফা ও জাফর উভয়েই ব্যস্ত-পায়ে এগিয়ে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন।
খলিফা তামাম সুলতানিয়তে একমাত্র ধর্মাবতার কাজীকেই সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন। তাই এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা করে দরবারে নিয়ে এসে আসন দেখিয়ে বসতে অনুরােধ করলেন।
খলিফা বললেন–কাজী সাহাব, কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে, নিতান্ত উপায়ান্তর না দেখে আপনাকে এতরাত্রে বিরক্ত করতেই হল।
–হ্যা, সমস্যা যে কঠিন তা আমারও মালুম হয়েছে। এখন বলুন তাে শুনি উদ্ভুত সমস্যাটি কি? খলিফা এবার কাজীর কাছে উজির জাফর-এর সঙ্গে তার বিবাদের কথা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন।
কাজী সবকিছু শুনে বললেন—জাহাপনা, ব্যাপারটি তাে খুবই সাধারণ। কোন সমস্যাই আছে বলে আমি মনে করি না।
–সাধারণ? কোন সমস্যাই নেই? - খলিফা বললেন।
–না, কোন সমস্যা তাে নেই-ই, বরং পানির মাফিক সহজসরল।
–কাজী সাহেব আপনি বলছেন, ব্যাপারটি কিছুমাত্রও জটিল নয় ?
—না। আমি এর মধ্যে কোন জটিলতাই দেখছি না।'
—“আমাদের উদ্ভুত সমস্যার সমাধান আপনি কিভাবে করতে চাইছেন?
—“জাঁহাপনা, শুনুন তবে বলছি
—‘খলিফা ও উজির জাফর অত্যুগ্র আগ্রহের সঙ্গে বলে উঠলেন—“বলুন, আমরা উভয়েই আপনার বিচারের রায় শােনার জন্য উদ্বিগ্ন।
কাজী এবার উজির জাফর-এর দিকে ফিরে বললেন—“শুনুন, খলিফা দু’ভাবে খুবসুরৎ এবাঁদীটিকে আপনার কাছ থেকে পেতে আগ্রহী। তিনি একবার বলছেন বাঁদীটিকে খরিদ করে নেবেন ফিন পরমুহূর্তেই বলছেন, বিনামূল্যে—অর্থাৎ দান করতে, ঠিক কি না?
উজির জাফর সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন—“ঠিক, বিলকুল ঠিক!
—তা-ই যদি হয় তবে আপনি ধর্মাবতারের কাছে বাঁদীটির অর্ধেকটা বেচে দেবেন আর অবশিষ্ট অর্ধেক দান করবেন।
কাজীর বিচারের রায় শুনে খলিফা তাে রীতিমত উল্লসিত হয়ে পড়লেন। খুশীতে একদম ডগমগ। এর ফলে তিনি বিরাট একটি সমস্যা থেকে রেহাই পেয়ে গেলেন। সে সঙ্গে উপরি মুনাফা স্বরূপ খুবসুরৎ বাঁদীটিকে পাওয়ার পথও সাফ হয়ে গেল।
কাজী আড়চোখে একটিবার খলিফার মানসিক অবস্থাটি সম্বন্ধে সামান্য আঁচ করে নিলেন।
খলিফা বললেন—“কাজী সাহাব, এ ব্যাপারে আইনের যা কিছু নির্দেশ ঝটপট সেরে ফেলুন। আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে পারছি নে। বাঁদীটিকে যাতে আমি চিরদিনের মত লাভ করতে পারি তার বন্দোবস্ত করে দিন। আমি যাতে তাকে নিয়ে শীয় প্রাসাদে ফিরতে পারি সে ব্যবস্থা করুন।”
কাজী খলিফার কথার কোন জবাব দিলেন না। উজির জাফরকে লক্ষ্য করে বলেন-“বাদীটিকে আমার সামনে হাজির করুন ।
জাফর-এর নির্দেশে বাদীটিকে সাজিয়ে গুজিয়ে কাজীর সামনে হাজির হ’ল। সে-তাে এসবের কিছুই জানে না। ফলে কাজীর সামনে হাজির করার ফলে দুরু দুরু বুকে উপস্থিত সবার মুখের দিকে তাকাতে লাগল।
কাজী এবার যেকোন ক্রীতদাসকে তলব করতে বললেন। জাফর-এর নির্দেশে এক নিগ্রো ক্রীতদাস ছুটে এসে কুর্নিশ করে আদেশের অপেক্ষায় দাঁড়াল। কাজী ইউসুফ এবার বললেন-“আমি এ-ক্রীতদাসটির সঙ্গে বাঁদীটির শাদী দিয়ে দেব।
কাজীর বাৎ শুনে খলিফা ও উজির উভয়েরই মুখ শুকিয়ে গেল।
কাজী তাদের মানসিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে ধারণা করতে পেরে বলে উঠলেন-“এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। শাদীর পর পরই ক্রীতদাসটি তার বিবিকে বয়ান তালাক দিতে পারবে। তবে তার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাকে দেন মােহর দেয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। এক হাজার দেন মােহর দিয়ে সে তাকে তালাক দিয়ে দেবে। তারপর খলিফা তাকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী রক্ষিতা করে প্রাসাদে নিয়ে তুলতে পারবেন।।
কাজী এবার ক্রীতদাসটিকে বললেন-“যা বলব সাফ সাফ জবাব দেবে। আগে আমার বাৎ মন দিয়ে শােন। তারপর জবাব দেবে। এর মধ্যে মিথ্যা বা ছলচাতুরীর সামান্য উল্লেখ পেলে কিন্তু কঠিন শাস্তি পেতে হবে। এবার বল, তােমার দিল কি বাদীটিকে শাদী করতে চাইছে?”
ক্রীতদাসটি ঘাড় কাৎ করে জানাল শাদীতে তার মত আছে।
—“তবে এ-মুহূর্তে বাদীটিকে শাদী করে তুমি বিবি হিসাবে লাভ করলে।কাজী এবার একটি মােহরের থলি তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল-“এতে এক হাজার সােনার মােহর রয়েছে। নাও, ধর–তােমার দেন মােহর। তােমার সদ্য শাদী করা বিবির হাতে দিনারের থলিটি দিয়ে বল–তােমাকে এক তালাক, দুই তালাক, বয়ান তালাক দিলাম। এতে তােমার ক্ষতিপূরণের দেন মােহর রয়েছে।
ক্রীতদাসটি চোখে-মুখে বিস্ময়ের ছাপ একে বলল —সে কী কাজী সাহাব! এ কেমন বাৎ হ’ল! সবে তাে আপনি এবাঁদীটির সঙ্গে আমার শাদী দিলেন। এখন তাে এ আমার আইন মাফিক বিবি বনে গেছে। তবে কেন ঝুটমুট তালাক দিতে যাব কিছুই দিমাকে আসছে না!
–‘এ কী বাৎ শােনাচ্ছ হে!
–“ঠিক বাৎ-ই বলছি কাজী সাহাব। আমার শাদী করা বিবিকে আমি ছাড়ব না, কিছুতেই ছাড়ব না। আমি বিবিকে নিয়ে নিজের মাকানে ফিরে যাব। ঘর-সংসার পাতব। সুখে ঘর করব।'
ক্রীতদাসটির সাহস ও অবাধ্যতায় খলিফা তাে রেগে একদম ফেটে পড়ার জোগাড় হলেন। পারলে সে-মুহূর্তেই তার গর্দান নেন। রাগে-অপমানে কাপতে কাপতে তিনি কাজীকে বললেন—দেখলেন ক্রীতদাসটির ঔদ্ধত্য?
কাজী ধৈর্য হারালেন না। তিনি খলিফাকে বললেন—“ধৈর্য ধরুন। দিমাক গরম করলে বিলকুল ব্যাপারটি ভেস্তে যাবে। আমি (চলবে)

0 Comments