আরব্য রজনী পার্ট ১১০ (Arabyarajani Part 110)

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে সার্চ মেনুতে ১ লিখে সার্চ করুন ।
কিন্তু লেড়কিটি? এক রাত্রে পর পর দশবার সে যে কি করে বানরটির ধস্তাধস্তি বরদাস্ত করল আমার দিমাকে এল না। কাম কাজ সেরে তারা জড়াজড়ি করে শুয়ে নিদ যেতে লাগল। বানরটির ব্যাপার ঠিক মালুম হল না। লেড়কিটির মুখে রীতিমত খুশীর আমেজ, পরম পাওয়ার ছাপটুকু আমার নজর এড়ায় নি। 

কিসসাটির এ পর্যন্ত বলা হতেই বাগিচায় পাখিদের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল। ভােরের পূর্বাভাষ। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ’ তিপ্পান্নতম রজনী 
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে বাদশাহ শারিয়ার কিসসা শােনার অত্যুগ্র আগ্রহ নিয়ে অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কোনরকম ভূমিকার অবতারণা না করেই কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাঁহাপনা, কসাই ওয়ার্দা তার অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে গিয়ে এবার বলল —তখন আমার হালৎ কি যে হতে পারে আশা করি আপনাদের সমঝাতে হবে না। আমার কণ্ঠটি কোন্ অদৃশ্য শক্তি যেন সজোরে চেপে ধরল। টু-শব্দটিও গলা দিয়ে বেরলাে না। আপন মনে বলতে লাগলাম—ইয়া আল্লাহ! এমন রুচিও কোন লেড়কির হতে পারে!  
বানরটি অকাতরে নিদ যাচ্ছে। লেড়কিটিও গভীর নিদে আচ্ছন্ন। এমন সুযােগ আর মিলবে না ভেবে আমি খুবই সন্তর্পণে, একেবারে আলতাে করে দরওয়াজার পাল্লায় চাপ দিলাম। পা টিপে টিপে ভেতরে ঢুকে গেলাম। হাতে আমার জবাই করার ভােজালি। চকচক করছে। আদমিদের বিশ্বাস, এটি গােস্ত কাটার আগেই হাড়ে গিয়ে আঘাত করে। বুঝতেই পারছেন তার ধার কী পরিমাণ থাকে?
এক কোপে বানরটির মুণ্ডুটি ধড় থেকে আলাদা করে দিলাম। ফিনকি দিয়ে খুন বেরিয়ে এল। জবাইকরা পাঁঠার মাফিক বার কয়েক লাফালাফি করেই মুণ্ডহীন ধড়টি স্থির হ’ল।
লেড়কিটি উদোম গায়ে গরম খুন লাগায় তার নিদ টুটে গেল। চোখ মেলে ভােজালি হাতে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিকট স্বরে আর্তনাদ জুড়ে দিল। মুহূর্তে সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল।
আমি বহুৎ কোশিস চালিয়ে লেড়কিটির সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনলাম। এবার সে আমাকে চিনতে পারল।
বিস্ময়ের ঘােরটুকু কাটিয়ে লেড়কিটি এবার কাঁপা কাঁপা গলায় উচ্চারণ করল—“তুমি সে ওয়ার্দা না? তােমার এক আচ্ছা খদ্দেরকে এ-ই ইনাম দিলে? এটিই কি আমার প্রাপ্য ইনাম?
–হ্যা, ইনাম তাে বটেই। জানােয়ারটির হাত থেকে তােমাকে রেহাই দিলাম। আচ্ছা, তােমাকে আনন্দ দেয়া, তােমার তৃষ্ণা মেটাবার মত কোন মরদই কি দুনিয়ায় নেই? এমন একটি জানােয়ারের সঙ্গে তুমি - 
তুমি এত সহজে আমার যন্ত্রণার কথা বুঝতে পারবে না।। বিলকুল খুলে বলা দরকার। আমার কিস্সা শুনলে তবে হয়ত কিছুটা আন্দাজ করতে পারবে।
আমার আব্বা এক উজির। অগাধ ধন দৌলতের মালিক। আমি তাঁর একমাত্র লেড়কি। আমার উমর যখন পনের তখন পর্যন্ত আমি আমার আব্বার প্রাসাদেই ছিলাম। ভালই দিন গুজরান করছিলাম।
আমাদের প্রাসাদে একটি গাট্টাগােট্টা নিগ্রো ক্রীতদাস ছিল। এক দপুরে প্রাসাদে একটু নিরালা হলে আমি তার খপ্পরে পড়ে গেলাম।
ওয়ার্দা, তােমার হয়ত মালুম আছে, লেড়কিদের ভেতর কামােন্মাদনা জাগিয়ে তুলতে তাদের সমান আর কেউ নেই। কিশােরীদের তাে তারা একদম চোখের মণি। আর আমার চেহারাটিও এমন ছিল যে, যে কোন উমরে আমাকে বাইশ-তেইশ সালের লেড়কির মত দেখতে ছিলাম। আমাদের প্রাসাদের সে নিগ্রোটিই প্রথম আমাকে যৌবনের, কামপিপাসা নিবৃত্ত করার স্বাদ দিয়েছিল । দিল চনমনে হয়ে গেল। যৌনপিপাসাও এমন বেড়ে গেল যে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিগ্রোটির সঙ্গে সহবাস না করলে পিপাসা মিটত না , কলিজা ঠাণ্ডা হ'ত না। 
আমাদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্য দিয়ে দিন ভালই গুজরান হচ্ছিল। হঠাৎ একদিন নসীব বাদ সাধল। হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় আমার সুখের নাগর নিগ্রোটি মারা গেল। তুমিই বল ওয়ার্দা, যে একবার পুরুষের স্বাদ পেয়েছে সে কি আর সহবাস ছাড়া থাকতে পারে? কিন্তু পুরুষের জন্য আমার কলিজা ক্রমেই অস্থির হয়ে পড়তে লাগল।
কামজ্বালায় দগ্ধ হতে হতে একদিন আমাদের বাড়ির এক বুড়ির কাছে আমার ঘটনা খােলসা করে বল্লাম।
সব কিছু শুনে বুড়ি বলল —এ কাজে নিগ্রোদের চেয়ে উপযুক্ত আর কোন আদমিই নেই। যদি কোন নিগ্রোকে কব্জা করতে -নাই পার তবে গরিলার মত বড় সড় একটি বানর জোগার কর। লেড়কিদের জ্বালা নেভাতে বানররাও কম ওস্তাদ নয়।
ব্যস, বানর খোঁজা শুরু করলাম। একদিন দেখি, আমাদের প্রাসাদের পাশের সদর রাস্তা দিয়ে একজন কয়েকটি বানরের গলায় দড়ি বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে। তাজ্জব ব্যাপার! আমি লালচ মাখানাে দৃষ্টিতে বানরগুলাের দিকে তাকাতেই দেখলাম, ইয়া গােদা একটি বানর ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখতে দেখতে পথ চলেছে। কেন, সে-ই জানে। আচমকা এক লাফ দিয়ে সে তার মালিকের হাত থেকে শেকলটি খসিয়ে ফেলল । ব্যস, এক লাফে পথের ওধারে চলে গেল। তারপরই একেবারে বেপাত্তা।
বানরটির মালিক বহুৎ কোশিস করল। পাত্তা মিল্ল না। শেষ পর্যন্ত হয়রান হয়ে হাল ছেড়ে দিল।
সন্ধ্যার কিছু বাদে সে আমার কামরায় ঢুকে গেল। আচমকা আমাকে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরল।
আমি ঘাড় ঘুরিয়েই কঁকিয়ে ওঠলাম। সে আমার তলপেটে পর পর কয়েকটি চুমু খেয়ে অভয় দেবার কোশিস করল।
সাচ্চা বাৎ, গােড়ার দিকে সে আমাকে জাপ্টে ধরলে আমার গা ঘিন ঘিন করত। আমি তাে নিজে থেকে তাকে ধরতে সাহসই পেতাম না। ক্রমে ব্যাপারটি গা-সহা হয়ে যায়। এখন তাে রীতিমত আরাম পাই। সাচ্চা বাৎ ইয়ে টিয়ে করার সময় মালুম হয় আমি বুঝি বেহেস্তে চলেছি।
একদিন আমার আব্বা আমাদের সহবাসের দৃশ্য নিজের চোখে দেখে ফেললেন। আর যাবে কোথায় ? আমাকে বেদম মারধাের করলেন।
কিন্তু আমি তাে একেবারেই নাচার। ওকে ছাড়লে আমার জিন্দেগীই যে বরবাদ হয়ে যাবে।
এখন উপায়। চিন্তা ভাবনা করে ফিকির একটি বের করে ফেললাম। আমার নাগর সে বানরটিকে এখানে এনে লুকিয়ে রাখলাম। এ বন্দোবস্তে সে-ও বাঁচল। আমিও দিনের পর দিন কামপিপাসা নিবৃত্ত করতে লাগলাম। একদম বেড়ে বন্দোবস্ত।
আমি রােজ তার জন্য খাবার আর সরাব নিয়ে আসি। এবার চোখের পানি ঝরাতে ঝরাতে লেড়কিটি আর্তনাদ করে উঠল—ইয়া আল্লাহ! এখন কে আমার জান টিকিয়ে রাখবে! আমি-ই বা কি নিয়ে বাঁচব!'  
আমি তাকে প্রবােধ দিতে গিয়ে বল্লাম-কেঁদো না। চোখের পানি মােছ। দিমাক ঠাণ্ডা কর। ঝুটমুট কেঁদে কি-ই বা ফয়দা বল ?
–‘ঝুটমুট? তুমি একে ঝুটমুট বলছ ওয়াদা! আমার জিন্দেগী বরবাদ হতে যাচ্ছে, আর তুমি কিনা একে - 
তাকে থামিয়ে দিয়ে আমি বলে উঠলাম—‘শােন, কান্না থামাও। তােমার তাে কামকাজ চলা নিয়ে কথা, ঠিক কিনা?’
সে অতর্কিতে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মেলে আমার মুখের দিকে তাকাল।
আমি বুকে সাহস সঞ্চয় করে নিয়ে এবার আমার বক্তব্যটিকে তার দিকে ছুঁড়ে দিলাম—হ্যা, তােমার কাজ চললেই তাে হ’ল, নাকি? বানরের বদলে আমি যদি তােমাকে—চলবে না? পরীক্ষার মাধ্যমেই বুঝতে পারবে হতচ্ছাড়া ওই বানরটির চেয়ে আমার গদ কিছু কমতি নয়। 
--আঁ! তুমি? তুমি বানরের পরিবর্তে
-বললামই তাে ফলেন পরিচয়তে। আমি ঘােড়ায় চড়ার ব্যাপারে কারাে চেয়ে পিছিয়ে নেই। আমার ইয়ার দোস্তরা তাে বলেই, কেবল ঘােড়াতেই নয় কারাে ওপরে চড়তে পেলে দুনিয়ার আর কিছুই আমি চাই না।' 
লেড়কিটি আর কথা বাড়িয়ে দেরী করতে রাজী হ’ল না। এক লাফে আমার এ-চওড়া বুকটির ওপর এসে পড়ল। আমাকে জাপ্টে ধরল। আমিও লােহার মত শক্ত পাঠা জবাই করা হাত দুটো দিয়ে চেপে ধরে তাকে আমার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলাম। তারপর? তারপর কি ঘটতে পারে, কি ঘটেছিল আশা করি আর খােলসা করে বলতে হবে না।  কেবলমাত্র সেদিনই নয়। আমাদের সময় ঠিক করাই ছিল। রােজ যথা সময়ে আমরা সেখানে হাজির হতাম। আমি নিজে আনন্দ পেতাম, তার দিলও আনন্দে ভরপুর করে তুলতাম।
একদিন চরম আনন্দের মুহূর্তে সে তাে স্বীকারই করে ফেলল, একাজে বানরের চেয়ে আমার কায়দা আর তাগদ দু’-ই বেশী। ব্যস, আমার উৎসাহ গেল আরও বেড়ে।
দেহসুখ লাভ হয়, দিল খুশীতে ডগমগ হয়ে ওঠে। কিন্তু এসব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। লােভের শিকার হয়ে কাম কাজ পুরােদমে শুরু করেছিলাম বটে। কিন্তু কয়েক মাহিনা বাদেই আমার তাগদ কমে গেল। আমি কমজোরী হয়ে পড়লাম। তার অত্যুগ্র কামজ্বালা নেভাতে গিয়ে আমি যেন অথৈ সাগরে পড়ে হাবুডুবু খেতে লাগলাম।
আমি নেতিয়ে পড়ছি বটে। কিন্তু লেড়কির কামাগ্নিতে ঘি পড়ার দ্বিগুণ শিখা ছড়িয়ে পড়ল। দুর্বার তার গতি। লড়াইয়ে সে আমাকে ছাড়িয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে লাগল। আমাকে সে পিছিয়ে পড়তে দেবে, কিছুতেই না। তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমার কোথায় ? হায় খােদা! এমন গাড়ার মধ্যেও কোন মরদ পড়ে! এখন যে আমি ফকিরের বেশ ধরে পালাতে পারলে বাঁচি!
আমার হালৎ এক্কেবারে সসমিরা। পুরােদস্তুর মাজা ভাঙা বিষধরের মাফিক বনে গেছি। অনন্যোপায় হয়ে একদিন গােপনে এক বুড়ির সঙ্গে পরামর্শ করলাম। বুড়ি নাকি ঝাড়ফুঁকের কারবার করে। জবরদস্ত লেড়কিটির কামজ্বালা নেভাতে গিয়ে আমি কেমন নাস্তানাবুদ হচ্ছি, খােলসা করে তাকে বল্লাম। জব্বর একটি দাওয়াই চাইলাম।
বুড়ি ঠোট বাঁকিয়ে বলল—“দাওয়াই ? কিন্তু বিমারি যে সােজা নয় মিঞা।
–দেখ অনেকের মুখেই তােমার দাওয়াইয়ের ব্যাপার শুনেছি। তােমার হিম্মৎ আছে সবাই বলে। ধান্দা ছেড়ে বাতলাও কি করে আমি ওই দস্যি লেড়কিটির হাত থেকে আমার জান মাল বাঁচাতে পারি ?
—তা মিঞা, এত করে যখন ধরেছ তখন ফিকির বের করার
কোশিস তাে করতেই হবে।
বুড়ি এবার একটি মাটির কলসি নিল। মিশরীয় মুপিনের কিছু বীজ তার ভেতরে রাখল, দু’ ছটাক হপ গাছের বাকল, আধা বদনা ভিনিগার আরও হরেক কিসিমের গাছের বাকল। তারপর আধা কলসি পানি ভরে নিল। এবার সেটিকে চুল্লীতে চাপিয়ে দিল। আগুন জ্বলতে লাগল দাউ দাউ করে। টগবগ করে পানি ফুটতে লাগল। কলসির পানি শুকিয়ে আধা হয়ে গেলে সেটি চুল্লি থেকে নামিয়ে নিল।
বুড়ি এবার কলসিটি আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল—“মিঞা তােমার দাওয়াই বুঝে নাও। ‘সে তাে বুঝলাম। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে তােমার দাওয়াই তাকে খাওয়াব, নাকি মালিশ করব? ধৎ ছাই, এ আমার কম্ম নয়। আমার সঙ্গে চল, যা হােক একটি হিল্লে করে দিয়ে এসাে।
বুড়ি আপত্তি করল না। আমি তাকে মাটির তলার গুপ্ত কামরাটিতে নিয়ে গেলাম।
কাজ শুরু করার আগে বুড়ি আমাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে কানে কানে বল্ল-‘মিঞা, তুমি অন্যদিনের মত পুরােদমে কারবার চালিয়ে যাবে। সে যেন বুঝতে না পারে, তুমি কোন মতলব পাকড়েছ। কাজ মিটে গেলে সে যখন এলিয়ে পড়ে গভীর নিদে ডুবে যাবে তখন আমাকে ডাকবে, বুঝলে? 
আমার জান বাঁচাবার তাগিদ। তাই বুড়ির নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললাম। সেদিন লেড়কিটিকে অন্যদিনের চেয়ে বেশী খুশী করার জন্য ক্ষেপে গেলাম। আমার গায়ে যেন হাতির গদ জন্মে গেল।
এক-দুই-তিন করে দশবার সে আমাকে তার ওপর তুলল আমিও লড়ে গেলাম নসীব ঠুকে। দশবারের বার চরম সুখটুকু আর সামলাতে পারল না। সে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলল।
একলাফে কামরা থেকে বেরিয়ে ইশারায় বুড়িকে ডেকে নিয়ে এলাম। বুড়ি দাওয়াই নিয়ে এল। সামান্য গরম কিছু দাওয়াই নিয়ে বুড়ি লেড়কিটির উরু দুটো ফাঁক করে দিল ঢেলে। অত্যাশ্চর্য রঙিন এক কিসিমের ধোঁয়া লেড়কিটির নিম্নাঙ্গ ঢেকে ফেল। আর ধোঁয়াটুকু ক্রমে তার শরীরের ভেতরে যে ঢুকছে তা স্পষ্ট মালুম হ’ল।।
এক সময় লেড়কিটির উরু দুটির ফাক দিয়ে পােকার মত কি - যেন বেরিয়ে এল। বড়সড় কেঁচোর মত পােকা। তাদের একটির রং হলদে আর অন্যটির রঙ কালচে।
এমন সময় বাগিচা থেকে পাখির কিচির মিচির ভেসে আসতে লাগল। ভােরের পূর্বাভাষ। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ চুয়াতম রজনী 
বেগম শাহজাদ কিসসা শুরু করতে গিয়ে বললেন
জাহাপনা, কেঁচোর মত জীবন্ত দুটি পােকাকে কিলবিল করতে দেখে বুড়ি গলাছেড়ে চেঁচিয়ে উঠল--কাজ হয়েছে কাজ হয়েছে।”
বুড়ি এবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল -খােদাতাল্লাকে সুকরিয়া জানাও—সুকরিয়া! এ-পােকা দুটোই লেড়কিটির মধ্যে অফুরন্ত কামতৃষ্ণা জাগিয়ে তুলত। পােকার কামড়ে সে ছটফট করত। এই কালচে পােকা পয়দা হয়েছে নিগ্রোটির সঙ্গে যৌন মিলনের ফলে। আর বানরের সঙ্গে যৌনমিলনে পয়দা হয়েছে হলদে পােকাটি। এবার থেকে দেখবে, লেড়কিটির মধ্য থেকে আর খাই-খাই, কি খাই—কি খাই ভাব উধাও হয়ে গেছে। 
বুড়ির বাৎ বিলকুল সাচ্চা। ব্যাপারটি মালুম হ’ল পরদিন যখন আমি তার কাছে গেলাম। সে আমাকে অন্য দশটি লেড়কির মত স্বাভাবিক ভাবেই নিল। কামাগ্নি তার মধ্য থেকে হ্রাস পেয়েছে। সহবাসের আকাঙক্ষা স্বাভাবিক। আমার দিল খুশীতে ভরে উঠল। তার চোখে-মুখেও ফুটে উঠল খুশীর প্রলেপ।
আমি তাকে শাদীর প্রস্তাব দিলাম। সে মুচকি হাসল। আপত্তি করলনা। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে সে সহবাস করেছে। আপত্তি করবে কোন সুখে। বুডিকে তলব করলাম। আমাদের শাদীর বাৎ শুনে সে খুবই খুশী হ'ল। আমাদের শাদী হয়ে গেল। বুড়ি আমাদের দু'জনকেই জিন্দেগী বরবাদ হওয়ার সুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। সে খুশী হয়ে আমাদের এবার এমন একটি দাওয়াই দিল যা আমাদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপনের সহায়ক হয়েছে।
কিসসা শেষ করে বেগম শাহরাজাদ বললেন—জাহাপনা, যে-সব লেড়কিরা কামজ্বালায় সর্বদা কি খাই—কি খাই করে তাদের বিমারির ইলাজ কি করে করতে হয় তা তাে শুনলেনই। 
বাদশাহ শারিয়ার বলল এ-বিমারি আর দাওয়াইটির সম্বন্ধে আমি গত সালেই শুনেছিলাম। আর এ-কিসসাটিও গত সালেরই। কামজ্বালায় জর্জরিতা লেড়কিটিকে দাওয়াইয়ের ধোঁয়া দিয়ে বিমারির ইলাজ করার ব্যাপারটিও আমি এক সাল আগেই শুনেছি। আদৎ বাৎ হচ্ছে, লেড়কিটিকে আমি নিজের চোখে দেখেছি।
মুহূর্তকাল ভেবে নিয়ে বাদশাহ এবার বললেন—বেগম সাহেবা, এখন এমন কিসসা বল যাতে আমার কলিজা উত্তেজনায় লাফাতে শুরু করে। 
হাসিব এবং সর্পকন্যা যমলিকার কিসসা 
বেগম শাহরাজাদ কিসসা শুরু করলেন—“জাহাপনা, অতি প্রাচীনকালে গ্রীসে এক পণ্ডিত ব্যক্তি বাস করতেন। তার নাম ছিল ড্যানিয়েল। তিনি গৃহী হলেও সাধুসন্তের মত ছিল তার দিল। জীবনযাত্রাও ছিল প্রায় তাদেরই মত। ড্যানিয়েলেরও শিষ্য অনুগামী ছিল অনেক। রােজ সকালে তার বাড়িতে শিষ্য সামন্তদের ভিড় জমত। তারা তার কাছে অধ্যয়ন করত। ধর্ম বিষয়ে পাঠও নিত কেউ কেউ।
শিষ্যদের নিয়ে পণ্ডিত ড্যানিয়েল-এর দিন বেশ সুখেই কাটছিল। কিন্তু তার মনে দুঃখ ছিল একটিই। সন্তানহীনতার দুঃখ। তার অবর্তমানে, পরলােকগমনের পর তার শিক্ষা ও বহুমূল্য প্রাচীন পুঁথিপত্র উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পাবে না এ ভেবেই তিনি মনমরা হয়ে পড়তেন। কষ্ট পেতেন খুবই। সন্তান লাভের অত্যুগ্র বাসনা নিয়ে তিনি সন্তানলাভের উদ্দেশ্যে আকুল আবেদন জানালেন। একনিষ্ঠ মন নিয়ে প্রার্থনা করলেন।
পরম করুণাময় পরমেশ্বরের প্রাসাদের সদর দরজায় হয়ত কোন দ্বাররক্ষী নেই। তাই হয়ত তার প্রার্থনা ঈশ্বরের দরবারে বিনা বাধায়, নির্বিবাদে পৌছে যেতে পেরেছিল।
ঈশ্বর খুশী হয়ে ড্যানিয়েল-এর বাঞ্ছা পূর্ণ করলেন। তার সহধর্মিণী সন্তানসম্ভবা হলেন। তিনি প্রথমে মাস ও পরে দিন গুনতে লাগলেন।
ড্যানিয়েল এক সকালে তার সহধর্মিণীকে কাছে ডাকলেন। তিনি কাছে এলে বললেন—“দেখছ তাে আমি অনেক বুড়াে হয়ে পড়েছি। আর বেশী দিন নেই। যে কোন দিন যে কোন মুহূর্তে আমার মৃত্যু হতে পারে। এদিকে তােমার গর্ভজাত সন্তান অচিরেই ভূমিষ্ঠ হবে।
ড্যানিয়েল-এর সহধর্মিণী নীরব চাহনি মেলে স্বামীর মুখের
( চলবে ) 

Post a Comment

0 Comments