আরব্য রজনী পার্ট ৯০( Part 90) Bangla Arabya Rajani

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ 
খুব কাছেই একটি দ্বীপ আছে বটে। তীরে নােঙর করতে পারলে জাহাজ রক্ষা পাবে।'
—“তবে মেহেরবানি করে তাই করুন সাহাব। 
স্নান হেসে ক্যাপ্টেন বলল —ফায়দা কিছুই হবেনা। জান রক্ষার কোন ফিকিরই করা যাবে না। লাভের মধ্যে হবে, সিংহের থাবা এড়িয়ে নেকড়ের মুখের সামনে হাজির হাওয়া, ওই দ্বীপের চারদিকে হাজার হাজার ময়াল সাপের আড্ডা। বড় বড় গাছের গুড়ি তাে সামান্য বাৎ, পাহাড়ের মত তাদের আকৃতি বললে হয়ত বাড়িয়ে বলা হবে না। আমাদের এক এক আদমিকে তাে বিনা মেহনতে হেকিমের দাওয়াইয়ের বড়ির মত গিলে ফেলবে।

আমি সামনে ভূত দেখার মত চমকে উঠে বললাম- ইয়া আল্লাহ!’ 
ক্যাপ্টেনের দিকে বললাম ‘আর যেচে ময়াল টয়ালের খপ্পরে গিয়ে পড়ার দরকার নেই, তুফানে ছিটকে গিয়ে সাগরের পানিতে ডুবে জান দিতে হয় তা-ও আচ্ছা।
ক্যাপ্টেন লম্বালম্বা পায়ে নিজের কামরায় গিয়ে ঢুকল। আমরা কয়েকজন কাঁপা কাঁপা পায়ে তার পিছু নিলাম। ক্যাপ্টেন একটি তােরঙ্গ চৌকির তলা থেকে টেনে বের করল। তালা খুল্ল। ভেতর থেকে সাদামত কিসের যেন গুঁড়া আর এক টুকরাে ন্যাকড়া বের করে আনল। গুড়াে গুলােকে সামান্য পানি দিয়ে ময়দা মাখার মত করে শক্ত করে মেখে ছােট ছােট দুটো মার্বেলের মত তৈরী করল। দুটোকে দু’নাকের ছিদ্রে ঠেলে ঠেলে ঢুকিয়ে নিল।
ক্যাপ্টেন আমাদের তাজ্জব বনিয়ে দিয়ে ছােট্ট একটি কিতাব বের করে সুর করে পাঠ করতে লাগল।
আমি জমাটবাধা দুঃখের মধ্যেও ফিক করে হেসে ফেললাম। ক্যাপ্টেন চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ এঁকে মুহূর্তের জন্য আমার মুখের দিকে তাকাল। 
আমার মুখের হাসিটুকু চেপে রেখে বল্লাম- ‘সাহাব, এ কী করছেন আপনি। জাহাজ এমন চরম সঙ্কটের মুখে, যাত্রীরা জান হাতে নিয়ে আল্লাল্লার নাম করছে। আর আপনি কিনা, কিতাব খুলে বসলেন!
--‘জেনে রাখ, ওই যে ঝড় আসছে সেটি পয়গম্বর সুলেমান এর সেনাবাহিনী। আর ওই দ্বীপে রয়েছে সুলেমান-এর সমাধি। তামাম দুনিয়ার কেউ-ই আজ পর্যন্ত সে-সমাধি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারে নি। এর কাছাকাছি এলেই প্রবল তুফানের মুখে পড়ে। জাহাজ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। তারপরও যদি কেউ কোন ক্রমে হাজির হতে পারে তবে ইয়া পেল্লাই সব ময়াল সাপের মুখ গহ্বরে তাকে যেতেই হবে।  কথা বলতে বলতে ক্যাপ্টেন আবার কিতাবের পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।
এক সময় চোখে-মুখে বিতৃষ্ণার ছাপ এঁকে ক্যাপ্টেন বলে উঠল—‘ধৎ, হ’ল না।
–“কি? কি হ’ল না সাহাব? কিছুই মালুম হ’ল না। কিসের বাৎ বলছেন—কি হ’ল না?'
–‘দুর্যোগের ব্যাপার। দুর্যোগ কাটাবার কোন ফিকিরই দেখছি না । যা বুঝলাম, আরও প্রবল রূপ নিয়ে দেখা দেবে। ভাইসব, আমি সাফ বাৎ বলে দিচ্ছি, নিজের নিজের পথ খুঁজে নাও।
ঝড় তখনও শুরু হয় নি। বৃষ্টি পুরােদমে চলছে। বৃষ্টির পানিতে জাহাজের পাটাতনে পানি থৈ থৈ করছে। আমরা কাপড়ের গাঁটরির চিন্তা করছি। ক্যাপ্টেন বল ‘ধৎ, এসব ধান্দা ছেড়ে জান রাখার ফিকির কিছু করতে পার কিনা, দেখ। ঘূর্ণিঝড় উঠল বলে। জান রাখার ধান্দা কর। আমি বললাম, জিন্দা থাকলে ফিন দেখা হবে।
সে-মুহূর্তে ক্যাপ্টেনের চোখ-মুখের সে আতঙ্কের ছাপটুকু যে দেখেছিলাম, আজও আমার চোখের সামনে তা স্পষ্ট ভেসে ওঠে। আমি জানি না, সেদিনই ক্যাপ্টেন সাগরের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল কিনা। জিন্দা থাকলেও তার সঙ্গে আর কোনদিনই দেখা হয় নি। ক্যাপ্টেন বিদায় নিতে না নিতেই ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে দেখা দিল ঝড়। মুহুর্তে আমাদের এতবড় জাহাজটিকে শোলার মত উড়িয়ে প্রায় একশ’ হাত ওপরে তুলে দুম করে আছাড় মারল। আমরা কে, কোথায় ছিটকে পড়লাম ঠিক ঠিকানা নেই।
সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমি কোনরকমে জাহাজের একটি ভাঙা পাটাতন দেখে কোনরকমে সেটিকে আঁকড়ে ধরলাম। কাতরাতে কাতরাতে একসময় পাটাতনটির ওপর উঠতে পারলাম। ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে করে শেষ পর্যন্ত একটি দ্বীপের ধারে গিয়ে আমার পাটাতনটি আটকা পড়ে গেল।
 আমি কোন রকমে হাতড়ে পাড়ে উঠে গােলাম। দুর্বল পা দুটো খুবই মেহনৎ করে আমাকে দ্বীপের ভেতরের দিকে নিয়ে চলল। কিছুদুর যেতেই একটি নদী দেখতে পেলাম। ঠিক করলাম নদীর পানিতে আমার নিদানের সম্বল কাঠের পাটাতনটিকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দ্বীপটিকে দেখব। করলামও তা-ই।
স্রোতের টানে আমাকে নিয়ে পাটাতনটি তরতর করে এগিয়ে চলল । এক সময় পাটাতনটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নদীর পাড়ের গাছ থেকে প্রচুর পাকা ফল পাড়লাম। গলা পর্যন্ত ঠেসে ফল খেলাম। তারপর ঢকঢক্‌ করে নদীর পানিও কিছু উদরে ঢুকিয়ে নিলাম। শরীর ও দিল দু’ই কিছুটা চাঙা হয়ে উঠল। আরও কিছুটা এগিয়ে একটি বাঁক ঘুরতেই পড়লাম ভয়ঙ্কর এক বিস্ময়ের মুখে। নদীর স্রোত হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে গেল। দুর্বার গতিতে আমার পাটাতনটি এগিয়ে চলল । টাল সামলাতে না পেরে আমি অকস্মাৎ উল্টে পানিতে পড়ে গেলাম। পাটাতনটি আর আমার সম্পর্ক ছিন্ন হ’ল। আমি স্রোতের টানে এগিয়ে চললাম। ধরেই নিলাম, এতদিন, এত দরিয়ার পানির সঙ্গে মােকাবেলা করেও জানটিকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু এ যাত্রায় আর রক্ষা নাই, জলের তােড়ে শক্ত পাড়ে আছাড় খেয়েই জানটি খােয়াতে হবে।
খােদা মেহেরবান। একদল জেলে মছলি ধরছিল। তাদের জালে আমি এবং আমার সাধের পাটাতনটি আটকা পড়ে গেলাম।
জেলেরা ব্যস্ত হয়ে জাল গােটাতে শুরু করল। ইয়া পেল্লাই এক মছলির মত তারা টানাটানি করে আমাকে পারে তুলে নিল।
খােদাতাল্লা এবারও আমার জান রক্ষা করলেন। এমন সময় ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিনশ’ তেরােতম রজনী 
রাত্রি একটু গভীর হতেই বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কিসসাটির পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন- জাঁহাপনা, মেহমান আর দোস্তদের কাছে সিন্দবাদ নাবিক তার সমুদ্রযাত্রার কিসসা বলে চলেছে। সে এবার বলল- ‘জেলেরা আমাকে পাড়ে তুলে নিল। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানিতে থাকার ফলে আমার সর্বাঙ্গ থরথরিয়ে কাঁপতে লাগল। এক বুড়াে জেলে আমার গায়ে চর্বি জাতীয় এক ধরনের তরল পদার্থ মাখিয়ে দিতে লাগল। কাঁপুনি ধীরে ধীরে কমে এল।
তারপর এক মকানে নিয়ে গিয়ে গরম পানি দিয়ে আচ্ছা করে গােসল করাল। এবার মােটামুটি স্বাভাবিকতা ফিরে পেলাম।
আমাকে তারা সাধ্যাতীত তােয়াজ খাতির করল। আচ্ছা সব খানাপিনা দিল।
তিনদিন কেটে গেল জেলেদের মহল্লায়। চতুর্থদিন ভােরে সে বুড়ােটি এল। চাটাই বিছিয়ে আমার
মুখােমুখি বসল। সস্নেহে বলল “বেটা, আল্লাহর দোয়ায় এ যাত্রায় জব্বর ফাড়া কাটিয়ে উঠলে। আমরা তাে তােমার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।
আমি নীরব চাহনি মেলে বুড়াের মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে ম্লান হাসলাম।
বুড়াে এবার বলল -বেটা, এবার বল তাে, কে তুমি? তােমার মকান কোথায়? কোথায় গিয়েছিলে? যাচ্ছিলেই বা কোথায় ?
—“আমার নাম সিন্দবাদ। সওদাগরী কারবার করি। এবং বিপর্যয়ের মুখে পড়ার পর থেকে মােউতের সঙ্গে মােকাবেলা করে কিভাবে জান টিকিয়ে রেখেছি বিস্তারিত বর্ণনা দিলাম। 
বুড়াে আমার দিকে তার নিস্তেজ চোখের মণি দুটো মেলে কয়েক মুহূর্ত নীরবে আমার আপাদমস্তক বার কয়েক দেখল।
এক সময় বুড়ােটি বলল ‘বেটা, তােমার সামানপত্র কিছুই খােয়া যায় নি। সবই আমার জিম্মায় রেখে দিয়েছি। সেগুলাে নিয়ে তােমার মুলুকে ফিরে যাওয়ার ধান্দা কর। 
‘সামানপত্র ? কিসের সামানপত্র ? কিছুই তাে আমার দিমাকে আসছে না!’ |
—“বেটা, যে কাঠের পাটাতনের ওপর বসে তুমি নদী পাড়ি দিচ্ছিলে সেটি চন্দনকাঠের। বহুৎ দামী চিজ। আমার সঙ্গে বাজারে গেলে আমি তােমাকে উপযুক্ত দাম পাইয়ে দিতে পারি।
–‘আপনি সমঝদার আদমি। পরােপকারী ও মহা ধার্মিক, আপনি সেটি নিয়ে গিয়ে বেচে দিয়ে আসুন। আমাকে যেটুকু অর্থ দেবেন তাতেই আমি খুশী থাকব।'
তবু বাজার দেখাবার নাম করে বুড়ােটি এক রকম জোর করেই আমাকে বাজারে নিয়ে গেল।
আমার চন্দন কাঠের পাটাতনটি নিলামে উঠল। এক হাজার দিনার থেকে শুরু করে দর বাড়তে বাড়তে দশ হাজার দিনার পর্যন্ত উঠে গেল।
ব্যাপার দেখে আমি তাে অবাক।
আমাকে ততােধিক অবাক করে দিয়ে বুড়াে এবার বল ‘ও-বেটা বাজার বহুৎ মন্দা। নইলে এর দাম আরও উঠত।
আমি মুচকি হেসে বললাম-“কি করা যাবে, বলুন। দশ হাজার দিনারেই দিয়ে দিন।
--“ঠিক আছে আমি আরও এক শ’ দিনার বেশী দিয়ে দেব। আমাকেই দিয়ে দাও।
আমি সবিস্ময়ে বললাম—আপনিই নেবেন? তা-ই যদি হয় তবে আর এত দূরে, বাজার পর্যন্ত পাটাতনটিকে বয়ে আনার জরুরৎ কি ছিল, বুঝছি না তাে? আর আপনি আমার জান রক্ষা করেছেন। তার দাম কি দিনার-দিরহাম দিয়ে শােধ করার মত?
বুড়াের এক নােকর পাটাতনটি তার গুদামে নিয়ে গেল। সকালে ফিরে বুড়াে দশ হাজার এক শ’ দিনার জোর করে আমার কোর্তার জেবে পুরে দিল।
দুপুরে খানাপিনা সারতে সারতে বুড়াে আমাকে বলল —“বেটা, তােমার কাছে আমার একটি প্রার্থনা আছে।
আমি সচকিত হয়ে তার দিকে তাকালাম।
বুড়াে ব’লে চলল —“আমার একটি বেটি আছে। খুবসুরৎ এক মাত্র বেটি। আমি গােরে গেলে আমার বিশাল সম্পত্তির একমাত্র মালিক তাে সে-ই হবে। তুমি তাকে শাদী করে আমার আপনজন বনে যাও। আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম। হা-না ভাল-মন্দ কিছুই বল্লাম না।  বুড়াে বুঝল শাদীর ব্যাপারে মৌন থাকার অর্থই হচ্ছে, সম্মতি আছে! বুড়াে এবার খপ করে আমার হাত দুটো চেপে ধরে বলল —“বেটা, তােমার কাছে আমার দাবী একটিই--শাদী করার পর আমি যে কয়দিন জিন্দা থাকব, আমাকে একা ফেলে বিবিকে নিয়ে নিজের মুলুকে চলে যেয়াে না। আমি গােরে চলে গেলে চাই এখানে থাক আর নিজের মুলুকে চলে যাও আমি তাে আর দেখতে আসছি না।'
—“দেখুন, আপনার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। আপনার দোয়াতেই যখন আমার জান রক্ষা হয়েছে তখন তাে আমার ইচ্ছা বলে কিছু থাকতে পারে না। আদতে আমি তাে দ্বিতীয় জীবন লাভ করেছি।
বুড়াে সােল্লাসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলল —‘জিন্দা রহ বেটা।
এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ' চৌদ্দতম রজনী 
বেগম শাহরাজাদ প্রায় মাঝরাত্রে বাদশাহ শারিয়ার-এর উপস্থিতিতে তার কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—‘জাঁহাপনা, সিন্দবাদ নাবিক তার দোস্ত ও মেহমানদের কাছে তার সপ্তম ও শেষ সমুদ্রযাত্রার কিসসা বলে চলেছে। সে বলল-বুড়ােটি আমার কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে কাজীকে তলব করলেন। শাদীর কবুলনামা বানানাে হল। তারপর আত্মীয় মেহমানদের উপস্থিতিতে মহা ধূমধাম করে তার একমাত্র বেটিকে আমার হাতে তুলে দিলেন।
আমি বুড়াের মকানে এতদিন মেহমান হয়ে দিন গুজরান করছি। কিন্তু আগে তার মুখ দেখা তাে দুরের কথা তার সালােয়ার কামিজের অংশও দেখতে পাইনি কোনদিন। সে তখন যে আমার বিবির আসন লাভ করেছিল আজও বহাল তবিয়তে আমার ঘর করে চলেছে।
শাদীর রাত্রে সে নাকাবে মুখ ঢেকে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। প্রথম দর্শনেই তার সুরৎ আমাকে মুগ্ধ করে। আমার কলিজায় জ্বালা ধরিয়ে দেয় আর খুনে জাগায় মাতন। বহুৎ দিন বাদে এক খুবসুরৎ যুবতীর কবােঞ্চ বক্ষ আমার মধ্যে কামােন্মাদনা জাগিয়ে তুলল। দিল ভরে তাকে সম্ভোগের মাধ্যমে নিজে তৃপ্তি পেলাম আর তাকেও তৃপ্তির সাগরে ভাসিয়ে দিলাম। নতুন শাদী করা বিবিকে নিয়ে আমি খুশীতে দিন গুজরান করতে লাগলাম।
কিছুদিনের মধ্যেই আমার নতুন শ্বশুর বেহেস্তে চলে গেলেন। মহাধুমধামের সঙ্গে মহল্লার বহুৎ আদমির উপস্থিতিতে তাকে গাের দেয়া হল।
বসন্তকালে সে-মুলুকের আদমিরা উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে। বসন্তোৎসবে এখানকার আদমীরা আশমানে ওডে। আমারও শখ হ’ল আশমানে উড়ব। তারপর এখানকার আদমীদের মত আমিও নিচে নেমে আসব।
কিন্তু সমস্যা হ’ল, আমার আশমানে ওড়ার শখের ব্যাপারটিকে আমার বিবি তাে নয়-ই এমন কি মহল্লারও কেউ পাত্তা দিল না। এমন কি আশমানে ওড়ার কায়দাও কেউ আমাকে শিখিয়ে দিল না। এ তাে মহা সমস্যায় পড়া গেল।
শেষ পর্যন্ত খুব করে ধরার পর একজন বহুৎ কসরৎ করে আমাকে আশমানে ওড়ার কৌশল শিখিয়ে দিল।
বসন্তোৎসবের দিন আমি অনান্যদের সঙ্গে আশমানে উড়ে চল্লাম। উঁচু-উঁচু-আরও উঁচুতে উঠে গেলাম। অনবরত নকল ডানা নাড়িয়ে নাড়িয়ে আমি বাতাসে ভর দিয়ে বহুৎ উঁচুতে উঠে গেলাম। ব্যস, আমি ডানা ভেঙে নিচে পড়তে লাগলাম।
আমার পাহাড়ের গায়ে আছাড় খেয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী ছিল। নসীবের জোরে অল্পের জন্য আমার জান টিকে গেল।
আমি পাহাড়ের এক চূড়ার কাছাকাছি প্রায় সমতল এক জায়গায় গালে হাত দিয়ে বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলাম।
হঠাৎ দু'দু’টি সুদর্শন লেড়কা আমার সামনে এসে দাঁড়াল, কোন লেড়কার সুরৎ যে এমন অনন্য হতে পারে আমার অন্তত জানা ছিল না।
আমি সবিস্ময়ে তাদের দিকে তাকিয়ে বললাম—‘বেটা, তােমরা কে ? এখানেই বা কি করতে এসেছ?'
-“আমরা আল্লাহ-র বরপুত্র।' কথা বলতে বলতে তাদের একজন আমাকে একটি সােনার লাঠি দিয়ে বলল-এ-পথ ধরে চলে যাও। ডর নেই যাও, এগিয়ে যাও। আমি লাঠিটি হাতে নিয়ে তাদের নির্দেশিত পথ ধরে এগােতে লাগলাম। আর অনবরত মুখে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে থাকলাম। পথ পাড়ি দিতে দিতে ভাবছি, ব্যাপার কি! লেড়কা দুটো কারা! তারা এখানেই বা কিভাবে এবং কেন এল! আরও সামান্য এগােতেই এক বাঁকের মুখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। দেখি, সামনে এক বিষধর সাপ আমার দিকে মুখ করে। তার মুখে এক হতভাগ্য। তার দেহের প্রায় তিনভাগই সাপটির মুখের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
কী বীভৎস দৃশ্য! আমি উপায়ান্তর না দেখে হাতের লাঠিটি ছুঁড়ে মারলাম শাপটিকে লক্ষ করে। আমি আরও অবাক মানলাম, যখন দেখলাম ছােট্ট এক লাঠির আঘাতেই সাপটি এলিয়ে পড়ে গেল। আর খতমও হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গেই

(চলবে ) 

Post a Comment

0 Comments