গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ
আমার বিবির আসল উদ্দেশ্য শোক পালন নয় , সে তার পেয়ারের শয়তান নিগ্রোটাকে শােক - ভবনে এনে গােপনে তার ক্ষতস্থানে ইলাজ চালাতে লাগল। দু'-চারদিন পর আমার মনে খটকা লাগল। ব্যাপার কি? শােক পালন ; নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য সাধন সেখানে চলে? একদিন সন্তর্পণে আমি বিবির পিছু নিলাম। কয়েক হাত দূর থেকে মনে হল বেগম মায়ের জন্য কেঁদে আকুল হচ্ছে। কিন্তু কাছে যেতেই আমার ভুল ভেঙে গেল। বুঝলাম, কান্না নয়, বিষাদের সুরে পেয়ারের নিগ্রোটাকে গান শােনাচ্ছে। গানের মাধ্যমে প্রেম নিবেদনের প্রয়াস।
আমার বেগম আর যণ্ডামার্কা শয়তান নিগ্রোটা যখন গানে গানে একেবারে মাতােয়ারা তখন আমি তরবারি হাতে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। গান শেষ হতেই আমি গর্জে উঠলাম— শয়তানি, এই বুঝি তাের মায়ের জন্য শান্তি প্রার্থনা! কথা বলতে বলতে তরবারি দিয়ে সজোরে এক কোপ বসিয়ে দিলাম। কাজ হ’ল না। এক ঝটকায় সে কয়েক হাত দূরে সরে গেল। পর মুহূর্তেই হেড়ে গলায় শাপবাক্য উচ্চারিত হ’ল ‘আমার অলৌকিক শক্তি নিয়ােগ করে, তােমাকে অভিশাপ দিচ্ছি, তােমার কোমরের নিম্নাংশ শ্বেতপাথরে পরিণত হয়ে যাক। | ব্যস, আমার নসীবের খেল শুরু হয়ে গেল। আমার নিম্ন অঙ্গ শ্বেত পাথরে পরিণত হয়ে গেল। আর দেহের উধ্বাংশ রয়ে গেল মানুষের স্বাভাবিক দেহ। কথা বলতে বলতে অভাগা সুলতানের দু’আঁখির কোল বেয়ে পানির ধারা নেমে এল। | সুলতান চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন- “তােমার চাচাতাে বহিন, তােমার বিবি এখন কোথায় জান কি?
অদৃষ্ট বিড়ম্বিত যুবকটা এবার চোখের মনি দুটো খােলা জানালার দিকে ঘুরিয়ে বলল- “ওই যে, ছােট্ট কুঠিবাড়িটা দেখা যাচ্ছে সেখানে শয়তান নিগ্রোটাকে নিয়ে মনের আশ মিটিয়ে জীবন - যৌবন উপভােগ করছে।
– “এখানে, তােমার কাছে মােটেও আসে না?’ - ‘আসে। রােজ একবার করে গুলিখাওয়া বাঘিনীর মত গর্জাতে গর্জাতে এসে হাজির হয়। চরম আক্রোশে আমার পিঠে সপাং সপাং করে ঘা কতক চাবুক কষিয়ে দিয়ে নিত্যকর্ম সম্পন্ন করে।
‘শােন, আল্লাতাল্লা বলে যদি কেউ থাকেন তবে তার নামে কসম খেয়ে আমি বলছি, তাকে তার প্রাপ্য শাস্তি আমি অবশ্যই দেব।” দাঁতে দাঁত চেপে সুলতান বললেন।
সকাল হ’ল। সুলতান এবার শােক - ভবনের দিকে পা - বাড়ালেন। তরবারি হাতে নিয়ে ঢুকে পড়লেন ছােট্ট প্রাসাদটিতে। শয়তান নিগ্রোটা পালঙ্কের ওপরে অকাতরে ঘুমােচ্ছে। মুহূর্তমাত্র সময় নষ্ট না করে সুলতান হাতের তরবারিটা দিয়ে সজোরে এক কোপবসিয়ে দিলেন। মহর্তে কালাে পাহাড়টা দু টুকরাে হয়ে গেল।ফিনকি দিয়ে তাজা খুন বেরিয়ে এল। এবার তাকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে এক পাহাড়ে ফেলে দিয়ে এলেন। | কাজ এখনও মেটেনি। এবার পিশাচিনী বেগমটাকে সাবাড় করতে হবে। তিনি আবডালে দাঁড়িয়ে রইলেন সুযােগের প্রতীক্ষায়।। বেশ কিছুক্ষণ পর হতভাগ্য সুলতানের ঘরে চাবুক হাতে ঢুকলেন। ব্যস্ত - পায়ে ঘরে ঢুকেই তার পিঠে সপাং সপাং করে চাবুক চালাতে লাগলেন। গর্জন করতে লাগলেন – “আমার মহব্বতে তুমি কাটারী চালিয়েছ! তােমাকে কোন ক্ষমা নয়। | প্রাসাদ থেকে ফিরে এবার হন্তদন্ত হয়ে বেগম শােক - ভবনে ঢুকলেন। তার পেয়ারের নিগ্রোটার অদর্শনে উন্মাদিনীর মত তিনি গলা ছেড়ে কাঁদতে লাগলেন।
এমন সময় বেগম এক অদৃশ্য কণ্ঠের বাণী শুনতে পেলেন - ‘আমার আদেশ পালন কর নি কেন?' তিনি ভাবলেন, নির্ঘাৎ খােদাতাল্লার বাণী। তাই কাদো কাঁদো স্বরে বললেন- খােদা, তােমার কোন্ আদেশ আমি পালন করিনি, বল?’ |
– “তােমার স্বামীকে রােজ চাবুকের ঘা মার কেন? তুমি জান না, চাবুকের আঘাত আমার পিঠে এসে পড়ে। পিঠ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তুমি কান দাওনি!'
– ‘আমায় কসুর মার্জনা করুন খােদা। এখন আমার প্রতি কি হুকুম, বলুন?
– যদি নিজের ভাল চাও তবে তােমার স্বামীকে শাপমুক্ত কর। তার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে দাও।
– করছি। এখনি করছি খােদা। আমার কসুর নিও না। আমি এখনি গিয়ে সুলতানের স্বাভাবিক দেহ ফিরিয়ে দিচ্ছি।
বেগম উদভ্রান্তের মত ছুটতে ছুটতে প্রাসাদে ফিরে এলেন। গন্ডুষ ভরে জল নিয়ে অস্ফুটস্বরে কি সব বলেন। মন্ত্র পড়া জলটুকু তাঁর স্বামীর গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। এবার তার স্বামীর দেহের শ্বেতপাথরের অংশটুকু ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরে পেল।
আবার অদৃশ্য অলৌকিক বাণী শােনা গেল এবার তােমার কাজ হচ্ছে, সরােবরের মছলিগুলােকে তুমি বন্দী করে রেখেছ কেন? | তাদের মুক্ত করে দিতে হবে।
বেগম এবার উধ্বশ্বাসে সরােবরের দিকে ছুটলেন। কিসসা বলার ফঁাকে বেগম শাহরাজাদ জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে বুঝলেন, সকাল
হতে আর দেরী নেই। | দুনিয়াজাদ বলল—‘বহিনজী, তােমার কিসসা আমাকে উতলা করে দেয়। তুমি এমন সুন্দর কিসসা,তাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে শাহরাজাদ ম্লান হেসে বললেন—‘যদি জানে বেঁচে থাকি তবে এর চেয়ে আরও কত সুন্দর কিসসা শােনাতে পারব যা শুনলে মনে হবে আবারও শুনি। পরের রাত্রে যথা সময়ে বাদশাহ শারিয়ার অন্দর মহলে হাজির হলেন।বেগম শাহরাজাদ কিসসা শুরু করলেন- সেই শয়তানী বেগম সরােবরের তীরে এসে গন্ডুষ ভরে পানি নিয়ে বিড় বিড় করে কি যেন সব বললেন। এবার হাতের পানিটুকু সরােবরে ছিটিয়ে দিলেন। ব্যস, | মছলিগুলাে সব এক একজন মানুষের রূপ ধারণ করল। তারা সবাই সুলতানেরই সৈন্য। মনুষ্য দেহ ফিরে পেয়ে সবাই নিজ নিজ পরিবারের লােকজনের কাছে চলে গেল।
শয়তানী বেগম আবার প্রাসাদে ফিরে এলেন। করজোড়ে নিবেদন করলেন – “ খােদা, তােমার আদেশে মছলিগুলােকে মনুষ্যদেহ ফিরিয়ে দিয়েছি। তুমি এবার বল, আমার আর কি করণীয় রয়েছে?
অন্তরাল থেকে এবার বাণী ভেসে এল – না, আর কিছু না। | আর কিছুই করতে হবে না। মুহুর্তের মধ্যে সুলতান ছুটে এসে তার মুন্ডুটা ধড় থেকে নামিয়ে দিলেন। এবার বললেন – নিজের স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতার ফল খােদাতাল্লার আদেশেই দিলাম। দোজকে গিয়ে এবার বাকী গুনাহর জ্বালা ভােগ কর গে শয়তানী।।
শয়তানী বেগমকে খুন করে সুলতান প্রাসাদে ফিরে এলেন। শাপমুক্ত সুলতানের কাছে সব বিবরণ ব্যক্ত করলেন। সুলতান এবার বিদায় নিয়ে স্বদেশে ফিরে যাবার উদ্যোগ করলেন। শাপমুক্ত সুলতান তার সঙ্গ নিলেন। তার দেশে বেড়াতে যেতে চান। শাপমুক্ত সুলতানকে সঙ্গে নিয়ে সুলতান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘটনার আদ্যোপান্ত উজিরের কাছে ব্যক্ত করলেন। তার মুখে সব শুনে বৃদ্ধ উজিরের তাে শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম।
সুলতান এবার জেলেকে ডেকে পাঠালেন। তার সংসারের খোঁজ খবর নিলেন। তার এক লেড়কিকে নিজে শাদী করে বিবির মর্যাদা দিলেন। আর এক লেড়কির সঙ্গে শাপমুক্ত সুলতানের শাদী দিলেন।এভাবে জেলে দেশের মধ্যে একজন আমীরে পরিণত হয়ে গেল।
তিন রূপসী ও কুলির রােমাঞ্চকর কিসসা
বেগম শাহরাজাদ এবার বললেন—বহিনজী, এর চেয়ে আরও অনেক ভাল ভাল কিসসা আমার ঝােলায় রয়েছে। এবার শােন, এক কুলি আর তিন লেড়কির কিসসা। বাগদাদ নগর। কোন এক সময়ে বাগদাদ নগরে এক সুদর্শন যুবক একাকী বাস করত। তার পেশা ছিল কুলিগিরি। সে ছিল একদমই একা। তিনকুলে তার নিজের বলতে কেউ-ই ছিল না। শাদীও করেনি। | এক সকালে কুলি যুবকটা একটা খালি ঝুড়ি নিয়ে রাস্তায় বসেছিল। যদি কোন আমির মালপত্র বয়ে দেবার জন্য তাকে তলব করে, এ আশাতেই তার এখানে বসে থাকা।এমন সময় সে দেখতে পেল এক রূপসী যুবতী তার দিকে এগিয়ে আসছে। তার রূপের আভা ঠিকরে পড়ছে। কুলিটার কাছে এসে ওড়নাটা সামান্য সরিয়ে বল – “কি গাে, যাবে নাকি?”।
একে রূপসী-যুবতী, তার ওপর এমন মিষ্টি-মধুর সুরেলা কণ্ঠে বলল - কি গাে, যাবে নাকি?' কথা তাে নয় যেন সুগন্ধি ফুলের মধু কেউ তার কানে ঢেলে দিয়েছে। | যুবক - কুলিটা পাশ থেকে ঝুড়িটা হাতে তুলে
নিয়ে যুবতীটিকে অনুসরণ করল। রূপসী - যুবতীটা কিছু দূর গিয়ে রাস্তার ধারের এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। এক বৃদ্ধা দরজা খুলে দিল। তার হাতে কয়েকটা দিনার দিয়ে রূপসী যুবতীটা বলল -‘এক বােতল ভাল সরাব নিয়ে এসাে। | বৃদ্ধা দিনার ক'টা ট্র্যাকে গুঁজে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল। কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই এক বােতল সরাব নিয়ে বৃদ্ধা ফিরে এল। রূপসী যুবতীর হাতে তুলে দিল সেটা।যুবতীটা সরাবের বােতলটাকে ঝুড়িতে দিয়ে আবার ব্যস্ত-পায়ে হাঁটতে লাগল। কুলিটা তাকে অনুসরণ করে পথ চলতে লাগল। কিছুটা পথ গিয়ে ফলের দোকান থেকে বহুবকম ফল কিনে কুলির ঝুড়িতে তুলে দিল। ফলওয়ালাকে তার প্রাপ্য মিটিয়ে দিয়ে আবার হাঁটা জুড়ল। কিছুটা পথ পাড়ি দিতে না দিতেই এক মস্ত মাংস বিক্রেতার দোকানে ঢুকে পাঁচ সের মাংস কিনে ঝুড়িতে বােঝাই করল। তারপর মিষ্টির দোকানে ঢুকে ভাল কিছু মিষ্টি কিনে কুলির ঝুড়িতে দিল। তার সওদা করার রকমসকম দেখে কুলিটা রীতিমত অবাক হয়ে গেল। কুলিটা এবার তার মনের বিরক্তিটুকু নিজের কাছে জমা রেখেই মুচকি হেসে বল – ' আগে যদি এরকম হবে জানা থাকত তবে না হয় একটা খচ্চর ভাড়া করে দিতাম। তুমিই বল, এত সব মালপত্র কি একজন মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব?’
কুলির মজার কথা শুনে রূপসী - যুবতী ঠোটের কোনে হাসির রেখা ফুটিয়ে কেবল নীরবে মিটি মিটি হাসল। মুখে কিছুই বলল না। আবার হাঁটতে শুরু করল যুবতীটা। কুলিটা ঝুড়ি মাথায় তাকে অনুসরণ করতে লাগল। যুবতীটা এবার একটা আতরের শিশি, গােলাপ পানি আর দশ বােতল পরিষ্কার দামী মদ কিনে ঝুড়িতে রাখল। এবার একটি বড় সড় পিচকিরি কিনল সে। সব শেষে কিনল আলেকজান্দ্রিয়ার সুন্দর সুন্দর কিছু মােমবাতি। কুলিটা এবার মালবােঝাই ঝুড়িটা মাথায় নিয়ে সেই যুবতীর পিছন হাঁটতে লাগল। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এক সুরম্য অট্টালিকার সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় টোকা দিল বার কয়েক। দরজাটা হাট হয়ে খুলে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে এক কিশােরী। উদ্ভিন্ন কিশোরী। তার গা থেকে রূপের আভা যেন ছিটকে বেরােচ্ছে। দেহে যৌবনের সমাগম ঘটলে সে নিঃসন্দেহে এক রূপ - সৌন্দর্যের করে পরিণত হবে। কুলিটা মাথা থেকে ঝুড়িটা নামাতে নামাতে চোখে কিশােরীর আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে নিল। তার কোমর স্বাভাবিকের চেয়ে সরু। সুগঠিত স্তন দুটো সবে একটু একটু করে উকি দিচ্ছে। ঘাসের ফাক দিয়ে ছােট ছােট ফুল যেমন উঁকি দেয় ঠিক তেমনি এ দুটোকে মনে হ’ল কুলি -যুবকটার চোখে। চোখ দুটো হরিণীর মতই টানা টানা। উন্নত নাসিকা। আপেলের মত লালচে আভা গাল দুটোতে সুস্পষ্ট। সব মিলিয়ে তার কুসুম - কোমল দেহ পল্লবটি পুরুষের দেহ-মনকে কাছে টানে। দেয় শান্তিসুখের প্রতিশ্রুতি। কুলিটা বিস্ময়ের ঘাের কাটিয়ে আপন মনে বলে উঠল ‘সাত সকালেই এমন অপরূপা যুবতী ও কিশােরীর মুখােমুখি দাঁড়ানাের সৌভাগ্য খােদাতাল্লার আশীর্বাদ ছাড়া কিছুতেই সম্ভব নয়। হায় খােদা! তােমার মেহেরবানীর হদিস মানুষের অজানা।
যুবতী এবার তুলতুলে কোমল সুদৃশ্য পা দুটো ধীর - মন্থর তালে ফেলে ফেলে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল। কুলিটা তাকে অনুসরণ করল। সুসজ্জিত এক বিশালায়তন ঘর। ঘরের একধারে মনলােভা কারুকার্যশােভিত পালঙ্কের ওপরে মখমলের চাদর বিছানাে। তারই ওপরে শুয়ে আর এক অপরূপা। ঘুমে অচৈতন্যা। তার কামিজটা পায়ের দিকে একটু বেশী রকমই উঠে গেছে। মেয়েটা পিছন ফিরে শুয়ে। তার
ভারি ও চওড়া নিটোল নিতম্ব দুটো যেন ছাঁচে গড়া। কোন সুদক্ষ শিল্পী যেন নিপুণভাবে গড়ে তুলেছে। দুটো পাহাড়ের ঢেউ যেন বার বার বাধা পেয়ে নেমে এসেছে পাদদেশের দিকে। সরু কোমরটা ধীর - মন্থর গতিতে, সবদিকে সমতা বজায় রেখে ক্রমে চওড়া হতে হতে নিতম্ব দুটোর সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আবার ওপরের দিকেও সৃষ্টিকর্তা একই নির্মাণ-কৌশল প্রয়ােগ করেছেন। কোমর থেকে ক্রমে চওড়া হতে হতে বুক আর পিঠটাকে মনলােভা করে তৈরী করা হয়েছে। নিতম্বের ও পরের অনাবৃত কোটিদেশ আর গ্রীবার অংশ বিশেষের অপলক চোখে তাকিয়ে থেকে যুবক কুলিটা যেন নিজেকে নিঃশেষে হারিয়ে ফেলল। এমন সময় তার বরাত আরও খুলে গেল এক ঝটকায়। মেয়েটা ঘুমের ঘােরেই অধিকতর স্বস্তির প্রত্যাশায় পাশ ফিরল। কুলিটার বুকের ভেতরে অদ্ভুত এক রােমাঞ্চের আবির্ভাব ঘটল।মনে হ’ল কলিজাটা বুঝি উসখুসানি শুরু করে দিয়েছে। এক লহমায় তার কুসুম-কোমল মুখাবয়ব প্রত্যক্ষ করা মাত্রই তার বুকের ভেতরে এমন অভাবনীয় তােলপাড়ানি শুরু হয়ে গেছে, রােমাঞ্চে মন-প্রাণ আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। বিস্ময়াভিভূত কুলিটা আপন মনে বলে উঠল – মুখ নয় তাে যেন শিশিরে ভেজা আধ - ফোটা পদ্মা, মেঘমুক্ত প্রভাতের শুকতারা। আর--- না, আর ভাবতে পারল না সে। তার সর্বাঙ্গ যেন কেমন শিথিল হয়ে আসছে। | রূপসী তন্বী যুবতীর ঘুম ভেঙ্গে গেল। চকিত চপল চোখ দুটো মেলে তাকাল। সুরেলা কন্ঠে বলল - তােমরা এমন পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে যে!’ এবার তার বহিনজীর দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল – ওর মাথায় অতবড় একটা বােঝা, নামিয়ে দাও!
কথা বলতে বলতে অপরূপা বিছানা ছেড়ে নেমে এল। দু'জনে ঝুড়িটা ধরাধরি করে কুলির মাথা থেকে নামাল। বড়জন দুটো দিনার কুলিটার দিকে এগিয়ে দিল। কিন্তু বিদায় জানিয়ে ঘর থেকে বেরনাে তো দূরের কথা কোন কথাও বলতে পারল না। কেবল বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টি মেলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল বহু বাঞ্ছিতা অপরূপাদ্বয়ের মুখের দিকে।
বড় লেড়কিটা বলল – “কিগাে, তােমার প্রাপ্য তাে বুঝেই পেয়েছ, তবে আবার দাঁড়িয়ে যে বড় ? মজুরি আরও কিছু চাচ্ছ কি ? ঠিক আছে, এই নাও আর এক দিনার। | কুলিটা যেন এবার সম্বিৎ খুঁজে পেল। সে ব্যস্ত হয়ে বলল না, মজুরির ব্যাপার নয়। আমার মজুরি মাত্র এক দিনার। তােমরা এমনিতেই দু’দিনার দিয়েছ। আবার কেন দিতে যাবে?
– তা-ই যদি হয় তবে যে এখনও দাঁড়িয়ে ?
- 'দেখ, যদি কিছু মনে না কর একটা কথা জিজ্ঞেস করি। তােমাদের কারাে দেহেই রূপ বা যৌবন কোনটারই অভাব নেই, যে কোন যুবকের মন জয় করার পক্ষে যথেষ্ট। তবু তােমরা একা থাক কেন, ভাবছি! কোন পুরুষ তােমাদের সঙ্গে নেই কেন ? কোন কিছু যদি ভােগ করাই না যায় তবে তা থাকা আর না থাকা তাে সমান কথাই। তােমাদের দেহের এ অঢেল রূপ আর অফুরন্ত যৌবনের কি-ই বা মূল্য? আর রূপ থাক আর না-ই থাক যৌবন যখন আছে তার তাড়না তাে কম-বেশী থাকতে বাধ্য। মানুষ কামনা আর লালসার বশ, কথাটা তাে মিথ্যা নয়। কোন পুরুষকে যদি নারী তার দেহ সুধা পান করাতে না পারে তবে তার জীবনই তাে বৃথা। নিজেকে পুরুষের কাছে মেলে ধরা, নিঃশেষে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই তাে লেড়কিদের কামতৃষ্ণা নিবৃত্ত করার একমাত্র উপায়।
– “আমরা কুমারী, আজও কুমারীত্বকে সযত্নে পােষণ করছি। পর-পুরুষের সান্নিধ্য আমাদের বিপদ ঘটাতে পারে। মজা লুঠে পালিয়ে যাবে। আর তার কৃতকর্মের দায় ভার বইতে হবে আমাদের। এরকম আশঙ্কাতেই আমরা সতর্কতার সঙ্গে পুরুষদের এড়িয়ে চলেছি, আজও চলছি। বড় লেড়কিটা বলল।
—“তােমরা আমার ওপর আস্থা রাখতে পার। বিশ্বাসঘাতকতার লেশমাত্রও পাবে না। আরও এমন সব কথা বলতে লাগল যাতে করে স্পষ্টই বুঝা গেল, খােদাতাল্লার মর্জিতে কুলিগিরি করে বটে কিন্তু কালির অক্ষর কিছু পেটে আছে।
কুলি যুবকের কথা ও আচরণে লেড়কি তিনজনই খুব মুগ্ধ হ’ল। মেজ লেড়কিটার মধ্যে একটু দুষ্টুমি বুদ্ধি ভর করল। সে বড়টার কানে কানে বল্ল – একে নিয়ে একটু রঙ্গ তামাশা করলে কেমন হয়?’ বড় লেড়কিটা এবার কুলিটাকে বলল – “ কি গাে, সঙ্গে।মালকড়ি আছে কিছু? খালি হাতে তাে আর মজা লােটা যায় না।
– “সে আমি পাব কোথায়, বল তাে! কুলিগিরি করে দিন চালাই, দেখতেই তাে পাচ্ছ। আর যেটুকু আছে তা তােমাদের কাছে হাতের ময়লার সামিল। কি -ই বা তােমাদের কাজে লাগবে, বল ? ঠিক আছে -' কথা বলতে বলতে সে ঝুড়িটা হাতে তুলে নিয়ে এবার বেরােবার উদ্যোগ করল। ঠিক তখনই মেজো লেড়কিটা আচমকা তার একটা হাত ধরে ফেলল। “ছিঃ ! পুরুষ মানুষের এত গােসসা করলে কি চলে! আর পয়সা ছাড়া মেয়েদের খুশি করা যায়, শুনেছ কোথাও ? পাত্তি ফেল, মজা লুঠো। কথাটা বলেই সে মন মাতাল করা হাসিতে ফেটে পড়ার জোগাড় হ’ল। বড় লেড়কিটাও তার সঙ্গে যােগ দিল।বড় বহিনদের কাণ্ড দেখে ছােট লেড়কিটা বেশ রাগত স্বরেই বলল – “তােমরা একে সােজা-সরল পেয়ে কী আরম্ভ করেছ বলতাে? সওদা করতে গিয়ে তাে নােটের বাণ্ডিল উড়িয়ে এলে।তােমাদের কাছে যদি পয়সাটাই বড় হয় তবে এর হয়ে আমিই তােমাদের চাহিদা পূরণ করে দেব। কেমন পেশীবহুল এর শরীর আর কেমন চওড়া ছাতিটা! এ একাই আমাদের তিনজনের পিয়াস মেটাতে পারবে। | মেজো মেয়েটা বল – “কি রে, তুই যে একেবারে মজে গেছিস দেখছি! যাক গে, চুলােয় যাক এর টাকাকড়ি। পাত্তির দরকার নেই। এবার সে কুলি যুবকটার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে বল - এসাে গাে মনের মানুষ, আমরা এবার একটু মন খােলসা করে গল্পটল্প করি। অন্য দু'বহিনও এবার তাকে সমর্থন করল। সুরার পাত্র আর পেয়ালা নিয়ে এল। পেয়ালার পর পেয়ালা সুরা উজাড় হতে লাগল। আর সে সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা-মস্করার জোয়ার বয়ে চল।
কয়েক পেয়ালা সুরা গলায় ঢেলে কুলি যুবকটা খােশ মেজাজে গান ধরল। তার কিন্নর কণ্ঠের গানে তিন বােন তন্ময় হয়ে গেল। | আর এক পেয়ালা সুরা এনে ছােট লেড়কিটা তার ঠোটের কাছে ধরল। এক নিঃশ্বাসে পেয়ালাটা উজাড় করে দিয়ে সে এবার গানের তালে তালে নাচতে লেগে গেল।
লেড়কি তিনটাও আর নিজেদের সামলে রাখতে পারল না। তারা পালা করে যুবকটার কোমর ধরে নাচতে লাগল। তার কিন্তু বড় লেড়কিটার দিকেই আকর্ষণ বেশী। বার বার তাকে জড়িয়ে ধরেই নাচতে থাকে। ব্যাপারটা তার মনঃপুত হ’ল না। ঈর্ষা চেপে রাখতে পারল না। মুখ গােমড়া করে দাঁড়িয়ে রইল। দু চোখ দিয়ে ক্রোধানল ঠিকরে বেরিয়ে আসতে লাগল। ছােট লেড়কিটা অস্থির হয়ে পড়েছে। সে মাথা ঠিক রাখতে না পেরে কুলি-যুবকটাকে দমাদ্দম কিল – চড় মারতে আরম্ভ করল। আর রাগে ফুলতে লাগল। | কুলি যুবকটা বাধ্য হয়ে পালা করে তিন বহিনকেই জড়িয়ে ধরে নেচে আনন্দ দিতে লাগল। কিছুক্ষণ এভাবে সুখদান ও সুখলাভের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে এক সময় সে মেজো লেড়কিটাকে আলতাে করে কাঁধের ওপর তুলে নিয়ে ঘরের বাইরে চলে গেল। বারান্দা পেরিয়েই ফুল বাগিচা। হাজারাে রূপ আর গন্ধের বিচিত্র সমাবেশ ঘটেছে বাগিচার গাছে গাছে। যেন কোন্ দৈত্য সবার অলক্ষ্যে স্বর্গোদ্যানটাকে তুলে নিয়ে এসে এখানে বসিয়ে দিয়েছে। | কুলি যুবকের আচরণে ছােট লেড়কি রেগে একেবারে কঁাই হয়ে গেল। সে উন্মাদিনীর মত ছুটে গিয়ে তার চুল ধরে টানতে লাগল, দমাদ্দম কিল-চড়-ঘুষি মেরে আনন্দের ঘাটতিটুকু পূরণে প্রয়াসী। হ’ল। তার নরম হাতের স্পর্শ কুলি যুবকটির মধ্যে ক্রোধের পরিবর্তে পুলকের সঞ্চারই করল। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে কুলি যুবকের পৌরুষ দীপ্ত দেহের ছোঁয়া পেয়ে পেয়ে মেজো লেড়কিটার মধ্যে এক অনাস্বাদিত ভাবান্তর ঘটতে থাকে। সে নিজের দেহপল্লবটাকে তার কাধ থেকে নামিয়ে নিয়ে এসে প্রশস্ত বুকের সঙ্গে নিজেকে লেপ্টে দিল। গলাটা জড়িয়ে ধরে আবেগে উচ্ছাসে অভিভূত হয়ে পড়ল। মাদকতায় পরিপূর্ণ চোখ দুটো মেলে অপলক দৃষ্টিতে তার ভরা যৌবনকে দেখতে লাগল। তুলতুলে নরম ও রক্তাভ ওষ্ঠ দুটোকে এগিয়ে নিয়ে গেল কুলি যুবকটার পৌরুযভরা ওষ্ঠ দুটোর কাছে। কখন যে উভয়ের ওষ্ঠ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তারা কেউ বুঝতেও পারে নি। কামােন্মাদনা বশত লেড়কিটা যুবকের নিচের ওষ্ঠটা কামড়ে ধরল। জোরে... আরও জোরে। দাঁত প্রেম বােঝে না, মায়াও নেই তার। দাঁতের কাজ দাঁতগুলাে করল। যুবকের নিচের ওষ্ঠটায় তার দাঁত বসে গেল। তিরতির করে রক্ত বেরােতে লাগল। কিছুমাত্র হুঁশ কারাে নেই। পুরুষের ওষ্ঠের রক্তের স্বাদ সে এই প্রথম পেল। আরও শক্তি প্রয়ােগ করে সাঁড়াশির মত আঁকড়ে ধরল যুবকটার নগ্ন ও প্রশস্ত বুকটাকে। একজন পুরুষ মানুষের শরীরে এত শান্তি-সুখ, যে লুকিয়ে থাকতে পারে তা সে এর আগে কোনদিন বােঝে নি।
যুবকটার বুকের মধ্যে ইতিমধ্যে মহাসাগরের তুফান শুরু হয়ে গেছে। সে তাকে আঁকড়ে থাকা মেজো লেড়কিটাকে নিয়ে মেঝেতে ধপাস করে বসে পড়ল। আর ছােটটাকে নিচে শুইয়ে দিল। তার সদ্য উঁকি দেওয়া যৌবনের দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে রইল। লেড়কিটার চোখের তারায় কাছে টানার ইঙ্গিত। ঠোটে দুষ্টুমি ভরা হাসি। অসহ্য যন্ত্রণা। বুকের ভেতরে জ্বলন্ত আগুন। আর বাইরে পিষ্ট হবার দুরন্ত বাসনা। যুবকটা কখন কৃপা করবে সে প্রতীক্ষায় থাকা তার পক্ষে সাধ্যাতীত। অধৈর্য হাতটা দিয়ে তার পেশীবহুল বাঞ্ছিত হাতটাকে জড়িয়ে ধরল। অস্থিরভাবে নিজের বুকের ওপরে রাখল। দু হাতে জাপ্টে ধরে শরীরের সর্বশক্তি নিয়ােগ করে চাপ প্রয়ােগ করল। দলন-পেষণের জন্য সে একেবারে মাতােয়ারা
............To be continued

0 Comments