গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ
রাত্রি একটু গভীর হলে বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কিসসা শুরু করতে গিয়ে বললেন-জাহাপনা, আবু সামাত পালঙ্কের ওপরে বসে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে। এমন সময় লাঠি ভর দিয়ে ডাইনী বুড়ি সে কামরায় ঢুকল। আবু সামাতকে জিজ্ঞাসা করল–‘বেটা, যে-লেড়কিটিকে তার স্বামী তালাক দিয়েছে তাকে কোন কামরায় মিলতে পারে বলতাে? আর বােলােনা, দাওয়াই মালিশ করে কি আর কুষ্ঠরােগের আরাম করা যায় ? কিন্তু তার আব্বা শুনবে না। আমাকে রােজ রােজ রাত্রে এসে দাওয়াই মালিশ করে যেতে হয়। তারা যখন বুঝবে না আমার আর কি-মালিশ করে মজুরি নিয়ে যাব।
আবু সামাত সচকিত হয়ে বলে—ইয়া আল্লাহ! কুষ্ঠরােগ।
কুষ্ঠরােগীর সঙ্গে আমাকে রাত্রিবাস করতে হবে? কুষ্ঠরােগীকে সম্ভোগ করতে হবে? খােদা হাফেজ! আমার যে শুনেই কলিজা শুকিয়ে আসছে।
‘সে কী বেটা, রাত্রি বাস, সম্ভোগ এসব কি বাৎ বেটা? এর মধ্যে এসব আবার কোত্থেকে আসে?’ বুড়ি যেন কিছুই জানে না এরকম ভান করে সওয়ালটি ছুঁড়ে দিল।
আবু সামাত বলল—‘লেড়কিটির আগের স্বামীর সঙ্গে যে আমার এ-চুক্তিই হয়েছে গাে? সে-তাে তিন তালাক দিয়ে বিবিকে ছেড়ে দিয়েছে। আবার তাকে ঘরে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তাই একটিমাত্র রাতের জন্য আমি তাকে শাদী করেছি। তাকে নিয়ে রাত্রি কাটাতে হবে। সম্ভোগ টম্ভোগ যা কিছু এক রাত্রের মধ্যেই সেরে নিতে হবে। ব্যস, সকাল হলেই আবার তিন তালাক দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার চুক্তি হয়েছে।
‘সেকী বেটা, কুষ্ঠরােগীর সঙ্গে রাত্রিবাস, সম্ভোগ—সর্বনাশ, ভুলেও এসব কর্ম করতে যেয়াে না যেন। কুষ্ঠরােগ দারুণ ছোঁয়াচে, জান না? ছুলেই ব্যারামে ধরবে। আমি বুড়াে হয়েছি। গােরে যাবার সময় হয়ে গেছে। পেটের জ্বালা নেভাতে গিয়ে যদি কুষ্ঠরােগ হয়ই, হােক গে। কিন্তু তােমার এমন জোয়ান বয়স, এমন সুরৎ—একটিবার মাত্র সম্ভোগ সুখ লাভ করতে গিয়ে জেনে শুনে জিন্দেগী বরবাদ করে দেবে! বুড়াে মানুষের উপদেশ শােন, ভুলেও যেন তাকে ছুঁতে যেয়াে না।
আবু সামাত ডাইনী বুড়ির কথা শুনে গােমড়া মুখে গালে হাত দিয়ে বসে রইল। বুড়ি বুঝল দাওয়াইয়ে কাজ হতে চলেছে।
ডাইনী বুড়ি এবার খুঁজেপেতে লেড়কিটিকে বের করল। দরওয়াজা থেকেই রীতিমত হায় হায় করতে করতে সে কামরায় ঢুকল। বলল-“হায়! হায়! হায়! এরকম কাজও কোন বাপ করতে পারে। এমন সুরৎ আর কাঁচা উমর যে লেড়কির তাকে নাকি এমন দগদগে কুষ্ঠ রােগীর গলায় লটকে দিল। বুঝলাম, লেড়কি না হয় স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের গলার কাটা হয়ে বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই বলে এমন এক আধ মরার সঙ্গে ছিঃ ছিঃ ভাবলেও গা-পিত্তি জ্বলে যায়। এবার লেড়কিটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল-নসীব তােমার এত খারাপ জানতাম না বেটি। ভুলেও যেন ওই কুষ্ঠরােগীর সঙ্গে রাত্রি কাটাতে যেয়াে না। ঘরে গেলেও তার ধারে কাছেও যেও না যেন। তার সঙ্গে জাপ্টাজাল্টি করা তাে দূরের কথা ভুলেও যেন তাকে ছুঁয়াে না। একটি বারের সঙোগ সুখের জন্য জিন্দেগী ভর ওই দুরারােগ্য বিমারি গায়ে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে। আমি আরও আনন্দ করে তােমার নতুন স্বামীকে দেখতে এলাম কেমন সুরৎদার। ব্যস, ঘরে ঢুকেই চমকে উঠি। গা ঘিন ঘিন করতে থাকে।
এদিকে আবু সামাত তার নিত্যকার অভ্যাসমত শুতে যাওয়ার আগে কোরাণের কয়েক পাতা পাঠ করল। এবার তার বিবির জন্য দরজার দিকে তাকিয়ে বসে রইল। রাত্রি বেড়ে চলল। কিন্তু তার আসার নামটিও নেই।
আবার লেড়কিটি পাশের ঘর থেকে মুগ্ধ হয়ে আবু সামাত এর সুরেলা কণ্ঠের কোরাণ পাঠ শুনতে লাগল। কোরাণ পাঠ শেষ হলে সে ভাবল, নসীবে যা আছে পরে বিবেচনা করা যাবে। এমন মিষ্টিমধুর যার কণ্ঠস্বর তাকে একবারটি চোখের দেখাও দেখব না! অসম্ভব! এমনও তাে হতে পারে বুড়ি কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা কথা বলে তাকে ভড়কে দিয়ে গেছে। তারপর কি ভেবে সে এবার একটি গানা ধরল।
সামাত পাশের ঘর থেকে মুগ্ধচিত্তে তার মধুঝরা কণ্ঠের গানা শুনতে লাগল। এক সময় সে আপন মনে বলে উঠল-আহা কী মধুর গলা, কী সুন্দর সুর আর তালজ্ঞান। বেহেস্তের হুরীরাও বােধ হয় এমন মধুর গান গাইতে পারে না। এমন যার গলা সে কি না কুষ্ঠরােগে মরণাপন্ন! বুড়িটি কি তবে কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে লেড়কিটির বিরুদ্ধে বানিয়ে বানিয়ে ওসব কথা বলে গেল? লেড়কিটি গানা বন্ধ করলে আবু সামাত এবার একটি গানা ধরল। আড়খেমটা। সে দিল উজাড় করে দিল গানার মধ্যে।
এবার গাইতে গাইতে আবু সামাত শুনতে পেল লেড়কিটি তার গানার তালে তালে ঘুঙুর পায়ে নেচে চলেছে। পাশের ঘর থেকে সুর-ছন্দ মাফিক ঝুম ঝুম আওয়াজ হচ্ছে। আবু সামাত ভাবল, যার সারা অঙ্গে দগদগে কুষ্ঠরােগ সে কী করে এমন করে নাচছে। রােগে যার অঙ্গ জ্বরাে জ্বরাে তার দিলে নাচা-গানার ইচ্ছাই বা কি করে আসে? তাজ্জব ব্যাপার তাে! হতচ্ছাড়ি বুড়িটি কি তবে তাকে সাচমুচ ধোঁকাই দিয়ে গেল?
এমন সময় দরওয়াজার পর্দাটি দুম করে সরে গেল। আর সামাত-এর চোখের সামনে ভেসে উঠল খুবসুরৎ এক লেড়কির মুখ। মুখ নয়ত যেন আসমানের চাঁদ জমিনে নেমে এসেছে। নয় তাে বেহেস্তের কোন হুরী এসে দাঁড়িয়েছে তার মুখােমুখি। এমন সুরৎ কোন লেড়কির থাকতে পারে এ যেন ভাবতেও সে উৎসাহ পাচ্ছে না। বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে নিষ্পলক চোখে সে পাথরের মূর্তির মত নীরবে তাকিয়ে রইল। লেড়কিটি নীরবতা ভঙ্গ করে বলল-“কি গাে ভাল মানুষ, অমন হাঁ করে কি দেখছ?’ এবার লেড়কিটি চোখের বাণ মেরে বলল –‘চল, শোবে চল।
চোখের বাণ মেরে, মুচকি হেসে লেড়কিটি আবু সামাত’কে এমন ভঙ্গিতে ডাকল যে মুহূর্তে সে মূচ্ছা যাওয়ার উপক্রম হ'ল। তার কলিজায় আগুন ধরে যাওয়ার জোগাড়। কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল—“শুতে যাবাে? কোথায়? চল, কোথায় নিয়ে যাবে, চল।
লেড়কিটি এবার বিচিত্র ভঙ্গিতে পাছা দুলিয়ে আগে আগে যেতে লাগল। সামাত পথ চলতে গিয়ে সবিস্ময়ে সাগরের ঢেউয়ের মত তার পাছার নাচন দেখতে লাগল। তার মনে হ’ল বুকের ভেতরে কলিজাটি যেন উথালি পাথালি করছে। যার পুরুষাঙ্গ নিতান্ত অক্ষম তার মধ্যেও যেন সম্ভোগের শক্তি জাগিয়ে তুলতে পারে।
লেড়কিটিকে দেখার পর আবু সামাত-এর দিল থেকে সন্দেহটুকু যেন মুহূর্তে নিঃশেষে উবে গেল। তবু সে চাইল সম্ভোগের আগে, যৌনমিলনের পূর্ব মুহুর্তে একবারটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে নিলে হয়। আর কিছুনয়, আদতে বিমারিটি তাে কুষ্ঠ। সবচেয়ে বেশী ছোঁয়াচে।
লেড়কিটি আবু সামাত-এর দ্বিধাটুকু দেখে তার দিলের কথা যেন বুঝতে পেরে গেছে। সে এবার মুচকি হেসে বলে—“হতচ্ছাড়ি বুড়ি বুঝি তােমার কামরায়ও এসেছিল ? ভাল কথা। তােমায় সন্দেহ দূর করে দিচ্ছি, ঘাবড়াবার কিছু নেই। লেড়কিটি কামরার দরওয়াজা বন্ধ করে আবু সামাত-এর দিকে গিয়ে দাঁড়াল। ঠোটের কোণে দুষ্টুমিভরা হাসি ফুটিয়ে তুল্ল। চোখের বাণ মারল। এবার সে তার গা থেকে এক এক করে পােশাক আশাক খুলে ফেলতে লাগল। এক সময় একেবারে বিবস্ত্রা হয়ে আবু সামাত-এর দিকে ফিরে তাকাল।
আবু সামাত-এর অবস্থা একেবারে শশমিরা! কলিজার লাফালাফি দাপাদাপি যেন আরও হাজারগুণ বেড়ে গেল। শিরা উপশিরায় খুনের গতি গেল বেড়ে। হৃদস্পন্দনও সে সঙ্গে অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গেল। নিজের অজান্তে এক সময় সে বলে উঠল-শােভন আল্লা! কী সুরৎ, ঢলঢলে ভরা যৌবন। এমন সুরৎ, এমন নিটোল দেহ সম্ভোগ করে গায়ে কুষ্ঠ বরণ করে নেয়া তাে দূরের কথা, গােরে যেতে হলেও আক্ষেপ থাকবে না।
লেড়কিটি এবার আবু সামাত-এর সামনে নিজের শরীরটিকে এক চক্কর মেরে নিয়ে বলল-“কি গাে, কি বুঝছ, আমার সারা গায়ে দগদগে কুষ্ঠ দেখতে পাচ্ছ কি?’আবার তার যৌবনের জোয়ার লাগা শরীরটিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাতে গিয়ে বলল—‘কয়েকটি ছােটবড় তিল ছাড়া আমার শরীরে আর কোন দাগই খুঁজে পাবে না।
কুষ্ঠের ঘা বা দাগফাগ দেখার মত মানসিকতা আবু সামাত-এর নেই। তার সুপ্ত পৌরুষ অনেক আগেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সর্বাঙ্গে কেউ যেন জলবিচুটি মাখিয়ে দিয়েছে। অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণা। কিন্তু সে একেবারেই নবীশ—আনাড়ী। কি দিয়ে, কিভাবে কি করতে হয় কিছুই তার জানা নেই। অভিজ্ঞতার তাে প্রশ্নই ওঠে না। এমন কি কোন ইয়ার দোস্তও তার কোনদিন ছিল না যার কাছ থেকে সম্ভোগ—যৌন-মিলনের ব্যাপার স্যাপার সম্বন্ধে কিছু ধারণা জন্মাতে পারত। পরক্ষণেই সে নিজেকে প্রবােধ দেয়। লেড়কিটি আর তার মত আনাড়ী নয়। সে সময়মত যখন, যা করতে হয় নির্ঘাৎ শিখিয়ে পড়িয়ে নেবে। কুছ পরােয়া নেই।
আবু সামাত দু’পা এগিয়ে আসে। লেড়কিটি অতর্কিতে পিছিয়ে যায়। চোখে-মুখে অভাবনীয় ভীতির ছাপ।
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে সে বলল—না, আমাকে ছুঁয়াে না। তােমার শরীরে যদি সামুচ কুষ্ঠ বিমারি থাকে। তবে? তবে আমার জিন্দেগী যে বরবাদ হয়ে যাবে। পঙ্গু হয়ে জিন্দেগী ভর দুঃখ সইতে হবে।
—সে কী কথা। কিসের কুষ্ঠ ? কে না কে বলল আমার শরীরে কুষ্ঠ আর অমনি আমার শরীরে দগদগে ঘা হয়ে যাবে?
—“ঠিক আছে। আগে তােমার সব কাপড় চোপড় খােল। আমি যেমন দেখালাম সেরকম তােমার শরীরও আমাকে দেখাও।
—“অবশ্যই, অবশ্যই দেখবে। যাকে দেহসুখ দেবে ও যার কাছ থেকে দেহসুখ লাভ করবে তার শরীরটি নিজের চোখে দেখবে না, তা তাে হতে পারে না মেহবুবা। কথা বলতে বলতে আবু সামাত
তার পােশাক খুলে একেবারে উলঙ্গ হয়ে দাঁড়াল।
লেড়কিটি বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে স্বামীর যৌবনভরা দেহটিকে দেখতে লাগল। মুহুর্তে তার মধ্যে কামােন্মাদনার সঞ্চার হ’ল। শিরা উপশিরায় খুনে মাতন লাগল। সে উন্মাদিনীর মত ছুটে স্বামীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ল। বাহুডােরে বেঁধে ফেলল তার নগ্ন দেহটিকে। তার ঠোটের কাছে নিজের ঠোঁট দুটোকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার ঠোটে, গালে আর কপালে ঘন ঘন চুমু খেতে লাগে।
আবু সামাত ভেতরে ভেতরে জ্বলে পুড়ে খাক হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে, কি করবে ঠাহর করতে পারছে না। কেবল দু’হাত দিয়ে সাঁড়াশীর মত বিবস্ত্রা লেড়কিটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে। তার যৌবনভরা আপেলের মত টসটসে বুকের স্পর্শ পেয়ে এক অকল্পনীয় অনুভূতি তার দিলে জেগে ওঠে। মাতন—উভয়ের খুনেই পুরােদমে মাতন লেগে গেছে। কেবলমাত্র দলন ও পেষণে লেড়কিটির দিল ভরবে কেন? কিভাবে আরও হাজারগুণ সুখ লাভ হতে পারে তা-তাে তার আর অজানা নয়। লেড়কিটি এবার আবু সামাত’কে জড়িয়ে ধরে রেখেই আচমকা এক আছাড় দিয়ে পালঙ্কের ওপর ফেলে দিল। স্বামীর উলঙ্গ দেহের ওপর এক লাফে উঠে গেল। তারপর তার শরীরের দু’পাশে-পা রেখে বসে পড়ল। এবার দু'পায়ের ওপর ভর দিয়ে ওঠাবসা ধস্তাধস্তি শুরু করে দিল। উপােষী ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মত তার চোখ দুটো জ্বলতে লাগল। এতদিন পেয়েও সে যেন না পাওয়ার বেদনায় তার কলিজাটি জ্বলে পুড়ে খাক হচ্ছিল। আজই যেন আদৎ পুরুষ মানুষকে ভােগ করে সে দেহক্ষুধা মিটাতে উঠে পড়ে লেগে গেছে। তার হাঁফ ধরে যায়। ওই অবস্থাতেই স্বামীর ওপর আছাড় খেয়ে পড়ে। জড়িয়ে ধরে। কি গাে তুমি কেমন পুরুষ মানুষ! নিষ্ক্রিয়ই থাকবে নাকি? সিংহের মত শরীর ও তেজ অথচ নিজেকে এমন করে গুটিয়ে রাখছ কেন? কথাটি বলে সে আবু সামাতকে জড়িয়ে নিয়ে আচমকা পাল্টি খেয়ে যায়। আবু সামাত তার ওপর উঠে পড়ল।
লেড়কিটি আবেশে জড়ানাে আধ-বােজা চোখ দুটো মেলে স্বামীর দিকে তাকায়। হাঁটু দিয়ে এক গুঁতাে দিয়ে প্রায় ধমকের সুরে বলে উঠল চুপ মেরে রইলে কেন? আমি যেমন করলাম অনবরত ঠিক সেরকমটি করে যাও। আমার জ্বালা নেভাও। আমি আর পারছি না। আমাকে ডলে-পিষে একদম শেষ করে দাও। এত সুখ তােমার মধ্যে! এত সুখ আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমাকে চেপেচুপে একদম শেষ করে দাও! তােমার আব্বা ঠিক যেমন করে তােমার মত সিংহশাবকের জন্ম দিয়েছিল ঠিক তেমনটিই কর। আজ আমার একেবারে শেষ হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।
এক সময় লেড়কিটি পরম তৃপ্তিতে পালঙ্কের ওপর শরীর এলিয়ে দিল। এক অভূতপূর্ব সুখানুভূতিতে তার দিল আর দেহ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে পড়ে রইল। চোখ দুটো বন্ধ করে তৃপ্তিটুকু পুরােপুরি অনুভব করতে লাগল। ক্লান্ত অবসন্ন লেড়কিটি এক সময় ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল। আবু সামাত এবার বিবস্ত্রা লেড়কিটির নিস্তেজ শরীরটিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। কখন দু’চোখের পাতায় ঘুম জড়িয়ে এসেছিল বুঝতেই পারেনি।
দম্পতির প্রথম আদৎ সুখের রাত্রির অবসান হ’ল। আবু সামাত এক সময় চোখ মেলে তাকাল। আবছা অন্ধকারে দেখল তার সদ্য বিবাহিতা বিবি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কয়েক ঘণ্টা আগে লাভ করা পরম তৃপ্তিটুকু তার চোখে-মুখে সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। রাত্রে কথা প্রসঙ্গে সে জেনে নিয়েছিল তার বিবির নাম জুবেদা। আবু সামাত তার বিবির গায়ে আলতাে করে ধাক্কা দিয়ে ডাকল—“জুবেদা, ভাের হয়ে গেছে—ওঠো। ওঠো জুবেদা। আমার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। এবার যে আমাকে বিদায় নিতে হবে।
আবু সামাত-এর টুকরাে টুকরাে কথা কানে যেতেই জুবেদা হুড়মুড় করে উঠে বসল। আচমকা স্বামীর দিকে চোখ পড়তেই খুবই শরম লাগল। যন্ত্রচালিতের মত হাত দুটো বুকের ওপর তুলে আকস্মিক শরমটুকু সামলে নেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস চালাল।
আবু সামাত বল–মেহবুবা, এবার যে আমাকে চলে যেতে হবে। আমাকে হাসিমুখে বিদায় দাও।
আতঙ্ক-মিশ্রিত জিজ্ঞাসার ছাপ এঁকে জুবেদা স্বামীর মুখের দিকে তাকাল।
আবু সামাত এবার বলল —‘চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও তােমাকে ছেড়ে যেতেই হবে জুবেদা। আমি যে শর্তাবদ্ধ। না গিয়ে আমার উপায় নেই। তবে এ-ও সত্য পিয়ারী, একটি মাত্র রাত্রির গােটা দুই
প্রহরেই আমি বুঝতে পারছি, তােমাকে ছাড়া আমার জান বাঁচানাে অসাধ্য আমার জান।
–‘শর্ত ? কিসের শর্ত? কার সঙ্গে শর্তাবদ্ধ মেহবুব? কিছুতেই তােমার আমাকে ছেড়ে যাওয়া চলবে না। কথা বলতে বলতে জুবেদা তার স্বামীকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, আমি ছাড়বনা। কিছুতেই তােমাকে ছাড়তে পারব না মেহবুব আমার।
আবু সামাত তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বল্ল-মেহবুবা। তােমার কি জানা নেই, কি শর্তে আমি তােমাকে লাভ করেছি? তােমাকে সম্ভোগের মাধ্যমে নিজে জীবনের প্রথম ও পরমতম সুখ লাভ করেছি, কোন শর্তে, জানা নেই কি? শােন, অবুঝ হয়াে না। তােমার সঙ্গে আমার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবলমাত্র একটি রাত্রের জন্য। তােমার আগের স্বামীর সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ। সে তােমাকে তিন তালাকের মাধ্যমে হারিয়ে ফিন ফিরে পাবার জন্য উতলা হয়ে পড়েছে। আর তাকে তার অভিলাষ পূর্ণ করতে হলে তােমার আবার অন্যত্র শাদী হওয়ার একান্ত দরকার হয়ে পড়ে। তাই এক রাত্রির শর্তে তােমার আব্বা আমার সঙ্গে তােমার শাদী দিয়েছেন।
বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে জুবেদা তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর মুখের দিকে নীরব চাহনি মেলে তাকিয়ে রইল।
আবু সামাত বলে চলল —“শােন জুবেদা, সব কিছু খােলাখুলি তােমার জানা দরকার রয়েছে। হ্যা, তারপর যা বলছিলাম, আমি এবার তােমাকে তিন তালাক দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি, তােমার আগের স্বামী তােমাকে নিকা করে ঘরে নিয়ে যেতে পারবে এ-ই ইসলাম ধর্মের বিধান। আমি যাতে বেইমানী না করতে পারি সে জন্য তােমার আগের পক্ষের স্বামী আমাকে দিয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। আর আমি যদি চুক্তি ভঙ্গ করি, তিন তালাক দিয়ে তােমাকে ত্যাগ না করি তবে সে আমার কাছ থেকে দশ হাজার সােনার দিনার দাবী করতে পারবে। আইনের সাহায্য নিয়ে আদায় করবে। দশটি দিরহামও যে বের করতে পারবে না সে দশ হাজার দিনারের চিন্তাই তাে করতে পারে না। অতএব আমি তােমাকে তিন তালাক না দিলে তােমার আগের স্বামী আমার নামে মামলা রুজু করবে। তখন? মামলায় তাে আমাকে অবশ্যই হারতে হবে। বােকামির মাশুল দিতে গিয়ে আমাকে জেলের গারদে ঢুকতে হবে। জেলের ঘানি টেনে বাকী দিনগুলাে গুজরান করতে হবে। জুবেদার দু’চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগল। সে স্বামীকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরল। ঠোটে, গালে ও কপালে চুমু খেল। তারপর ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বলল—“মেহবুব, কলিজা আমার, তােমাকে ছাড়া আমার জান রাখার কথা ভাবতেই পারি না। একটি মাত্র রাত্রে তুমি আমাকে যে-সুখ দিয়েছ তা জিন্দেগীভর আমার বুকে স্মৃতি হয়ে রইবে। তােমাকে কিছুতেই আমার পক্ষে ছাড়া সম্ভব নয়।
—“তুমি বুঝনা পিয়ারী, আমি তােমার আগের স্বামীর সঙ্গে লিখিত শর্তে আবদ্ধ। নিজে হাতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছি।
—“তা হােক গে। আমি কথা দিচ্ছি, ফিকির কিছু একটি বের আমি করবই করব। সমস্যা যাতে দুর হতে পারে তার ফিকির-না,
( চলবে )

0 Comments