গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ
ওকে ছাড়া আমার জিন্দেগী বরবাদ হয়ে যাবে। সুলতান লেড়কার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। কি করবেন। কি বলবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। এক সময় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—‘বেটা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ছাড়া কিছু তাে করার দেখছিনে। ইয়া বড় দুনিয়ায় অজানা, অদেখা আর অচেনা এক লেড়কির পাত্তা কি করে পাওয়া সম্ভব, বুঝে উঠতে পারছি না।
লেড়কাকে সঙ্গে নিয়ে সুলতান প্রাসাদে ফিরে এলেন। নিজের কামরায় লেড়কার থাকার ব্যবস্থা করলেন। দিনের পর দিন বিষগ্নমুখে লেড়কাকে সামনে নিয়ে আশমান-জমিন ভেবে চললেন। প্রজা, মসনদ, ধনদৌলত সব কিছু তাঁর কাছে বিষময় হয়ে উঠেছে।
দরিয়ার মাঝে এক ভাসমান পাহাড়ের গায়ে সুবিশাল এক ইমারত ছিল। সুলতান শখ করে এটি বানিয়েছিলেন। লেড়কাকে নিয়ে তিনি এবার সেখানেই চলে গেলেন। কিন্তু বাপ-বেটা কারাে নসীবেই সুখ - শান্তি জুটল না। শাহজাদা জামান ক্রমে বিষাদের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠল। কোন আবেগ নেই, নেই কোন উচ্ছ্বাস। সর্বদা নির্বাক-নিস্পন্দ পাথরের মূর্তির মত গালে হাত দিয়ে বসে ভেবেই চলেছেন।
এদিকে আফ্রিদি, কশকশ ও দানাশ রাজকুমারী বদর’কে তার শয্যায় শুইয়ে দিয়ে বিদায় নেয়। সকাল হয়। জানালা দিয়ে সূর্যের কিরণ চুপিচুপি ঘরে ঢুকে বদর-এর চোখে - মুখে পড়ে। ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে সে তাকায়। তার দিল খুশীর আমেজে ভরপুর। গতরাত্রেই জিন্দেগীতে প্রথম সে সম্ভোগসুখ লাভ করেছে। সুখের রেশটুকু যেন এখনও তার দিল থেকে কাটে নি। এবার সে সম্বিৎ ফিরে পেল। উদভ্রান্তের মত এদিক – ওদিক তাকাতে লাগল। চোখের মণি দুটোকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খুঁজতে লাগল তার প্রাণপুরুষকে। কই, সে তাে নেই। ঘরের দরজা বন্ধ। আশ্চর্য এ - ঘরে সে এসে ছিলই বা কি করে? আবার বেরিয়ে যাওয়াই বা কি করে সম্ভব হয় ? সে উন্মাদিনীর প্রায় আর্তনাদ করে ওঠে।
রাজকুমারী বদর-এর আর্তনাদ শুনে পরিচারিকারা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে। সবার চোখেই অজানা উৎকণ্ঠার ছাপ।
বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ পর্যন্ত বলার পর প্রাসাদের বাইরের বাগিচায় পাখীদের আনাগােনা লক্ষ্য করে বুঝলেন, ভাের হয়ে এল বলে। তিনি কিসসা বন্ধ করলেন।
এক শ' একানব্বইতম রজনী
রাত্রির অন্ধকার নেমে আসার কিছু পরেই বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম তার কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন-“জাহাপনা,
বদর-এর আর্তনাদ শুনে পরিচারিকারা ছুটে এল। বদর গর্জে উঠল—কালরাত্রে যে-নওজোয়ান আমার সঙ্গে শুয়েছিল সে কোথায় গিয়েছে? নিদ যাওয়ার সময়ও ছিল, এখন নেই, হাপিস হয়ে গেল? পরিচারিকারা তাে তার হম্বিতম্বি শুনে ডরে একেবারে জড়ােসড়াে হয়ে গেল। তারা সমস্বরে বলে উঠল—নওজোয়ান? কালরাত্রে? শােভন আল্লা! আপনার সঙ্গে নওজোয়ান শুয়েছিল? আপনি বােধহয় সুস্থ নেই!
—“ওসব বুজরুকি রাখ! কোথায় সে লেড়কা খুঁজে বের কর। নইলে এক এক করে আমি সবাইকে কোতল করব। বুড়ী বাঁদী সাহস করে বলে—“রাজকুমারী, মেহেরবানি করে চুপ করুন। এরকম অলক্ষুণে কথা মুখেও আনবেন না। খােদাতাল্লার এ কী বিচার! এ কী সর্বনাশ করলে তুমি! রাজকুমারী তাে কোনদিন সামান্যতম গুনাহও করেন নি। তবে কেন তার দিমাক এমন করে বরবাদ করে দিলে! এ কী বিচার তােমার! ছিঃ ছিঃ ছিঃ ! একথা সম্রাট যদি শােনেন তবে কী কেলেঙ্কারীটাই না হবে! মেহেরবানি করে চুপ করুন শাহজাদী।
—“আমি কোন কথাই শুনতে চাই না। কোথায় গেল আমার মেহেবুব, খুঁজে বের কর। যেখান থেকে পার তাকে বের করা চাইই। এতগুলাে লােক থাকতে এক তরতাজা নওজোয়ান প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে গেল, নজরেই পড়ল না কারাে! তাকে ছাড়া আমি একদিনও বাঁচব না। আমার জিন্দেগী বরবাদ হয়ে যাবে। রাজকুমারী বদ্ধ পাগলের মত ঘরময় দাপিয়ে বেড়াতে লাগল। দেয়াল থেকে তরবারি টেনে নিয়ে ছুঁড়ে মারল। নসীব ভাল যে, কারাে গায়ে লাগে নি।
রাজকুমারী বদর উন্মাদদশা প্রাপ্ত হয়েছে খবরটি দেখতে দেখতে প্রাসাদের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। সম্রাট ঘায়ুর-এর কানে যেতেও দেরী হ’ল না।
সম্রাট ঘায়ুর হারেমের দাসীবাদী সবাইকে তার কামরায় তলব করলেন। সবাই জান হাতে নিয়ে ছুটতে ছুটতে হাজির হ’ল সম্রাটের কামরার সামনে। সবাই যেন কোরবানির পশু।
সম্রাট দাসী বাদীদের মুখ থেকে সব বৃত্তান্ত শুনলেন। নিজের কানকেও যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এতবড় একটি দুঃসংবাদ বিশ্বাস করতে উৎসাহও তাে পাওয়ার না। মাত্র তাে একটি রাত্রি। এরই মধ্যে এতবড় একটি অঘটন কি করে ঘটতে পারে ভেবে কূলকিনারা পাওয়া যায় না। চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ এঁকে বুড়ি বাঁদী সম্রাটের কাছে নিবেদন করল—‘রাজকুমারী যে উন্মাদদশা প্রাপ্ত হয়েছে তাতে কিছুমাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই।
সম্রাট রােষপূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললেন-“তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে, কার সঙ্গে কি কথা বলছ আশা করি তােমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে না। আর তােমার মন্তব্য যদি মস্তিষ্কপ্রসূত হয়, সত্যতার লেশমাত্রও না থাকে তবে তােমার যে গর্দান যাবে আশাকরি তা-ও অনুমান করতে পারছ।”
সম্রাট মুহূর্তকাল নীরবে ভেবে বললেন—‘ভাল করে ভেবে বল তাে, এমন মারাত্মক একটি কাণ্ড কি করে ঘটল বলে তুমি মনে কর? আর রাজকুমারী বদর যা বলছে, তার সবটুকুই কি পাগলামি, না কি তার সঙ্গে অল্পবিস্তর'।
-“হুজুর, গােড়াতে অবশ্য আমারও সেরকমই মনে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে পরে কিছুটা অন্যরকম ধারণা করতেই হ'ল।
আহত শেরের মত বার কয়েক ঘরময় পায়চারি করে সম্রাট ঘায়ুর এক সময় বুড়ি বাঁদীর সামনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। দাঁতে দাঁত চেপে বললেন—“তুমি দেখেছ ? কি দেখেছ? তুমি কি করে বুঝলে যে, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে?
বুড়ি বাঁদী হাত কচলে নিবেদন করল—“হুজুর, রাজকুমারী নিদ থেকে জেগেই বিকট চীৎকার করে ওঠেন। আমি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে ছুটে যাই। তার গায়ে ছিল একটিমাত্র ফিনফিনে কামিজ। আর দেহের নিম্নাংশ একেবারেই নগ্ন থাকে। বিশ্বাস করুন হুজুর, তার উরুর দু'ধারে শুকনাে খুন আমি নিজে চোখে দেখে এসেছি। তার কাছ থেকে এরকম কোন ঘটনা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে কথাটি ছুঁড়ে দিয়েই বুড়ি বাঁদী মুখ নিচু করল। এবার কেটে কেটে ক্ষীণ কণ্ঠে বলল—“হুজুর, আপনি সম্রাট, এ-মুলুকের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আপনার কাছে মেয়েদের সব ব্যাপার স্যাপার কি খুলে বলা সম্ভব, বলুন? তবে এটুকু জানবেন, এ-ধরনের খুন ঝরার ব্যাপার স্বাভাবিক নয়। একমাত্র কোন পুরুষকে সঙ্গদান করলেই এরকমটি হতে পারে। আবার তা-ই বা বলি কি করে? চারদিকে সতর্ক প্রহরী। একটি পিপড়েরও প্রবেশ সম্ভব নয়। অপরিচিত কোন নওজোয়ানের তাে প্রশ্নই ওঠে না। কাণ্ডটি অবিশ্বাস্য তাে বটেই।
সম্রাট ঘায়ুর উন্মাদের মত ছুটতে ছুটতে অন্দর মহলে তার লেড়কি বদরের কামরায় গেলেন। লেড়কিকে আদর-সােহাগ করে বললেন—'বেটি, প্রাসাদের সবাই তােমাকে কেন্দ্র করে বহুৎ অপ্রীতিকর বাৎ রটিয়ে বেড়াচ্ছে।
—“কি? কি বলছে সবাই?
—বলছে, কালরাত্রে তােমার ঘরে নাকি কোন্ নওজোয়ান রাত্রি কাটিয়েছে? তুমি নাকি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে সহবাস করেছ এরকম আরও অনেক কিছু—আমি তাদের এক এক করে গর্দান নেব, নয় তাে শূলে চড়াব। কাউকে ছেড়ে কথা বলব না!'
—‘মিথ্যা? এক বর্ণও মিথ্যা নয়। আপনি তাে জানেনই আমি গত কাল পর্যন্ত ভয়ানক পুরুষ - বিদ্বেষী ছিলাম। আজ কিন্তু আমার মন থেকে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষটুকু নিঃশেষে মুছে গিয়ে তার পরিবর্তে আকর্ষণই সৃষ্টি হয়েছে। কালরাত্রে আমার মেহবুবকে আমার দেহ-দিল সর্বস্ব সমর্পণ করে দেউলিয়া হয়েছি। আমি এখন শাদী করতে রাজী। আপনি বন্দোবস্ত করুন। আমি একটি কথাই জানতে চাচ্ছি, তাকে যদি কালরাত্রে আমার কামরায় পাঠালেনই তবে আবার অন্ধকার কাটতে না কাটতেই কেন ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন?
সম্রাট চোখে-মুখে অবিশ্বাস ও আতঙ্কের ছাপ এঁকে লেড়কির মুখের দিকে তাকালেন। রাজকুমারী বদর ব’লে চলল —সে নওজোয়ানও কিন্তু আমাকে দিল সঁপে দিয়েছে। তর্জনি বাড়িয়ে ধরে এবার বললেন— নইলে সে কিছুতেই নিজের হাতের অঙ্গুরীয় আমাকে পরিয়ে দিত না।
সম্রাট চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবার বললেন—সবই খােদার মর্জি। খােদা যা ভাল বুঝেছেন করেছেন। তবে সবাই ঠিকই বলেছে, দেখছি। আমি পিতা। আমাকে তাে আর চুপ করে থাকলে চলবে না। বেটি, ওসব ব্যাপার আর মাথায় এনাে না। আমি সুচিকিৎসক ডাকছি। ভাল হেকিম বদ্যি আর দাওয়াই পড়লে শীঘ্রই তুমি সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
পিতার কথায় বদর মুহুর্তে ক্ষেপে একেবারে কাই হয়ে যায়। নিজের পােশাক ছিড়ে ফাতা ফাতা করতে থাকে, সমানে চুল ধরে এ টানতে থাকে। আর চোখ বড় বড় করে ঘরময় দাপিয়ে বেড়াতে থাকে।
সম্রাট ঘায়ুর আরও নিঃসন্দেহ হলেন, তার আদরের দুলালী একেবারেই উন্মাদদশা প্রাপ্ত হয়েছে। মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে মানুষ এরকমই কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
সম্রাট ঘায়ুর এবার দরজার কাছে গিয়ে পরিচারিকাদের ডাকলেন। তাদের ওপর কড়া নির্দেশ দিলেন—তাকে কোনক্রমেই ঘর থেকে বেরােতে দেবে না। জোর করে পালঙ্কের ওপর শুইয়ে রাখবে। প্রয়ােজনে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখবে। এবার সম্রাট ঘায়ুর বিষমুখে কামরা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। তার দিল থেকে শান্তি অন্তর্হিত হয়ে গেল। সর্বদা একই ভাবনায় তলিয়ে থাকেন, কেন লেড়কির এমন হালৎ হ’ল ? কি করেই বা তার রােগ নিরাময় হয়ে স্বাভাবিকতা ফিরে পেতে পারে?
সম্রাট ঘায়ুরের নির্দেশে রাজ্যের বড় বড় বদ্যি, হেকিম ও গণৎকাররা ছুটে এলেন।
সম্রাট তাদের উদ্দেশ্যে বললেন—তােমাদের মধ্যে যদি কেউ আমার একমাত্র লেড়কির রােগ নিরাময় করে তার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পার তবে প্রয়ােজনে তার হাতে আমার একমাত্র বেটিকে সম্প্রদান করতে রাজী আছি। আর কাজে হাত দিয়ে যদি ব্যর্থ হও তবে কিন্তু তার গর্দান নেব।'
হেকিম-বদ্যি ও গণৎকার যারা এসেছিল তারা সাহস করে আর কাজে হাত দিতে পারল না। কারণ, সিংহাসন লাভের চেয়ে গর্দান যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দিল।
সম্রাট ঘায়ুর-এর নির্দেশের কথা এবার তার রাজ্যের সর্বত্র প্রচার করে দেওয়া হল। ফলে নিজ দেশ ও অন্যান্য রাজ্য থেকে বহু হেকিম, বদ্যি ও গণকার সম্রাট ঘায়ুর-এর দরবারে ভিড় করতে লাগল। এক এক করে সবাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুখ ব্যাজার করে পিছিয়ে গেল। বেশী লাভ করতে গিয়ে যেচে গর্দান দিতে কে যাবে? আবার কেউ বা সাহসে ভর করে কাজে হাত দিল। পরিণামে নসীবে যা জোটার জুটল।
বুড়ি বাঁদীর এক বেটা ছিল। রাজকুমারী বদর-এর প্রায় সমবয়সী। বাল্যের দুরন্ত দিনগুলিতে তারা এক সঙ্গে খেলাধুলাও করেছে। পরবর্তীকালে সে বহুদেশ ঘুরে ঘুরে বহু যাদুবিদ্যা রপ্ত করেছে। মিশরীয় তন্ত্রমন্ত্রের ওপর তার খুবই দখল। তার নাম সারজাবন। দুনিয়ার বহু দেশ ঘুরে সে স্বদেশে ফিরে এসেছে। নগরে ঢােকার মুখেই এক জায়গায় প্রায় চল্লিশটি নরমুণ্ড দেখে সে থমকে যায়। বিস্ময় বােধ করে। একে-ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারল রাজকুমারী বদর-এর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। যারা চিকিৎসা শুরু করেছিল তারা ব্যর্থ হয়ে শর্ত অনুযায়ী প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। কারাে পক্ষেই তার রােগ নিরাময় করা সম্ভব হয় নি।
বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ-পর্যন্ত বলতে না বলতেই ভাের হয়ে গেল। বেগম এবার কিসসা বন্ধ করলেন।
একশ’ চুরানব্বইতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর শুরু হতেই বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম তার কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, সারজাবন ঘরে ফিরে তার আম্মার কাছে বদরের খােজ নিল। পথচারী লােকটি নরমুণ্ডুগুলাে সম্বন্ধে যা বলেছে তার আম্মাও একই কথা বলল । সারজাবন রাজকন্যার চিকিৎসা করার চিন্তা করল। তার আম্মার কাছে নিজের ইচ্ছার কথা বলতেই তার বুড়ি আম্মা চমকে ওঠে বলল—সে কী বেটা, যেচে গর্দান দিতে যাবে! ওসব চিন্তা ছাড়।
সারজাবন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নসীবে যা আছে হবে। সে একবারটি কোশিস করে দেখবে। তার পীড়াপীড়িতে তার আম্মা তাকে লেড়কিদের পােশাকে সজ্জিত করে গােপনে অন্দরমহলে নিয়ে গেল।
সারজাবন হারেমে ঢুকে, বদর-এর সামনে গিয়ে গা থেকে বােরখা ফেলে দিল। বােরখার তলায় করে সে একটি মােমবাতি ও কয়েকটি যাদুবিদ্যার পুঁথি নিয়ে এসেছে। সারজাবনকে দেখামাত্র রাজকুমারী বদর ছুটে এসে তার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে আবেগ-মধুর স্বরে বলে ওঠে—“ভাইয়া, কতদিন পর তােমার দেখা পেলাম। ওরা সবাই আমাকে পাগল ভাবে। পাগলের চিকিৎসাও করাচ্ছে। তুমি কিন্তু আমার প্রতি সেরকম কোন আচরণ কোরাে না।
—“ছিঃ, তুমি আমাকে অন্য দশজনের সমান ভাবতে পারছ বহিন! আমি তােমার কোন চিকিৎসা করতেই আসি নি। সত্যি তােমার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে কিনা নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্য শুধু তােমার একটি কোষ্ঠী তৈরি করব।
সারজাবন ও রাজকুমারী বদর পাশাপাশি বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। বদর সব বৃত্তান্ত বাল্যবন্ধু সারজাবন-এর কাছে খােলাখুলি বলল। এক সময় তার হাত দুটো চেপে ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—“আজ আমার এমন অবস্থা হয়েছে যে তাকে না পেলে আমার জান রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। জিন্দেগী বরবাদ হতে চলেছে। সারজাবন ধৈর্য ধরে সব কিছু শুনে বলল—“কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তােমার মনের মানুষকে কোথায় পাওয়া যাবে! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তােমার মুশকিল আশান আমি করতে পারব। আমার পেশার তাগিদে বহু দেশে, বহু রাজা বাদশার দরবারে আমার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। তবে হীরার অঙ্গুরীয়টি দেখে মনে হচ্ছে তােমার মনময়ুরটি যে-সে ঘরের লেড়কা নয়। আমি আগামী কালই আবার পথে নামছি। মুলুকে-মুলুকে ঢুঁড়ে বেড়াব। তােমার বর্ণিত নওজোয়ানের পাত্তা লাগাব। রাজকুমারী বদর-এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘরে ফিরল। সারজাবন তারপরদিনই দেশ ছেড়ে ভিনদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। কয়েকটি মুলুক ঘুরে সে সমুদ্রের নিকটবর্তী ‘তারার’ নামে এক নগরে উপস্থিত হ'ল। সারজাবন জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারল সেখানকার আদমিরা রাজকুমারী বদর-এর প্রসঙ্গে কিছু জানে না। তবে সে মুলুকের সুলতানের একমাত্র বেটা কামার অল-জামান-এর অবিশ্বাস্য-দুরারােগ্য ব্যাধির কথা তারা জানে। কৌতুহলী মন নিয়ে সারজাবন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কামার অল-জামান-এর ব্যাধির ব্যাপার সব জেনে নিল।
সারজাবন এ-ও জেনে নিল, কামার অল-জামান-এর আব্বাজীর নাম সুলতান শাহরিমান। তার সুলতানিয়তের নাম খালিদান। পায়ে হেঁটে গেলে পুরাে ছয় মাহিনা লাগে। আর সাগর পাড়ি দিয়ে গেলে এক মাহিনায়ই খালিদান-এ হাজির হওয়া সম্ভব। কামার অল-জামান ও বদর-এর কাহিনীর মধ্যে সে মিল খুঁজে পেল। সারজাবন একটি বড়সড় নৌকা নিয়ে খালিদানের উদ্দেশে যাত্রা করল। কিছু দূর যেতে না যেতেই প্রচণ্ড ঝড় উঠল। প্রথমে তার নৌকার পাল ছিড়ে টুকরাে টুকরাে হয়ে গেল। পর মুহুর্তেই পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নৌকাটাও গেল গুড়াে হয়ে। সারজাবন এবার উত্তাল-উদ্দাম সমুদ্রের বুকে সাঁতার কাটতে শুরু করল। খােদা মেহেরবান। একটি ভাসমান বয়া পেয়ে কোন রকমে সে জান বাঁচাল। নসীবের জোর না থাকলে এরকম যােগাযােগ হতে পারে না। এক সময় বয়াটি সুলতান শাহরিমান-এর প্রাসাদের কাছাকাছি ঘাটে এসে ভিড়ল। বয়ার ওপর প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সারজাবনকে পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন ধরাধরি করে তাকে পাড়ে তুলল। তারা তাকে উজিরের কাছে নিয়ে গেল। উজির বুঝল, ভিনদেশের মুসাফির। নির্ঘাৎ জাহাজ বা নৌকাডুবির ফলে এ-দুর্বিপাকে পড়েছে। এমন সময় ভাের হয়ে এল। বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
একশ’ ছিয়ানব্বইতম রজনী
রাত্রি একটু গভীর হলে বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, বৃদ্ধ উজির ভিনদেশী মুসাফির মেহমান নওজোয়ানটির প্রতি সদয় হ’ল। হেকিম ডেকে তার ইলাজ করাল। দু দিনেই সে সুস্থ হয়ে উঠল।
এক সকালে মেহমান সারজাবন উজিরের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে শাহজাদা কামার অল-জামান-এর খোঁজ করল। তার উন্মাদদশার কথা জিজ্ঞাসা করল। বৃদ্ধ উজির সবিস্ময়ে বলল —“তুমি শাহজাদার কথা শুনেছ?
—হ্যা। আমি তার ইলাজ করতে চাই। তবে দাওয়াই খাইয়ে নয়। ঝাড়ফুঁক তাবিজ কবজই আমার দাওয়াই। আমার তারিকা। উজির আশ্বাস পেল। বলল —এর আগে কিন্তু অনেকেই শাহজাদা কামার অল-জামান-এর ইলাজ করতে এসে প্রাণ দিয়েছে, জান?
‘তাও জানি। গােটা চল্লিশেক নরমুণ্ড তাে পথে দেখেই এসেছি।
—“তবে তুমি সবই জান দেখছি। মনের দিক থেকে একেবারে তৈরি। আর তােমার কথায় আমারও বিশ্বাস, তুমিই পারবে শাহজাদার রােগ নিরাময় করতে।
‘খােদা মেহেরবান। খােদার মর্জিতেই তােমার এখানে আসা সম্ভব হয়েছে বাপজান। নইলে সাগরের তুফান অগ্রাহ্য করে, প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কি করে তুমি এখানে এলে বেটা?
—সে যা-ই হোেক। আমাকে যে একবারটি শাহজাদা কামার অল-জামান-এর সঙ্গে দেখা করতে হবে।
—অবশ্যই। তুমি আগে সব বৃত্তান্ত শোন । আমাদের একমাত্র ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী, আমাদের একমাত্র বল ভরসা শাহজাদার তবিয়ৎ আচ্ছা হােক, আমাদের সবারই একমাত্র কাম্য।
উজির এবার আগন্তুক নওজোয়ান সারজাবন’কে শাহজাদার মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণ সবিস্তারে বলল ।
সারজাবন নিঃসন্দেহ হ’ল শাহজাদার সেরাত্রের নায়িকা, শয্যা সঙ্গিনী রাজকুমারী বদর ছাড়া কেউ নয়। কিন্তু উজিরকে তার মনের কথা কিছুই বুঝতে দিল না।
উজির বলল -বেটা, সব বৃত্তান্ত তাে শুনলে। এবার তােমার দিল কি বলছে, তুমি ইলাজ করে শাহজাদাকে কি সুস্থ করে তুলতে পারবে বলে মনে কর? ‘আমি খােদাতাল্লার ওপর ভরসা রাখি। তার দোয়া হলে হয়তাে আমার কোশিস বৃথা হবে না। আগে রােগীকে দেখি। তার বিমারির আস্থা বিবেচনা করি। তারপর আপনাকে বলব, আমার দ্বারা আপনাদের কোন উপকার হবে, কিনা। বলেছিই তাে দাওয়াইয়ে আমার ভরসা নেই। তাবিজ কবজ ব্যবহারে আশা করি শাহজাদা পূর্বের হালৎ ফিরে পাবে।
বৃদ্ধ উজির এবার সারজাবন’কে নিয়ে শাহজাদা কামার অলজামান-এর কামরায় গেল। বাদশাহ শাহরিমানও সেখানে হাজির হলেন।
শাহজাদাকে এক পলক দেখেই সারজাবন বিস্মিত হল। রাজকুমারী বদর-এর মুখে তার মেহবুবার চেহারার যে বিবরণ শুনেছে তার সঙ্গে এর চেহারার অবিকল মিল সে খুঁজে পাচ্ছে।
সারজাবন আশান্বিত হ’ল। শাহজাদা তাকে হেসে অভিনন্দন জানায়। নিজের পালঙ্ক দেখিয়ে বসতে বলে। সারজাবন এগিয়ে গিয়ে পালঙ্কে বসল।
সারজাবন বার কয়েক বাদশাহ ও উজিরের দিকে তাকাল।
তারা বুঝল, সে হয়ত রােগীর সঙ্গে গােপনে কিছু আলােচনা করতে চাইছে। তারা এক এক করে ঘর ছেড়ে গেল। •
সারজাবন এবার শাহজাদার দিকে এগিয়ে গিয়ে অনুচ্চ কণ্ঠে বলল —“শাহজাদা, আর ডর নেই দোস্ত। খােদাতাল্লার মর্জিতেই আমি তামাম দুনিয়া ঢুঁড়ে এখানে হাজির হয়েছি। আপনার মহব্বতের মেহবুবার পাত্তা আমার কাছে আছে।
শাহজাদা কামার অল-জামান তাকে সন্দেহের চোখে দেখল। ভাবল, নির্ঘাৎ কোন না কোন বদ মতলব নিয়ে এখানে হাজির হয়েছে।
সারজাবন তার মানসিক অবস্থার কথা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে বলল —“শুনুন শাহজাদা, আমার ওপর, আমার ইলাজের ব্যবস্থার ওপর যদি ভরসা রাখতে পারেন তবেই আপনার রােগমুক্তি সম্ভব। আগে আমার বাৎ সব শুনুন, তারপর যদি ভরসা হয় আপনি যা বলবেন তাই হবে।
শাহজাদা কামার অল-জামান মুচকি হেসে বললেন—“ঠিক আছে, তােমার বক্তব্য আগে শুনি। তারপর না হয় আমার মতামত ব্যক্ত করব।
সারজাবন এবার বলল —“আপনি যার চিন্তায় ব্যাকুল যাকে নিয়ে ওই বিশেষ রাত্রে সহবাস করেছিলেন, তার নাম বদর। রাজকুমারী বদর। সম্রাট ঘায়ুর-এর লেড়কি বদর। ঘায়ুর খালিদানের সম্রাট। সে আমার বহিনের মত। বাল্যকাল থেকে আমরা এক সঙ্গে মানুষ হই। এখনও আমাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক অব্যাহত।
শাহজাদা কামার অল-জামান এবার আগন্তুক নওজোয়ান সারজাবনকে হিতাকাঙক্ষী বলে মেনে নেয়। দিল থেকে তাকে দোস্ত বলে স্বীকার করে নেয়।
সারজাবন বলল—শাহজাদা, সব বৃত্তান্তই তাে শুনলেন। এবার আমি যদি বলি আপনার এ-বিমারি শরীর বা দিমাকের বিমারি নয়- বিলকুল দিলের ব্যাপার। পেয়ার মহব্বতের বিমারি। এ বিমারি তে দাওয়াই বা তাবিজ-কবজে সারার নয়। এর একমাত্র ইলাজ হচ্ছে—
তার মুখের কথা শেষ হবার আগেই শাহজাদা কামার অল জামান বলে উঠল—“তুমি আজ থেকে আমার দোস্ত হলে। এবার বল, কি করে আমি আমার মেহবুবার দেখা পাব? তার সঙ্গে আমার মােলাকাৎ হতে পারে? তুমি আমাকে তার কাছে নিয়ে চল।।
—“নিয়ে যাব। মােলাকাৎ করিয়ে দেবার কোশিস আমি অবশ্যই করব। কিন্তু দোস্ত, সে-মুলুক তাে আর হাতের নাগালের মধ্যে নয়। বহু দূর। দরিয়া পেরিয়ে তবে সম্রাট ঘায়ুর-এর মুলুকে যেতে হয়। তুমি সেখানে গেলে উভয়ে—তুমি নিজে এবং রাজকুমারী বদর-ও সুস্থ হয়ে উঠবে। দু’ দুটো নওজোয়ানের জান রক্ষা হবে।
এমন সময় প্রাসাদ সংলগ্ন বাগিচায় পাখীর কলরব শুনে বুঝলেন ভাের হতে আর দেরী নেই। তিনি কিসসা বন্ধ করলেন।
একশ’ নিরানব্বইতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় যামে বাদশাহ শারিয়ার বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় প্রবেশ করলেন। বেগম তার কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করলেন—জাহাপনা, শাহজাদা কামার অল-জামান রাজকুমারী বদর-এর সান্নিধ্যলাভের জন্য চঞ্চল হয়ে উঠল।
এমন সময় সুলতান শাহরিমান আচমকা ঘরে ঢুকলেন। চৌকাঠ ডিঙিয়েই তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। দেখলেন, তার লেড়কা হেসে হেসে আগন্তুক নওজোয়ানের সঙ্গে কথা বলছে। সুলতানের বুকে যেন অকস্মাৎ খুশীর তুফান বয়ে গেল। দীর্ঘদিন পর লেড়কার মুখে এরকম অনাবিল হাসি দেখলে তাে খুশীতে ডগমগ হওয়ারই কথা।
এবার যেন নতুন করে সুলতান শাহরিমান দেহে জীবনীশক্তি ফিরে পেলেন। তার প্রাসাদে দরবার কক্ষে আবার আগেকার সেই হাসি-আনন্দের জোয়ার বয়ে চল্ল। তিনি মূল্যবান পােশাক আশাক হীরা-জহরৎ প্রভৃতি উপহারদানে আগন্তুক নওজোয়ান সারজাবনকে পুরস্কৃত করলেন।
সুলতান বিদায় নিলে শাহজাদা কামার অল-জামান এবার সারজাবন-এর হাত দুটো চেপে ধরে আবেগের সঙ্গে বলল-“দোস্ত মেহবুবাকে না দেখে আমার পক্ষে আর একটি দিনও জান টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এখন বাতলাও কি করে আমি আমার কলিজার সমান মেহবুবা বদর’কে কাছে পেতে পারি? কয়েক মুহূর্ত নীরবতার মধ্য দিয়ে ভেবে নিয়ে সারজাবন বলল —'দোস্ত, একটি ফিকির করলে তােমার বাসনা পূর্ণ হতে পারে। সুলতান’কে বল, আমরা দু'জন কয়েক দিনের জন্য শিকারে যাব। এতে অবশ্য তােমাকে একটু ঝুট বাৎ বলতে হবে। তবে এতবড় একটি কাজ হাসিলের জন্য ছােট খাটো ঝুট বাৎ বললে গুনাহ তেমন কিছু হবে না। ব্যস, তারপরই আমরা হাজির হ'ব তােমার জান, তােমার কলিজা, তােমার মেহবুবা রাজকুমারী বদরএর দরবারে।
ব্যবস্থাটি শাহজাদা কামার অল-জামান-এর খুবই দিলে ধরল। এক কথাতেই রাজী হয়ে গেল। শাহজাদা কামার অল-জামান তার সদ্য পাতানাে দোস্ত সারজাবন’কে নিয়ে শিকারে যাবার নাম করে যাত্রা করল। বাদশাহ শাহরিমান সঙ্গে কয়েকজনও দিয়ে দিলেন।
দু’টি তাগড়াই ঘােড়ায় চেপে শাহজাদা কামার অল জামান ও সারজাবন যাত্রা করল। তাদের সঙ্গী সাথীরাও গােড়ার পিঠে চাপল।
সারাদিন ঘােড়ার পিঠে কাটিয়ে তারা হাজির হ’ল এক গভীর জঙ্গলে। সেখানে তাবু খাটানাে হল। গভীর রাত্রে তাদের সঙ্গী সাথীরা যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন সারজাবন ও শাহজাদা জামান ঘােড়া নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তারা দু'জনে দুটো ঘােড়ায় চাপল। আর সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ঘােড়া নিয়ে নিল। অতিরিক্ত ঘােড়াটির পিঠে একটি বাক্স। তার মধ্যে উভয়ের সাজ পােশাক ও সােনার মােহর। কিছু খানাপিনাও আছে। কিছুদূর গিয়ে সারজাবন একটি গাছের তলায় শাহজাদা জামানকে রেখে অতিরিক্ত ঘােড়াটি ও জামান-এর এক প্রস্ত পােশাক নিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে গেল। জামান তার উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে নীরবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ বাদে সারজাবন ফিরে এল। তার হাতে জামান-এর পােশাক। খুন লাগানাে। খুনে একেবারে জবজবে। অতিরিক্ত যে ঘােড়াটিকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল সেটিকে জবাই করে তার খুন পােশাকে মাখিয়ে নিয়ে এসেছে। এবার খুন মাখানাে পােশাকগুলি এক চৌরাস্তার ধারে ফেলে রাখল। পরে কেউ শাহজাদা জামানকে খুঁজতে এসে এগুলাে দেখেই ধরে নেবে হয় তাকে কেউ খুন ( চলবে ) ।

0 Comments