গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ
এবার জিনি মাইমুনাহ শাহজাদার দিকে দৃষ্টি ফেরাল। উভয়কে পাশাপাশি রেখে বিচার করল। একসময় মুখ খুলল—‘দানাশ ঝুটবাৎ বলে নি। আমার শাহজাদা থেকে তার শাহজাদীর সুরৎ কোন অংশে কমা নয়।
এবার আফ্রিদি দৈত্য দানাশ-এর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে জিনি মাহমুনাহ বলল—‘শােন,তুমি যে বলেছিলে আমার শাহজাদার সুরত তােমার শাহজাদীর সুরতের চেয়ে ঢের—ঢের বেশী, তা কিন্তু ঠিক নয়। নওজোয়ানদের সুরতের বিচার হয় কি দিয়ে ? দেখতে হবে তাদের দেহের কোথাও আদৌ মেয়েলী ছাপ আছে কিনা। অবশ্যই স্বীকার করবে আমার শাহজাদা একেবারেই নিখুঁত! আর লেড়কির সুরতের বিচার হয় তার শরীরের কামের ছাপের মাধ্যমে। তােমার শাহজাদী বদরকে আমি কেন খুবসুরৎ বলছি, জান ? এর নিটোল ও যুগল, সরু কোমর, মেদহীন তলপেট আর তুলতুলে প্রশস্ত নিতম্ব যা কিছু পুরুষের মধ্যে কাম-পিপাসা জাগিয়ে তােলে সবই এর দেহে যথাযথ উপস্থিত। কিন্তু আমি ফিন বলব, আমার শাহজাদা কামার অল-জামানই উভয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
–কেন ঝুটমুট জাদা বাৎ বলছ? আমি তাে মেনেই নিচ্ছি, তােমার শাহজাদা কামার অল-জামান-এর সুরতই বেশী আকর্ষণীয়।
জিনি মাইমুনাহ খেকিয়ে ওঠে—শাহজাদা কামার অল-জামান এর সুরৎ-ই বেশী আকর্ষণীয়—এতক্ষণ কোথায় ছিল তােমার এরকম মিঠা মিঠা বাৎ। গর্দানে এমন এক রদ্দা মারব, জিন্দেগী বরবাদ হয়ে যাবে।'
আফ্রিদি দানাশ ভীত-সন্ত্রস্ত মুখে, কাপা কাপা গলায় কোনরকমে উচ্চারণ করল—সুন্দরী, আমার ওপর তােমার কেন যে এমন গােসসা, বুঝছিনা! আমি তাে তােমার কাছে সেই তখন থেকে মাফি মাঙছি। আমি ফিন বলছি, তােমার শাহজাদার সুরৎ-ই বেশী। আর আমার শাহজাদীকে দ্বিতীয় স্থানে রাখছি। এবার একটু হাস তাে দেখি। সেই কখন থেকে মুখ ব্যাজার করে রেখেছ। দেখে আমার কলিজার ধুকপুকানি কিছুতেই থামছে না।'
এমন সময় প্রাসাদ সংলগ্ন বাগিচায় পাখিদের কিচির মিচির শুনে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
একশ’ বিরাশিতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর শুরু হওয়ার পূর্বমুহূর্তে বাদশাহ শারিয়ার অন্দর মহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, আফ্রিদি দৈত্য দানাশ করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলেও জিনি মাইমুনাহর গােসসা একেবারে কমল না। সে রাগে গস গস করতে করতে বলল—তুমি কি সাধে এমন নরম হয়েছ? আসলে গর্দান বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়েছ।
জিনি মাইমুনাহ ব্যাপারটিকে আর বেশীদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহী হ’ল না। কারণ, ধস্তাধস্তি তাে দূরের কথা একটু গলা চড়িয়ে কথা বললেই তাদের নিদ টুটে যেতে পারে। জিনি মাইমুনাহ এবার অপেক্ষাকৃত নরম স্বরে বলল-“দানাশ, এখন-কি বলছি ধৈর্য ধরে শােন। আমরা কিন্তু কেউ-ই স্বেচ্ছায় নিজ নিজ জায়গা থেকে নড়তে রাজী নই। তাই আমাদের বিতর্কের মীমাংসা করার জন্য তৃতীয় পক্ষের মতামত একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। এর ফয়সালা করতে হলে অন্য কাউকে নিয়ে আসতে হবে।
-বহুৎ আচ্ছা! তােমার দিল যাকে চায়, ডেকে নিয়ে এসাে।' আফ্রিদি দৈত্য দানাশ-এর মুখের কথা শেষ হতে না হতেই জিনি মাইমুনাহ উপুড় হয়ে তর্জনি দিয়ে মেঝেতে তিনবার টোকা দিতেই ভয়াল দর্শন এক দৈত্য আবির্ভূত হ’ল। এক পলকে তাকে একটু দেখামাত্রই কলিজা শুকিয়ে একেবারে কাঠ হয়ে যায়। তার দেহটি যেমন বিশাল তেমনি মাথায় ইয়া লম্বা লম্বা ছয়টি শিং। এক একটির দৈর্ঘ্য চার হাজার চারশ’ আশি হাত। আর পিছনে গাঁইতির মত বাকানাে একটি অঙ্গ। দেখলেই বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করতে থাকে। শুধু কি এ-ই? তাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে তার পিঠের কুঁজটি। এত বড় ও কদর্য কুঁজ কারাে থাকতে পারে বিশ্বাস করতেই উৎসাহ পাওয়া যায় না। একেবারে নিখুঁত বৃত্তাকার দুটো ইয়া বড় বড় চোখ। দু’চোখের নিচে যেখানে নাক থাকে সে জায়গাটি একেবারেই ল্যাপাপোছা। নাক বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। আরও আছে। দৈত্যটিকে আরও বেশী করে কদাকার করে তুলেছে তার খােড়া, বাকাচোরা পা টি। আর তার বাহুর দৈর্ঘ্যের পরিমাপ দিতে গিয়ে নিজেরই বুকে ধুকপুকানি শুরু হয়ে যায় জাহাপনা। একটি হাতের দৈর্ঘ্য পাঁচ হাজার পাঁচ শ পঞ্চাশ হাত। আর দ্বিতীয়টি? বড় জোর এক বিঘৎ দীর্ঘ। কিম্ভুতকিমাকার দৈত্যটির নাম কশকশ ইবফকরাশ ইবআত্রাশ। আবু জানফাশ-এর বংশধর বলে তাকে সবাই জানে।
ইবন-আত্রাশ আবির্ভূত হতেই জিনি মাইমুনাহ মুচকি হেসে তার কুশলবার্তাদি নিল। ইবন-আত্রাশ করজোড়ে বলল—“আমার প্রতি কি হুকুম মেহেরবানি করে বলুন। ‘শােন, ইবন-আত্রাশ, হতচ্ছাড়া দানাশ-এর সঙ্গে আমার বিবাদ দেখা দিয়েছে। তােমাকে আমাদের বিবাদের মীমাংসা করার জন্য কষ্ট দিয়ে তলব করে নিয়ে এসেছি। তােমাকে বলতে হবে, ওই যে পালঙ্কের ওপর শাহজাদা আর শাহজাদী গভীর নিদে আচ্ছন্ন তাদের মধ্যে কার সুরৎ সবচেয়ে বেশী? এখন তােমার প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে, উভয়কে ভালভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা, নিজের দিলের সঙ্গে বােঝাপড়া করা, তারপর তােমার মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলবে এদের মধ্যে কার সুরৎ সবচেয়ে বেশী।
দৈত্য কশকশ মহাফাপরে পড়ল। শ্যাম রাখে না কুল রাখে?
শাহজাদা কামার অল-জামান-এর সুরৎ সবচেয়ে বেশী যদি বলা যায় তবে দৈত্য দানাশ-এর গাল ফুলবে--ক্ষুব্ধ হবে। আর যদি শাহজাদী বদর-এর সরৎ-ই বেশী বলা যায় তবে আর রক্ষা নেই। জিনি মাইমুনাহ কিলিয়ে মেরুদণ্ড একেবারে গুড়াে গুঁড়াে করে ছাড়বে।
কয়েক মুহূর্ত ইয়া ডাগর ডাগর চোখের মণি দুটো নাচিয়ে শাহজাদা ও শাহজাদীকে নিরীক্ষণ করে অসহায়ভাবে দৈত্য কশকশ এবার আমতা আমতা করে বলল-“কী ঝকমারীতেই না আমাকে ফেললে! আমার চোখে তাে দু'জনের সুরতই সমান মনে হচ্ছে।'
–এ কিন্তু তােমার পিঠ বাঁচাবার ফিকির বের করেছ কশকশ উভয়েই খুবসুরৎ, বহুৎ আচ্ছা বাৎ। কিন্তু উনিশ-বিশ তাে হতেই হবে। আরও আচ্ছা করে নিরীক্ষণ করে—
তাকে কথাটি শেষ করতে না দিয়ে দৈত্য কশকশ বলল পেয়েছি! বহুৎ আচ্ছা এক ফিকির আমার মাথায় এসেছে। আমি শাহজাদী বদর-এর গুণগান করে একটি শায়ের শােনাতে চাচ্ছি।'
-ধুৎ! ধানাইপানাই রাখ! তােমার শায়ের টায়ের শােনার মত সময় বা ধৈর্য কোনটিই আমার নেই। যা বলার ঝটপট সাফসাফ বল কশকশ ।'
—'তবে আর একটি ফন্দি বাৎলাচ্ছি। আমরা তিনজনই বাতাসে মিলিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাই। ভাের হােক। এরা দু'জনই জেগে উঠুক। একে অন্যকে দেখুক। আমরা নজর রাখব, কে, কার সুরৎ দেখে বেশী মুগ্ধ হয়েছে। যদি দেখা যায় লেড়কিটি লেড়কার সুরৎ দেখে মুগ্ধ, পাগলের মত ছটফট করছে তবে বােঝা যাবে লেড়কার সুরৎ বেশী। আর যদি দেখা যায় লেড়কিটিকে দেখার পর থেকে লেড়কাটির মধ্যে অস্থিরতা ভর করেছে তখন কিন্তু স্বীকার না করে উপায় থাকবে না যে, লেড়কিটির সুরতই সবচেয়ে বেশী। কী মতলবটি পছন্দ হচ্ছে?
বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ-পর্যন্ত বলার পর প্রাসাদসংলগ্ন বাগিচায় ভােরের প্রস্তুতি চলতে দেখা গেল। শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।
এক শ’ তিরাশিতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় যামে বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম অত্যুগ্র আগ্রহের সঙ্গে তাকে আলিঙ্গন করলেন। বাদশাহ ধীরে ধীরে তার ওষ্ঠদ্বয় বেগমের ওষ্ঠদ্বয়ের কাছাকাছি নামিয়ে আনলেন। আচমকা দুনিয়াজাদ-এর চোখে চোখ পড়তেই নিজেকে সামলে নিলেন। বেগম বুঝলেন, দুনিয়াজাদই বাদশাহের এভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কারণ। তিনি মৃদু ধমকের স্বরে বললেন—“মুখপুড়ী কিছুক্ষণ পিছন ফিরে শােয়া যায় না! কিসসা বললে তাে আর মনে মনে বলব না। তখন তাে আমিই তােকে এদিকে ফিরতে বলব।'
শাহরাজাদ-এর বাৎ শেষ হবার আগেই কিশােরী দুনিয়াজাদ পিছন ফিরে শুয়ে জিভ দিয়ে বার বার চেটে শুকিয়ে যাওয়া ঠোটদুটোকে ভিজিয়ে নিতে লাগল।
বেগম শাহরাজাদ এদিকে বাদশাহ শারিয়ার-এর সুপ্রশস্ত বুকের নিচে একটু একটু করে হারিয়ে যেতে লাগলেন।
কিশােরী দুনিয়াজাদ পিছন ফিরে শুয়ে কেবল অস্ফুট স্বর, মৃদু কম্পন আর ঘন ঘন শ্বাসক্রিয়ার শব্দ প্রভৃতিকে জুড়ে জুড়ে পুরাে ব্যাপারটি সম্বন্ধে একটি পরিপূর্ণ ধারণা করে নিল। তারপর কয়েক মুহূর্ত কারাে মুখে কোন কথা নেই। নির্বাক-নিস্তব্ধ। কেবল থেকে থেকে শ্বাসক্রিয়ার অস্পষ্ট শব্দ নিরবচ্ছিন্ন নীরবতাকে ভঙ্গ করতে লাগল।
এক সময় বেগম শাহরাজাদ স্বাভাবিকতা ফিরে পেয়ে গত রাত্রে কিসসাটি যেখানে বন্ধ করেছিলেন তারপর থেকে শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, কশকশ-এর বাৎ শুনে জিনি মাইমুনাহ উচ্ছসিত আবেগের সঙ্গে বলে উঠল-‘বেড়ে মতলব!, এতক্ষণ তবে ন্যাকাবােকার মত আমতা আমতা করছিলে কেন, বল তাে? এবার কশকশ-এর পরামর্শমত জিনি মাইমুনাহ, আফ্রিদি দৈত্য দানাশ এবং দৈত্য কৰ্কশ স্বয়ং মাছির রূপ ধারণ করল। দানাশ পালঙ্কের অদূরে এক গােপন স্থানে ঘাপটি মেরে বসে রইল। আর অন্য দু'জন কামরা থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ বাদে শাহজাদা কামার অল-জামান ঘুমের ঘােরে ডান-হাতটি ঘাড়ের কাছে তুলে নিল। বার কয়েক ঘাড়ে আলতাে ভাবে হাত বুলিয়ে নিল। এবার সেটিকে পালঙ্কের ওপর ছড়িয়ে দিল। কিন্তু হাতটি বিছানার ওপরে পড়ার জো নেই। বিছানা তাে আর শূন্য নয়। শাহজাদী বদর বিবস্ত্র হয়ে এলিয়ে পড়ে ঘুমে আচ্ছন্ন। যে-হাতটিকে কামার অল-জামান বিছানার ওপর রাখতে চেষ্টা করল আদতে সেটি গিয়ে আশ্রয় নিল পূর্ণ যৌবনা বদর-এর কুসুম-কোমল দুই উরুর ফাঁকে। কেমন অস্বাভাবিক মনে হ’ল। নিদ চটে গেল। আচমকা চোখ মেলে তাকাল। আবছা অন্ধকারে ঘাড় ঘুরিয়েই বিবস্ত্রা ঘুমন্ত বদরকে দেখেই তার চোখ দুটো যেন যন্ত্রচালিতের মত বন্ধ হয়ে গেল। আপন মনে বলে উঠল-শােভন আল্লাহ! একী তাজ্জব কী বাৎ! আমাকে এ কোন নরকে এনে ফেলেছে! একী বাস্তব, নাকি খােয়াব দেখছে সে! চোখ দুটো বন্ধ রেখেই সে আবার হাতটিকে আস্তে আস্তে সচল করল। এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। উদ্দেশ্য সত্যিই কেউ তার পাশে বিবস্ত্রা হয়ে শুয়ে রয়েছে কিনা। সামান্য এগােতেই আচমকা তার হাতটি থেমে গেল। নরম! অস্বাভাবিক নরম। কবােষ্ণও বটে। এটি বিবস্ত্রা লেড়কির দেহের কোন অংশ? হ্যা, একটু আগে তাে তার হাতটি এর কাছাকাছিই অবস্থান করছিল। কী তুল তুলে নরম! কী মােলায়েম! তবে কি এটি খুবসুরৎ লেড়কিটির উরুদেশই বটে! হ্যা, ধারণা অভ্রান্ত। এবার নিজের নাকটিকে তারদিকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেল। লম্বা লম্বা শ্বাস টানল। আপন মনে বলে উঠল—আর কী চমৎকার খুসবু! খুসবুতে বাতাস ম ম করছে। শাহজাদা কামার অল-জামান আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না। ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল। দেখল, তার পাশে, মাত্র হাত খানেক দূরে এক খুবসুরৎ বিবস্ত্রা লেড়কি ঘুমে বিভাের। সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। সত্যি লেড়কিটির সুরৎ আকর্ষণীয়। তার মনমৌজী রূপ চোখ দুটোকে যেন শক্তিশালী চুম্বকের মত আকর্ষণ করছে। কোন যুবতীর দেহে, সালােয়ার কামিজ আর বােরখার আড়ালে যে এমন রূপের অতলান্ত সাগর লুকিয়ে থাকতে পারে তা সে কল্পনাও করতে পারে নি কোনদিন। পরমুহুর্তেই কামার অল-জামান যেন আচমকা সম্বিৎ ফিরে পেল। এক বিবস্ত্রা সুরতের আকরকে পাশে নিয়ে শােয়া তাে দূরের কথা তার দিকে তাকানােও যে রীতিমত গুণাহ। এ গুণাহের মাফ নেই। দোজকেও স্থান হবে না। কিন্তু কামার অল-জামান কতক্ষণ নিজেকে সংযত রাখবে। কৌতূহল! কৌতূহলের শিকার হয়ে সে চিৎ হয়ে শুয়ে থেকেই আড় চোখে বিবস্ত্রা কুমারী বদরের যৌবনের জোয়ার লাগা সুরৎ নিরীক্ষণ করতে লাগল। আগুন! হ্যা, সুরতের আগুনই বটে। আগুনের সংস্পর্শে ঘি তাের দূরের কথা লােহা পর্যন্ত গলে পানি হয়ে যায়। কামার অল-জামান-এর কৌতুহলী চোখের মণি দুটো বিবস্ত্রা সুরতের আকর কুমারী বদর-এর আধ-ফোটা পদ্মের মত মুখটিকে, আপেল-রাঙা গাল দুটোকে, পদ্মের পাঁপডির মত ওষ্ঠদ্বয়কে দীর্ঘ সময় ধরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। ক্রমেই তার চোখের মণি দুটো চঞ্চল হয়ে পড়তে লাগল। মুখাবয়ব থেকে এবার চোখের মণি দুটো নেমে এল চিবুক বেয়ে গলায়। এখানেও এক নতুনতর সৌন্দর্য তার চোখে ধরা পড়ল। তারপর? তারপর আরও সামান্য নেমে তার দৃষ্টি একেবারে স্থির হয়ে গেল। আচমকা এক অভাবনীয় ও অনাস্বাদিত শিহরণ তার শিরা উপশিরায় অনুভব করল। তামাম দুনিয়ায় যা কিছু খুবসুরৎ বলে বিবেচিত হয় তারা এর বুকের কাছে এসে ম্লান হয়ে যাবে। দুনিয়ার কোথাও এমন অবর্ণনীয় সুরৎ লুকিয়ে থাকতে পারে এর আগে সে খােয়াবের মধ্যেও কোনদিন ভাবতে পারে নি।
কামার অল-জামান কেমন এক অবর্ণনীয় উত্তেজনার জোয়ারে তলিয়ে যেতে লাগল। খুনের গতি ক্রমেই দ্রুততর হচ্ছে। বুকের মধ্যে কলিজাটি উথালি পাথালি শুরু করে দিয়েছে। আর মনে লেগেছে মাতন। এ কী মহা দায়! এ কী জ্বালা! এ কী অবর্ণনীয় অস্বস্তি! তার সর্বাঙ্গ ঘামে জবজবে হয়ে গেল। কাপা কাপা ডানহাতটিকে সে ঘুমন্ত সুরতের আকর বদর-এর দিকে এগিয়ে দিল। রাখল তার গায়ে। এবার আপনা থেকেই সেটি চঞ্চল হয়ে উঠল। তার বিবস্ত্রা দেহের আনাচে কানাচে হাতটি বার বার চক্কর খেতে লাগল। কী যে এক অনাস্বাদিত আনন্দে পুলকে তার দিল চঞ্চল থেকে চঞ্চলতর হয়ে পড়তে লাগল তা অপরকে বুঝিয়ে বলা যায় না। এ হচ্ছে পুরােপুরি উপলব্ধির ব্যাপার। আত্মমগ্ন হয়ে নিঃশব্দে উপভােগ করার ব্যাপার।
কামার অল-জামান এতদিন জৈবিক প্রবৃত্তিকে যৌবনের ক্ষুধাকে নিষ্ঠুরতার সঙ্গে অস্বীকার করেছে। নিজেকে করেছে, পীড়িত মর্মাহত। আজ তার যৌবন-ক্ষুধা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সুতীব্র প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে। আজ তাকে রােধ করবে তার সাধ্য কি?
কামার অল-জামান মুহূর্তে মনস্থির করে ফেলে—আর ঝুটমুট আত্মপীডন নয়। শরীর আর দিল আজ এককাট্টা হয়ে গেছে। উভয়ের চাহিদা একই।
কামার অল-জামান-এর দিল তার হাত দুটোর ওপর থেকে কর্তৃত্ব উঠিয়ে নিল। পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিল। ব্যস, হাত দুটো এবার যেন ক্ষুধার্ত শেরের থাবার মত রূপসী কুমারী বদরের স্তন দুটোকে আঁকড়ে ধরল। তারপর? তারপর নিজের অজান্তে সে অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠল—ইয়া খােদা, এত শান্তি-সুখ তােমার সৃষ্ট লেড়কিদের দেহে রয়েছে আগে তাে বুঝি নি! এত্ত সুখ যে সহ্য করা যায় না! নিরবচ্ছিন্ন সুখ তার মধ্যে উন্মাদনার সঞ্চার করল। খুনে তার মাতন লাগে। তার নিটোল স্তন দুটোর ওপর নিজের বুকটিকে অস্থিরভাবে ঘষতে লাগল। মেদহীন তলপেটে অলস অবশ হাতটিকে বার বার বুলাতে লাগল। রােমাঞ্চ...শিহরণ...পুলকানন্দ!
কামার অল-জামান এবার যেন সম্বিৎ ফিরে পেল। এ কী অসম্ভব ব্যাপার! কারাে কারাে ঘুম খুবই গাঢ় হতে পারে বটে। তাই বলে এরকমটি তাে ভাবা যায় না। কারাে বিবস্ত্রা দেহটিকে নিয়ে যদি এমন করে নাড়াচাড়া করা যায়, দলন ও পেষণ করা যায় তবে কতক্ষণ আর সে ঘুমের দাসত্ব করতে পারে? তবে? তবে কি দৈত্য দানাশ তার ওপর তুকতাক যাদুমন্ত্র করে দিয়ে গেছ? হ্যা, এ-ই সত্য হতে পারে বটে।
শতচেষ্টা করেও কামার অল-জামান তার নিদ ভাঙাতে পারল না। নিজের কাজের জন্য নিজেকে ধিক্কার দিল। ছিঃ, এ আমি করছি কি? এক রূপসী যুবতীর সদ্য প্রস্ফুটিত কমলের খুসবু আমাকে তস্করের মত লুকিয়ে লুকিয়ে তার অজান্তে গ্রহণ করতে হ’ল। আল্লাহ, আমার গােস্তকি মাফ করে দাও। যৌবনের জ্বালা, কামের আগুনের তেজে যে এত প্রকট হতে পারে সে খােয়াবের মধ্যেও কোনদিন ভাবে নি।।
এদিকে কামরার বাইরে, জানালার পৈঠায় মাছির রূপ ধরে বসে দৈত্য দানাশ এবং জিনি মাইমুনাহ-এর প্রতিটি মুহূর্তের কাজের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে। আবার দৈত্য কশকশ তাে ঘরের মধ্যেই অবস্থান করছে তার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালন করতে। অনুসন্ধিৎসু তার দৃষ্টি।
এমন সময় ভাের হয়ে আসছে বুঝতে পেরে বেগম শাহরাজাদ তার কিসসা বন্ধ করলেন।
পরদিন সন্ধ্যার কিছু পরই বাদশাহ শারিয়ার কিসসা শােনার অত্যুগ্র আগ্রহ নিয়ে অন্দর মহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কোনরকম ভূমিকার অবতারণা না করেই সরাসরি কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করলেন। তিনি বললেন—জাহাপনা, শাহজাদী বদর বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎ হয়ে হাত পা ছড়িয়ে শুয়েছিল।
কামার অল-জামান কামজ্বালা সইতে না পেরে বদরকে জড়িয়ে ধরে নিজের দিকে ফেরাতে যাবে ঠিক তখনই একটি কথা তার দিলের কোণে উকি মারল থমকে গেল। যন্ত্রচালিতের মত হাতটিকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও টেনে নিল বদর-এর দেহের ওপর থেকে।
কামার অল-জামান আপন মনে বলে উঠল—হায় আল্লাহ! এখন আমার কাছে ব্যাপারটি পরিষ্কার হ’ল। এসব আমার আব্বাজীর কারসাজি! তিনিই ফন্দি-ফিকির করে এ-খুবসুরৎ লেড়কিটিকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি আমার দিলকে শাদীর দিকে ফেরাতে চান। শাদী করে আমি যাতে অন্য দশজনের মত ঘর সংসার করি এটি তার একান্ত ইচ্ছা। এ ফিকির একই উদ্দেশ্যে। আর তিনি নির্ঘাৎ দরজা বা দেয়ালের ছিদ্রে চোখ রেখে আমার মানসিক অবস্থার ক্রম পরিবর্তনটুকুর ওপর কড়া নজর রেখে চলেছেন। কাল সকালে যদি আমায় তিনি প্রশ্ন করেন, দোজকের কীট নিয়ে কে কামােন্মাদনায় লিপ্ত হয়েছিল? কে-ই বা তার যৌবনের জোয়ারলাগা দেহটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে উপভােগ করেছিল? তখন? তখন তার কথার কি জবাব দেব? জীবন, আদর্শ, নারীর ছলনাময়ী সুরৎ আর চোখ ধাঁধানাে সুরতের আড়ালে তাদের কুৎসিৎ কদাকার দিল লুকিয়ে থাকে—এ সব বড় বড় বাৎ যে আগে ঝেড়ে রেখেছি, এখন তার কি জবাব দেব। আর কোনদিন আদর্শ, ন্যায়নীতি প্রভৃতির কথা মুখে আনতে পারব আমি? না, অসম্ভব! আমার আব্বাজী, যিনি আমাকে পয়দা করেছেন তিনি আমাকে মিথ্যাবাদী, প্রবঞ্চক ভাববেন, আমি কল্পনাও করতে পারি না!
কামার অল-জামান যন্ত্রচালিতের মত এক লাফে পালঙ্ক থেকে নেমে এল। ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চোখে-মুখে বিতৃষ্ণার ছাপ এঁকে হাঁপাতে লাগল। নির্বাক, নিশ্চল নিথর পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে কামার অল-জামান দাঁতে দাঁত চেপে নিজের মনকে শক্ত করে বাঁধল। আপন মনে বলতে লাগল—‘মাত্র আর কিছু সময়...বড়জোর দু’ বা তিন ঘণ্টা আমাকে যৌবনের উন্মাদনাকে দাবিয়ে রাখতে হবে। যত কষ্টই হােক, রাখবও তা-ই। তারপরই ভােরের আলাে ফুটে উঠবে। তখন আব্বাকে সাফ সাফ বলে দেব, যদি এ-লেড়কির সঙ্গে আমার শাদীর বন্দোবস্ত কর, আমি রাজী। বেটার মতিগতি পাল্টেছে দেখে আব্বাজী নির্ঘাৎ আহ্লাদে গদগদ হয়ে উঠবেন। উজির-নাজির আর আমীর-ওমরাহদের ডেকে শাদীর বন্দোবস্ত করবেন। কাজীর তলব পড়বে শাদীর কবুলনামা বানানাের জন্য।
কামার অল-জামান নিজের দিলকে শক্ত করে বাঁধল। নিজের কামকাতর দিলকে কি করে বশীভূত করতে হয় তা তার ভালই জানা আছে। ধীর-পায়ে পালঙ্কের দিকে এগিয়ে গেল। বিবস্ত্রা বদর-এর দিকে পিছন ফিরে শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যে গভীর নিদে আচ্ছন্ন হয়ে গেল।
জিনি মাইমুনাহ ব্যাপার দেখে রাগে-দুঃখে-অপমানে আঘাতে পাওয়া কালনাগিনীর মত ফুসতে লাগল। বদর ঘাপটি মেরে পড়েই রইল সেই থেকে চোখ পর্যন্ত খুলল না। তার মেহবুব কামার অলজামান তার কাছে এমনই ফেলনা যে, চোখ মেলে তাকাল না পর্যন্ত! রাগে তার সর্বাঙ্গ থরথরিয়ে কাপতে লাগল। সে মাছির রূপ ধরেই বিদ্যুৎগতিতে কামরার ভেতরে ঢুকে গেল। ভোঁ ভোঁ...ভো রব তুলে উড়তে উড়তে বদর-এর ধবধবে সাদা ও পদ্মের কোড়কের মত উরুতে আছাড় খেয়ে পড়ল। শরীরের সর্বশক্তি নিয়ােগ করে দিল এক কামড় বসিয়ে। ঘুমের মধ্যেই বদর সামান্য নড়ে চড়ে আবার স্থির হ’ল। মাইমুনাহ এত সহজে পিছিয়ে যাবার পাত্রী নয়। শাহজাদী বদর-এর নাকে, পায়ের তালুতে, স্তন দুটোতে আর নাভি কুন্ডলি প্রভৃতি স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে ঘন ঘন কামড় বসাতে লাগল। বিরক্তি ও অসহ্য যন্ত্রণায় বদর বার বার ছটফট করতে করতে এক সময় আধ-ফোঁটা পদ্মের মত চোখ দুটো মেলে তাকাল। পাশে ঘুমন্ত কামার অল-জামানকে দেখেই বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ল। সে ভাবল, এ কী খােয়াব ? খােয়াবের ঘাের ? নাকি বাস্তব ? নিজের চোখ দুটো বন্ধ করল, আবার খুলল। না এ তাে তার খােয়াবের শাহজাদা নয়। প্রায় উলঙ্গ খুবসুরৎ যুবক কামার অল-জামান-এর দিকে কয়েক মুহূর্ত নীরব চাহনি মেলে তাকিয়ে রইল। যত দেখছে ততই সে বিস্মিত হচ্ছে।
শাহজাদী বদর বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখে কামার অল-জামান এর দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল—কোন নওজোয়ানের দেহে এমন সুরতের বিচিত্র সমারােহ ঘটতে পারে আগে তাে কোনদিন সে ভাবে নি। সে ধরেই নিল তার আব্বা কৌশলে নওজোয়ানকে তার বিছানায় এনে শুইয়ে দিয়েছে।
শাহজাদী বদর এবার উলঙ্গ প্রায় কামার অল-জামান-এর ওপর ধীরে ধীরে ঝুঁকতে লাগল। নিজের ওষ্ঠদ্বয়কে ঘুমন্ত অজ্ঞাত পরিচয় নওজোয়ানটির ওষ্ঠদ্বয়ের ওপর স্থাপন করল, আলতাে করে চুম্বন করল।
শাহজাদী বদর এবার আপন মনে বলতে লাগল—কাল ভােরেই আমি আব্বাজানকে অবাক করে দিয়ে বলব, এ নওজোয়ানের সঙ্গে যদি আমার শাদীর বন্দোবস্ত কর তবে আমি আর অমত করব না। কাল ভােরেই আমি উপযাচক হয়ে আমার সম্মতির কথা জানিয়ে দেব। শাহজাদী বদর এবার ঘুমন্ত জামান-এর দিকে সামান্য এগিয়ে যায়। তার ডান-হাতটি দু'হাতে মুঠো করে ধরে। তার কানের কাছে মুখ নিয়ে অনুচ্চ কণ্ঠে বলে—ওগাে, অচেনা নওজোয়ান, আমার দিকে ক্ষণিকের জন্য ফের। চোখ মেলে তাকাও। আমি বদর। তাকাও...ওঠ....আমাকে সােহাগ কর।' হায় খােদা! কামার অল-জামান-এর নিদ তাে ভাঙার নয়। জিনি মাইমুনাহ তাে যাদু মন্ত্রবলে তাকে নিদে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
শাহজাদী বদর তাে এসবের কিছুই জানে না। তার দৃঢ় বিশ্বাস, নওজোয়ান কামার অল-জামান নির্ঘাৎ জেগে গেছে। এতকিছুর পরও কেউ যে নিদের ঘােরে থাকতে পারে কি করেই বা বিশ্বাস করবে? তাই সে উলঙ্গপ্রায় কামার অল-জামান-এর শরীরের বিশেষ বিশেষ স্থানে সুড়সুড়ি দিতে লাগল। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে কোন সাড়াই পেল না। বদর কিন্তু এত সহজে দমল না। আসলে নিজেকে সংযত রাখা তার পক্ষে সম্ভব হল না। সে কামার অল-জামান-এর বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। উন্মাদিনীর মত জাপটে ধরল তার যৌবনদীপ্ত দেহটিকে। তাকে চুম্বন করল। জোরে....আরাে জোরে তার নিচের ঠোট কামড়ে ধরল। দাঁতের আঘাতে তিরতির করে খুন ঝরতে থাকল। কোনদিকে ভ্রক্ষেপমাত্র নেই তার। থাকবেই বা কি করে? তার বুকের মধ্যে উত্তাল-উদ্দাম সাগরের ঢেউ, কালবৈশাখীর তুফান বইছে। ভাবাপ্লুতা বদর কামার অল-জামান এর স্পর্শকাতর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কৌতূহল বশতঃ বার বার হাতাতে লাগল । পুলক...সুখ...এক অনাস্বাদিতপূর্ব অনুভূতি অষ্টাদশী বদরএর যৌবনজ্বালা আরও শতগুণ বাড়িয়ে দিল। অর্থের বিনিময়ে দুনিয়ার ঐশ্বর্যকে করায়ত্ত করা যায়। সুখ-ভােগের সামগ্রীকে একত্রে জড়াে করে পাহাড়ও বানিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এ-সুখ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। অর্থের বিনিময়ে লাভ করা যায় না। একমাত্র অনুভূতির মাধ্যমেই এ-সুখ উপলব্ধি সম্ভব।
শাহজাদী বদর আবার উন্মাদিনীর মত শাহজাদা কামার অল জামান-এর ওপর ঝাপাঝাপি শুরু করে দেয়। মহাসমস্যায় পড়ল সে। নিজের উন্মত্ত যৌবনজ্বালা সহ্য করা সাধ্যাতীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার শত কোশিস করেও কামার অল-জামানকে সজাগ করতে পারছে না। তাকে জড়িয়ে ধরে সে শুয়ে পড়ল। একের পর এক চুম্বন করতে থাকে। তারপর? তারপরের কথা কিছুই তার জানা নেই। সে যেন এক মায়াময় খােয়াবের রাজ্যে তলিয়ে গেল। কেবলই অন্ধকার! সুখ! আনন্দ! সাগরের ঢেউ। ঢেউয়ের পর ঢেউ। তুফান। বিক্ষুব্ধ ঢেউ আর উন্মত্ত তুফানের মাঝে পড়ে বদর করুণ স্বরে আর্তনাদ করতে থাকে—‘আমাকে ধর...বাঁচাও!....এত হর্ষ-বিষাদ আমি সইতে পারছি না। আঃ কী আনন্দ!... অসহ্য...অসহ্য!
বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ পর্যন্ত বলার পর বুঝতে পারলেন ভাের হয়ে এল বলে। তিনি কিসসা বন্ধ করলেন।
( চলবে )

0 Comments