আরব্য রজনী পার্ট ৪৭ ( Part 47 ) alif laila Alif Laila Full Bangla

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ 
আমি দুনিয়ার দরজায় দাঁড়িয়েই গুনগুন স্বরে গানটি গেয়ে তার অনুরােধ রক্ষা করলাম। আমি গানা থামাতেই দুনিয়া অতর্কিতে বলে উঠল ‘এ গানা তুমি কোথায় পেলে মেহবুব? কার কাছে শিখেছ? কে শিখিয়েছে,বল?'

তার রকম-সকম দেখে আমি যেন একেবারে আসমান থেকে পড়লাম। আমি যতদূর বুঝি, এটি নিছকই প্রেম-গীতি ছাড়া কিছু নয়। তবে এটি শােনামাত্র দুনিয়া কেন এমন করে ফুসছে?’
আমি বার কয়েক ঢােক গিলে কাপা গলায় কোনরকমে উচ্চারণ করলাম—‘আমার চাচার লেড়কি আজিজা আমাকে শিখিয়েছে।
–তােমার চাচার লেড়কি? সে কি তােমাকে পেয়ার করে ? আমি মৌন রইলাম। হা না ভাল-মন্দ কিছুই বলতে পারলাম না । 

                      তিরানব্বইতম রজনী 

বেগম আবার কিসসা শুরু করলেন। জাঁহাপনা, -“দুনিয়া গলা ছেড়ে বলে উঠল—মুখবুজে থেকো না। আমার কথার জবাব দাও। তার সঙ্গে কি তােমার পেয়ার মহব্বত রয়েছে? বল, সে কি তােমাকে পেয়ার করে? আমি গােমড়া মুখেই জবাব দিলাম—‘হা, সে আমাকে নিজের কলিজার চেয়েও বেশী পেয়ার করে।

এবার গুলিখাওয়া বাঘিনীর মত সে গর্জে উঠল—“যদি তাই হয়, নিজের কলিজার চেয়ে বেশী তােমাকে পেয়ার করে থাকে তবে কেন এখানে নক্করবাজি করতে এসেছে ! একটি লেড়কির জান নিয়ে খেলা করতে তােমার দিল এতটুকুও কাঁদল না! ‘আমি তােমাকে পেয়ার করি মেহবুবা। নিজের জানের চেয়েও বেশী পেয়ার করি।

‘সে-ও তাে তােমাকে পেয়ার করে। তােমাকে দিল দিয়ে দেউলিয়া হয়েছে। তার জান নিয়ে কেন এমন করে মহব্বতের খেলায় মেতেছ?'

-“বিশ্বাস কর মেহবুবা, আমি তােমাকে নিয়ে খেলা করতে আসি নি, তােমাকে আমি নিজের কলিজার চেয়েও বেশী পেয়ার করি।

‘থাক, ঝুট মুট আর কতগুলি বুলি আওড়ে আমাকে প্রবােধ দেয়ার কোশিস কোরাে না। এতক্ষণ সে হয়ত আর জিন্দা নেই।

—“জিন্দা নেই! কে বলেছে তােমাকে আজিজা জিন্দা নেই?

—বলবে আবার কে? আমার দিল বলছে, সে আর জিন্দা নেই। তুমি কিছুই বােঝনা নাকি? তার যা কিছু বক্তব্য সবইতাে গানার মধ্যে বলা আছে, বাড়ি গেলেই বুঝতে পারবে। তােমাকে যে কি বলে তিরস্কার করব আজিজ আমি ভেবে পাচ্ছি নে। নিস্পাপ নিষ্কলঙ্ক একটি লেড়কির মহব্বত তুমি পায়ে ঠেলে কি করে যে আমার কাছে এলে ভেবে পাচ্ছি নে! রাগে ফুসতে ফসতে সে এবার বলল —“যার কাছে পেয়ার মহব্বৎ কোন মূল্যই পায় না তার সঙ্গে কোন সম্পর্কই আমি রাখতে উৎসাহী নই। তার গােরে ফুল দিয়ে তােমার গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত করগে। তাতে তােমার গুনাহ কিছুটা ম্লান হলে হতেও পারে।

আমি বিষন্ন মনে বাড়ির কাছাকাছি আসতেই শুনি বাড়ির ভেতর থেকে বহু কষ্ঠের কান্নার রােল ভেসে আসছে।

থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। ফুসফুস নিঙড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। তবে তাে দুনিয়ার কথাই ঠিক। আজিজা দুনিয়া ছেড়ে গেছে। জহর পান করে সে নিজেহাতে জান খতম করে দিয়েছে। কসুর—সব কসুর আমার।

পুরাে একটি মাস আমি চোখের পানি ফেল্লাম। এই প্রথম আমি বুঝতে পারলাম মহব্বৎ কি জিনিস। আর এ-ও বুঝলাম, আমি আজিজাকে পেয়ার করতাম। সে পেয়ার মহব্বতের আগুনের শিখা ছিল অন্তর্মুখী, বহিঃপ্রকাশ ছিল না।

সে যতদিন জীবিত ছিল, আমার কাছাকাছি পাশাপাশি ছিল, ততদিন তাে তার মহব্বতের খোঁজ আমি নেই নি। সামান্যতম চেষ্টাও কোনদিন করি নি। আর আজ ? সে-আজিজা-র অভাবে দুনিয়া আমার কাছে মূল্যহীন, বিষ তুল্যবােধ হচ্ছে। আমার এ-ছারা জানটির কী-ই বা দাম, জিন্দা থেকেই বা লাভ কতটুকু? কেন জিন্দা থাকব, কার জন্যই বা থাকব! 

তবু জানটিকে টিকিয়ে রাখা দরকার। আর এর জন্য চাই অর্থ। অর্থোপার্জনের ধান্দায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। এ-মুলুক থেকে ও-মুলুক ঢুঁড়ে অর্থোপার্জনের ফিকির করলাম। ছােটোখাটো ব্যবসাপত্র শুরু করি। আয় যৎসামান্যই হয়। দিন গুজরান হয়ে যায় কোনরকমে। হরবকত একই চিন্তা আমাকে পেয়ে বসল। আজিজা, আজিজার চিন্তা আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে দাঁড়াল।

তাজ অল-মুলুক আজিজার কিসসা শােনার পর বলল—‘আজিজ, দোস্ত আমার, তােমার বেহেস্তের হুরী খুবসুরৎ দুনিয়াকে একবারটি নিজের চোখে দেখার জন্য অস্থির বােধ করছি। তুমি তাে বললে লেড়কিটির সুরৎ যেমন অনন্য তেমনি চালাক চতুরও বটে, ঠিক কিনা?

–“ঠিক, শতকরা একশ’ ভাগই ঠিক।

–‘শােন, সবার আগে আমি একটি ব্যাপার সেরে ফেলতে চাইছি। ব্যাপারটি হচ্ছে, তােমার ব্যবহার ও কথাবার্তা আমার খুবই ভাল লেগেছে। তােমার সঙ্গে আমি দোস্তি পাতাতে চাই। আজ থেকে তুমি আমার দোস্ত, জিগরী দোস্ত। আমার মহলে চল। আমার সঙ্গেই থাকতে হবে তােমাকে। কোন ওজর আপত্তি চলবে না।

আজিজ তাজ-এর কথায় সম্মত হ’ল। তার সঙ্গে তার প্রাসাদে এল। এখানে সুসজ্জিত ঘরে তার থাকার ব্যবস্থা হ'ল।

এবার তাজ দোস্ত আজিজকে বলল-“দোস্ত, এবার দুনিয়া নামে লেড়কিটির হদিস কোথায়, কার কাছে পাওয়া যেতে পারে, আমি তা বের করবই।

শাহজাদা তাজ অল-মুলুক এবার নিজের কামরায় গিয়ে দরওয়াজায় খিল দিয়ে চুপচাপ বসে রইল। তার গােসসা হলে এরকম আচরণ করে। গােসল, খানাপিনা—এমন কি কারাে সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলে না।

পাত্তা লাগিয়ে সুলতান জানতে পারলেন, শাহজাদা তাজ এক পরদেশী সওদাগরের সঙ্গে দোস্তি পাতিয়েছে। সে-ই তার ভেতরে পেয়ার মহব্বতের রােগ ধরিয়েছে। দুনিয়া নামে এক লেড়কির খােয়াব দেখছে। তাদের মুলুক প্রবাল দ্বীপে। কপূর নামক দ্বীপ তার রাজধানী। দুনিয়ার আব্বাজী সেখানকার সুলতান। তার মত সুরৎ নাকি তামাম আরব দুনিয়ায় দোসরা কোন লেড়কির নেই।

-কেন ? দূর দেশ থেকে পাত্রী না আসলে তার পছন্দ হবে না, কী রকম কথা ! নিজের মুলুকে লেড়কির আকাল পড়ে গেছে নাকি?' বৃদ্ধ উজির বলল—‘জাঁহাপনা, সবই দিল -এর ব্যাপার। কারাে দিলে যদি কোন লেড়কি বাঁধা পড়ে যায় তবে যত খুবসুরৎ লেড়কির সঙ্গেই তার শাদী দেন না কেন তার পরিণতি ভাল হবে না, খেয়াল রাখবেন।

চুরানব্বইতম রজনী 

বেগম আবার কিসসা শুরু করলেন। জাঁহাপনা,—‘সুলতান স্বয়ং তাজ-এর কামরার দরজায় গেলেন, বাইরে থেকে কত চেঁচিয়ে সহানুভূতির স্বরে বলল।

—‘তাজ দরওয়াজা খােল, আমাদের সুলতানিয়তের লাগােয়া কোন সুলতানের লেড়কিকে শাদী করে সুখে ঘর সংসার কর। তাজ কিন্তু তার নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়ল না। দুনিয়া ছাড়া আর কোন লেড়কি তার পছন্দ নয়। অন্য কাউকে শাদী করে বিবির আসনে বসানাে তার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়—সব কথা তার আব্বাজানকে জানিয়ে দিল। উপায়ান্তর না দেখে সুলতান তার একগুঁয়েমির মূল্য দিলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—'তা-ই কর বেটা, তুমি প্রবাল দ্বীপে গিয়ে তােমার পছন্দ মাফিক লেড়কিকে শাদী করে ঘরে নিয়ে এসাে। তবে একটি কথা। আমি সে মুলুকের সুলতানের কাছে দূত পাঠাচ্ছি। তিনি যদি আমার প্রস্তাবের মূল্য না দেন তবে কিন্তু তার সুলতানিয়ৎ আমি ধুলােয় মিশিয়ে দেব।

কপূর-প্রবাল দ্বীপে যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল। আজিজ সেখানে যাওয়ার পথ ঘাট জানে বলে বৃদ্ধ উজিরের সঙ্গে তাকেও পাঠালেন সেখানে। সঙ্গে দিলেন বহুমূল্য প্রচুর ইনাম। যথা সময়ে সুলতান শাহর দরবারে পৌঁছলেন। সুলতানকে যথােচিত পদ্ধতিতে কুর্নিশ সেরে সুলতাল সুলেমান প্রেরিত ইনামগুলি তার সামনে হাজির করল। সৌজন্য বশতঃ উভয়ে সংক্ষেপে কুশল বার্তাদি বিনিময় করলেন। তারপর বৃদ্ধ উজির সুলতান-এর অভিপ্রায়ের কথা সুলতান শাস্ত্র দরবারে পেশ করলেন।

জাহাপনা, সুলতান শাহ লেড়কির শাদীর প্রস্তাব শুনে অকস্মাৎ মৌন হয়ে রইলেন। আসলে কি বলবেন, কি জবাব দেবেন সহসা ভেবে পেলেন না। অন্য কোন সমস্যা হলে না হয় ভাল-মন্দ যা হােক কিছু জবাব দিতেন। কিন্তু তার লেড়কি দুনিয়ার শাদীর ব্যাপারে তিনি তেমন কোন জোরদার মতামত ব্যক্ত করতে পারতেন না। কিন্তু দুনিয়ার শাদীর কত পাত্র প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, দুনিয়া সবার প্রস্তাবকে সঙ্গে সঙ্গে নস্যাৎ করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনন্যোপায় হয়ে সুলতান শাহ এক খােজাকে দিয়ে দুনিয়াকে আনিয়ে সভার সামনে হাজির করার হুকুম দিলেন। দুনিয়া গােড়ার দিকে আসতে সম্মত হয়েছিল বটে কিন্তু যখন শুনল, তার শাদীর প্রস্তাব নিয়ে ভিনদেশ থেকে মেহমান এসেছে। তখন বেঁকে বসল। ব্যস, সংবাদবাহক খােজাকে শাহজাদী রীতিমত তাড়া করল। খােজাটি কাঁপতে কাঁপতে এসে সুলতানকে দুনিয়ার অপ্রত্যাশিত আচরণের কথা জানাল। হাত কচলে তাঁর দরবারে পেশ করল—“জাঁহাপনা শাহজাদী আমাকে যে কেবল ছুরি নিয়ে তাড়া করেছেন তা-ই নয়। চেচিয়ে চেঁচিয়ে বললেন —“আব্বাজানকে বলবে, তিনি যদি ফিন আমার শাদীর জোগাড় করেন তবে আমি নিজের হাতে আমার জান খতম করে দেব।

লেড়কির আব্বাজান সুলতান শাহ সুলতান সুলেমান-এর উজিরের উদ্দেশে বললেন—‘সুলতান’কে আমার শুভাশিস জানাবেন। আর বলবেন আমার লেড়কি দুনিয়ার শাদীর কোশিস আমি অন্যত্র করছি। তিনি যেন আমার ওপর গােসসা না করেন।

উজির আজিজ’কে নিয়ে নিজের মুলুকের দিকে যাত্রা করল। সুলতান সুলেমন-এর দরবারে পৌছে সুলতান শাহর মতামত ব্যক্ত করল। তবে এ-ও বলতে ভুল করল না, সুলতান তাদের প্রতি যথেষ্ট সৌজন্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু তার লেড়কি দুনিয়ার জন্যই সে তার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়েছে।

[ একটু পরপর রজনীর অবসান এবং নতুন রজনীতে কিসসা শুরুর উল্লেখ করলে মূল কাহিনীর রসহানি ঘটে। তাই এবার থেকে অনেকগুলাে রজনী অতিক্রান্ত হওয়ার পর রজনী অতিক্রান্ত হওয়ার নাম উল্লেখ করছি। ] 

এক শ ত্রিশতম রজনী 

বেগম শাহরাজাদ কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, সুলতান সুলেমান-এর উজীর প্রবাল দ্বীপের সুলতান শাহকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য প্রয়াসী হ’ল। আর সব দোষ এসে শাহজাদী দুনিয়ার ওপর চাপাল। তার অমতের জন্যই সুলতান তার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শাহজাদা তাজ তার আব্বাজান-এর অনুমতি নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে উজির এবং আজিজ’কে নিয়ে প্রবাল দ্বীপে উপস্থিত হল।

উজিরের পরামর্শে তাজ প্রবাল দ্বীপের সবুজ নগরে একটি বেশ বড়সড় দোকান খুলে বসল। রেশমী ও মখমল প্রভৃতি মূল্যবান সব কাপড়ের দোকান।

একদিন এক বুড়ি তাজ-এর দোকানে কাপড় কিনতে এল। কাপড় বাছাবাছি করতে করতে সে বলল –কাপড়গুলাে আবার শাহজাদী দুনিয়ার মন মাফিক হবে কি না, কে জানে।

শাহজাদী দুনিয়ার নামটি শােনামাত্র সুলতান সুলেমান-এর লেড়কা-তাজ-এর কলিজাটি আনন্দে নেচে উঠল। তবে মনের ভাব গােপন রেখে বুড়িকে তার পছন্দ মাফিক কাপড় বেছে নিতে বলল- 'আপনার যা পছন্দ হয় নিয়ে যান দামের জন্য ভাববেন না ।

বুড়িটি তাজকে জিজ্ঞাসা করল—'বেটা, তুমি বুঝি পরদেশী? কি নাম তােমার বলবে কি?

-কেন বলব না? কেউ নাম জানতে চাইলে বলা তাে সৌজন্যের ব্যাপার। যে-কথা আপনি জানতে চাইছেন—সত্যি আমি পরদেশী। আর আমার নাম তাজ অল-মুলুক।

তাজ-এর নির্দেশে আজিজ এবার বৃদ্ধার পছন্দ মাফিক কাপড়গুলাে ভাল করে বেঁধে তার হাতে তুলে দিল।

বুড়ি কাপড়ের মােড়কটি প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে শাহজাদী দুনিয়ার হাতে দিয়ে বলল—‘বেটি, ভারী সুন্দর সব কাপড় নিয়ে এসেছি। তাের পছন্দ হতেই হবে। দোকানীর সুরৎ দেখনাই হলে তার কাপড়ও পছন্দ হওয়ার মতই হয়ে থাকে। তার বাতচিতও চমৎকার। কাপড়ের দামই নিল না। দাম দিতে গেলে নিল না। হেসে হেসে বলল—দামের জন্য পরােয়া কিছু নেই। শাহজাদী আমার দোকানের খরিদ্দার জানতে পারলে অন্য সবাই তাে এখানে হুমডি খেয়ে পড়বে। ব্যস, তখন দ্বিগুণ মুনাফা তুলে নেব।'

শাহজাদী দুনিয়া কৃত্রিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলল —“আমি-ই বা তার কাপড় মাগনা নিতে যাব কেন। তাকে বলবে, আমার আব্বাজীর সঙ্গে ভেট করে তার কাপড়ের দাম আর ইনাম যেন নিয়ে যায়।।

‘-দেখ বেটি, দামের কথা বলে তাকে ছােটই করাই হবে।’ 

তবু শাহজাদীর কথা তাজ’কে গিয়ে বল—“বেটা, তােমাকে একবারটি আমাদের মহলে, সুলতানের দরবারে যেতে হবে যে। সুলতানের বেটি তােমার কথা তার আব্বাজানের কাছে বলে রাখবে। তুমি দরবারে গিয়ে তােমার সততার জন্য সুলতানের কাছ থেকে প্রাপ্য প্রচুর ইনাম নিয়ে আসবে। তাজ এবার শাহজাদী দুনিয়ার কাছে একটি চিঠি লিখে কৃতজ্ঞতা জানাল। চিঠিটি বৃদ্ধার হাতে দিয়ে বলল—এটি শাহজাদীর হাতে তুলে দিও। এবার একটি থলে বুডির হাতে দিয়ে বলল—‘এতে এক হাজার দিনার রয়েছে, তােমার কাজের ইনাম। এতগুলাে দিনার ইনাম পেয়ে বুড়ি মহানন্দে নাচতে নাচতে সুলতানের প্রাসাদে ফিরে এল। চিঠিটি দুনিয়ার হাতে তুলে দিল। চিঠিটি নিয়ে দুনিয়া ব্যক্ত-হাতে ভাঁজ খুলে পড়তে লাগল তার বক্তব্য—

“ আপনাকে আজ পর্যন্ত চোখে দেখা হয় নি। কিন্তু আপনার গুণাবলীর পরিচয় আমি পেয়েছি। আপনার দৈহিক সৌন্দর্য আমার চোখ না দেখলেও, দিল ও কলিজার ওপর দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছে। আপনি আমার কল্পনার হুরী। কল্পনার মধ্যে দিয়ে যেন হাজার বছর ধরে আপনাকে চিনি। প্রস্ফুটিত পদ্মের কুঁড়ি আর রক্তগােলাপের পাপড়ির মধ্যে আপনার রূপ-সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছি। আসমানের চাঁদ আর উত্তাল উদ্দাম সমুদ্রতরঙ্গে আপনাকে আমি দেখেছি। বসন্তে সুসজ্জিত দ্রাক্ষাকুঞ্জ আর বিদায়ী সূর্যের শেষ রক্তিম আভায় আপনাকে আমি প্রত্যক্ষ করেছি। চিঠিটি পড়া শেষ হতে না হতেই দুনিয়া উত্তেজিত ভাবে চিঠির কাগজটিকে হাতের মুঠোয় দলামােচড়া করে শরীরের সর্বশক্তি দিয়েই পিষ্ট করতে লাগল। তীরবিদ্ধ হরিণীর মত ঘরময় বার কয়েক পায়চারি করে এক সময় থমকে দাঁড়িয়ে যায়। কালনাগিনীর মত ফুসতে থাকে—এত বড় ঔদ্ধত্য! এ আমি কিছুতেই বরদাস্ত করব না। এমন এক চিঠির বাণ ছুঁড়ব, বাছাধন বুঝবে ভদ্রলােকের লেড়কিকে চিঠি লেখার পরিণাম কী ভয়ঙ্কর।

ক্রোধােন্মত্তা দুনিয়া বুড়িকে দিয়ে কাগজ-কলম আনাল। এবার কাঁপা কাঁপা হাতে খস খস করে লিখতে শুরু করল—“মূর্খের দোষ সীমাহীন। তারা নিজেকে পয়গম্বর জ্ঞান করে। নিজের মূল্য সম্বন্ধে তারা একেবারেই অজ্ঞ। বাঁদরকে মুক্তোর মালা পরিয়ে দিলেও সে বাদরামি থেকে বিরত হয় না। অসভ্য জঙ্গলীদের কি করে ঢিট করতে হয় সে-শিক্ষা আমার ভালই রপ্ত রয়েছে। একটি কথা শুধু জানিয়ে দিতে চাই —“আশমানের চাঁদ আশমানেই থাকবে। জমিনে কোনদিনই সে নেমে আসবে না। আগুনে হাত দিলে হাত অবশ্যই পুড়বে। ক্রুশে বিদ্ধ করে যাদের জীবনাবসান ঘটানাে হয় তারা সবাই অবশ্যই যীশুর মত নিস্পাপ-নিষ্কলঙ্ক নয়—কথাটি স্মরণ রাখলে আনন্দিত হ'ব। আহাম্মককে অবশ্যই নিজের নির্বুদ্ধিতার খেসারত দিতেই হয়।”

চিঠিটি নিয়ে বুড়িটি আবার ছুটল। তাজ-এর দোকানে এসে তার হাতে সেটি তুলে দিল। চিঠির ভাজ খুলে ঊর্ধ্বশ্বাসে তার বক্তব্য পড়ল। তারপর সেটি ভাজ করতে করতে চোখে মুখে বিষাদের ছাপ এঁকে আপন মনে বলে উঠল—'আমার ওপর খুব করে এক হাত নিয়েছে। খুব তড়পেছে। আমাকে নাকি ক্রুশবিদ্ধ করে পরপারে পাঠিয়ে ছাড়বে। যদি মারতে চায় মারুক না কেন, কে বাধা দিচ্ছে, মরতে আমি জানি। মৃত্যুভয়ে আমি ভীত নই, আমি বরং মরতেই চাই। এমন দুঃখের যন্ত্রণায় তিলে তিলে দগ্ধে মরার চেয়ে মৃত্যু শতগুণ শ্রেয়। এ মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তাে চিরশান্তি লাভ করা সম্ভব। হ্যা, এ-চিঠির জবাবও আমি দেবই দেব। ফলে বরাতে যা জোটে জুটুক। ভবিষ্যতের ভাবনায় কুঁকড়ে থেকে বর্তমানে অন্তর্জালায় দগ্ধে মরতে আমি রাজী নই।

শাহজাদা তাজ আবার কাগজ-কলম নিয়ে বসল। লিখে চলল একের পর এক ছত্র। সে লিখল-“ওগাে রূপসী, তুমি আমাকে মৃত্যুভয় দেখিয়ে শাসিয়েছ। কিন্তু হায়! মৃত্যুভয় আমার মনকে দুর্বল করতে পারে না, জেনে রাখ। তুমি ভােগ-বিলাসের সাগরে সাঁতার কাটছ। তােমার কাছে জিন্দা থাকা আর জিন্দেগীকে উপভােগ করার মধ্যেই যত আনন্দ, যত সুখ। আর আমি ? আমি ভয়-ভীতিহীন সদানন্দময় এক উচ্ছল যুবক। মৃত্যুকে কিছুমাত্রও পরােয়া আমি করি না। তুমি যদি আমাকে ক্রুশকাঠে গেঁথে মার তবু আমার দিল কেঁদে উঠবে না। আমি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মরলেও যীশুর প্রভাব প্রতিপত্তির প্রত্যাশী নই। হাসতে হাসতে আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ব। আমি মনে করব, প্রেম মানুষকে এক অনন্য আনন্দের জোয়ারে ভাসায়। কিন্তু আমার প্রেম না হয় মৃত্যুর রূপ ধরেই আমার সামনে এসে দাঁড়াল। অতএব তুমি যে মৃত্যুভয় আমাকে দেখিয়েছ তা আমার কাছে নিতান্তই অবজ্ঞার বিষয়।”

চিঠিটি লেখা শেষ করে, বুডির হাতে দিয়ে তাজ বলল —‘আমাকে এর শেষ কোথায় দেখতেই হবে। পরিণামে যদি মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নিতে হয় তবু আমি পিছু হঠতে নারাজ।

চিঠিটি বুকের কাছে, কামিজের তলায় লুকিয়ে নিয়ে বুড়ি শাহজাদী দুনিয়ার ঘরে ঢুকল। বুড়িকে দেখেই দুনিয়া অত্যুগ্র আগ্রহের সঙ্গে বলে উঠল—“কিগাে, তােমার অচিন দেশের রাজপুত্তর কি আমার চিঠি পড়ে মুষড়ে গেল নাকি?

–“মুষড়ে গেল কি পুলকিত হ’ল তা আমি জানব কি করে ? আমি পত্রবাহক মাত্র।' বলতে বলতে বুড়ি কামিজের ভেতর থেকে একটি চিঠি দুনিয়ার হাতে দিয়ে বল্ল–আপনার চিঠি পেয়ে তাে খুবসুরৎ যুবকটির মুখ একেবার বিকালের পড়ন্ত সূর্যের মত লাল হয়ে উঠল। রাগে অপমানে কাঁপতে কাঁপতে কয়েক ছত্র লিখে আমার হাতে এ-চিঠিটি দিয়ে বলে—“যে মরার জন্য এক পায়ে খাড়া, তাঁকে মৃত্যুভয় দেখালে তাে হাসির খােরাকই জোগানাে হয়।  শাহজাদী দুনিয়া বুড়ির কথার কতটুকু শুনল কে জানে? ব্যস্ত হাতে চিঠিটির ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করল। তার অ-দেখা, খােয়াবের অচিন দেশের রাজপুত্র তারপর ব্যস্ত হাতে লিখেছে-“ওগাে রূপসী তন্বী, শরতের ঝলমলে রৌদ্র কিরণােজ্জ্বল আকাশের গায়ে এক ঝাঁক দুরন্ত কবুতর উড়ে চলেছে। তাদের সফেদ পাখার গায়ে সূর্যের কিরণে রূপালী বর্ণ ধারণ করে, তারাও পাখি। আবার শকুন? যারা ভাগাড়ে পচা গলা মৃতের স্তুপ ঘাটাঘাটি করে তারাও কিন্তু পাখির পর্যায়েই পড়ে। তাই বলছি কি, সব মানুষের দেহ-ই তাে চামড়ায় মােড়া থাকে। কিন্তু সবাই কি মানুষ পদবাচ্য পাওয়ার যােগ্য, সবাই কি সমান?”

চিঠিটি লেখা শেষ করে দুনিয়া বুড়ির হাতে দিল। বুড়ি আবার ছুটল শাহজাদা তাজ-এর দোকানের উদ্দেশে।

তাজ চিঠির নির্মম বক্তব্য পাঠ করে যারপর নাই মুষড়ে পড়ে। একেবারে সরাসরি আঘাত। মুষড়ে তাে পড়বেই। সে সৌজন্য বজায় রেখে তার কি জবাব দেবে সহসা ভেবে পেল না।

তাজ-এর অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আজিজ তার হয়ে চিঠিটির জবাব লিখল। সে চিঠিটি লেখা শেষ করে তাজ’কে বলল-পড়ছি শোেন—এমুহূর্তে আমি আল্লাতাল্লার ওপরেই আমার সবকিছু সঁপে দিয়ে ভবিষ্যতের পথ চেয়ে বসে। তােমাকে মন-প্রাণ সঁপে দিয়ে যেভাবে দেউলিয়া হয়েছি তার পরিবর্তে আল্লাতাল্লাকে যদি মনে-প্রাণে কামনা করতাম তবে তিনি অবশ্যই আমাকে কোলে ঠাই দিতেন। কিন্তু তুমি এক অবােধ যুবতী মাত্র। আল্লাতাল্লার করুণা কি তােমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যায়, নাকি পাওয়া সম্ভব, আপনজনদের স্নেহডাের ছিন্ন করে একদিন তােমার এখানে খোঁজে এসে আমার জীবনতরী নােঙর করেছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে নির্মমভাবে ফিরিয়ে দিলে। কিন্তু এবার আমি যেখানে যাওয়া মনস্থ করেছি সেখানে কিন্তু তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে না। জীবন সায়াহ্নে আজ না হােক কাল সবাইকেই সেখানে যেতে হয়। তিনি কিন্তু কাউকেই দাগা দিয়ে ফিরিয়ে দেন না। তার দরাজ দিল কিনা, সবাকেই তিনি কোলে তুলে নেন।

শাহজাদী দুনিয়া চিঠিটি পড়েই বুড়ির ওপর রেগে একেবারেই কাই হয়ে গেল। রাগে-দুঃখে-অপমানে কাঁপতে কাঁপতে বলল-“কী নির্লজ্জ বেহায়ার পাল্লায়ই না পড়া গেল! যত্তসব নক্করবাজ ছোড়ার পাল্লায় আজ আমাকে পড়তে হয়েছে শুধুমাত্র তােমারই জন্য। যাও, আমার চোখের সামনে থেকে সরে যাও!

বুড়ি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। সে তাে ভালই জানে, শাহজাদী ক্ষেপে গেলে তার মাথায় খুন চেপে যায়। সেই মুহর্তে লাশ ফেলে দেওয়াও তার পক্ষে অসম্ভব নয়। | বুড়ি হাঁপাতে হাঁপাতে গােমড়ামুখে তাজ-এর দোকানে গিয়ে হাজির হল। তাজ ভাবল, সে এবারও তার মনময়ুরী, বেহেস্তের হুরীর চিঠি নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাকে নির্বিকার দেখে তাজ বলেই ফেলল —“কি গাে, আজ বুঝি শূন্যহাতেই পাঠিয়ে দিয়েছে? চিঠি চাপাটি কিছু দেয় নি ?

বুড়ি চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ——‘আবারও চিঠি! এতেই আমার জান নিয়ে ছাড়ছিল। আল্লাতাল্লার দোয়ায় কোনরকমে আব্বাজানের দেওয়া জানটি নিয়ে পালিয়ে বেঁচেছি।

–‘একটা কথা বলবে কি? আমি লক্ষ্য করছি পুরুষ মানুষের প্রতি তােমার শাহজাদী কেমন এক জ্বলন্ত ভীতি অন্তরে পােষণ করে, ঠিক বলিনি? কিন্তু কেন, বলতে পার?’ 

–হ্যা, ঠিকই বলেছেন বটে। এক রাত্রে শাহজাদী কি যেন এক খােয়াব দেখেন। ব্যস, তার পর থেকেই পুরুষ মানুষের ওপর তার মনে নিদারুণ ঘৃণা পয়দা হয়। কোন পুরুষকেই দু'চোখ পেতে দেখতে পারেন না।

–‘খােয়াব ? কিসের খােয়াব ? কি দেখেছিল, জান?’ অত্যুগ্র আগ্রহ প্রকাশ করে তাজ বুড়ির দিকে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিল।

—জানি। আমাকে পরদিন সকালেই বলেছিল। খােয়াবের মধ্যে সে দেখেছিল, এক ব্যাধ বাগিচায় ঢুকে পাখিধরার জাল বিছিয়ে দিয়েছে। তার ওপর পাখির খানা, কিছু যবের দানা ছিটিয়ে দেয়। ব্যাধ এবার অদূরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। একটু বাদেই দুটো খুবসুরৎ কবুতর জালের ওপর বসে যবের দানা খুঁটে খুঁটে খেতে শুরু করে। পুরুষের যা চরিত্র—পুরুষ কবুতরটি লম্ফঝম্ফ দিতে দিতে এক সময় জালে ফেঁসে যায়। মেয়ে কবুতরটি তাকে জাল থেকে ছাড়াবার জন্য বহুৎ কোশিস করতে থাকে। কিছুতেই যখন তার মেহবুবকে জাল থেকে মুক্তি দিতে পারল না তখন সে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে মাটিতে মাথা ঠুকতে থাকে। গাছের ডালে একদল কবুতর বসে এ-দৃশ্যটি দেখল। তারা ভাবল, এখানে থাকলে তাদেরও হয়ত ব্যাধের মরণফাঁদে আটকা পড়তে হবে। ভীত-সন্ত্রস্ত মনে তারা ডানা মেলে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু সে হতভাগিনী মেয়ে-কবুতরটি কিন্তু ঠায় সেখানে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ঠোট দিয়ে জালের দড়ি কাটতে থাকে। বহু চেষ্টার পর সে তার মেহবুব পুরুষকবুতরটিকে মুক্ত করে ফেলে। পুরুষ কবুতরটি জাল থেকে বেরিয়েই গাছের ডালে গিয়ে বসল। আল্লাহর মর্জি। জাল কাটতে গিয়ে মেয়ে কবুতরটির পা জলে জড়িয়ে যায়। সে জাল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে কোশিস করতে থাকে। কিন্তু এতে সে জাল থেকে ছাড়া তাে পেলই না উপরন্তু দু’টি পা-ই জালে জড়িয়ে গেল। পুরুষ-কবুতরটি গাছের ডাল থেকে নেমে এসে তার সেই মেহবুবাকে জালের বাঁধন থেকে মুক্ত করার কোশিস করা তাে দূরের কথা, সে গাছের ডালে বসে নির্বিকার টুল টুল করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ বাদে ব্যাধটি এসে মেয়ে কবুতরটিকে জাল থেকে খুলে নিল। ইতিমধ্যেই পুরুষ কবুতরটি নিজের জান বাঁচাতে উড়ে অন্যত্র চলে গেছে। খােয়াবের এ পর্যন্ত দেখার পরই শাহজাদী দুনিয়ার নিদ টুটে যায়। তখন তিনি আমাকে তলব করলেন। আমি ব্যস্ত হয়ে তার কামরায় ছুটে যাই, কামরায় পা দিয়েই দেখি, তিনি ফ্যাকাসে-বিবর্ণ মুখে পালঙ্কের ওপর বসে। আমাকে বসতে বলে তিনি তার সদ্যদেখা খােয়াবের কিসসা আমাকেই বললেন। তারপর চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আমাকে বললেন, পুরুষ জাতটি কী নির্মম নিষ্ঠুর! পুরুষ-কবুতরটি যদি এমন নির্মম হতে পারে তবে পুরুষ আদমিরা না জানি এর চেয়ে কত বেশী নির্মম মনােভাব পােষণ করে! কী সাঙ্ঘাতিক পুরুষ জাতিটি !

সেদিন থেকে পুরুষ জাতটির প্রতি শাহজাদী দুনিয়ার মনে আতঙ্ক আর বিদ্বেষ দানা বাঁধে। আজ পুরুষ আদমি দেখা তাে দূরের কথা নাম শুনেই রেগে একেবারে অগ্নিশর্মা হয়ে যান।

তাজ অল-মুলুক ম্লান হেসে বলল কিন্তু সব পুরুষ আদমিই কি সমান? পুরুষ কবুতরটির মত সব পুরুষ-আদমিরা স্বার্থপর

( চলবে ) 

Post a Comment

0 Comments