গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ
বাদশাহ শারিয়ার বেশ বেলায় শিকার সেরে প্রাসাদে ফিরে এলেন। ছােটভাইয়া শাহজামান তখন আরামকেদারায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চেখবুজে রাত্রির ঘুমের ঘাটতিটুকু পূরণ করছেন। তিনি তাঁকে ডাকলেন। কুশলবার্তাদি নিলেন। | ভাইকে একটু বেশ হাসিখুশি দেখে বাদশাহ শারিয়ার বিস্ময় বােধ করলেন। কৌতূহল নিবৃত্ত করতে গিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন| ‘ভাইয়া, এক রাত্রির মধ্যে এমন কী তাজ্জব কাণ্ড ঘটে গেল যার ফলে তবিয়ত সুস্থ দেখছি, মেজাজ মর্জিও কেমন বদলে গেছে, তােমার | ব্যাপার কি বল তাে?’ | | শাহজামান এবার মুখ খুললেন—বলছি শােন, উজিরের মুখে। তােমার আকুল আহ্বানের কথা শুনে আনন্দে আমার মন-প্রাণ চনমনিয়ে উঠেছিল। একটি দিন দেরী করতেও আমার মন সরছিল না ।
কতক্ষণে তােমার সঙ্গে মিলিত হ’ব সে ভাবনা আমার মনকে পেয়ে বসল। লােকলস্করসহ উজিরের সঙ্গেই পথে নামলাম। কিছুটা পথ পেরােতে না পেরােতেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল ব্যস্ততার জন্য | একটি দরকারী জিনিস আনা হয়ে ওঠে নি। বাধ্য হয়ে আবার প্রাসাদে ফিরে যেতেই হ’ল। কিন্তু প্রাসাদে খাস বেগমের ঘরের দরজায় গিয়েই আমার নসীবের করুণতম পরিণতির মুখােমুখি হলাম। যার ফলে মুহূর্তে তামাম দুনিয়া আমার কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়ল। আমাকে মুহূর্তের জন্যও যে-বেগম চোখের আড়াল করতে পারে না। সে-ই কিনা বিবস্ত্র অবস্থায় এক ধুমসাে নিগ্রো যুবকের আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে পরম শান্তিতে বিভাের হয়ে ঘুমােচ্ছে। তার চোখে-মুখে প্রসন্নতার সুস্পষ্ট ছাপ। এক নজরে দেখেই মনে হ’ল সারা জীবনে আমার বেগম এই বুঝি প্রথম শান্তি ও তৃপ্তির স্বাদ পেল। ব্যস, আমার শিরায় শিরায় খুন টগবগিয়ে উঠল। শরীরের সবটুকু খুন যেন শিরে চেপে গেল। নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলাম না। ব্যস্ত-হাতে কোমর থেকে তরবারীটি টেনে নিলাম। দু'টুকরাে করে দিলাম আমার শান্তি-সুখ কেড়ে নেওয়া শয়তান দুটোকে।' মুহূর্তকালনীরবে কাটিয়ে। শাহজামান আবার মুখ খুললেন—“ভাইজান, কেন আমার শান্তি-সুখ । অন্তর্হিত হয়েছিল, বললাম। কিন্তু কিভাবে আবার হৃত-শান্তি ফিরে পেয়েছি সে-কথা জানতে চেয়ে আবার পীড়াপীড়ি করলে আমি কিন্তু বড়ই বিব্রত বােধ করব।
ছােট ভাইয়ের কথার গুরুত্ব না দিয়ে কৌতূহলী ও উৎকণ্ঠিত বাদশাহ শারিয়ার তবুও তাকে বার বার বলতে লাগলেন-‘হায় খােদা! এত করে বলা সত্ত্বেও তুমি আমার অশান্ত মনকে শান্ত করতে এতটুকুও উৎসাহী হচ্ছ না! কেন তােমার এত দ্বিধা-সঙ্কোচ? আমি আর সইতে পারছি না! বল, সবকিছু খুলে বলে আমার উৎকণ্ঠা দূর কর ভাইয়া। | শাহজামান আর মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে পারলেন না। দ্বিধাসঙ্কোচ কাটিয়ে গতরাত্রে যে-অবিশ্বাস্য নক্কারজনক ঘটনাকে চাক্ষুষ করেছেন সবই সবিস্তারে তাঁর কাছে ব্যক্ত করলেন। | সবকিছু শুনে বাদশাহ শারিয়ার কিছুমাত্রও বিশ্বাস করতে পারলেন না।
ম্লান হেসে শাহজামান বলেন—“আমি কিছুমাত্রও মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে যা পুরােপুরি সত্য সে-ছবিই তােমার চোখর সামনে তুলে ধরেছি মাত্র। একে তুমি সেই-অবিশ্বাস্য জঘন্যতম দৃশ্যটির প্রতিচ্ছবিও মনে করতে পার। আমি তােমাকে হাতেনাতে প্রমাণ করে দেখাতে পারি। তবে তােমাকে আবার শিকারে যাবার ছলনার আশ্রয় নিতে হবে। ভাইজান, প্রচার করে দাও, তুমি আবার শিকারে যাবে। ব্যস, সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসার আগেই গােপনে আমার ঘরে এসে আত্মগােপন করে থাকবে। তারপর নিজের চোখের সামনেই তাদের খেল দেখতে পাবে। চাক্ষুস করার এমন অপূর্ব সুযােগ হাতের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও মিছে কেন আমার কথায় আস্থাবান হয়ে নিজেকে কষ্ট দেবে ভাইজান? আজ রাত্রেই তাে সে পরিকল্পনা করতে পার। | ব্যস, বাদশাহ শারিয়ার-এর নিদের্শে সর্বত্র প্রচার করে দেওয়া। হ’ল, তিনি গত রাত্রের মত আজও শিকারে যাবেন। আবার সাজসাজ রব উঠল।
যথা সময়ে বাদশাহ শারিয়ার উটের পিঠে চেপে তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোদের নিয়ে মহাধুমধাম করে শিকারের উদ্দেশে যাত্রা করলেন। বনের এক চিলতে সমতল প্রান্তরে বাদশাহ শারিয়ার-এর তবু পড়ল। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসার কিছু পরে তিনি তার দুই বিশ্বস্ত নােকরকে ডেকে বললেন—“আমি কিছু সময়ের জন্য তাবু ছেড়ে অন্যত্র যাব। কেউ, এমন কি উজির এলেও বলবি, আমার তবিয়ত বিগড়েছে। কারাে সঙ্গেই দেখা করা সম্ভব নয়। রাত্রি একটু বাড়তে বাদশাহ শারিয়ার কালাে বােরখায় নিজেকে ঢেকেঢুকে তাবু থেকে গােপনে বেরিয়ে অতি সন্তর্পণে প্রাসাদে শাহজামান-এর ঘরে এসে আশ্রয় নিলেন।
প্রাসাদের দক্ষিণদিকের জানলা খুলে, ফুল-ফলের বাগিচার দিকে মুখ করে দু'ভাইয়া অন্ধকার ঘরে বসে রইলেন। উভয়ের চোখেই অনুসন্ধিৎসার ছাপ। কারাে মুখেই কোন কথা নেই।। | বাদশাহ শারিয়ারকে বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হ’ল না। এক সময় প্রাসাদের পিছনের দরজা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে এল বিবস্ত্র কুড়িজন ক্রীতদাস আর কুড়িজন ক্রীতদাসী। তারপরই দেখা গেল বাদশাহ শারিয়ার-এর খাস বেগম সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় বাগানে এসে দাঁড়ালেন। অস্বস্তিতে ভরপুর অনুচ্চ কণ্ঠে ডাকলেন মাসুদ!—মাসুদ! মুহুর্তের মধ্যেই যুবক-নিগ্রোটি আড়াল থেকে চোখের সামনে এসে দাঁড়াল। বিবস্ত্রা বেগম সাহেবার কাছে গেল। তারপরই চুম্বন, দলন, পেষণ আর সম্ভোগের মাধ্যমে পুলকানন্দ লাভ করতে লাগল সারারাত্রি ধরে। বেগম সাহেবা যেন এই প্রথম পুরুষের মধুর আলিঙ্গনে পরম তৃপ্তি লাভ করলেন। বাদশাহ শারিয়ার নিজের চোখ দুটোর ওপরও যেন আস্থা হারিয়ে ফেলেন। লজ্জায়, ঘৃণায় আর অপমানে তার সর্বাঙ্গে বিশ্রী এক অনুভূতি দেখা দিল।
বাদশাহ শারিয়ার-এর মন থেকে সংসারের মােহ চিরদিনের মত নিঃশেষে মুছে গেল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাইয়া শাহজামানকে বলল‘ভাইয়া, আর নয়। এ পাপের নরকপুরীতে এক মুহূর্তও আর নয়। যেখানে প্রেম মূল্যহীন, মহব্বতের আপমৃত্যু ঘটেছে। পাপাচার, ব্যভিচার আর বিশ্বাসঘাতকতা সবার উর্ধ্বে স্থান পেয়েছে সেখানে থেকে নিজেকে আর বঞ্চিত করতে চাই না। চল, আজই আমরা প্রাসাদ, রাজৈশ্বর্য আর বিবির মায়া কাটিয়ে বেরিয়ে পড়ি। যেদিকে দু' চোখ যায় চলে যাই। খুঁজে দেখি, আমাদের মত নসীব বিড়ম্বিত আর কেউ আছে কি না। | ভােরের আলাে ফোটার আগেই শারিয়ার ছােট ভাইয়া শাহজামানএর হাত ধরে প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন। নসীব সম্বল করে তারা হারা উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলেন। এক সময় সমুদ্রের উপকূলে উপস্থিত হলেন। একটি গাছের ছায়ায় বসে তারা ক্লান্তি অপনোেদন করতে লাগলেন। | প্রায় এক ঘণ্টা কাল দু’ ভাই গাছে হেলান দিয়ে, পাশাপাশি গাঘেষাঘেষি করে বসে বিশ্রাম নিলেন। এক সময় তারা দেখলেন, সমুদ্রের মঝখানে ধোঁয়ার একটি কুণ্ডলি আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে।দু'ভাইয়া অতর্কিতে সােজা হয়ে বসে পড়লেন। বিস্ময়, বিস্ফারিত চোখে অলৌকিক দৃশ্যটির ওপর নজর রেখে চলতে লাগলেন। এক সময় দেখলেন ধোঁয়ার কুণ্ডলিটি থেকে অতিকায় একটি আফ্রিদি দৈত্যের উদ্ভব ঘটেছে। অভাবনীয় দৃশ্যটি দেখে দু ভাইয়া যেন কুঁকড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। তাড়াতাড়ি গাছের ডালে উঠে বসলেন।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অতিকায় আফ্রিদি দৈত্যটি উপকূলের দিকে ফিরল। তারপর বাতাসে ভর করে এগিয়ে আসতে লাগল বিশ্রামরত দু’ ভাইয়ার দিকে। ব্যাপার দেখে তাদের তাে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার উপক্রম। আফ্রিদি সামান্য এগােতেই আরও অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য তাদের নজরে পড়ল। দেখলেন তার মাথায় রয়েছে পর্বতপ্রমাণ এক বাক্স। | কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আফ্রিদি গাছটির তলায় হাজির হল। বিশালায়তন বাক্সটিকে নামাল। তার ভেতর থেকে একটি বেশ | বড়সড় ও ভারি সিন্দুক বের করল। ব্যস, তার ভেতর থেকে বেরিয়ে | এল এক রূপসী। পরমা সুন্দরী তন্বী যুবতী। বেহেস্তের পরীদের সৃষ্টি করার পর অবশিষ্ট সৌন্দর্যটুকু যুবতীটির গায়ে লেপে দেওয়া | হয়েছে। নতুবা বেহেস্তের পরীদেরই একজন এই রূপসী তন্বী যুবতীটি। তার রূপের আভায় চোখ দুটো যেন ঝলসে দিচ্ছে। বেহেস্তের পরীটির আলােকচ্ছটায় যেন গাছের তলা ও তার চারদিকের অনেকখানি অংশ উদ্ভাসিত।
আফ্রিদি বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে রূপসী পরীটির রূপ সৌন্দর্য। দেখতে লাগল। তারপর আবেগ-মধুর সম্ভাষণে বলতে লাগল ‘মেহবুবা, আজ তােমার শাদী হবার কথা ছিল। আমি পেয়ারের সাহজাদীকে শাদীর আসর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছি। ব্যস, তারপর | থেকেই আমার আঁখির নিদ উবে গেছে। অবসাদে আজ আমার তবিয়ত কাহিল হয়ে পড়েছে। এখন আমি নিদ যাব। তােমার কোলে শির রেখে নিদ যাব। | রূপসী তন্বী যুবতীটির কোলে মাথা রেখে অতিকায় আফ্রিদি দৈত্যটি ঘুমিয়ে পড়ল। মুহুর্তেই গভীর ঘুমে বেহুস হয়ে পড়ল।
রূপসী তন্বী যুবতীটি এদিক-ওদিক দৃষ্টি ফেরাতে গাছের ডালে | অবস্থানরত দু ভাইয়াকে দেখতে পেল। অতি সন্তর্পণে ঘুমন্ত আফ্রিদির মাথাটিকে কোল থেকে নামিয়ে দিল। দু’ভাইকে ইসারা করে বুঝিয়ে দিল দৈত্যের ঘুম সহসা ভাঙবে না। তােমরা নির্ভয়ে নেমে এসাে।। | রূপসী তন্বী যুবতীটির কাছ থেকে অভয় পেয়ে দু’ভাইয়া কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পারলেন বটে। তবু তাদের ফ্যাকাসে মুখ অধিকতর ফ্যাকাসে হয়ে গেল। চোখের তারার ভীতিও হতাশাটুকু গাঢ়তর হ’ল।।
রূপসী এবার অভয় দিতে গিয়ে বলল—“আল্লা তাল্লার নামে হলফ করে বলছি, তােমাদের কোন অনিষ্টই হবে না। আমার কথায় ভরসা রেখে গাছ থেকে নেমে এসাে। আর যদি নেহাৎই আমার হুকুম তামিল না কর তবে তােমাদের নসীবে দুঃখ আছে। দৈত্যকে জাগিয়ে দেব। গলাটিপে মেরে ফেলবে তােমাদের। এখনও সময় আছে, নেমে এসাে, আমার কলিজাটাকে শান্ত কর। কলিজার আগুনে পানি ঢেলে। আমাকে শান্তি দাও, তৃপ্ত কর। তােমরা ভােগ কর আমাকে। |
বাদশাহ শারিয়ার আর তার ভাইয়া গাছের ডালে বসে পরস্পরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে কয়েক মুহূর্ত কাটিয়ে আল্লাল্লার ওপর নিজেদের নসীবকে অর্পণ করে তারা দুরুদুরু বুকে অপরূপার মুখােমুখি এসে দাঁড়ালেন। রূপসী তন্বী যুবতীটি মুহূর্তের মধ্যে ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ল। আবেশে জড়ানাে কামাতুর চোখ দুটো মেলে দু’ ভাইয়ার দিকে তাকাল। ভাবাপ্লুত কণ্ঠে বলল—“তােমরা এক এক করে আমার কলিজার জ্বালা নেভাও। চুম্বন, দলন, পেষণ আর সম্ভোগে সম্ভোগে আমাকে উতলা করে তােল। অন্তর্জালায় দগ্ধে মরছি আমি। আমাকে তৃপ্ত কর, শান্তি দাও। | দু’ ভাইয়া পরস্পরের চোখ চাওয়া-চায়ি করতে লাগল। কে আগে যাবে? | রূপসী তন্বী যুবতী অস্থিরকণ্ঠে বলে উঠল—দেরী কোরাে না, চলে এসাে। কলিজার জ্বালায় আমি জ্বলেপুড়ে খাক হচ্ছি! দেরী করলে কিন্তু আমি আফ্রিদিকে ডাকতে বাধ্য হ’ব, বলে দিচ্ছি। | দু ভাইয়া নিতান্ত অনন্যোপায় হয়ে একের পর এক রূপসী যুবতীকে সম্ভোগের তৃপ্তি দানে লিপ্ত হলেন। তার কলিজা ঠাণ্ডা না পরা হওয়া পর্যন্ত তারা কামাতুরা যুবতীকে সঙ্গদান করলেন। নিজেরাও কম তৃপ্তি পেলেন না। পরিতৃপ্তি লাভ করে রূপসী যুবতীটি ঠোটের কোণে হাসির রেখা | ফুটিয়ে তুলে বলল—নারীর কামজ্বালা নির্বাপিত করে তৃপ্তিদানের কৌশল তােমাদের দুজনেরই দেখছি খুব ভাল রপ্ত আছে! | রূপসী যুবতীটি এবার একটি থলির ভেতর থেকে একগােছা | আঙটি বের করে তাদের চোখের সামনে ধরল। মিষ্টি-মধুর স্বরে উচ্চারণ করল- এগুলাে কি বলতে পার? | দু’ভাইয়ার চোখের তারায় জিজ্ঞাসার ছাপ এঁকে নীরবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাে। | রূপসী যুবতীটিই মুশকিল আসান করতে গিয়ে বলল—ইতিপূর্বে | আফ্রিদির চোখের আড়ালে যাদের দিয়ে আমি সম্ভোগের মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ করেছি তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি করে আঙটি নিয়ে এখানে গেঁথে রেখেছি। এ গােছাটিতে একশ’ সত্তরটি আঙটি রয়েছে। এগুলাে আমার কাজের স্মৃতিস্বরূপ। তােমরা দু' জনেও আমাকে একটি করে আঙটি দাও স্মৃতির গােছায় গেঁথে রাখি। ভবিষ্যতে আঙটি দুটো দেখলেই আজকে তােমাদের দ্বারা যে সম্ভোগের তৃপ্তি পেয়েছি সে কথা আমার মনের কোণে ভেসে উঠবে। | বিস্ময়ে অভিভূত শাবিয়ার আর তার ভাইয়া কথা না বাড়িয়ে নিজ নিজ অঙ্গুলি থেকে আঙটি খুলে রূপসী যুবতীর হাতে তুলে দিলেন। | রূপসী যুবতী ঠোটের কোণে পরিতৃপ্তির হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে এবার বলল—এ হতচ্ছাড়া দৈত্য আফ্রিদি আমাকে শাদীর আসর থেকে জবরদস্তি ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। তারপরই ওই লােহার সিন্দুকটায় বন্দী করে দেশ-দেশান্তরে, বন-বনান্তরে আর। পাহাড়ে-মরুতে মাথায় করে হরদম ঘুরে বেড়িয়েছে। আমাকে নিয়ে তার হরকত ডর, যদি হাতছাড় হয়ে যাই। তাই সমুদ্রের অতল গহ্বরে রেখেছে আমাকে। কিন্তু হতচ্ছাড়া শয়তান দৈত্যটা তাে একটা আস্ত। আহাম্মক। লেড়কিদের চরিত্রের কথা তাে তার বিলকুল অজ্ঞাত। আসলে আমরা, লেড়কিরা কলিজার তৃপ্তির জন্য যা চাইব যে করেই হােক লাভ না করে শান্ত হব না। লেড়কিদের আটকে রেখে সতর্কতার সঙ্গে চোখে চোখ রেখেও কেউ তাদের লক্ষ্যচ্যুত করতে। পারেনি। ভবিষ্যতেও কোনদিন সক্ষম হবে না।
বাদশাহ শারিয়ার এবং তার ভাইয়া শাহজামান তার কথায় যেন সম্বিৎ ফিরে পেলেন। ভাবলেন,—“বিশালদেহী, অমিত শক্তিধর ও | দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দৈত্যের এত সতর্কতা সত্ত্বেও রূপসী যুবতীটি কেমন করে তাকে বৃদ্ধাঙ্গলি প্রদর্শন করে নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে চলেছে তা বাস্তবিকই বিস্ময়কর ততা বটেই, রীতিমত অবিশ্বাস্যও।
আর তারা দু’ ভাইয়া তাদের বিবিকে রক্ষা করার জন্য কতটুকুই বা সতর্কতা অবলম্বন করেছেন? কিছুমাত্র না। বিশ্বাসঘাতকতা তাে তারা করবেই।
রূপসী যুবতী ও দৈত্য আফ্রিদির কিসসা শুনে এবং তাঁর ভাইয়া শাহজামান কিছুটা অন্ততঃ স্বস্তি পেলেন। তারা এবার নিজ নিজ প্রাসাদে ফিরে গেলেন।
বাদশাহ শারিয়ার প্রাসাদে ফিরেই উদভ্রান্তের মত তার খাস বেগমের কামরায় হাজির হলেন। তরবারির আঘাতে বেগমের শিরচ্ছেদ করে ফেললেন। আর হারেমে যত ক্রীতদাস আর ক্রীতদাসী ছিল সবাইকে খতম করার নির্দেশ দিলেন।
বাদশাহ শারিয়ার উদ্ভ্রান্তের মত চেঁচিয়ে উজিরকে তলব করলেন। বৃদ্ধ উজির দুরুদুরু বুকে ছুটে এসে কুর্নিশ করে আদেশের অপেক্ষায় বাদশাহের সামনে দাঁড়ালেন। | বাদশাহ মুখের গাম্ভীর্যটুকু অক্ষুন্ন রেখেই বললেন—“উজির, আমার হুকুম শােন, আজ থেকে প্রতি রাত্রে একটি করে কুমারী লেড়কি আমার ঘরে হাজির করবে। আমি সারা রাত্রি তাকে নিয়ে সম্ভোগে লিপ্ত থাকব। আর পূর্ব-আকাশে রক্তিম ছােপ ফুটে ওঠার আগেই তাকে নিজে হাতে খতম করব। সে যাতে তার কলঙ্কিত দেহ পবিত্র বলে অন্য কোনাে পুরুষকে দান করে প্রতারণা করতে না পারে। মনে রেখাে, আমার হুকুম তামিল না করলে তােমার শিরটা গর্দান থেকে নেমে যাবে। যাও, হুকুম তামিলের কথা ভাব গে।। | বৃদ্ধ উজির আর কিছু না হােক অন্ততঃ জানের মায়ায় তিন তিনটি বছর এক নাগাড়ে প্রতিরাত্রে একটি করে কুমারী লেড়কি বাদশাহের শােবার ঘরে হাজির করে চলেন।
ব্যাপার দেখে রাজ্য জুড়ে মানুষের, বিশেষ করে কুমারী লেডকি এবং তাদের আব্বাদের মনে অন্তহীন হাহাকার আর হাহুতাশ সম্বল হয়ে দাঁড়াল। অনেকে লেড়কিকে নিয়ে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেল।প্রজারা একদিন যে বাদশা শারিয়ারকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করত আজ তিনিই তাদের চোখে সাক্ষাৎ শয়তানে পরিণত হয়েছেন। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে খােদার কাছে তারা নালিশই শুধু নয়, প্রতিনিয়ত তার মৃত্যু কামনা করে।.........To be continued

0 Comments