আরব্য রজনী পার্ট ১৪ ( Part 14 )

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ 

                                               আমিও সর্বান্তকরণে আল্লাহর ফরমান মান্য করে পরম অস্তিক হয়ে উঠলাম।
আমাকে সতর্ক করে দিতে গিয়ে বৃদ্ধা প্রায়ই বলত—'খবরদার, এ সব কথা যেন তােমার আব্বার কানে ভুলেও তুলাে না। তিনি টের পেলে কেলেঙ্করীর চূড়ান্ত হয়ে যাবে। খেয়াল থাকে যেন। তবে কিন্তু আমার গর্দান যাবে। আমার ইচ্ছা, তােমাকে একজন আদর্শ মানব করে তুলি। এর জন্য চাই সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস। নারদুন-এর উপাসক তােমার আব্বা অধর্মের পথে, অসত্যের পথে আর ধ্বংসের পথে অন্ধের মত ছুটে চলেছেন। তিনি শয়তান এর উপাসক। নারদুন এক সাক্ষাৎ শয়তান। সে সর্বনাশের আর ধ্বংসের পথপ্রদর্শক। প্রেম-প্রীতি-ভালবাসা ও জীবনের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য ও ঔদার্য কাকে বলে তা তার অজ্ঞাত। অতএব তুমি অন্তরের প্রেম-ভালবাসা নিঙড়ে মানুষদের আপন করে নেওয়ার মানসিকতা অর্জন কর। আদর্শ মানব হয়ে ওঠ।।

আমার ঈশ্বরীয় পাঠদান প্রায় শেষ করে একদিন আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাসী বৃদ্ধাটি মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বেহেস্তের পথে যাত্রা করলেন।
এক মধ্যরাত্রে আল্লাহ নিদ্রিত নগরবাসীকে স্বপ্ন দেখালেন—‘আর ঘুমিয়ে থেকো না। জাগ। আমিই একমাত্র উপাস্য। আমার অঙ্গুলি হেলনেই দুনিয়ার সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ব প্রপঞ্চে যা কিছুর অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছ সবই আমার সৃষ্টি। আমাতেই সৃষ্টি। আবার ক্ষয়ও আমাতেই। যাদুকর নারদুন এর মায়া-মোহে তােমরা অন্ধ হয়ে আমাকে অস্বীকার করছ। পাপের সাগর থেকে তােমাদের উদ্ধার করে তােমাদের যথার্থ মুক্তির পথের সন্ধান দিতে তারা অক্ষম। তােমাদের মুক্তিদানের ক্ষমতা কিছুমাত্রও তাদের নেই। পাপ, অন্যায় আর ব্যাভিচারই যে তার একমাত্র অবলম্বন। আমার মধ্য দিয়েই তােমরা একদিন মুক্তির স্বাদ পাবে। সার্থকতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। | পাখির ডাকে ভাের হ’ল। সূর্য উঠতে না উঠতেই নগরবাসীরা দলে দলে কাতারে কাতারে সুলতানের দরবারে উপস্থিত হতে লাগল। সবার মুখেই ভীতি আর হতাশার ছাপ। সুলতান সব শুনে সরবে হেসে উঠলেন— মুষড়ে পােড়াে না। আমাকেও শয়তানটি ওই একই রকম স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আর শাসিয়েছে তার কথামত না চললে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। ধুৎ, কিছু করতে পারবে না। নারদুনকে দিয়ে আমি সব ঠাণ্ডা করে দেব। ওসব বাজে চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে মুছে ফেল। নারদুনই রক্ষা করবেন। তিনি সর্বশক্তির আধার। তােমরা নির্ভয়ে বাড়ি ফিরে যাও। | সুলতানের কথা শুনে প্রজারা আশ্বস্ত হয়ে যে যার বাড়ি ফিরে গেল। পুরাে একটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। প্রজারা অভিশপ্ত রাত্রির ভয়ঙ্কর সে-স্বপ্নের কথা ভুলে গেল। তারপর আবার একই রকম দৈববাণী হ’ল। এখনও সময় আছে। তােমরা আমার আদেশ পালন কর। শয়তান নারদুন-এর কাছ থেকে তােমাদের বিশ্বাস-ভক্তি তুলে এনে আমার প্রতি আস্থাবান হও। অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে বলে রাখছি!' | সুলতানকে আবার সব কিছু জানানাে হ'ল। তিনি এবারও পাত্তাই দিলেন না। উপরন্তু বজ্রগম্ভীর সুরে হম্বিতম্বি করলেন। নারদুনে বিশ্বাস রাখ! অগ্নির আরাধনা কর! ব্যস, সর্ববিঘ্ননাশ হয়ে যাবে। একমাত্র তিনিই দিতে পারেন মুক্তিপথের নির্দেশ।



তারপরের বছর এক মাঝরাত্রে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। একই স্বরে দৈববাণী হ’ল। আল্লাহর ফরমান জারি হল।


প্রজারা আবারও সুলতানের শরণাপন্ন হ’ল। সুলতান কিন্তু একই জেদ বজায় রাখলেন।


ব্যস, আর দেরী নয়। আল্লাহর ফরমান অনুযায়ী কাজ না করায় প্রজাদের ভয়ঙ্কর এক ঘটনার মুখােমুখি হতে হ’ল। আকাশের গায়ে দেখা দিল এক উস্কাপিণ্ড। চোখের পলকে নগর জুড়ে বিদ্যুতের ঝিলিক খেলে গেল। ব্যস, সব শেষ। নগরে যত মানুষ ছিল সবাই চোখের পলকে পাষাণ মূর্তিতে পরিণত হয়ে গেল। কেবলমাত্র মানুষই নয়, গরু, ছাগল, ভেড়া, উঠ, গাধা আর খচ্চরগুলাে পর্যন্ত বাদ গেল না। সবাই প্রস্তরীভূত হয়ে গেল। ইসলামে বিশ্বাসী, আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম আস্থাবান কেবল আমিই অব্যাহতি পেয়ে গেলাম।


ব্যস, এ-নগরীর সবাই পাষাণমূর্তি আর আমি একাই শুধু রয়ে গেলাম রক্ত-মাংসের প্রাণবন্ত মানুষ। নিঃসঙ্গ আমি সারাদিন কোরাণ শরিফ পাঠ করে, আল্লাহর নামগান করে দিন গুজরান করি। সুন্দরী, এতদিন পর রক্ত-মাংসের প্রাণবন্ত মানুষ তােমাকে কাছে পেয়ে আমার মনে যে কী আনন্দ হচ্ছে তা বুঝিয়ে বলতে পারব না! অনেকদিন পর প্রাণ খুলে দুটো কথা যে বলতে পারছি তা আল্লাহর দোয়াতেই।


আমি তার আচরণে মুগ্ধ হলাম। আর তার অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে তার প্রতি সহানুভূতিতে মন-প্রাণ ভরে উঠল। সমবেদনার সুরে বল্লাম-এ-পাষাণপুরী ছেড়ে আমাদের বাগদাদ নগরীতে চল না কেন। সেখানে কেউ কারাে প্রতি ঈর্ষা করে না। আল্লাহর পীর হারুণ-অল রসিদ সেখানকার শাসক। সুলতান। প্রজাবৎসল সুলতান। কেউ কোনদিন সাহায্য প্রার্থনা করে হতাশ হয়ে ফিরে গেছে, শােনা যায় নি। ইসলাম ধর্মের অনেক বড় বড় পণ্ডিত ব্যক্তিদের সঙ্গে জান পহচান হবে। আলাপ-আলােচনার মাধ্যমে গভীর তত্ত্বের সন্ধান পাবে যাতে তােমার আল্লাতাল্লার ওপর আস্থা বাড়বে। আর দ্বিধা-সংকোচ নয়। চল, আজই পাষাণপুরী ছেড়ে বেরিয়ে পড়া যাক। আর আমি এতদিন যে নিকা করিনি তাও হয়তাে আল্লাতাল্লার মর্জিতেই তােমাকে জুটিয়ে দেবেন বলেই হয়ত আমাকে এতদিন তিনি নিঃসঙ্গ করে রেখেছেন। বাগদাদে গিয়ে আমরা শাদী-নিকা করে স্বর্গ রচনা করি। উপলব্ধি করি জীবনের 


প্রকৃত স্বাদ। | বেগম শাহরাজাদ এ-পর্যন্ত বলে তার কিসসা বন্ধ করলেন।

                                                    সপ্তদশ রজনী  
বাদশাহ শারিয়ার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বেগমের ঘরে উপস্থিত হলেন।

বেগম শাহরাজাদ তার কিসসার পরবর্তী অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—জাঁহাপনা, জুবেদা তখন বাদশাহের পুত্রের মহব্বতে মাতােয়ারা।

বাদশাহের পুত্রের ঘরেই জুবেদা রাত্রিবাস করল। সকাল হ'ল। জুবেদা বাদশাহের পুত্রের পালঙ্কে, তার পায়ের কাছে শুয়ে অকাতরে ঘুমােচ্ছে।

জুবেদা তার পরের ঘটনা সম্বন্ধে খালিফা হারুণ-অল-রসিদ’কে বল্ল-জাহাপনা, সকাল হতেই আমি চোখ মেলে তাকালাম। দেখি, বাইরের বাগানে অনেক আগেই সূর্যের আলাে পৌছে গেছে।

মণি-মাণিক্য প্রভৃতি বহু মূল্য রত্ন যত বেশী সম্ভব পােটলা বেঁধে নিলাম। এবার বাদশাহের পুত্রকে নিয়ে আমার দেশের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম।

জাহাজে পৌছে দেখি আমার অদর্শনে বড় বহিনরা খুবই মুষড়ে পড়েছেন। সবার চোখে মুখে হতাশা আর উৎকণ্ঠার ছাপ।

আমি নবাগত বাদশাহের পুত্রের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিলাম। আর এ-ও বল্লাম—‘বাদশাহের ছেলে আমার মেহবুব। আমার সঙ্গে বাগদাদ নগরে যাবে। আমরা শাদী করে সুখে ঘরসংসার করব।তারপর গত রাত্রে যা কিছু ঘটেছিল সবিস্তারে বর্ণনা করলাম। আমার বড় বহিনেরা ছাড়া জাহাজের ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে খালাসীরা পর্যন্ত সবাই আমার কথায় খুশীতে ডগমগ হয়ে উঠল। এর একটিই কারণ—ঈর্ষা। যার ধন-সম্পদ অপরিমেয় এমন এক বাদশাহের পুত্রকে শাদী করতে চলেছি শােনার পর তাে তাদের মাথা ঠিক থাকার কথাও নয়।

আমাদের জাহাজ আবার নােঙর তুলল। আমর মেহবুব সর্বদা এটুলির মত আমার গায়ে গায়ে লেগে থাকে। আমরা মহব্বতের সায়রে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পরমানন্দে দিন কাটাতে লাগলাম।

আমার বড় বহিনরা ঈর্ষা করলে তাে কিছু আর করার নেই।। তারা তাে শাদী করে ঘর বেঁধে ছিলই। কিন্তু নসীবে জুটেছিল দু'জন প্রবঞ্চক। মধু খেয়ে প্রবঞ্চনা করে চম্পট দিয়েছে, তার জন্য আমরা তাে কোন অংশেই দায়ী নই।

অনুকূল বাতাস পেয়ে আমাদের জাহাজ তীর বেগে ছুটতে শুরু করল। কদিন ক’রাত্রি অনবরত জাহাজ চালিয়ে ক্যাপ্টেন আমাদের জাহাজকে বন্দরে নােঙর করাল। আমরা স্বদেশে পৌছে গেলাম।

আমরা বাড়ি পৌছে সামান্য বিশ্রাম নিলাম। তারপর ভাল করে গােসল সেরে সামান্য কিছু মুখে দিয়ে নিলাম।

রাত্রির অন্ধকার ক্রমে ঘনিয়ে এল। আমরা জাহাজের মধ্যে যে,  যার মত শুয়ে পড়লাম। এক অনাস্বাদিত রােমাঞ্চকর অনুভূতির মধ্যে আমি নির্ঘুম রাত্রি কাটাতে লাগলাম। আমার ঈর্ষাকাতরা বড় বহিনেরা ঘুমনাে তাে দূরের কথা চোখের পাতা দুটো পর্যন্ত এক করল না।  আমরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আমার বড় বহিনরা আমাদের চ্যাঙদোলা করে সাগরের পানিতে ফেলে দিল। বরাত ভাল যে, আমি সাঁতার জানি। উত্তাল-উদ্দাম সাগরের সঙ্গে লড়াই করে করে আমি কোনরকমে ডাঙায় উঠলাম।

সকাল হলে বুঝলাম, এলােমেলাে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে  গিয়ে জাহাজ থেকে আমরা অনেক দূরে চলে গিয়েছি।

সমুদ্র সৈকত থেকে তীরের দিকে উঠতে গিয়ে সরু একটি পথের হদিস পেলাম। কিছুটা পথ যেতে না যেতেই চোখে পড়ল অতিকায় একটি সাপ ছােট্ট একটি সাপকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। ছােট সাপটার জন্য মায়া হ’ল। হাত বাড়িয়ে একটি পাথরের টুকরাে তুলে নিয়ে বড় সাপটিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দিলাম। ব্যস, মুহূর্তে তার মাথাটা থেতলে গেল। মরে গেল হিংসুক সাপটা।

চোখের পলকে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটে গেল। ছােট সাপটা আমারই চোখের সামনে ডানা মেলে শূন্যে উড়ে যেতে লাগল।

আমার দেহ-মন উভয়ই ক্লান্ত। সাগরের সঙ্গে লড়াইয়ের জের তখনও আমার দেহের মধ্যে অবস্থান করছে। ক্লান্ত দেহে পথের ধারের একটি গাছের তলায় বসে পড়লাম। কখন যে দু' চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমি বুঝতেই পারি নি।।

ঘুম ভাঙল। চোখ মেলে তাকাতেই আমার পায়ের কাছে এক  হাবসী যুবতীকে বসে থাকতে দেখলাম। অবলুশ কালাে। কিন্তু চোখ মুখ  ভারী সুন্দর। বুঝলাম আমার পা টিপে দিচ্ছিল এতক্ষণ। আমি সবিস্ময়ে বল্লাম “তুমি কে গা ? আমার কাছে এমন কি প্রত্যাশা করছ যে আমার পদসেবা করতে লেগে গেলে?

‘তুমি তখন আমার জান বাঁচিয়েছিলে। আমি আসলে একটি জিনিয়াই । সাপের রূপ ধরে তখন পালাতে চেষ্টা করছিলাম। একটি জিনি আমার চরমতম শত্ৰু বড় সাপের রূপ ধরে আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল। তার বাসনা ছিল আমার উপর বলৎকার করে। তুমি আমার ইজ্জত আর জান বাঁচিয়েছ। সে কৃতজ্ঞতাতেই তােমার পদসেবা করছিলাম। আর একই কারণে জাহাজ থেকে তােমার বড় বহিনদের তুলে নিয়ে এসেছি। ওই দেখ, যাদুবিদ্যা প্রয়ােগ করে তাদের কালাে কুত্তি করে রেখেছি। অবশ্য তােমার মন চাইলে  তাদের পূর্বেকার সেরূপও আমি ফিরিয়ে দিতে পারি।

আমি চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলাম- “দরকার নেই। তারা কালাে কুত্তী হয়েই থাক। কিন্তু আমার মেহবুব, সে-বাদশাহের লেড়কার কোন হদিস দিতে পার ?

হাবসী মেয়েটির মুখে বিষাদের ছায়া নেমে এল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল —“আমি দুঃখিত। আমি পৌছবার আগেই সে ইহলােক ত্যাগ করে আল্লাতাল্লার সঙ্গে মিলিত হতে চলে গেছে। তার সাঁতার জানা না থাকায় পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে গিয়েছিল। বড় বহিনদের ওপর রাগে আমার সর্বাঙ্গ কাপতে লাগল। মন চাইছিল গলা টিপে তাদের একেবারে নিকেষ করে দেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর পারলাম না। একই গর্ভে জন্ম কিনা। মায়া হল।

হাবসী মেয়েটি তখন এক হাতে কুত্তী দুটোকে আর অন্য হাতে আমাকে আলতাে করে ধরে শূন্যে উড়ল। নামল এসে আমার স্বদেশ বাগদাদে। আমার বাড়ির দরজায় নিয়ে সে আমাকে নামাল।।

আমি যেসব ধন দৌলত জাহাজে তুলেছিলাম সবই দেখলাম | আমার আগেই বাড়ি পৌঁছে গেছে। আমি যখন গাছতলায় গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিলাম তখনই’ নাকি জিনিয়াই এগুলাে এখানে রেখে গেছে।

জিনিয়াই বিদায় নিতে চাইল। যাবার আগে বলল —‘সুলেমান এর নিদের্শ অনুযায়ী কুত্তি দুটোকে রােজ তিন শ’ ঘা বেত্রাঘাত করবে। যদি কোনদিন বেত্রাঘাত করতে ভুলে যাও তবে আমি অকস্মাৎ হাজির হব। আর এদের আগের রূপ ফিরিয়ে দেব।

তারপর থেকে আমি প্রতিরাত্রেই ওদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাত করে আসছি।

বড়বােন জুবেদা তার জীবনকথা শেষ করে বলল—“জাহাপনা, আমার কথা তাে আপনার কাছে ব্যক্ত করলাম। এবার আমার বহিন আমিনা তার জীবনের অত্যাশ্চর্য কাহিনী শুনিয়ে আনন্দ দান করতে প্রয়াসী হবে।

                                              আমিনার জীবনকথা 
খলিফা হারুণ-অল-রসিদ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে মেজো বােন আমিনা তার জীবনকথা শুরু করল—‘জাহাপনা, আমার বড় বহিন, তার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, আব্বাজী গােরে যাওয়ার পর আমরা কে কোথায় গেলাম। তার কথায় ছিল, আমি আম্মার কাছে গিয়ে বড় হতে লাগলাম। কিছুদিন যেতে না যেতেই আমার আম্মা এমন এক বুড়াে বণিকের সঙ্গে আমার শাদী দিলেন যার গােরে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। ধন-দৌলতের কুমীর কিন্তু সামর্থ্য কিছুই তার ছিল না। এক বছর পেরােবার আগেই আমার বুড়াে স্বামী বেহেস্তে চলে গেলেন। আমি আশি হাজার সােনার মােহরের মালিক হলাম। আমির-বাদশাহের কাছাকাছি তখন আমার ধনসম্পদ গহনা আর দামি পােশাকে আমার ঘর ভরে গেল। | কিছুদিনের মধ্যেই মুড়ি-মুড়কির মত মােহর উড়িয়ে আমি ফতুর হয়ে গেলাম।

এক সকালে এক থুড়থুড়ে বুড়ি আমার কাছে হাজির হল। একেবারেই কদাকার তার চেহারা। এর আগে অবশ্যই তাকে কোথাও দেখিনি।

আমার সামনে এসে কুর্নিশ করল। ফ্যাসফেঁসে গলায় বললএকটা অনাথ লেড়কিকে আমি লালন পালন করে আজ ইয়া  ডাগরটি করে তুলেছি। আজ রাত্রে তার শাদী, কিন্তু আমার হাত একেবারে শূন্য। তােমার দয়া দাক্ষিণ্যের কথা অনেক শুনেছি। | তােমার মনে যা চায় আমার হাতে দিয়ে একটি অনাথ মেয়ের গতি

করতে সাহায্য কর। আর একটি অনুরােধ, মেহেরবানি করে তােমাকে একবারটি আমার কুড়ে ঘরে পায়ের ধুলাে দিতেই হবে। 

সন্ধ্যার আগে আমি নিজে তােমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব, আবার পৌছেও দিয়ে যাব।

আমি এক কথাতেই রাজি হয়ে গেলাম।

আমি বিকেল পড়তেই আমার জড়ােয়ার গহনাপত্র ও সােনার জরি দেওয়া পােশাক পরিচ্ছদ গায়ে চাপিয়ে তৈরি হয়ে বুড়ির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।

সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসতেই বুড়িটি আমার বাড়ির দরজায় দেখা দিল।

আমার এক গাট্টাগােট্টা নােকরকে সঙ্গে নিয়ে আমি বুড়ির সঙ্গে যাত্রা করলাম। বিশালায়তন এক বাড়িতে সে আমাদের নিয়ে গেল। বাদশাহের প্রাসাদের ঢঙে বাড়িটি তৈরি। শাদীর উপযুক্ত করে ফুলমালা আর রঙ বেরঙের ঝাড়বাতি প্রভৃতি দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে তােলা হয়েছে সেটিকে। বুড়িটি আমাকে নিয়ে বড়সড় একটি ঘরে ঢুকল। তার আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে ঘরটি এমন নিপুণভাবে সাজিয়ে তােলা হয়েছে যার বর্ণনা দিতে গেলে রাত্রি কাবার হয়ে যাবে, জাঁহাপনা।

সুনিপুণ হাতে তৈরি কারুকার্য শােভিত একটি পালঙ্কের ওপর আধা শােওয়া অবস্থায় এক রূপসী যুবতীকে দেখতে পেলাম। যাকে বলে একেবারে অপরূপা।  আমাকে দেখেই মেয়েটি হাসির প্রলেপ মুখে এঁকে বলে উঠল—“আমাদের নসীবের কী জোর যে, তােমার পায়ের ধূলাে আমাদের জীর্ণ কুটীরে পড়ল!কথা বলতে বলতে সে পালঙ্ক থেকে নেমে এসে আমার হাত দুটো ধরে নিয়ে গিয়ে বসাল। মেয়েটি এবার বলল—“তােমাকে একটি কথা বলার জন্য বড়ই  মানসিক চাঞ্চল্য বােধ করছি। শােন, আমার একটি ভাই আছে। সুঠাম দেহী। যথার্থই সুপুরুষ। অগাধ ধন-দৌলতের অধিকারী। তােমার রূপ দেখে সে পাগল। তােমাকে শাদী করে জীবনসঙ্গিনী করার জন্য খুবই ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। বুড়িকে তােমার কাছে পাঠিয়েছিলাম কৌশলে তােমাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য। আমি বলব, আমার ভাই তােমার পাশে দাঁড়াবার অনুপযুক্ত অবশ্যই নয়। তুমি বরং এক কাজ কর। তাকে নিজের চোখে দেখে তবেই তােমার মতামত ব্যক্ত কর।

আমি তার কথায় সম্মতি জানালাম।

আমার সম্মতি পেয়ে মেয়েটি দু’বার করতালি দিল। ব্যস, একটি দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল। এক সুপুরুষ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল। চোখের তারায় বিস্ময়ের ছাপ এঁকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে যুবকটির রূপ-সৌন্দর্য নিরীক্ষণ করতে লাগলাম। সত্যই রূপবান যুবকই বটে। কোন পুরুষের দেহে এমন রূপের জৌলুষ থাকতে পারে আমি ভুলেও কোনদিন ভাবিনি।

আমি যখন মুগ্ধ নয়নে যুবকটির রূপ-সৌন্দর্য পান করে চলেছি। তখনই এক বৃদ্ধ মৌলভী আর চারজন সাক্ষী ঘরে ঢুকলেন।

আমার সম্মতি পাওয়ার পর মৌলভী শাদীর কবুলনামা তৈরি করলেন। সাক্ষীরা তাতে স্বাক্ষরদান করল।

কাজ সেরে মৌলভী ও সাক্ষীরা বিদায় নিলেন।

আমার সদ্য শাদী করা স্বামী একটি কোরাণ শরীফ তুলে নিয়ে বলল-মেহবুবা, পবিত্র গ্রন্থটি স্পর্শ করে তুমি একটিবার বল, তুমি আমার, শুধুই আমার। আমাকে ছেড়ে ভুলেও কোথাও যাবে না। আর অন্য কোন পুরুষের প্রতি আসক্তি জন্মাতে মনকে কোনদিনই প্রশ্রয় দেবে না।

আমি কোরাণ শরিফ হাতে নিয়ে উচ্চারণ করলাম, তুমি আমার স্বামী, তুমি ছাড়া আর কোন পুরুষের প্রতি ঝুঁকব না। আমার স্বামী আমাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বনে চুম্বনে মুহূর্তে আমার মধ্যে উন্মাদনা জাগিয়ে তুলল। পুরুষের দেহের স্পর্শসুখ যে কী মধুর আমি সেদিনই প্রথম উপলব্ধি করলাম। মুহূর্তে আমার সর্বাঙ্গে বিদ্যুতের শিহরণ খেলে গেল। মাদকতা জাগল আমার দেহ-মনে। হৃদপিণ্ডের স্পন্দন ক্রমেই দ্রুত থেকে দ্রুততর হতে লাগল। এক অনাস্বাদিত পুলকানন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলাম আমি।

আমার স্বামীর বােন অনেক আগেই আমাদের কক্ষ ছেড়ে চলে গেছে। ঘরে তখন আমি আর আমার ভাল মানুষ স্বামীটি ছাড়া আর কেউ-ই নেই। আমার পরমতম প্রাপ্তির প্রথম রাত্রি।

ইতিপূর্বেও আমার একবার শাদী হয়েছিল। এক হাড় গিলগিলে বুড়াের সঙ্গে। কিন্তু সে আমার দেহ স্পর্শও করতে পারে নি। আমাকে স্পর্শ করার মত সামর্থ্য বা মানসিকতা কোনটিই তার ছিল না। কিন্তু সে রাত্রে? আমার স্বামী এক মধুরতম শুভ লগ্নে আমার কুমারীত্বকে ছিনিয়ে নিল। না, ছিনিয়ে নেয় নি। আমি স্বেচ্ছাপ্রণােদিত হয়ে তার হাতে নারীর অমূল্য সম্পদ কুমারীত্বকে তুলে দিলাম। আর সেই সঙ্গে তার পেশীবহুল হাতও সুপ্রশস্ত বুকের দলন, পেষণ, মর্দনের মাধ্যমে মনুষ্য জীবনের পরম প্রাপ্তি সম্ভোগ-সুখ পুরােপুরি উপভােগ করলাম। আমার স্বামী কখনও ওষ্ঠে ওষ্ঠ রেখে, বুকে বুক রেখে আমাকে অমৃত পান করাতে লাগল। আবার কখনও বা তার বলিষ্ঠ জানুদ্বয়ের পেষণে আমার জানুদ্বয়কে পিষ্ঠ করে অবর্ণনীয় পুলকানন্দ দান করতে লাগল। সম্ভোগে নাকি পিষ্ট হয়ে—কিসে যে বেশী সুখ তা বােঝার মত ক্ষমতা তখন আমার অন্তর থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেছে। আমার আঠার বছরের যৌবনভরা দেহপল্লবটিকে তার হাতে সঁপে দিয়ে আমি স্থবিরের মত পালঙ্কের ওপর এলিয়ে পড়ে রইলাম। ও যেমনভাবে খুশি ছিড়ে কুঁড়ে উপভােগ করুক আঠার বছর ধরে সযত্নে রক্ষিত আমার দেহটিকে। উদ্দাম আনন্দানুভূতি আর চাওয়া পাওয়ার মধ্য দিয়ে সুদীর্ঘ রাত্রিটি যেন মুহূর্তে কেটে গেল।।

এক-দুই-তিন করে ত্রিশটি রাত্রি যে কি করে ফুরিয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।

এক সকালে কিছু কেনাকাটা করার জন্য স্বামীর অনুমতি নিয়ে। বুড়িটিকে সঙ্গে করে বাজারে গেলাম। কয়েকটি পছন্দমত দামী শাড়ি কিনলাম। দাম দিতে গিয়ে পড়লাম ফ্যাসাদে। দোকানি দাম নিতে চাইল না। বলল—আপনি এই প্রথম আমার দোকানে এলেন। আজকের কাপড় ক’টি আপনাকে উপহারস্বরূপ দিলাম। আমি ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারলাম না। রেগে গিয়ে বললাম—“দাম না নিলে আপনার শাড়ি রেখে দিন। বিনা মূল্যে আমি... বুড়ি আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বল—“কেন মিছে পীড়াপীড়ি করছ? ভালবেসে যদি উনি শাড়ি ক’টি দিয়েই থাকেন নিতে আপত্তি কিসের বুঝছি না তাে!

আমি কিছু বলার আগেই দোকানি এবার বল্ল-‘আপনি মিছেই রাগের অপব্যবহার করছেন। আমি না হয় উপহারই দিলাম। কি-ই বা দাম যে, এর জন্য আপনার প্রবল আপত্তি থাকতে পারে! বিনিময়ে কেবলমাত্র আপনার মধুমাখা ঠোট দুটো চুম্বন আশা করছি। মেহেরবানি করে-' 

আমি বুঝলুম নচ্ছার বুড়িটি কুমতলবের শিকার হয়ে আমাকে এ-দোকানে ঢুকিয়েছে। " আমি সবে অধিকতর ক্ষোভ প্রকাশ করতে যাব অমনি বুড়িটি বল্ল—“তুমিও পার বাপু। এতগুলাে টাকার শাড়ীর বিনিময়ে একটি বা দু’টি চুম্বন দিলে কি তােমার ঠোট দুটো ক্ষয় হয়ে যাবে? তুমি ভাবতে পারছ না, তার বাসনা পূর্ণ করলে সােনা-রূপা আর মণি মাণিক্য তােমার গা-ঢেকে দেবে।'

–‘অসম্ভব। আল্লাহর নামে আমি স্বামীর কাছে কবুল করেছি কোন পুরুষের প্রতিই আমি আকৃষ্ট হ’ব না। আমার স্বামী জানতে পারলে পরিণাম কি হবে, বুঝতে পারছ ?

—“আরে ধ্যৎ! তুমি যে এমন হদ্দ বােকা তা-তো জানতাম না! | কি করে জানবে? আমরা তিনজন ছাড়া একটি কাক পক্ষীও জানতে পারবে না। যাও এগিয়ে যাও। হাতে পাওয়া জিনিস পায়ে ঠেলতে নেই। বুড়ির পীড়াপীড়িতে রাজি হতে বাধ্য হলাম। লােকটি আচমকা আমাকে জড়িয়ে ধরে একটি চুম্বন করল। কথা ছিল একটি মাত্র চুম্বনই সে করবে। কিন্তু পরমুহূর্তে সে আমাকে হিংস্র জানােয়ারের  মত চেপে ধরল। আচমকা একটি ধাক্কা দিয়ে কোনরকমে নিজেকে মুক্ত করে নিলাম। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেলাম। সংজ্ঞা  লােপ পেল আমার। কতক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরল বলতে পারব না। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি বুড়ি আমার মাথাটি কোলে নিয়ে বসে। গালের ক্ষতস্থানটি দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে। দোকানি আতঙ্কে দোকান ছেড়ে পালিয়েছে। বুড়ি আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে প্রবােধ দিল-বাছা, যা হবার তা-তাে হয়েই গেছে। বাড়ি গিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়বে। ভাব দেখাবে যেন বুখার হয়েছে। বাঁ-দিকের গালটি চাপা দিয়ে রাখবে। কারাে নজরে যেন না পড়ে। ও মাত্র দু'দিনের ব্যাপার। ব্যস, দাগটাগ কোথায় উধাও হয়ে যাবে। | বুড়ির পরামর্শে বাড়ি ফিরে বাঁ-দিকে কাৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম। তার ওপর একটি চাদর চাপিয়ে দিলাম। বুখার।

আমার স্বামী এসে সবিস্ময়ে বলল—তােমার তবিয়ত তাে আচ্ছাই ছিল। এরই মধ্যে এমন কি বুখার হ’ল যে একেবারে বিছানা আশ্রয় করতে হ’ল ?

আমার মুখের দিকে ভাল করে তাকিয়ে সে সচকিত হয়ে বলে উঠল—“আরে ব্বাস! তােমার গালটি এমন করে কেটে গেছে! কি করে এমন সর্বনাশ হ’ল ?

-আর বােল না, নসীবের ফের। বাজারে যাওয়ার পথে এক বুড়াে লকড়ি বেচতে যাচ্ছিল। অন্যমনস্কতার জন্য আচমকা ধাক্কা লেগে একটু ঘায়েল হয়। দু’দিনেই শুকিয়ে মিলিয়ে যাবে।

আমার স্বামী রেগেমেগে একেবারে কাঁই হয়ে গেল। রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল—হারামি, কাঠুরেদের ধরে এনে আমি জবাই করে ছাড়ব!’ আমি কাতর মিনতি করতে লাগলাম—“ছিঃ মাথা গরম কোরাে না। আমারও তাে দেখে পথ চলাটা উচিত ছিল। তার ওপর কয়েকটি ছেলে আবার রাস্তায় গুলি-ডাণ্ডা খেলছিল। আমার বরাত মন্দ। অন্যকে দোষ দিয়ে কি করবে?

-“হতচ্ছাড়ি চুপ করে থাক। তুই ডাইনি! বিশ্বাসঘাতিনী! একটি মিথ্যে ঢাকতে হাজার মিথ্যে কথা টেনে আনছিস। কোরাণ শরিফ স্পর্শ করে হলফ করার পরিণতি কি এ-ই?'

-“হারামজাদি। এবার মজাটা টের পাবি। কথা বলতে বলতে সে বার তিনেক মেঝের ওপর পা ঠুকে আওয়াজ করতেই চোখের পলকে সাত সাতটি হাবসি ক্রীতদাস এসে কুর্নিশ করে আদেশের অপেক্ষায় দাঁড়াল। স্বামীর নির্দেশে তারা আমাকে আছাড় মেরে  মেঝেতে ফেলে দিল। সুতীক্ষ্ণ তরবারি উচিয়ে ধরল একজন। সবার চোখ জবা ফুলের মত লাল যেন আমাকে টুকরাে টুকরাে করে চিবিয়ে খেয়ে নেবে।


আমার স্বামী কর্কশ গলায় গর্জে উঠলেন—“হারামজাদিকে কোতল কর। কেটে টুকরাে টুকরাে করে নেড়ে দিয়ে খাওয়াবি।  একমাত্র এতেই তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।


আমি কাতর মিনতি জানালাম—“আমাকে যখন তুমি কোতলই করবে তখন একটু বিলম্ব করলে এমন আর কি ক্ষতি হবে। গােরে যাবার আগে তােমাকে একটি কথা বলে যাচ্ছি—“যদি মহব্বতের বাতি নিজে হাতে জ্বালিয়েই ছিলে তখন তাকে আবার নেভাতে এত উৎসাহী হয়ে পড়েছ কেন? আর ফুলকে যদি এমন করে অনাদরে ঝরিয়েই দেবে তবে আর কেন মিছে সােহাগ করে তাকে ফোটাতে গেলে?

 -চুপ কর শয়তানি ডাইনি কোথাকার। তাের মুখে মহব্বতের বুলি শােভা পায় না। তাের পিরিতের মরদগুলােকে ছেড়ে কেন আমার দিলটায় এমন করে দাগা দিতে এলি ? তাের রূপ যৌবন আমাকে পাগল করেছিল। মহব্বত করতে শখ হয়েছিল। মােহান্ধ হয়ে পড়েছিলাম। আজ মােহ টুটে গেছে আমার।

আমার চোখের কোল বেয়ে পানি ঝরতে লাগল। ভাবলাম, তার অবিশ্বাস তাে অমূলক নয়। কিন্তু এর জন্য আমি কতটুকু দায়ী? কতটুকু গুণাহ আমার হয়েছে? আমার স্বামীর আচরণে আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম। আমার গুণাহের কথা তাে তার অজ্ঞাত। কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই তার মেহবুবার জান নিচ্ছে! একেবারে কোতল! আবার এও ভাবলাম আসলে পুরুষের কাছে পেয়ার মহব্বত ছেলের হাতের মােয়র মত। মেহবুবা বলে মনের মানুষটিকে বুকে জড়িয়ে ধরল। ভােগ করে করে বেস্বাদ হয়ে গেলে ছলে-বলে-কৌশলে দূরে ছুঁড়ে দিল। একটি নারী, একটি যৌবন আর একই মাংসপিণ্ড.........To be continued.

Post a Comment

0 Comments