আরব্য রজনী পার্ট ১০ ( Part 10)

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ 
আমাকে বাক্সটা থেকে টেনে হিচড়ে বের করল। চোখের যন্ত্রণায় আমি তখন ছটফট করছি। ভাবলাম, এরকম অসহ্য যন্ত্রণায় একদিন তাে উজিরও কাৎরেছিলেন। একটা মানুষের চোখ কানা করে দেওয়া যে কী মর্মান্তিক কাজ তা তখন আমি বেশী করে উপলব্ধি করলাম। তাই তিনি আমার চোখ কানা করেও তৃপ্ত হলেন না, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে পুরােপুরি প্রতিশােধ নিলেন।

ঘাতক আমার আব্বাজীর খুবই বিশ্বস্ত। আব্বাজীর কাছ থেকে উপকৃতও হয়েছে বহুবার। তাই আমাকে ছেড়ে দিল। তবে বার বার সাবধান করে দিল, আমি যেন ভুলেও দেশের মাটিতে কোনদিন পা না দিই। দিলে তবে মৃত্যু অবধারিত।
আমাকে বাঁ চোখটা হারাতে হ’ল সত্য, কিন্তু জানটা রক্ষা হয়ে গেল।
পাহাড়, জঙ্গল আর মরুভূমি ডিঙিয়ে বহুৎ খুব তখলিফ সহ্য। করে ফিরে এলাম চাচাজীর প্রাসাদে। আমার দুর্ভাগ্য এবং আব্বাজীর মৃত্যু সংবাদে তিনি বাচ্চা লেড়কার মত হাউহাউ করে কাঁদলেন, চোখের পানি ঝরালেন। | চাচাজীর মনে তখন লেড়কার শােক জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। কতজনকেই সে লেড়কার কথা পুছতাছ করেছেন তা গল্পগাঁথা নেই। কিন্তু কেউ তার হদিস দিতে পারে নি।

চাচার চোখের পনি আর দীর্ঘশ্বাস আমাকে কাতর করে তুলল। অনন্যোপায় হয়েই তার লেড়কার সে কাণ্ডকারখানার কথা বললাম। | চাচাজী আমার মুখে সবশুনে ব্যস্ত পায়ে সে-গােরস্তানে গেলেন। আমাকে এবং কিছু সৈন্য সামন্তও সঙ্গে নিলেন। অনেক চেষ্টার পর সে রহস্যজনক সুড়ঙ্গটার হদিস মিলল। অতিকায় পাথরের চাইটা সরিয়ে আমরা সুড়ঙ্গটার মধ্যে সিঁধিয়ে গেলাম। সুড়ঙ্গ-পথে সামান্য নামতেই আমরা ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির মুখােমুখি হলাম। জমাট বাঁধা ধোঁয়া কুণ্ডলি পাকিয়ে ওপরে উঠতে লাগল। চাচাজী আমাকে অভয় দিতে গিয়ে বললেন কিছু ডর নেই। খােদার নাম জপ কর। সব ডর কেটে যাবে।

ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হতে সুবিশাল এক ঘরে আমরা পৌছে গেলাম। এক পাশে একটা পালঙ্ক। আমার চাচাতাে ভাই আর সে রহস্যময়ী নারী পরস্পরকে আলিঙ্গন করে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। মশারী টাঙানাে ছিল। কাছে গিয়ে মশারীর একটা কোণ তুলতেই আমার সর্বাঙ্গে অভাবনীয় কম্পনের সৃষ্টি হ’ল। শরীরের সব কটা স্নায়ু যেন এক সঙ্গে ঝনঝনিয়ে উঠল। দেখলাম, আমার চাচতাে ভাই আর মেয়েটা উভয়েই ভষ্মীভূত।

আমার চাচাজী, উন্মাদের মত কেঁদে উঠলেন। কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বলতে লাগলেন—“তাের উচিত শাস্তি হয়েছে রে হতচ্ছাড়া! খােদাতাল্লা তাের বিচার করবেন। তাের যােগ্য স্থান দোজাক। তুই দোজাকেই যা। কথা বলতে বলতে চাচাজী পা থেকে চপ্পল খুলে উন্মাদের মত মৃত ও ভষ্মীভূত লেড়কাকে পিটাতে লাগলেন।

বেগম শাহরাজাদ কিসসার এটুকু বলার পর থামলেন। জানলার

বাইরের বাগিচায় ইতিমধ্যেই ভােরের আলাে একটু একটু করে। ফুটতে শুরু করেছে।

                                                             দ্বাদশ রজনী।

রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর শুরু হতে না হতেই বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে, বেগমের কাছে এলেন।

শাহরাজাদ কিসসা শুরু করলেন । কালানদার  বাদশাহ হারুণ অল-রসিদ, উজির জাফর, কুলি-যুবক প্রমুখের সামনে তার জীবনের করুণতম দিনগুলাের কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলল-'আমার চাচা পায়ের চপ্পল খুলে আমার মৃত চাচাতাে ভাইয়ের মাথায় আঘাত করামাত্র মাথাটা গুঁড়াে গুড়াে হয়ে কাঠকয়লার মত ছড়িয়ে পড়ল। আমি চাচজীকে প্রবােধ দেবার চেষ্টা করলাম।

চাচাজী চোখ মুছতে মুছতে বললেন—“কার গুণাহর জন্য আমার লেড়কার এ রকম হাল হয়েছে, জান ? আর তার পাশে নসিব  বিড়ম্বিতা লেড়কীটাই বা কে জান? আমার লেড়কী। শৈশব  থেকেই সে বহিনের সঙ্গে অনাচার করছে। কী গুণাহ ভেবে দেখ  তাে! খােদা এ রকম গুণাহ কখনও মাফ করবেন, ভেবেছ? আমি তাকে বহুভাবে শাসন করেছি, মারধাের করেছি, ডরও কম দেখাইনি। কিছুতেই কিছু হল না। পরকালে দোজাকেই হবে তার একমাত্র স্থান। এরকম ডরও বহুবার দেখিয়েছি। কিন্তু পরিণতি ভষ্মে ঘি ঢালা। |

চাচাজী আবার হাউমাউ করে কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, বললেন—'বেটা, তুই আর আমি একই রকম অভাগা। তাের | আব্বাজী গেছে আর আমার গেছে লেড়কা। আজ থেকে তুই-ই | আমার বেটা। আজ থেকে তুই আমাকে আব্বাজী ডাকবি। |

আমরা প্রাসাদে ফিরে এলাম।

দরবারে পা দিতেই শােনা গেল, সীমান্তে শত্রু সৈন্য জড়াে হয়েছে। চাচাজীর রাজ্য আক্রমণ করেছে। আমরা সাধ্যমত যত শীঘ্ন সম্ভব সৈন্য প্রস্তুত করে নিলাম। বৃথা চেষ্টা। ইতিমধ্যে, শত্রুসৈন্য প্রবল বিক্রমে নগরে ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্রবল আক্রমণের মুখে আমাদের সৈন্যরা খড়কুটোর মত উড়ে গেল।

আমাদের বুঝতে দেরী হ’ল না, আক্রমণকারী আমার আব্বাজীর হত্যাকরী।

সে-উজির চাচাজীর রাজ্য আক্রমণ করেছে শুনে আমার মাথায় খুন চেপে গেল। অস্ত্র ধারণ করে লড়াইয়ে নামার জন্য বদ্ধপরিকর ইলাম। কিন্তু মুখােমুখি লড়াইয়ে নামা মােটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাকে দেখতে পেলেই তার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য আমি। দাঁতে দাঁত চেপে আমাকে হত্যা করার চেষ্টায় মেতে উঠবে।

অতর্কিতে আমার মাথায় একটা ফন্দি খেলে গেল। ব্যস্ত হাতে ক্ষুর চালিয়ে আমার মুখের দাড়ি-গোঁফ চেঁছে ফেলাম। গায়ে

একটা ছেড়া পশমের চাদর জড়িয়ে নিলাম। এবার ভিক্ষাপাত্র হাতে ভিক্ষা করতে করতে বেরিয়ে গেলাম নগর থেকে।

আমি অশেষ ক্লেশ সহ্য করে বাগদাদ নগরে হাজির হলাম। অনেকেরই মুখেই খলিফা হারুণ-অল-রসিদের কথা শুনেছি। আর তিনি আল্লাহ-র পয়গম্বর। এত বড় নগর বাগদাদ। রাস্তাঘাট কিছুই। চিনি না। কোথায় গেলে সে মহাত্মার দেখা পাব ভাবছি। দ্বিতীয় কালান্দার-এর দিকে অঙ্গুলি-নির্দেশ করে আবার বল্ল-পথের বাঁকে ওনার দেখা পেয়ে গেলাম। এবার তৃতীয় কালান্দার’কে দেখিয়ে বল—“আমরা দু'জনে যখন কথা বলছি তখনই ইনি। সেখানে উপস্থিত হলেন। আমরা সবাই এখানে পরদেশী। তাই | রাত্রিটুকু কাটাবার ইচ্ছায় আপনার বাড়ির কড়া নাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম।'

আশা করি আপনারা আমার বাঁ-চোখ কানা হওয়া এবং দাড়িগোঁফহীন মুখের কাহিনী শুনে সত্য ঘটনা বুঝতে পারলেন।

প্রথম কালান্দার-এর কথায় প্রীত হয়ে বড় মেয়েটা তাকে মুক্তি দিল।

                                     দ্বিতীয় কালান্দার ফকিরের কিসসা

প্রথম কালান্দার ফকির তার কিসসা শেষ করলে খলিফা হারুণঅল-রসিদ জাফর-এর কানের কাছে মুখ নিয়ে অনুচ্চ কণ্ঠে বললেন- “কী মর্মান্তিক কাহিনী শােনালেন ফকির সাহেব! এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা সচরাচর ঘটে না।

প্রথম কালান্দার ফকির তার জীবন কাহিনী শুনিয়ে মুক্তিলাভ করলে দ্বিতীয় কালার ফকির এগিয়ে এসে তার জীবন-কথা শুরু করলেন।

আপনারা যে আমার কানা চোখটা দেখছেন, আমি কিন্তু মােটেই কানা চোখ নিয়ে জন্মলাভ করিনি। আর আমার গায়ে যে ফকিরের আলখাল্লা দেখতে পাচ্ছেন তা-ও কিন্তু আমার গায়ে উঠেছে।

অবিশ্বাস্য ঘটনার মধ্য দিয়েই।

আমার আব্বাজীও বাদশাহ ছিলেন। আমি ছিলাম বাদশাহের | পেয়ারের বেটা।।আমার আব্বাজান বাদশাহ, অগাধ ঐশ্বর্যের মালিক হলেও যথেষ্ট বিদ্বান ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। আমাকেও উচ্চশিক্ষাদান | করতে ত্রুটি করেন নি। পৃথিবীর সেরা সেরা বইয়ের পাহাড় ছিল | নি আমাদের প্রাসাদে। আমি ছিলাম বইয়ের পােকা।দেখুন, নিজের গুণগান করা উচিত নয়। আমারও সেরকম ইচ্ছা। নেই। তবে প্রসঙ্গক্রমে কিছুতাে বলতেই হবে।আমার বিদ্যা-বুদ্ধি আর অগাধ পাণ্ডিত্যের কথা কেবল আমাদের রাজ্যেই নয় প্রতিবেশী রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ল।

একবার সমরখন্দের এক বাদশাহ আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন। আমি আব্বাজীর অনুমতি নিয়ে বহুমূল্য উপঢৌকনসহ তার রাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করলাম। বাদশাহের ভেট, জাহাজ বন্দর ছাড়ল। একমাস অতিক্রান্ত, তখন এক বন্দরে আমার জাহাজ নােঙর করল। আমার সঙ্গের উট আর ঘােড়াগুলােকে নামিয়ে দেওয়া হল। তাদের | পিঠে উপহারগুলাে চাপিয়ে রওনা হলাম। মাত্র ঘণ্টাখানেকের পথ। হঠাৎ ভীষণ ঝড় উঠল। ঝড় থামলে চারদিকে তাকালাম। অজানা-অচেনা মরুভূমিতে আমরা এগিয়ে চলেছি। অতর্কিতে একদল সশস্ত্র মরু-ডাকাত আমাদের ঘিরে ফেল। আমি বল্লাম, বাদশাহের জন্য উপঢৌকন নিয়ে চলেছি। পাত্তা দিল না। তারা আচমকা তরবারির আঘাতে আমার এক ক্রীতদাসকে হত্যা করে বসল। তার খুন দেখে আমরা যে যেদিকে পারলাম দৌড়ে ভাগতে লাগলাম। কারাে কথা ভাবার অবকাশ নেই।

এক সময় ছবির মত সুন্দর এক নগরে হাজির হলাম। শহরের পথে এক দর্জির কারখানা চোখে পড়ল। ছেড়া কাপড়ে তাপ্পি মারছে। | আমাকে দেখেই দর্জি মুচকি হাসল। বিদেশী অনুমান করেই হয়ত তার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে। আমি পাল্টা হাসিতে তাকে তুষ্ট করলাম। গুটিগুটি তার দোকানে উঠে গেলাম। আমার পরিচয় নিল। তার মুখে বিষাদের ছায়া নেমে এল। বল—“তুমি। হয়ত জান না যে, এ দেশের শাহেনশাহ তােমার বাবার সব চেয়ে বড় শত্রু। তােমাকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসার পিছনে রহস্য হচ্ছে তােমাকে খুনের মাধ্যমে প্রতিশােধ নেওয়া। খবরদার কাউকে তােমার পরিচয় দেবে না। তবে কিন্তু এখানে করাে কাছে আশ্রয় পাওয়াই তােমার পক্ষে দুষ্কর হয়ে উঠবে।

দর্জি আমার সঙ্গে খুবই ভাল ব্যবহার করল। রাত্রে খানাপিনা। করাল। পাটি পেতে শুতে দিল। তিনদিন দর্জির আশ্রয়ে রইলাম।

একদিন দর্জি কাজ করতে করতে বল—এমন কোন কাজ। জান কি যা দিয়ে তুমি রুটির জোগাড় করতে পারবে?

-“কিন্তু কোন বিদ্যা যে এখানে আমার রুটি রােজগারের কাজে লাগতে পারে তা তাে জানি না ভাই। তবে আইন বিষয়ে আমার পাণ্ডিত্য রয়েছে। দর্শন আর সাহিত্যেও যথেষ্ট দখল রয়েছে। আর হিসাশাস্ত্রে নিজেকে একজন বড় পণ্ডিত বলেই আমি মনে করি।'

দজি ব্যাজার মুখে বলল-“ভাইজান এ সব বিদ্যা এখানে অচল।। অর্থোপার্জনই এখানকার মানুষের একমাত্র লক্ষ্য। আমি হতাশার স্বরে বললাম-“কিন্তু এসব ছাড়া যে অন্য কোন কাজই আমি রপ্ত করতে পারিনি।'

মুহূর্তকাল গম্ভীর মুখে ভেবে বলল-“ঠিক আছে, ব্যাপারটা খােদাতাল্লার ওপরেই ছেড়ে দেওয়া যাক। তিনিই দোয়া করে যা হােক একটা বিহিত করে দেবেন।'

দুদিন বাদে দর্জি একটা কুড়াল এনে আমার হাতে দিয়ে বলল-“ভাইজান, জঙ্গল থেকে কাঠ নিয়ে এসে নগরে বিক্রি করলে রুটির জোগাড় হয়ে যাবে। যাও, তাই কর।

দর্জির পরামর্শ মত জঙ্গল থেকে কাঠ এনে নগরে বিক্রি করে পেটের জোগাড় করতে লাগলাম। আশ্রয় দর্জিই দিল। এক বছর কেটে গেল ।

এক সকালে গভীর জঙ্গলে ঢুকে একটা বিশাল মরাগাছ কাটতে লাগলাম। কয়েক কোপ দিতেই গাছের গােড়া থেকে কুড়ােলের সঙ্গে একটা তামার বালা উঠে এল । বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়লাম। মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে উন্মাদের মত মাটি কাটতে লাগলাম। কিছুটা মাটি কাটতেই আমার চোখের সামনে একটা কাঠের মাচা ভেসে উঠল । অবাক মানলাম। ব্যস্ত-হাতে মাচাটা সরিয়ে ফেলতেই আরও বেশী অবাক মানলাম । আচমকা আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল—“হায় আল্লা!' এক সুরম্য অট্টালিকা দেখে আমি আর মাথা ঠিক রাখতে পারলাম না। তর তর করে নিচে নেমে গেলাম। আরও অবাক মানলাম, যখন একটা বিশালায়তন ঘরের দরজায় পেীছলাম। নিজের চোখ দুটোর ওপরও যেন আস্থা হারিয়ে ফেল্লাম। দেখি এক অষ্টাদশী সুসজ্জিত একটা পালঙ্কের ওপর শুয়ে। অপরূপা ! খুৰ-সুরৎ! রূপের আভায় চোখ দুটো ঝলসে দিচ্ছিল। মনে হল বেহেস্তের পরীদের সৃষ্টি করার পর অবশিষ্ট সৌন্দর্যটুকু এঅপরূপার গায়ে সযত্নে লেপে দেওয়া হয়েছে। আমার পায়ের আওয়াজ পেয়ে অপরূপা চোখ মেলে তাকাল। মিষ্টি-মধুর সুরেলা কণ্ঠে উচ্চারণ করল—তুমি কি মানুষ নাকি কোন দৈত্য গাে?

আমি বিস্ময়ের ঘাের কাটিয়ে বল্লাম—‘আমি মানুষ। সত্যিকারের মানুষ।
মেয়েটা সবিস্ময়ে বল্ল-মানুষ! কি করে এখানে এলে? বিশ সাল আমি মানুষ তাে দূরের কথা মানুষের ছবি পর্যন্ত দেখতে পাই নি ।
সবই আল্লাতাল্লার মর্জি। তিনিই আমাকে তােমার এখানে নিয়ে এসেছেন। এতদিন ধরে নসীবের ফেরে যা কিছু তকলিফ সহ্য করেছি  আজ তােমাকে চোখের সামনে দেখে সব মন থেকে মুছে গেল ।
রূপসী যুবতী ধৈর্য ধরে আমার দুঃখ-দুর্দশার কথা সব শুনল।
আমি থামলে সে এবার তার কিত্সা শােনাতে লাগল—শােন গাে মনের মানুষ, ইফতিমাসের লেড়কী আমি। চাচাতাে ভাইয়ের সঙ্গে আমার শাদী হবে পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। নসীব মন্দ। | শাদীর দিনে আমাকে বাজমুস দৈত্যের লেড়কা জারসিজ চুরি করে | নিয়ে যায়। বহু জায়গায় ঘুরে এখানে এনে বন্দী করে। আমার খানাপিনার কোন অভাবই সে রাখে নি। সারা রাত্রি আমার সঙ্গে থাকে। আমাকে উপভােগ করে। সুবহ হলেই পরিতৃপ্ত মন নিয়ে কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। ব্যস, সন্ধ্যার আগে তার টিকির নাগালও পাওয়া যায় না। আবার কখনও দীর্ঘদিন সে এমুখাে হয় না । চারদিন আগে এসেছিল। আরও ছয়দিন পর আবার আসার কথা। এর পাশেই একটা ছােট্ট কুঠরি আছে। তার দেওয়ালে একটা লেখা রয়েছে। দু ছত্র মন্ত্র। তার গায়ে হাত রেখে দৈত্যটাকে ডাকলেই মুহুর্তে এখানে হাজির হয়। ছয় দিনের মধ্যে পাঁচদিন তুমি নির্বিবাদে এখানে কাটাতে পার। নিশ্চিন্তে আমাকে সঙ্গদান করতে পার। সে ফিরে আসার আগে এখান থেকে কেটে পােড়।

আমি রূপসী যুবতীর প্রস্তাবে সম্মত হলাম।
আমার মুখে থাকার কথা শুনে সে রীতিমত উল্লসিতা হয়ে পড়ল। উচ্ছ্বাসে-আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমাকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে তার বিছানায় বসাল। তার হাতের স্পর্শে আমার সর্বাঙ্গে কেমন যেন এক অনাস্বাদিত রােমাঞ্চ জাগল। বুকের মধ্যে কলিজাটা নাচন কোদন জুড়ে দিল। ভাবলাম রূপসী যুবতীর স্পর্শে যদি মন এমন। পাগলপারা হয়ে ওঠে তবে সম্ভোগে না জানি তার পরিমাণ কত গুণ। বৃদ্ধি পায়। অভাবনীয় উত্তেজনার সঞ্চার হ’ল যখন সে আমার সর্বাঙ্গে তেল মর্দন করে গােসল করাল। আর আমিও তার যৌবন তারা দেহে নিজ হাতে তেল মর্দন করে গােসল করিয়ে দিলাম। তার চাখের তারার দুষ্টুমিভরা হাসি আমার কলিজাটাকে উথাল পাথাল করে দিতে লাগল। সে গােসল সেরে খাটে উঠে এল। অতর্কিতে বালিকা সুলভ এক কাজ করে বসল। এক ধাক্কা দিয়ে আমাকে জলে ফেলে দিল। নিজেও ঝপ করে জলে পড়ল। ডুবসাতার দিয়ে আমার একটা পা চেপে ধরল। দীর্ঘ সময় ধরে চলল আমাদের জলকেলী। আমার বুকের উপর চেপে এল। কাধে হাত

দুটো তুলে দিয়ে আমার বুকের সঙ্গে নিজেকে লেপ্টে নিল। থাকল অনেকক্ষণ। আমার মধ্যে তখন শিহরণের পর শিহরণ ঘটে চলেছে। | অদ্ভুত, অনাস্বাদিত শিহরণ। মনে হল এ সুখ ছেড়ে বেহেস্তে যেতেওআমি রাজি নই।

এক সময় আমরা ক্লান্ত দেহে সায়র থেকে উঠে এলাম।  মধ্যাহ্ন ভােজন সারলাম উভয়ে। জলকেলীর ধস্তাধস্তিতে শরীরে অবসাদ অনুভব করছিলাম। দিবানিদ্রার মাধ্যমে ক্লান্তি অপনােদন করে নিলাম। সন্ধ্যার কিছু পরে রূপসীর নরম হাতের স্পর্শে আমার নিদ্রা টুটে গেল। আমি চোখ মেলে তাকালাম। সে তার তুলতুলে নরম শরীরটাকে আমার ওপর ছেড়ে দিল। আমার শরীরটাকে নিয়ে শিশুর মত খেলায় মেতে উঠল। আমি হাত বাড়িয়ে ওকে আরও নিবিড় করে নিলাম প্রশস্ত বুকটার মধ্যে। সে চনমনিয়ে উঠল। আমার ঠোটের কাছে নিজের ঠোট দুটো নিয়ে এল। উষ্ণ অনুভূতি। শিহরণ। রােমাঞ্চ। আমার বুঝতে অসুবিধা  হ’ল না। সে দলিত, মথিত, পিষ্ট হওয়ার জন্য উন্মুখ। আমার যৌবনকে পুরােপুরি উপভােগ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। রক্তে মাতন জেগেছে। তার পক্ষে নিজেকে সংযত রাখা তাে সম্ভবও নয়। আমিও ক্ষুধাতুর নেকড়ের মত চেপে ধরলাম তার যৌবনের জোয়ার লাগা আঠার বছরের তুলতুলে শরীরটাকে। তার ঐকান্তিক আগ্রহ আর আমার নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দেওয়ার আগ্রহ একাকার হয়ে গেল। গােপন করব না, তার দেহসুধা পান করে আমি যে তৃপ্তি সেদিন পেয়েছিলাম আজও তা আমার মনে রােমাঞ্চ জাগিয়ে তােলে। রূপসী যুবতী চাওয়া ও পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার ক্লান্ত-অবসন্ন  দেহটাকে আমার ওপর ছেড়ে দিয়ে হাঁফাতে লাগল। এক সময়

একটু দম নিয়ে বলল—“আমার মন চাইছে আমার কলজেটা ছিড়ে এনে তােমাকে দিয়ে দেই।

আমি বল্লাম-তােমাকে শয়তান দৈত্যটার হাতে ছেড়ে দিয়ে আমি কিছুতেই এখান থেকে যেতে পারব না।'

সে আমার লােমশ বুকে হাত বােলাতে বােলাতে বলল -কেন মিছে ভেবে অস্থির হচ্ছ নাগর আমার। দৈত্য তাে দশদিন বাদে বাদে এখানে আসে।'

-“তা হোক গে। আমি ছাড়া অন্য কেউ তােমার দেহটাকে উপভােগ করুক তা আমি কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারব না।'কথা বলতে বলতে আমি উন্মাদের মত ছুটে গেলাম পাশের ঘরের দেয়ালের লেখাটার কাছে। একটা কুড়াল দিয়ে সজোরে আঘাত করতে লাগলাম তার গায়ে।
বেগম শাহরাজাদ দেখলেন প্রাসাদের বাইরের প্রকৃতির গায়ে প্রভাতের আলাের ছােপ দেখা দিয়েছে। কিসসা বন্ধ করলেন।

                                   ত্রয়ােদশ রজনী

বাদশাহ শারিয়ার বেগমের কাছে এলেন। বেগম শাহরাজাদ বললেন—‘জাহাপনা, দ্বিতীয় কালান্দার তার জীবনের ঘটনা বলতে লাগল।

তারপর আমার জীবনে কি ঘটল শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে শুনুন। আমি দেয়ালের লেখাটার গায়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা মাত্রই যুবতী আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করে দিল। কাঁদতে কাঁদতে বলল—“আল্লাতাল্লার দোহাই, তুমি এখান থেকে চলে যাও। যত শীঘ্ন পার পালাও। দৈত্য এসে পড়ল বলে। তােমাকে মেরে ফেলবে। আমাকেও ছেড়ে কথা কইবে না। জানে বাঁচতে চাও তাে পালাও।

আমি দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যে-সিঁড়ি দিয়ে নেমেছিলাম তার দিকে দৌড়ােলাম। উদ্ভ্রান্তের মত সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগলাম। প্রেম আর সম্ভোগের সাধ মন থেকে নিঃশেষে মুছে গেছে। ভয়ে কলিজা পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ। বিপদের ওপর বিপদ। এতদূর এসে হঠাৎ মনে পড়ল, কুড়াল আর জুতাে জোড়া তাে সে-রূপসীর ঘরে ফেলে এসেছি। লম্বা লম্বা পায়ে ফিরে গেলাম। নসীবের ফের আর কাকে বলে। ফিরে এসেই দৈত্যের ফাঁদে পড়ে গেলাম। দৈত্য বীর বিক্রমে, ফিরে আসতে লাগল। বাতাসকে অস্থির-চঞ্চল করে তুলল তার হাত-পায়ের আস্ফালনে আর সুতীব্র হুঙ্কারে পাহাড়ের মত সুবিশাল দেহধারী দৈত্যটা ফোস ফোস করতে করতে এসে হাজির হ’ল। তার চেহারাটা এক লহমায় দেখামাত্র আমার বুকের ভেতরে কোন্ অদৃশ্য হাত যেন হরদম হাতুড়ি পিটতে লাগল। সত্যি যেমন বীভৎস তেমনি কদাকার তাকে দেখতে।  রূপসী-যুবতীটির সামনে এসে দাঁড়িয়ে সে গর্জে উঠল—এটাকে কি বলে? আমি আরও ভাবলাম কোন অঘটন ঘটেছে, নির্ঘাৎ কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছ তুমি।।রূপসী যুবতী ভয়েডরে পৌনে মরা হয়ে কাপতে কাপতে বলল –“কিছুই তাে হয় নি। নেশায় টলতে টলতে গিয়ে ওই লেখার গায়ে আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম।' | দৈত্যটা এত সহজে ভুলবার নয়। তা ছাড়া ঠিক তখনই আমার জুতাে জোড়া আর কুড়ালটা তাের চোখে পড়ে গেল। চরম। আক্ৰেশে গর্জে উঠল—“শয়তানী কোথাকার! আমাকে ধাপ্পা। দেওয়ার চেষ্টা! এগুলাে কার?'

—“বিশ্বাস কর। এর আগে আমি এগুলাে দেখি নি। তুমি না । দেখালে হয়ত আমার চোখেই পড়ত না। আমি তাে ভাবছি, তুমিই। হয় তাে কোন সময় সঙ্গে করে এনেছিলে, খেয়াল নেই।'

—“চুপ কর শয়তানী! এখনও সময় আছে, বল কার এগুলাে? কথা বলতে বলতে রূপসী যুবতীটার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল। প্রচণ্ড আক্রোশে তার গায়ের জামা কাপড় টেনে ছিড়তে ছিড়তে তাকে। একেবারে উলঙ্গ করে ফেলল। এক ঝটকায় উপুড় করে শুইয়ে। দিল। হাত-পা সব মাটির সঙ্গে গেঁথে দিল। তারপর নৃশংস অত্যাচারে মেতে উঠল ক্রোধােন্মত্ত দৈত্যটা। সে কী বীভৎস দৃশ্য।

আমি অত্যন্ত সন্তর্পণে পা টেনে টেনে সিড়ির কাছে এলাম। নিজের আচরণে অনুতাপ জ্বালায় দগ্ধ হতে লাগলাম। নিজের সামান্য দেহক্ষুধা নিবৃত্ত করতে গিয়ে তাকে বিপদের মুখে টুডে দিলাম। এ গুণাহ আল্লাতাল্লা ক্ষমা করবেন কি না জানি না। বিষন্ন মুখে দর্জির কাছে ফিরে এলাম। আমাকে দেখে যেন সে আনন্দে নাচতে লাগল। বলল—‘সবাই কাঠ নিয়ে ফিরে এল আর তােমার দেখা নেই। আমি সারারাত্রি নিঘুম অবস্থায় বসে কাটিয়েছি। ধরেই নিয়েছিলাম, জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে তুমি নির্ঘাৎ খুন হয়েছ। জানােয়ার তােমাকে ছিড়ে-খাবলে খেয়েছে। তােমাকে দেখে আত্মায় জল এল।

আমি এবার রূপসী যুবতী আর ভয়ঙ্কর সে দৈত্যটার কথা তাকে সবিস্তারে বলাম ।
হঠাৎ কে যেন দরজায় কড়া নাড়ল। দর্জি ব্যস্ত হয়ে উঠে গেল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আমার কাছে ফিরে এসে বলল-‘এক পার্শী এসেছে তােমার জুতাে জোড়া আর কুড়ালটা নিয়ে, তােমার সঙ্গে দেখা করার জন্য।
ব্যস, আমার মাথাটা দপ দপ করে উঠল। গায়ে কাপুনি আর বুকের মধ্যে হাতুড়ির ক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। কিছুতেই দরজায় অপেক্ষমান লােকটার কাছে যেতে উৎসাহী হলাম না।
দরজি আমাকে পীড়াপীড়ি করতে লাগল যাতে আমি তার সঙ্গে গিয়ে একটিবার অন্ততঃ দেখা করি। সে এবার বলল—‘পার্শি ভদ্রলােকটা নাকি বনের ধারে কাঠুরেদের আস্তানায় গিয়েছিলেন তােমার খোজে। তারা তােমার জুতােজোড়া দেখেই চিনতে পারে। তারপর ঠিকানা দিয়ে আমার এখানে পাঠিয়ে দেয়। | আমি আল্লাতাল্লার নাম করতে করতে প্রাণ হাতে নিয়ে পার্শি ভদ্রলােকের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আমি দরজাটা সামান্য ফাক করে আগন্তুক পার্শিটাকে ভাল করে দেখার জন্য দরজাটা একটু ফাক করতেই সে চোখের পলকে আমার একটা হাত খ করে ধরে ফেল্ল। বুঝলাম দৈত্যের হাত। মানুষের হাত কখনও এমনটি হয়

এক হেঁচকা টানে আমাকে বাইরে বের করে নিল। এবার টেনে হিচড়ে নিয়ে গিয়ে ধপাস করে পাতাল পুরীতে ফেলে দিল। আমার সামনে পড়ে সে রূপসী-যুবতী। রক্তাপ্লুত তার দেহটা। ফুপিয়ে কাদছে।

দৈত্যটা গর্জন জুড়ে দিল—তাের পিরিতের নাগরকে নিয়ে এসেছি। দেখ তাে চিনতে পারিস কিনা? | ‘আমি কাউকেই চিনি না। আমার কোন নাগরটাগর নেই। তারপর আমাকে এক লহমায় দেখে নিয়ে বলল—“কই, একে তাে আমি দেখিও নি কোনদিন।

–“চিনিস না? দেখিস নি কোনদিন? মিথ্যা কথা বলার আর জায়গা পাস নি! তুই একে নিয়ে মজা লুটিস নি, বল শয়তানি? এই নে তরবারি। যদি তাের নাগর না-ই হয়ে থাকে তবে আমার সামনে | একে কেটে দু’ টুকরাে করে ফেল।

মেয়েটা তরবারিটা নিয়ে আমার দিকে এক পা এগিয়ে এল। আমি চোখের মণিতে সকরুণ মিনতি জানালাম। তা দেখে সে কেমন। যেন হকচকিয়ে গেল।--তােমার জন্যই আজ আমার কলিজাটা টুকরাে টুকরাে হচ্ছে!' কথাটা বলতে বলতে হতের তরবারিটা ছুড়ে ফেলে দিল।

বুদ্ধির ঢেকি দৈত্যটা তার কথার মারপ্যাচ বুঝল না। সে এবার তরবারিটা কুড়িয়ে নিয়ে আমার হাতে দিয়ে বলল—“তােমার। | পিয়ারি দোস্তের গর্দানটা নামিয়ে নিতে পারলে বেকসুর খালাস

পেয়ে যাবে। যাও, ওর গদানটা ধড় থেকে নামিয়ে দাও। | আমি ভাবলাম, নিজের জানের বিনিময়ে তার গর্দানটা নামিয়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করাটা মােটেই সঙ্গত নয়। এত অত্যাচার সহ্য | করেছে তাে কেবল মহব্বতের খাতিরেই। কিন্তু করি-ই বা কি? চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগল। পারলাম না। তরবারিটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। এবার দৈত্যের দিকে ফিরে বললাম—তুমি দৈত্য কুলের সম্রাট। তােমার কটাক্ষে দুনিয়া থরথরিয়ে কাঁপে। তুমি তাে নিজের

চোখেই দেখলে, আমি তার তিলমাত্রও ক্ষতি কোনদিন করিনি বলেই তাে সে আমার জান নিতে পারল না। আমিই বা বিনা অপরাধে তার গর্দান নিতে কি করে উৎসাহী হই, তুমিই বল ? | দৈত্যটা এবার বিশ্রী স্বরে গর্জে উঠে বল—“বুঝেছি, তােমাদের মহব্বত খুবই গাঢ় গয়ে উঠেছে। কেউ-ই কাউকে ছাড়তে পারছ না।

নিষ্ঠুর দৈত্যটা বিকট চিৎকারে চারদিক কাপিয়ে তুলে আমার মেহবুবার ওপরে ঝাপিয়ে পড়ল। তীব্র আক্রোশে তার হাতপাগুলাে কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেল। হাতের তরবারিটা আর একবার তার মাথার ওপর উঠে গেল। আমার মেহবুবা আর্তনাদ করে উঠল। আমি চোখ বন্ধ করলাম। যখন চোখ মেলে তাকালাম, দেখি তার দ্বিখণ্ডিত দেহটা জমাট বাঁধা খুনের মধ্যে। গড়গড়ি খাচ্ছে।

হিংস্র দৈত্যটা হাতের খুন জড়ানাে তরবারিটা প্রচণ্ড বিদ্বেষে ছুঁড়ে ফেলে দিল। এবার আমার দিকে তাকিয়ে, হাড়িতে মুখ ঢুকিয়ে কথা বলছে এরকম গলায় বলশােন মানুষের বাচ্চা, আমাদের ............To be continued

Post a Comment

0 Comments