প্রথম পর্ব আরব্য রজনীর গল্প পার্ট ১ ( part 1) বাদশাহ শারিয়ার এবং বাদশাহ শাহজামানের গল্প

                    Alif laila full bangla alif laila arabyarajani arabya Rajani alif laila 
arabyarajani alif laila bangla full arabya rajani alif laila full episode aladin sahasra ak arabya rajani
প্রাচ্যের সুলতানিয়তের শাসক শাহেনশাহ, শসন বংশের শাসক। দীর্ঘ, সুদেহ, দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এবং দুর্ধর্ষ যােদ্ধা শাহেনশাহ। সমগ্র প্রাচ্যের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন। তার দুই পুত্র ছিলেন। বড়টি সুঠামদেহী ও যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। আর ছােটটি অপেক্ষাকৃত খর্বকায় তবে বিচক্ষণ। শাহেনশাহর দুই পুত্রই যুদ্ধের কলাকৌশল সম্বন্ধে যেমন অভিজ্ঞ ছিলেন তেমনি ঘােড়ায় চড়াতেও তাদের সমতুল্য কেউ ছিলেন না।

ছােট ভাইয়ের তুলনায় বড় ভাই যেমন দেহে অমিত শক্তি ধরতেন তেমনি বুদ্ধিও ছিল অতুলনীয়।

দুই ভাই যে কেবলমাত্র যুদ্ধবিদ্যায়ই বিশারদ ছিলেন তা-ই নয়। প্রজাদের প্রতি তাদের দয়া-মায়া-মমতাও ছিল অপরিসীম। আবার প্রজাদের কাছেও তাঁরা ছিলেন চোখের মণির মতই ভালবাসার পাত্র। প্রজারা তাদের পিতৃতুল্য জ্ঞান করতেন। বড় ভাইয়ের নাম ছিল বাদশাহ শারিয়ার। আর ছােট ভাইকে সবাই বাদশাহ শাহজামান নামে চিনত। শাহজামান ছিলেন সমরখন্দের অন্তর্গত আল-আজম নামক অঞ্চলের শাসক। তিনি ছিলেন প্রজাদের খুবই হিতাকাঙ্খী। শাসক হিসাবে তার ছিল আকাশছোঁয়া খ্যাতি।প্রজাপালন, শাসন এবং প্রতিপত্তিতে উভয় ভাই-ই উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হতে পেরেছিলেন। বাদশাহ শারিয়ার এবং শাহজামান-এর মধ্যে অভাবনীয় হৃদ্যতার সম্পর্ক বর্তমান ছিল। কেউ, কাউকে চোখের আড়াল করতে পারতেন না। দীর্ঘদিন উভয় ভাইয়ের মধ্যে এ হৃদ্যতার সম্পর্ক অক্ষুন্ন ছিল। বছর কুড়ি উভয় ভাইয়ের মধ্যে দেখা নেই। তাই তাকে একবারটি চোখের দেখা দেখার জন্য বাদশাহ শারিয়ার-এর মন-প্রাণ কেঁদে উঠল। বাদশাহ শারিয়ার একদিন উজিরকে ডেকে বললেন-তােমাকে একবারটি বাদশাহ শাহজামান-এর কাছে যেতে হবে। তাকে বলবে, তাকে দেখার জন্য আমার মন বড়ই উতলা হয়েছে। আর যত শীঘ্র সম্ভব তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। বাদশাহের নির্দেশে উজির উপযুক্ত প্রহরী নিয়ে ঘােড়ায় চড়ে যাত্রা করলেন সমরখন্দের অন্তর্গত আল-আজম প্রদেশের উদ্দেশ্যে। দু'দিন আর দু'রাত্রি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘােড়া ছুটিয়ে চললেন প্রৌঢ় উজির।  উজির যথা সময়ে শাহজামান-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। বাদশাহকে কুর্নিশ করে তার বড় ভাই বাদশাহ শারিয়ার-এর ঐকান্তিক আগ্রহের কথা ব্যক্ত করলেন। বড় ভাইয়ের অভিপ্রায়ের কথা শুনে শাহজামান তাে মহা খুশি। তিনি উজিরকে বললেন—যত শীঘ্র সম্ভব আমি যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে নিচ্ছি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আমি আজই যাত্রা করব।

বাদশাহের নির্দেশে বেছে বেছে উট, খচ্চর ও কিছু গাধা নেওয়া হল। আর পথে বিশ্রামের জন্য সঙ্গে নেওয়া হ’ল কয়েকটি দামী তাবু।দেশের কয়েকজন বাছাই করা মল্লবীর আর গাট্টা গােট্টা কয়েকজন ক্রীতদাসকে প্রহরী হিসেবে সঙ্গে নেওয়ার ব্যবস্থা করাহল।

যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে প্রবীণ উজিরের ওপর রাজ্যরক্ষার ক্ষমতা অর্পণ করে বাদশাহ শাহজামান সুসজ্জিত উটের পিঠে উঠলেন। যাত্রা করলেন বড় ভাইয়ের অভিলাষ পূর্ণ করতে।

রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরের মধ্যে বাদশাহ শাহজামান নিজ রাজ্য থেকে বেশ কিছু দূরবর্তী অঞ্চলে পৌছে গেলেন।।অকস্মাৎ বাদশাহ সবাইকে থামতে বললেন। সর্বনেশে কাণ্ড, ভয়ানক একটি ভুল করে ফেলেছেন তিনি। বড় ভাইকে যে মূল্যবান জিনিসটি উপহার দেবেন বলে বেছে রেখেছিলেন সেটিই ব্যস্ততার  জন্য সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছেন। অনন্যোপায় হয়েই উটের মুখ ঘুরিয়ে আবার নিজ রাজ্যের দিকে  যাত্রা করলেন তিনি।

প্রাসাদে ফিরে বাদশাহ শাহজামান সােজা হারেমের উদ্দেশে পা বাড়ালেন। সেখান থেকে সােজা চলে এলেন তার পেয়ারের খাসবেগমের কামরায়। বেগমের কামরার দরজায় পৌছেই বাদশাহ শাহজামান আচমকা থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। সর্বাঙ্গ থরথরিয়ে কেঁপে উঠল। নিজের চোখ দুটোর ওপরও যেন আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। বাদশাহ শাহজামান-এর খাস বেগম সম্পূর্ণ বিবস্ত্রা। দেখলেন, এক কুচকুচে কালাে নিগ্রো ক্রীতদাস যুবকের সঙ্গে তিনি আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে গভীর ঘুমে মগ্ন। বাদশাহ শাহজামান চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর্তনাদ করে উঠলেন—হায় খােদা, এ কী দৃশ্য দেখছি। তবে কি আমার এতদিনের পেয়ার মহব্বত সবই মিথ্যে, কাচের স্বর্গে বাস করেছি আমি! মাত্র তাে কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি প্রাসাদ ছেড়েছি। এটুকু সময়ের মধ্যেই এমন অবিশ্বাস্য অপ্রীতিকর জঘন্য কাণ্ড ঘটে গেল ! যদি বড় ভাইয়ের রাজ্যে কিছুদিন থাকতাম তবে তাে কত কাণ্ডই না জানি ঘটত। অস্থিরচিত্ত বাদশাহ শাহজামান অতর্কিতে কোষবদ্ধ তরবারিটি টেনে হাতে তুলে নিলেন। শরীরের সর্বশক্তি নিয়ােগ করে কোপ বসিয়ে দিলেন। উভয়ের দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। সব খতম। ব্যস, আর মুহূর্তমাত্রও দেরী না করে উটের পিঠে চেপে বসলেন অস্থিরচিত্ত বাদশাহ শাহজামান। যাত্রা করলেন বড় ভাইয়ের রাজ্যের উদ্দেশে । দু’দিন দু'রাত্রি নিরবচ্ছিন্নভাবে উটের পিঠে বসে বাদশাহ শাহজামান বড় ভাইয়ের প্রাসাদে পৌছে গেলেন। দীর্ঘদিন পর দু'ভাইয়ের মিলন ঘটল। ছােটভাইকে এতদিন পর কাছে পেয়ে বাদশাহ শারিয়ার আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। তাকে বুকে জড়িয়ে বহুভাবে আদর করলেন। লাভ করলেন পরম আনন্দ।




শাহজামান-এর মনে কিন্তু এতটুকুও শান্তি নেই। মুখের হাসি নির্বাসিত। চোখের তারায় হতাশার ছাপ। তাকে নিয়ে বড় ভাই যে আনন্দে মেতেছেন তাতে যােগদান করতে তিনি কিছুতেই উৎসাহ পাচ্ছেন না। সাধ্যমত সংক্ষেপে তার কথার উত্তর দিয়ে কেবল দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করছেন।

একই প্রশ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা শাহজামান-এর ভেতরটিকে কুরে করে খেতে লাগল—এ কী করে সম্ভব হল। যাকে আমি মন-প্রাণ দিয়ে পেয়ার মহব্বত দিলাম, সে কিনা তাকে দু পায়ে মাড়িয়ে পরপুরুষের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হ’ল! এমন জঘন্য মনােবৃত্তি কি করে তার হল! আমার ফুলের মত পবিত্র মহব্বতের মূল্য সে কি এভাবে দিল! তবে কি পেয়ারমহব্বতের কোন মূল্যই তামাম দনিয়ার কোথাও নেই? সবই কি মিথ্যা ? শাহজামান সর্বক্ষণ একান্তে মুখ গােমড়া করে বসে নিজের নসীবের কথা ভাবেন আর থেকে থেকে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাদশাহ শারিয়ার-এর মনে কিন্তু ছােট ভাইয়ের ব্যাপারটি সন্দেহের উদ্রেক করল। ভাবলেন, নিজের রাজ্য আর বেগমকে ছেড়ে এসে হয়ত শান্তি-স্বক্তি পাচ্ছে না। তাই তার চোখে-মুখে নিরবচ্ছিন্ন উদ্বেগউৎকণ্ঠার ছায়া, মনে অন্তহীন হাহাকার। কারাে সঙ্গে যেচে কথাবার্তা। বলা তাে দূরের কথা খানাপিনাও ছেড়ে দিয়েছে। একেই বলে মহব্বত আর বিবির চিন্তা।

এক সময় বাদশাহ শারিয়ার ছােট ভাইয়ের কাছে এসে সমবেদনার স্বরে বলেন—“ভাইয়া, এখানে আসার পর থেকে তােমাকে কেমন বিষগ্ন দেখাচ্ছে। হতাশা আর হাহাকার সম্বল করে প্রহর কাটাচ্ছ। ব্যাপার কি, আমার কাছে খােলসা করে বল। শাহজামান চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—ভাইজান আমার বুকের ভেতরে আগুন জ্বলছে, তারই জ্বালায় আমি প্রতিনিয়ত দগ্ধে মরছি।

—সে কী কথা ভাইয়া! হঠাৎ এমন কি ঘটল যার জন্য তােমার মনের কোণে এমন অশান্তি দানা বেঁধেছে! বল, সব কিছু খুলে বল আমাকে। শাহজামান অপ্রতিভ মুখে, হতাশ দৃষ্টিতে ভাইজানের দিকে | তাকিয়ে ক্ষীণকণ্ঠে উচ্চারণ করলেন—আমাকে ক্ষমা করবে, আমি | কিছুতেই আমার অশান্তি আর হতাশার কথা মুখ ফুটে তােমার কাছে প্রকাশ করতে পারব না । আমাকে মাফ ক’র ভাইজান।  বাদশাহ শারিয়ার ব্যাপারটিকে নিয়ে আর ঘাটাঘাটি করতে উৎসাহী হলেন না। ভাবলেন, নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। পীড়াপীড়ি করে কাজ হবে না, উচিতও নয়। মুহূর্তকাল নীরবে ভেবে | বললেন—“ঠিক আছে, চলাে আমরা দু ভাই শিকারে যাই। এতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনটা হাল্কা হবে।

—‘ভাইজান, শিকারে যেতে আমি ভেতর থেকে কোনাে রকম তাগিদ পাচ্ছি না। তুমি বরং একাই ঘুরে এসাে। আমি সঙ্গে থাকলে আমার হতাশা আর নিরানন্দ তােমার শিকারের আনন্দকেই বরবাদ করে দেবে। তার চেয়ে বরং তুমি একাই ঘুরে এসাে। আমি প্রাসাদেই থাকি। | বাদশাহ শারিয়ার আর পীড়াপীড়ি করলেন না। একাই লােকলস্কর নিয়ে শিকারে বেরিয়ে পড়লেন।

যে-ঘরে শাহজামান-এর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল তার দক্ষিণদিকের জানালা খুললেই সুন্দর এক বাগিচা। কত সব দেশী বিদেশী ফুল আর ফলের গাছের বিচিত্র সমারােহ সেখানে। জানালা খুললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মনলােভা বাগিচাটি।। | সে-রাত্রে শাহজামান জানালার ধারে দাঁড়িয়ে উদাস ব্যাকুল। দৃষ্টিতে বাগিচার ফোয়ারাটির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এমন সময়। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। অকস্মাৎ প্রাসাদের পিছনের দরজাটি খুলে গেল। ব্যস, হুড়মুড় করে | বাগানে ঢুকে গেল কুড়িটি ক্রীতদাস ও কুড়িটি ক্রীতদাসী।

পরমুহুর্তেই দেখ গেল স্বয়ং বেগম সাহেবাকে। তিনিও তাদের সঙ্গে যােগ দিলেন। সবাই নগ্ন, সম্পূর্ণ বিবস্ত্র। বাগিচার বিভিন্ন প্রান্তে, নিরালায় গিয়ে বসল তারা জোড়ায় জোড়ায়।

ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীরা জোড়াবেঁধে যে যার পছন্দমত জায়গায় চলে যাওয়ার পর বেগম সাহেবা গলা ছেড়ে হাঁক দিলেন—“মাসুদ! মাসুদ!

বেগম সাহেবার আহ্বান কানে যেতে না যেতেই বিশালদেহী এক  নিগ্রো যুবক লম্বা-লম্বা পায়ে বেগমের কাছে ছুটে এল। তাকে | পুতুলের মত কোলে তুলে নিয়ে পরম আনন্দে বার কয়েক চুম্বন করল। পুলকে-আনন্দে অভিভূত করে তুলল বেগম সাহেবার দেহমন। চোখের তারায় দেখা দিল কাম-তৃষ্ণার সুস্পষ্ট ছাপ। বিবস্ত্রা প্রেমাকুল বেগম সাহেবাকে কোলে করে নিগ্রোটি কয়েক পা এগিয়ে

সবুজ ঘাসের আস্তরণের ওপর আলতাে করে শুইয়ে দিল। তারপরই শুরু হয়ে গেল দৈত্যাকৃতি নিগ্রোটির বল্গাহীন পেষণ। সে সঙ্গে বেগম-সাহেবার কুসুম-কোমল দেহ পল্লবটিকে দলন -পেষণে সে

বার বার পিষ্ট করতে লাগল। আবেশে জড়ানাে তার আঁখি দুটো পুলকানন্দে বার বার অর্ধনিমিলিত-নিমিলিত হতে লাগল। আর মনের মধুর আবেগ আর নিরবচ্ছিন্ন রােমাঞ্চ বার বার উপচে পড়তে লাগল। এ যেন এক অনাস্বাদিত আনন্দকে হঠাৎ হাতের মুঠোয় পেয়ে উভয়ে পুরাে পুরি উপভােগ করে নিচ্ছে। সারা রাত্রি ধরে দৈত্যাকৃতি নিগ্রো যুবকটি বেগম সাহেবার কুসুম কোমল দেহটিতে বার বার আলিঙ্গন, চুম্বন, দলন আর পেষণের মাধ্যমে রােমাঞ্চ জাগিয়ে তুলল, নিজের যৌবনক্ষুধাকেও পুরােপুরি নিবৃত্ত করে নিল। | বেগম সাহেবা আর নিগ্রো যুবকের ব্যাভিচারের দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করে শাহজামানের মন একটু শান্ত হ'ল। প্রবােধ পেল। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপন মনে বলে উঠলেন—হায় খােদা! আমার বড় ভাইয়ার নসীব দেখছি আমার চেয়েও মন্দ! | বাদশাহ শাহজামান-এর বুকের ওপর থেকে বিশালায়তন পাথরটি সরে যাওয়ায় যেন বেশ হাল্কা মনে হ’ল এবার। সরাবের বােতলটি হাতে তুলে নিলেন। গলায় ঢেলে দিলেন। ঢগবগ করে সবটুকু সরাব গিললেন। তার দেহে হৃত বলশক্তি ফিরে এল। ফিরে পেলেন মানসিক স্বস্তি।শাহজামান ভােররাত্রে শয্যা নিলেন। কখন যে জানলা দিয়ে  সূর্যের আলাে ঘরে ঢুকে মেঝেতে লুটোপুটি খেতে শুরু করেছে, বিন্দুমাত্রও হুস তার নেই।

বাদশাহ শারিয়ার বেশ বেলায় শিকার সেরে প্রাসাদে ফিরে এলেন। ছােটভাইয়া শাহজামান তখন আরামকেদারায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চেখবুজে রাত্রির ঘুমের ঘাটতিটুকু পূরণ করছেন। তিনি তাঁকে ডাকলেন। কুশলবার্তাদি নিলেন। ভাইকে একটু বেশ হাসিখুশি দেখে বাদশাহ শারিয়ার বিস্ময় বােধ করলেন। কৌতূহল নিবৃত্ত করতে গিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন| ‘ভাইয়া, এক রাত্রির মধ্যে এমন কী তাজ্জব কাণ্ড ঘটে গেল যার ফলে তবিয়ত সুস্থ দেখছি, মেজাজ মর্জিও কেমন বদলে গেছে, তােমার ব্যাপার কি বল তাে?

শাহজামান এবার মুখ খুললেন—বলছি শােন, উজিরের মুখে তােমার আকুল আহ্বানের কথা শুনে আনন্দে আমার মন-প্রাণ চনমনিয়ে উঠেছিল। একটি দিন দেরী করতেও আমার মন সরছিল না। কতক্ষণে তােমার সঙ্গে মিলিত হ’ব সে ভাবনা আমার মনকে পেয়ে বসল। লােক-লস্করসহ উজিরের সঙ্গেই পথে নামলাম। কিছুটা পথ পেরােতে না পেরােতেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল ব্যস্ততার জন্য একটি দরকারী জিনিস আনা হয়ে ওঠে নি। বাধ্য হয়ে আবার প্রাসাদে ফিরে যেতেই হ’ল। কিন্তু প্রাসাদে খাস বেগমের ঘরের দরজায় গিয়েই আমার নসীবের করুণতম পরিণতির মুখােমুখি হলাম। যার ফলে মুহূর্তে তামাম দুনিয়া আমার কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়ল। .............To be continued

Post a Comment

0 Comments