গল্পের পরবর্তী অংশঃ গল্পের প্রথম পর্ব পড়তে সার্চ মেনুতে ১ লিখে সার্চ করুন ।
খােদাতাল্লার নামে কসম খেয়ে বলছি, তুমি আমার মাথায় উকুনগুলােকে যদি ঝেটিয়ে বিদেয় করে দিতে পার তবে তােমার ভাল-মন্দের চিন্তা আমার রইল।
বুড়ি খুশীতে ডগমগ হয়ে জুমুরদকে সঙ্গে নিয়ে গুহার বাইরে এল। প্রায় সমতল একখণ্ড পাথরের ওপর রােদে পিঠ দিয়ে বসল।
জুমুর্যদ বুড়ির মাথার উকুন বাছতে বাছতে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলে চারদিকে তাকাতে লাগল। উদ্দেশ্য, পালাবার ধান্দা বের করা। মিহি চিরুণি দিয়ে বুড়ির মাথা আঁচড়াতে লাগল। একে শীতের সকালে রােদের আমেজ তারপর উকুন বাছার সুখে অল্প সময়ের মধ্যেই বুড়ি পাথরের গায়ে হেলান দিয়ে নিদ গেল। গভীর নিদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।
জুমুরদ এবার সন্তর্পণে পা টিপে টিপে উঠে দাঁড়াল। পাশেই ডাকূদের একটি ঘােড়াকে ঘাস খেতে দেখল। তার কাছে গেল। একলাফে তার পিঠে চেপে বসল। ব্যস, দিল জোর কদমে ঘােড়া ছুটিয়ে।
কিন্তু কোনদিকে যেতে হবে, কোথায় তার মেহবুব আলী শার -এর মকান জানা নেই। শয়তান ডাকুটি রাতের অন্ধকারে তাকে গুহায় নিয়ে গিয়েছিল। তাই সে অনন্যোপায় হয়ে হারা উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে ঘােড়া ছুটিয়ে দিল।
জুমুরদ দিনভর উন্মাদিনীর মত ঘােড়া ছুটাল। এক সময় সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। ঘােড়া থামিয়ে এক ঝাকড়া গাছের তলায় ঘােড়া দাঁড় করাল। শক্ত করে ঘােড়াটিকে বাঁধল। তারপর গাছটির গায়ে হেলান দিয়ে আধাে নিদ আধাে জাগরণের মধ্য দিয়ে রাত্রি গুজরান করল।
ভােরের আলাে ফুটে উঠল। জুমূর্যদ ফিন ঘােড়ার পিঠে চাপল।
জুমুরদ এগার দিন ঘােড়া ছুটিয়ে মরুভূমি পেরিয়ে এক মনােরম ঘাসের দেশে এসে পৌছাল। সেখানে ইয়া বড় বড় সবুজ ঘাসের বিচিত্র সমারােহ। পাশেই পানিও রয়েছে। সে ঘােড়া থেকে নামল। একটি গাছের গুড়ির সঙ্গে ঘােড়াটি বেঁধে দিল ঘাস খেয়ে একটু শক্ত সাবুদ করে নেয়ার জন্য। এবার সে এক-পা-দু পা করে এগিয়ে গেল। দেখল, গাছে গাছে পাকা ফল ঝুলছে। একটি শুকনাে ডাল কুড়িয়ে নিয়ে কিছু পাকাফল পাড়ল। পেটপুরে খেল। তলাও-এর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে কলিজাটিকে শান্ত করল।
জুমুর্যদ ফিন ঘােড়া ছুটিয়ে দিল। সামান্য এগােতেই সে এক জঙ্গলে ঢুকে গেল। গভীর জঙ্গল। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে সরু একটি পথ। সে-পথ ধরে দুর্বার গতিতে ঘােড়া ছুটে চলল। জঙ্গল পেরিয়ে ঘােড়া এবার এক নগরে ঢুকল। দূর থেকে সুউচ্চ একটি চূড়া দেখেই সে অনুমান করেছিল যে নির্ঘাৎ গম্বুজের চূড়া। এখন কাছে আসায় নিঃসন্দেহ হল। নগরে ঢুকেই জমর্যদ দেখল, পথের ধারে কয়েকজন জটলা করছে। জটলা ঠিক নয়, বিজয়ােল্লাস। সে ঘােড়া নিয়ে কাছে যেতেই ইনামদার, আমীর, ওমরাহ আর নেতৃস্থানীয় কিছু আদমী ছুটে এসে তাকে কুর্ণিশ করে এমন কায়দায় দাঁড়াল যেন তার আদেশ পালন করতে পারলে নিজেদের জীবন ধন্য জ্ঞান করবে। এতগুলাে গণ্যমান্য আদমীর কাণ্ডকারখানা দেখে জুমুর্যদ রীতিমত অবাক মানল। এমনতর উষ্ণ সম্বর্ধনার কথা তাে ভাবতেই পারে না।
সমবেত আদমীরা সােল্লাসেবলে উঠল—“আল্লাতান্না আপনার মঙ্গল করুন। আমাদের সুলতানকে দীর্ঘজীবি করুন। হে মহামান্য সুলতান, আপনার সুমহান ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে সুলতানিয়ৎ সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আর প্রজাদের সুখ উৎপাদিত হােক!
তাদের বাৎ শেষ হতে না হতেই হাজার হাজার সশস্ত্র সৈন্য সারিবদ্ধ হয়ে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে এল।
সবার আগে ঘােড়ার পিঠে অবস্থানরত ঘােষক গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে সুলতানের শুভাগমন ঘােষণা করতে লাগল।
এখানকার আদমিদের কাণ্ডকারখানা দেখে ছদ্মবেশী জুমূর্যদ এর তো চক্ষুস্থির। এসবের কারণ কিছুই সমঝে উঠতে পারল না।
নগরের প্রধান তার ঘােড়ার লাগাম ধরে হাঁটছে। কৌতূহল দমন করতে না পেরে জুমুরদ তাকে জিজ্ঞাসা করল—‘আদৎ মতলব কি, বলুন তাে?
রাজপ্রাসাদের রক্ষীর কানে তার প্রশ্নটি গেল। সে এগিয়ে এসে কুর্ণিশ করে বলল— “জাহাপনা, আল্লাহর কী মর্জি! কী অসীম দোয়া। তাই তাে তিনি আপনাকে আমাদের মুলুকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
‘তার মানে ? কি বুঝাতে চাইছেন, খােলসা করে বলুন।
—জাহাপনা, আল্লাহ-ই এ-সুলতানিয়তের মুকুট আপনার - শিরে পরিয়ে দিয়ে মসনদে বসিয়ে দিয়েছেন। আমরা আপনার মত এক খুবসুরৎ নওজোয়ানকে আমাদের অভিভাবকরূপে পেলাম। আল্লাহকে সুকরিয়া জানাতেই হয়। তিনি চাইলে তাে আপনাকে না পাঠিয়ে অন্য কোন আদমি, কোন ভিখমাঙ্গাকেও পাঠিয়ে দিতে পারতেন। তা না করে আপনাকে পাঠানাের জন্য হাজার সুকরিয়া তাকে জানাতেই হয়।
জুমুরদ আরও তাজ্জব বনল। রাজপ্রাসাদের রক্ষী বলে চলল—“হ্যা খােদাতাল্লাকে জরুর সুকরিয়া জানাতে হয়। নইলে আপনার বদলে কোন ভিখমাঙ্গা এসে হাজির হলেও আমরা তাকে সুলতানের মসনদে বসাতাম। এরকম সম্মান-খাতির, এরকম সম্বর্ধনা তাকেও আমরা জানাতে বাধ্য থাকতাম। কিসসার এ পর্যন্ত বলার পর প্রাসাদ সংলগ্ন বাগিচায় পাখিদের কিচির-মিচিরের মাধ্যমে ভােরের পূর্বাভাষ ঘােষিত হ’ল। বেগম শাহরাজাদ তার কিসসা বন্ধ করলেন।
তিন শ’ চব্বিশতম রজনী
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর শুরু না হতেই বাদশাহ শারিয়ার বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম কিসসার অবশিষ্ট অংশ শুরু করতে গিয়ে বললেন—“জাহাপনা, নগরবাসীদের উষ্ণ সম্বর্ধনায় জুমুর্যদ যারপরনাই তাজ্জব বনে গেল।
জুমুর্যদ রাজপ্রাসাদের রক্ষীটির বক্তব্যের ফাঁকে চোখ দুটো কপালে তুলে বলে উঠল—“একজন ভিখমাঙ্গা এলেও-
তার মুখের বাৎ ছিনিয়ে নিয়ে রক্ষীটি এবার বলল—“আলবাৎ! জাহাপনা আমাদের মুলুকের প্রচলিত রীতি হয়ত আপনার জানা নেই, ঠিক কিনা?
—কী? কি সে রীতি?
‘আমাদের মুলুকের সুলতান যদি অপুত্রক অবস্থায় বেহেস্তে চলে যান তবে আমরা উৎসুক দৃষ্টি মেলে পথের দিকে চেয়ে থাকি খােদাতাল্লা কবে আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকাবেন, নতুন সুলতানকে পাঠিয়ে দেবেন। সুলতান গােরে যাবার পর যে পরদেশীই আমাদের মুলুকে আসবেন তাকেই আমরা মসনদে বসিয়ে সুলতান হিসাবে বরণ করে নেই, এ রীতি আবহমান কাল থেকে এ-সুলতানিয়তে চলে আসছে। আল্লাহ’কে হাজার কুর্ণিশ করি তিনি মেহেরবানি করে খুবসুরৎ এক সুলতানকেই আমাদের মুলুকে পাঠিয়েছেন।
রাজপ্রাসাদের রক্ষীর বাৎ শুনে জুমুর্যদ-এর মাথায় নানা মতলব এসে ভিড় করতে লাগল। সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, চট জলদি সে এমন কোন কাজই করবে না যার ফলে তার আদৎ রূপ তাদের কাছে ধরা পড়ে যায়। সে চোখে-মুখে কৃত্রিম গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে তুলে অনুচরদের উদ্দেশ্যে বলল—“আমার বাৎ শােন। আমি তুর্কী ঠিকই।
লেকিন সামান্য বংশে আমি পয়দা হইনি। খানদানি বংশ আমার। মুলুকে মুলুকে ঢুঁড়ে আল্লাতাল্লার অপূর্ব সৃষ্টি দেখব বলেই আমি ঘােড়ার পিঠে উঠেছি। তবে হ্যা, মহল্লা ছাড়ার আগে আত্মীয় ও দোস্তদের সঙ্গে বিবাদ একটু-আধটু হয়েছিল। সেখানে ফিন ফিরে যাব না এরকম বাৎ-ও বলেছিলাম। আল্লাতাল্লা যেমন তােমাদের আমাকে জুটিয়ে দিয়েছেন তেমনি আমিও অপ্রত্যাশিত সুযােগ হাতের মুঠোয় পেয়েছি। এমন সুযােগ হাতছাড়া করে বােকামির পরিচয় দিতে আমি মােটেই রাজী নই। আল্লাতাল্লার নামে কসম খেয়ে আমি বলছি, তােমাদের দেওয়া মুকুট শিরে ধারণ করে মসনদে বসব। মিছিল এক সময় সুলতানের প্রাসাদের প্রধান ফটকের সামনে এসে দাঁড়াল। রাজপ্রাসাদ রক্ষী, উজির, আমীর ওমরাহরা ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে এসে যথােচিত অভ্যর্থনাসহ ছদ্মবেশী জুমূর্যদ’কে ঘােড়ার পিঠ থেকে নামাল। প্রাসাদেরই বিশালায়তন এক সুসজ্জিত কামরায় পারিষদরা নতুন সুলতানকে সম্বর্ধনা জানানাের প্রস্তুতি নিতে মেতে গেল। তার গায়ে চাপাল সােনার জরির কাজ করা অত্যুজ্জ্বল রেশমী পােশাক। শিরে পরিয়ে দিল সুলতানের মুকুট। হাতে দিল সুলতানিয়তের প্রতীক রাজদণ্ড। এবার জয়ধ্বনি সহকারে তাকে মসনদে বসিয়ে দিল।
বৃদ্ধ উজীর, নাজীর, আমীর ওমরাহ থেকে শুরু করে সাধারণ পার্ষদ পর্যন্ত সবাই আভূমিলুষ্ঠিত হয়ে যথােচিত সম্মান জ্ঞাপন করল। সদ্য অভিষিক্ত সুলতান শপথবাক্য পাঠ করল।
সভাসদরাও আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে সম্বর্ধনা সভার কাজ সাঙ্গ করল।
জুমুরদ সুলতানের পদে অভিষিক্ত হয়ে রাজ্যশাসন ও প্রজাপালনে নিজেকে লিপ্ত করল।
মসনদে বসেই জুমুরদ কোষাগার থেকে অপরিমিত অর্থ দুস্থ প্রজাদের মধ্যে বিলি করল। প্রজারা তাে আল্লাদে একেবারে গদগদ। এমন দিল দরিয়া, এমন গরীবের দোস্ত ইতিপূর্বে কোন সুলতানই নাকি তারা জিন্দেগীতে দেখে নি। জুমুরদ এবার আর এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিল—গরীব গুবরা প্রজাদের বকেয়া কর মকুব করাই শুধু নয় তাদের জন্য খয়রাতির বন্দোবস্ত করে দিয়ে হাজার হাজার প্রজার চোখের মণিতে পরিণত হ’ল। আর ? কয়েদখানার ফটক খুলে দিয়ে কয়েদীদের মুক্তি দিল। যাবতীয় মামলা মােকদ্দমার নিকেষ করে দিল। নতুন সুলতানকে পেয়ে প্রজারা যেন আশমানের চাঁদকে হাতের মুঠোর মধ্যে পেয়ে গেল। আরও আছে। তার গুণাবলীর শেষ নেই। নওজোয়ান হয়েও হারেমের দিকে ঘেঁষে না। কী অনন্য সংযম! কী ত্যাগ! কী অতুলনীয় বৈরাগ্য! সবাই ভাবল, এক পয়গম্বর। আল্লাতাল্লা প্রজাদের সুখ উৎপাদনের জন্যই তাকে এখানে পাঠিয়েছেন। সবাই সুখী। সবাই খুশী। পারিষদ থেকে শুরু করে সুলতানিয়তের সাধারণ প্রজা পর্যন্ত সবাই খুশীতে ডগমগ। কিন্তু সুখ নেই কেবলমাত্র একজনের দিলে। কে সে! জুমুরদ স্বয়ং। তার বুকে তিলমাত্র খুশীও নেই। দিনভর হরকিসিমের কাজের মধ্যে ডুবে থাকে বটে। কিন্তু বুকের মধ্যে বারবার উঁকি মারে তার বাঞ্ছত আলী শার-এর মুখ। কেউ জানে না তার জ্বালা কোথায় ? কোথায় পরিপূর্ণতার মাঝেও তার অপূর্ণতার ব্যথা-বেদনা। বুকের জ্বালা তুষের আগুনের মত গােপনে পুষে রেখে সে তলে তলে আলী শারএর খোঁজ করতে থাকে। সে যে সাচ্চা মুসলমান। সাচ্চা সতী। পতি অন্তঃপ্রাণা। তার মেহবুবাকে আজ না হােক কাল খুঁজে সে পাবেই। তাকে ফিরে পেতেই হবে।
এক মাহিনা—দু'মাহিনা করে পুরাে এক সাল কেটে গেল। জুমুরদ গােপনে আলী শার-এর বহুৎ তালাশী করল। কিন্তু কোন পাত্তাই মিলল না।
জুমুরদ এবার একটি মতলব ভাঁজল। দারুণ এক ফন্দি। ফন্দিটি যাতে সে শীঘ্র প্রয়ােগ করতে পারে সেজন্য সে তার সুলতানিয়তের উজির, নাজির আর আমীর-ওমরাহদের তলব করল। তাদের হুকুম দিল, আনুমানিক সােয়া তিন মাইল জায়গা ভাল করে ঘেরাও করার বন্দোবস্ত করুন। তার কেন্দ্রস্থলে একটি গম্বুজাকৃতি মহল বানাবেন। প্রাসাদে একটি সুদৃশ্য মসনদ রাখবেন। আর মহলের পুরাে মেঝে পারস্যের লাল গালিচা দিয়ে মুড়ে দেবেন। সেখানে সুলতানিয়তের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বসবেন। সুলতান জুমুরদ-এর কুর্ম অক্ষরে অক্ষরে তামিল করা হল।
সুলতানিয়তের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানাে হল। বাদশাহী খানাপিনার বন্দোবস্ত করা হ’ল। সরাবের বন্যা ছুটল। নিমন্ত্রিতরা মহা খুশী হয়ে বহুৎ আচ্ছাবহুৎ আচ্ছা বলে সুলতানের জয়ধ্বনি দিল।
খানাপিনা আর চলল নাচা-গানা। এরই ফাঁকে জুমুরদ উপস্থিত মেহমানদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরােধ রাখল—প্রতি মাহিনার গােড়াতে আমি এখানে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাব। আমার সুলতানিয়তের প্রজারাও ভােজে যােগদান করবে। আমার হুকুম যে অমান্য করবে তার গর্দান নেব।'
পরের মাসের গােড়ার দিকে সুলতানের হুকুমে ঘােষক ঢ্যাড়া পিটিয়ে প্রচার করে দিল, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সুলতানের নয়া মহলে ভােজ-সভায় অংশগ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় গর্দান যাবে। নির্দিষ্ট দিনে মসনদে সুলতান বসলেন। আর তামাম সুলতানিয়তে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই মিছিল করে হাজির হ’ল পূর্ব ঘােষিত সুলতানের নতুন মহলে। খানাপিনা সারতে সারতে সবাই একে অন্যের সঙ্গে বাৎচিৎ করতে লাগল—এমন প্রজাহিতৈষী সুলতান তামাম দুনিয়াটি ঢুঁড়ে এলেও দ্বিতীয় আর একটি মিলবে না।
সুলতান জুমুরদ গােপনে নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত। সে চঞ্চল চোখের মণি দুটো উপস্থিত সবার মুখের ওপর ঘুরপাক খাওয়াতে লাগল। সে তাজ্জব বনল দিল যাকে চায় তাকে তাে পায় না। কোথায় মিলবে তাকে?
সুলতানের মানসিক অস্থিরতা ও চোখের মণি দুটোর চাঞ্চল্যটুকু প্রজাদের কারাে কারাে নজর এড়াল না। একজন তাে সচকিত হয়ে পাশের আদমিকে বলেই ফেলল—‘গতিক তাে বড় সুবিধের মালুম হচ্ছে না। খােদাতাল্লার কসম! আমার ডর লাগছে। সুলতান যেন বার বার অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছেন।
উপস্থিত নিমন্ত্রিতদের মধ্যে এক উদরসর্বস্ব মাঝবয়সী আদমী খানাপিনা সারছে। সে একের পর এক রেকাবির খানা উদরে চালান দিতে লাগল। তার চৌদ্দ পুরুষেও যেন এ রকম খানা খায় নি। কে এ-আদমিটি? এ-আদমিই খ্রীষ্টান বসুম। এর দৌলতেই জুমুর্যদ আর আলী শার-এর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। উভয়ের জিন্দেগীতে নেমে এসেছে নিরবচ্ছিন্ন দুঃখ, দুর্দশা আর হতাশা। তারই সহায়তায় তার বড় ভাইয়া রসিদ অল-দিন আলী শার’কে নেশার ঘােরে মৃত প্রায় করে রেখে জুমূর্যদ’কে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল।
সুলতান জুমুরদ অপলক চোখে তার প্রতিটি মুহূর্তের
( চলবে )

0 Comments