আলিফ লায়লা পার্ট ৫৬ Arabyarajani Part 56

গল্পের পরবর্তী অংশ ঃ 
এমন সময় নিশি অবসানের পূর্বাভাষ পেয়ে বেগম শাহরাজাদ কিসসা বন্ধ করলেন।

                   একশ’ বাহাত্তরতম রজনী 

একটু গভীর নিশিতে বাদশাহ শারিয়ার অন্দরমহলে বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম তার কিসসার পরবর্তী অংশ বলতে গিয়ে বললেন—জাহাপনা, উজিরের কথা শুনে বাদশাহ শাহরিমানের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিল। তিনি সােল্লাসে বললেন—“উজির তােমার বুদ্ধির তারিফ করতেই হয়। তুমি একেবারে শতকরা এক শ’ ভাগ সত্যি কথা বলেছ। আমার বেটা কামার অল-জামান-এর পিতৃভক্তি অতুলনীয়। সে অবশ্যই দরবারের সবার সামনে আমার ইজ্জৎহানিকর কোন কথা বা কাজে উৎসাহী হবে না। কথা বলতে বলতে সুলতান নিজের গলার মুক্তার হার খুলে উজিরের হাতে দিয়ে বললেন—উজির তােমার এ উপদেশের মূল্য বিচার করা সম্ভব নয়। তবু আমি পুরস্কারস্বরূপ তােমাকে এটি দিলাম গ্রহণ কর।

উজিরের পরামর্শ অনুযায়ী সুলতান শাহরিমান আরও একটি বছর ধৈর্য ধরলেন।

এক সকালে দরবারকক্ষ যখন উজির নাজির এবং অন্যান্য পারিষদের দ্বারা পরিপূর্ণ ঠিক তখনই সুলতান তার বেটা কামার অল-জামানকে তলব করলেন।

জামান দরবারে প্রবেশ করে সুলতানকে যথােচিত পদ্ধতিতে কুর্ণিশ সেরে হুকুমের প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে রইল।

সুলতান শাহরিমান সস্নেহে বললেন—“বেটা, আমি তােমার শাদীর পাক্কা বন্দোবস্ত করে ফেলেছি। আমার দিন ঘনিয়ে এসেছে। কবে যে হঠাৎ চোখ বুজবাে তা আল্লাতান্না ছাড়া কেউ-ই জানেন না। তাই আমার ঐকান্তিক ইচ্ছা তুমি শাদী করে ঘর বেঁধেছ নিজের চোখে দেখে যাই।

সুলতানের কথা শেষ হলে শাহজাদা কামার অল-জামান লাঠির আঘাতে কোমরভাঙা সাপের মত ফেঁস করে উঠল, মুখে কিছু বলল না বটে। কিন্তু তার চোখের ভাষায় মনের খবর, প্রতিবাদ সবার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেল।

সভায় উপস্থিত সবাই ম্লানমুখে মাথা নত করে বসে রইল।

এদিকে লজ্জা-ঘৃণা-অপমানে সুলতানের মুখ এতটুকু হয়ে উঠল। পরমুহুর্তেই গুলি খাওয়া শেরের মত গর্জে উঠলেন—কী তােমার এতবড় স্পর্ধা! আমার মুখের ওপর প্রতিবাদ করার স্পর্ধা তােমার কী করে হ’ল? তাজ্জব বনছি। এবার তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে দরওয়াজার দিকে তাকিয়ে চিল্লিয়ে উঠলেন—ওরে, কে আছিস, শাহজাদাকে পিঠমােড়া করে বেঁধে পাশের মহলের কুঠুরীতে নিয়ে গিয়ে ফেলে রাখ।

দুই জন প্রহরী এগিয়ে এসে শাহজাদা কামার অল-জামানকে রশি দিয়ে আচ্ছা করে বেঁধে এক অন্ধকার কামরায় ঢুকিয়ে দরওয়াজায় তালা বন্ধ করে দিল।

কামার অল-জামান দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে ভাবতে লাগল --এ-ই আমার পক্ষে মঙ্গল হয়েছে। আব্বাজীর হুকুম তামিল করলে আমার অপমৃত্যুই হ'ত। আব্বাজী এ কাজের মাধ্যমে নতুন এক নজীর সৃষ্টি করলেন, দুনিয়ায় যত কেলেঙ্কারী ঘটেছে সবার মূলেই রয়েছে আউরত।'

সুলতান শাহরিমান দরবার কক্ষ ছেড়ে নিজে বিশ্রাম করতে গেলেন। তার দু'চোখে পানির ধারা। একদিন যে লেড়কার প্রার্থনা করে চোখের পানির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন আজ সে-লেড়কাকেই নিজে হাতে কঠোরতম শাস্তি দিয়েছেন।

ক'দিন এমনি ভাবেই কাটল। এক সকালে সুলতান শাহরিমান লেডকার সব গুণাহ মাফ করে দেবেন স্থির করলেন। সে-আন্ধার কামরা থেকে তাকে বের করে নিয়ে আসার হুকুম দিলেন। তিনি ভাবলেন--বেটা কামার অল-জামান-এর তাে এতে কোনই কসুর নেই। সে তাে বহুবারই তার মতামত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু যত ঝামেলা বাঁধিয়েছে বুড়া উজির। তার পরামর্শ শুনতে গিয়ে আজ যত ঝকমারিতে পড়তে হয়েছে। তারই জন্য আজ ইজ্জৎ ঢিলা হয়ে গেছে।

সুলতান শাহরিমান উজিরকে ডেকে খুব করে ধমকালেন। উজির মুখ বুজে সব শুনলেন। কোনরকম উষ্মা প্রকাশ না করে বরং সাধ্য মত শান্তস্বরে হাত কচলে নিবেদন করল-“জাহাপনা তবু আমি বলব আরও পনেরটি দিন কোনরকমে ধৈর্য ধরুন।

ইয়া আল্লাহ! পনের দিন! আমার একমাত্র বেটা ওই আন্ধার কুঠুরিতে আরও পনের দিন পচবে? অসম্ভব! এ হতেই পারে না । 

–“কি যে বলেন জাহাপনা, কেন পচবে? কষ্টই বা পাবে কেন? তার প্রয়ােজনীয় সব বন্দোবস্তই আমি করে দিয়েছি। সে বহাল তবিয়তেই আছে, থাকবেও।

কপালের চামড়ায় ভাজ একে সুলতান বলে উঠলেন—সব বন্দোবস্ত ? কার হুকুমে তুমি বন্দোবস্ত করতে গেলে ? আমি তােমাকে কোতল করব, শূলে চড়াব—না, গর্দান নিয়ে ছাড়ব।  বৃদ্ধ উজির বিনম্র বিনয়ে এবার বলল—‘জাহাপনা, আমার গর্দান, আমার জান তাে যেদিন দরবারে প্রথম নােকরি নেই সেদিনই কবুল করে রেখেছি। এ-গর্দান এখন আর আমার নয়। চাইলে গর্দান রাখেন, চাইলে নামিয়ে দেন—আপনার মর্জি। তবে আমি অন্তত নিঃসন্দেহ যে জাহাপনার সম্মানহানি হয় এমন কাজ কোনদিন করব আমি স্বপ্নেও কোনদিন ভাবি নি। একটি বাৎ দিল দিয়ে বিবেচনা করবেন জাঁহাপনা, শাহজাদা কামার অল-জামান আপনার বেটা বটে। কিন্তু আমাদেরও কম পেয়ারের পাত্র নয়। সে-ই তাে সুলতানিয়তের প্রতিটি আদমির ভবিষ্যতের বল-ভরসা। তাই বলছি কি, যদি কোন প্রহরী পেয়ারবশত শাহজাদার একটু সুখ-সুবিধার বন্দোবস্ত করেই দিয়ে থাকে তবে কি আপনি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন না? সে তাে এ গুণাহ কেবল আপনার বেটার জন্যই নয়, নিজের স্বার্থের তাগিদেই করছে।

বৃদ্ধ উজিরের জ্ঞান-বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে সুলতান নতুন করে বিস্মিত হলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবার বললেন—সবই বুঝলাম উজির। কিন্তু আরও পনের দিন তাকে না দেখে কি করে আমার জান টিকিয়ে রাখব।

–‘অন্য কোন রাস্তা নেই জাঁহাপনা। পনেরটি দিন আপনাকে ধৈর্য ধরতেই হবে। তারপরই দেখবেন শাহজাদা বিলকুল বদলে গেছে। তখন আর শাদীর নামে সে চমকে উঠবে না। আপত্তিও করবে না।

সুলতান এতকিছু শােনার পরেও দিলকে শক্ত করে বাঁধতে পারলেন না। অস্থিরচিত্ত সুলতান রাতভর ওঠা-বসা-পায়চারি করে বেড়াতে লাগলেন।

আবার আন্ধার সে কুঠরিতে শাহজাদা কামার অল-জামান রাত্রে খানাপিনা চুকিয়ে বাত্তি জ্বেলে কিতাব খুলে বসল। কয়েক পাতা পড়ল। এবার আচ্ছা করে রুজু সেরে নিত্যকার অভ্যাসমত কোরাণের কয়েক পাতা পাঠ করল। কোরাণটি কপালে ছুঁইয়ে পাশের টেবিলে রাখল। এবার বিছানায় গেল।

বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ পর্যন্ত বলার পর প্রভাতের পূর্বাভাষ পেয়ে কিসসা বন্ধ করলেন।

          একশ’ ছিয়াত্তরতম রজনী 

রাত্রির দ্বিতীয় যামে বাদশাহ শারিয়ার আবার অন্দর মহলে এলেন। তিনি বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় প্রবেশ করলে বেগম তাকে মুচকি হেসে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন।

বাদশাহ শারিয়ার তার মেহবুবা বেগম শাহরাজাদকে দুহাতে আলিঙ্গন করে বুকে টেনে নিলেন। বেগম সাহেবা বাদশাহের প্রশস্ত বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে পরম তৃপ্তিটুকু নিঃশেষে উপভােগ করতে লাগলেন। পর মুহূর্তেই তার ছােট বহিন দুনিয়াজাদ-এর উপস্থিতির কথা মনে পড়ে গেল। বাদশাহের কণ্ঠলগ্না হয়েই তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন।

কিশােরী দুনিয়াজাদ তখন বালিশে মাথা রেখে দু'হাতে মুখ ঢেকে শুয়ে আঙুলের ফাক দিয়ে তার চোখের মণি দুটো উঁকি মারতে লাগল।

শাহরাজাদ ধমক দিয়ে বললেন—“মুখপুড়ী, খুব পাকা হয়েছিস, না ? পাশ ফিরে শো ।

দুনিয়াজাদ এক ঝটকায় পাশ ফিরল। সে চোক চোক আওয়াজ শুনে বুঝতে পারল বাদশাহের ঠোট দুটো তার বহিনজীর ঠোটে আটকা পড়ে গেছে। পরস্পরের দেওয়া নেওয়ার মাধ্যমে পরম তৃপ্তিতে ভেসে চলেছে এক অজানা-অচেনা আনন্দ-সায়রে। সে ডান-হাতটি ধীরে ধীরে তুলে এনে নিজের বুকে রাখল। শরীরের সর্বশক্তি নিয়ােগ করে টিপে ধরল। অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করল। কলিজায় যেন আগুন জ্বলছে। এ-কিসের যন্ত্রণা, কিসের আগুন তা বুঝার মত বয়স তার অনেক আগেই হয়েছে। আবার তার পিছনে দিক থেকে অদ্ভুত এক রােমাঞ্চকর আওয়াজ কানে এল। নিজের নিচের ঠোটটিকে দাঁত দিয়ে শক্ত করে কামড়ে ধরল। জোরে....আরও জোরে কামড় বসাল। কখন যে ঠোট কেটে তির তির করে খুন বেরােতে শুরু করেছে বুঝতেই পারে নি।

রাত্রি ক্রমে গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। বাদশাহ ও বেগম কামজ্বালা নিবারণের নতুন খেলায় মেতে ওঠেন। কিশােরী দুনিয়াজাদ অনুমান করতে পারে তারা কখন, কোন পর্যায়ে অবস্থান করছেন। তার রক্তে মাতন লাগে, শিরা-উপশিরায় রক্তের গতি বৃদ্ধি পায়। নিজেকে আর সংযত রাখতে পারে না। বুকের তলায় কোল বালিশটি রেখে তার ওপর সজোরে চাপ প্রয়ােগ করতে লাগল।

এমনি করে উভয় পক্ষ আবছা আন্ধারে আরও কিছুটা সময় কাটিয়ে দিল। সাধ্যমত যে যতটুকু সম্ভব রাত্রিটিকে উপভােগ করল। এক সময় বেগম শাহরাজাদ তার ছােট বহিন দুনিয়াজাদ-এর পিঠে ছােট্ট করে এক চাপড় মেরে বললেন—‘নে এদিকে ফের, বুঝেছি। আর ঘাপটি মেরে, ঘুমের ভান করে শিটকে লেগে পড়ে থাকতে হবে না।

দুনিয়াজাদ এক ঝটকায় পাশ ফিরে তার বহিনজীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল—মাঝখান থেকে আজ বুঝি জাঁহাপনার কিস্সাই শােনা হবে না।

–“কি করে হবে মুখপুড়ী? গাছের খাওয়া আবার তলেরও কুড়ােনাে—এক সঙ্গে তাে চলতে পারে না।

জাহাপনা, এবার কিসসার পরের অংশটুকু বলছি। শুনুন শাহজাদা কামার অল-জামান’কে যে জরাজীর্ণ পোড় বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল সেটি এক সময় ঝলমল করত। আদমিদের যাতায়াতে সর্বদা গমগম করত।

অতি প্রাচীন কালের ব্যাপার। রােম নগরী তখন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নগরী। এখন ধ্বংসস্তুপের মত এ-মহলটি একসময় ছিল সমসাময়িক কালের বাদশাহের প্রাসাদ। এ-ভাঙা প্রাসাদটি বহু সু ও কুকীর্তির সাক্ষী। এর প্রতিটি ইট, কাঠ আর পাথরের গায়ে বহু হাসি-কান্না-আনন্দের ধারা জড়িয়ে রয়েছে। এ-প্রাসাদটির ঠিক পিছনে একটি বিশাল ইদারা রয়েছে। সেটি এক জিনির নিশ্চিন্ত বাসস্থল। যুবতী জিনি মাইমুনাহ। ইবলিসএর বংশধর। মাইমুনাহর আব্বাজী বাদশাহ জিন দিমিরিয়াৎ। সাবটেরা নিয়ান-এর বাদশাহ। তার বীরত্বের বহু অলৌকিক ঘটনার কিসসা তামাম দুনিয়ার আদমির মধ্যে প্রচারিত।

জিনি মাইমুনাহ প্রতিরাত্রের দ্বিতীয় প্রহরে সে-ইদারা থেকে বেরিয়ে আকাশে উড়ে যায়। উড়তে উড়তে মহাশূন্যে গিয়ে মনস্থির করে কোনদিকে সে ধাওয়া করবে।

নিত্যকার অভ্যাসমত জিনি সে রাত্রেও ইদারা থেকে বেরিয়েই সচকিত হয়ে উঠল। সে দেখে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ বাড়িটার জানালা দিয়ে আলাে ভেসে আসছে। ইতিপূর্বে এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড আর কোনদিন তার চোখে পড়ে নি। তাজ্জব বনে যাওয়ার মত ব্যাপারই বটে। যে বাড়িতে কোনদিন কোন আদমির পায়ের ছাপ পড়ে না সেখানে আদমি এল কোত্থেকে? তার কৌতুহল হল। ব্যাপারটি কি? কোন রহস্য এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাকে সে রহস্য ভেদ করতেই হবে, এরকম ভেবে জিনি গুটি গুটি পোড় বাড়িটির ভেতরে ঢুকে গেল।

কামার অল-জামান তখন অর্ধনগ্ন অবস্থায় পালঙ্কের ওপর শুয়ে।

জিনি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে নগ্নপ্রায় নওজোয়ানটির দিকে বিস্ময় মাখানাে দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। নিষ্পলক তাৱ চাহনি। তার দিলে এক অনাস্বাদিত রােমাঞ্চ জাগে। ধীর-পায়ে অতি সন্তর্পণে জিনি জামান-এর পালঙ্কের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। চোখ ও দিল ভরে তার যৌবনভরা দেহটির সুরৎ উপভােগ করল। তার চোখ দুটো পানিতে ছলছল করে উঠল। ভাবল, কোন্ পাষাণ হৃদয় তার বেটাকে এখানে নির্বাসনে পাঠিয়েছে? তার কি মায়া-মমতার লেশমাত্রও নেই? সে হতচ্ছাড়া কি জানে না যে, এখানে শয়তান আফ্রিদি দৈত্যের বাস? তার নজরে পড়লে এর দেহটিকে টুকরাে টুকরাে করে ছাড়বে। জিনি আপন মনে বলে চলে—এ নওজোয়ান যে-ই হােক না কেন আমি এর জান বাঁচাব। এর জন্য যে কোন মূল্য দিতেও আমি রাজী। আল্লাতাল্লার আশীর্বাদলব্ধ এ নওজোয়ানটির জান—জিনি কথাটি শেষ করল না। কামার অল-জামান-এর মুখের কাছে নিজের ঠোট দুটো এগিয়ে নিল। নিঃশব্দে চুম্বন করল। এবার আগের মতই জানালা দিয়ে গলে বাইরে বেরিয়ে গেল। বাতাসে ভর দিয়ে নীল আকাশের দিকে উড়ে চলল।

কয়েক মুহূর্ত কাটাতে না কাটাতেই এক অবাঞ্ছিত শব্দ তার কানে এল। অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক তাকাল। দেখল, এক অতিকায় আফ্রিদি দৈত্য তার দিকে ধেয়ে আসছে। এবার চিনতে পারল—আফ্রিদি দানাশ। হতচ্ছাড়া হাড়ে হাড়ে বদমায়েশ। সুলতান সুলেমান-এর বশ্যতার ধার সে ধারে না। এর আব্বার নাম সামহারিস। জিনদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী ব'লে সুনাম রয়েছে। জিনি মাইমুনাহ-র দিলে আতঙ্কের সঞ্চার হয়। যদি ওই ভাঙা করিটির দিকে এর নজর যায় তবেই কেলেঙ্কারীর চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

আফ্রিদি দানাশ তার মনের কথা যেন বুঝতে পেরে গেছে। সে কাতর মিনতি করে—“জিনি, মাইমুনাহ আমাকে মেরাে না। আমি সুলেমানের দাসানুদাস। সুলেমান তােমায় দোয়া করবেন, ভালই করবেন, দোহাই তােমার।

মাইমুনাহ ম্লান হাসল। মনে মনে বলল—এখন সুলেমানের ওপর তােমার খুব ভরসা দেখছি হে! গলায় ফাঁস আটকেছে তাে তাই সুলেমান সুলেমান করছ। অন্য সময় তার চৌদ্দ পুরুষ উদ্ধার করতেও ছাড়বে না। এবার আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে বলল—কথাটা। ঠিকই বলেছ। একটিমাত্র শর্তে আমি তােমাকে রেহাই দিতে পারি।। তুমি কোথেকে আসছ, বল? ঝুট বলার কোশিস করবে না। যদি ঝুট বলার কোশিস কর তবে জিভ টেনে ছিড়ে দেব বলে দিচ্ছি।' 

—“ছিঃ তুমি অমন কথা বলতে পারছ সুন্দরী। আমি কোনদিন তােমার কাছে ঝুট বলেছি নাকি বলতে পারি? আজ একটি তাজ্জব ব্যাপার ঘটেছে। আগে কথা দাও, আমার কিসসা যদি তােমাকে খুশী করতে পারে তবে আমাকে খুশী মত যেখানে সেখানে ঢুঁড়ে বেড়াবার অনুমতি দেবে।

—যেখানে খুশী চলে যাবে? যেখানে দিল চায় চলে যাবে?

বহুৎ আচ্ছা। তােমাকে আমি অনুমতি দিলাম। এবার দিল ভরেছে। তাে? ব্যস, আর কোন কথা নয়, তােমার কিসসা শুরু কর।' মাইমুনাহর কাছাকাছি পাশাপাশি উড়ে বেড়াতে বেড়াতে বলল—“সুন্দরী, তবে সে-কিসসা শুরু করছি—আমি এখন সম্রাট ঘায়ুর-এর সাম্রাজ্য থেকে আসছি। বহু দুরবৰ্ত অঞ্চল পশ্চিম চীন তার সাম্রাজ্য। প্রবল পরাক্রান্ত সম্রাট ঘায়ুর। তার বীরত্বের কাছে কেবলমাত্র প্রতিবেশী ছােট ছােট রাজা-বাদশাহরাই নয় বহু খ্যাতিমান সম্রাট মাথা নত করে, তার বশ্যতা স্বীকার করে। কোনরকমে নিজের অস্তিত্ব অক্ষুন্ন রেখেছে।

সম্রাট ঘায়ুর তার সেনাবাহিনীকে ছােট ছােট দলে বিভক্ত করেছেন। তবে তার এক একটি দল আমাদের মােট সেনাবাহিনীর চেয়ে ছােট তাে নয়ই, বরং বড়ই বলা চলে।

আর সে দেশের লেড়কিরা এমনই সুন্দরী যে, দেখলে হুরী বলে ভ্রম হতে বাধ্য। গােসল করার পর তাদের গা থেকে মিষ্টি-মধুর খুসবু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। কারাে গা থেকে এমন মিষ্টি খুসবু নির্গত হতে পারে এ যেন খােয়াবের মধ্যেও ভাবা যায় না।

প্রবল পরাক্রান্ত ঘায়ুর-এর কোন লেড়কা নেই, একটি মাত্র লেড়কি। বদর তার নাম। তার সুরৎ বাস্তবিকই বর্ণনার অতীত। আমার বিশ্বাস, বদর-এর তুল্য রূপসী তামাম দুনিয়ায় দ্বিতীয় আর কেউ নেই। একমাত্র বেহেস্তের হুরীদের কারাে কারাে মধ্যে এরকম সুরতের সমাবেশ ঘটতে পারে। এক কথায় বলতে গেলে যেকোন নিরাসক্ত নওজোয়ানও যদি তাকে প্রত্যক্ষ করে তবে তার বুকে তুফান উঠবে, সাগরের উত্তাল-উদ্দাম ঢেউ বইতে বাধ্য।

উদ্ভিন্ন যৌবনা লেড়কি বদর সম্রাট ঘায়ুর-এর চোখের মণি। যত দিন যাচ্ছে, বয়স যত বাড়ছে ততই তার দেহে সুরতের হাট বসছে। সম্রাট কিছুদিন আগেও লেড়কির দিলে খুশী উৎপাদনের জন্য বস্তা বস্তা দিনার খরচ করে আজব এক প্রাসাদ গড়ে দিয়েছেন। সাতমহলা প্রাসাদ। তাদের একটি আগাগােড়া স্ফটিক দিয়ে বানানাে হয়েছে।

তাদের একটি অ্যাসব্যাস্টার, একটি চীনামাটি, একটি বাহারি সব মার্বেল পাথর, একটি রুপাে আর হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সপ্তম মহলাট। এবার হিসাব করে দেখ, কী কাণ্ডটিই না সম্রাট ঘায়ুর তার বেটী বদর-এর জন্য করেছেন। দুনিয়ার সেরা কারিগরদের দিয়ে বানানাে সাতমহলা প্রাসাদটির দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়।

সম্রাটের ইচ্ছা, বদর প্রত্যেকটি মহলে একটি করে বছর বসবাস করবে। অর্থাৎ প্রতি সাত বছর বাদে একটি মহল ভােগ করবে।

সুন্দরী মাইমুনাহ, তােমাকে কি করে যে বিশ্বাস করাই, তাকে দেখার পর থেকে আমার দিমাক একেবারে বিগড়ে গেছে। কোন কিছুতেই আমার দিল ভরছে না।

সম্রাট ঘায়ুর লেড়কির শাদীর কথা ভাবল। তার শাদীর কথা চারিদিকের রাজ্যে প্রচার করা হ’ল। দেশ-বিদেশ থেকে সম্রাট বাদশাহ সুলতান, শাহজাদা আর আমীর-ওমরাহদের হাট বসে গেল ঘায়ুর-এর প্রাসাদে। লেড়কি একটি। কিন্তু পাণিপ্রার্থী হাজার। ঘায়ুর চাইল কি তার আদরের খুবসুরৎ লেড়কি তার পছন্দ মাফিক বর বেছে নিক। রূপসী বদরকে নিয়ে আসা হ’ল পাণিপ্রার্থী নওজোয়ানদের হাটে। কিন্তু কারাে সঙ্গেই তার হাসি বিনিময় হ’ল না। তার কৃপা -দৃষ্টি লাভের সৌভাগ্য কোন নওজোয়ানেরই হ’ল না। শাহজাদী বদর-এর এক কথা, কোন পুরুষের তাবে থেকে জীবন ধারণ তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর পদ্মের পাঁপড়ির মত তুলতুলে তার ওষ্ঠদ্বয় কি করে কোন পুরুষের কঠিন-কঠোর ওষ্ঠের নির্যাতন বরদাস্ত করবে। আর সদ্য প্রস্ফুটিত পদ্মের মত তার নিটোল স্তনদ্বয় কোন পুরুষের কঠোর নির্মম হস্তের পেষণে পিষ্ট হবে এ যে তার কল্পনারও অতীত। ভাবলেই তার শরীরের সবক’টি স্নায় কেমন অবশ হয়ে আসতে চায়। আর...আর তার কুসুম কোমল নিতম্বদ্বয় কোন পুরুষের দেহভারে পিষ্ট হবে—অসহ্য। আর যা কিছু সম্পদ কুমারী উদ্ভিন্ন যৌবনা শাহজাদী বদর সযত্নে রক্ষা করে আসছে তা কোন পুরুষের নির্মমতার কাছে সঁপে দেয়ার কথা ভাবলেই তার মাথা ঝিম ঝিম করে। সর্বাঙ্গ অবশ হয়ে আসতে চায়। অসহ্য! অসম্ভব!

সম্রাট ঘায়ুর লেড়কির মতের বাইরে কিছু করতে চান না। সে যদি কোন পুরুষের হাতের মুঠোয় আবদ্ধ হতে নাই চায়, আপত্তি করবেন না। তবে বহুভাবে তাকে যে বােঝাবার চেষ্টা তিনি করেন নি তা নয়।

একবার এক প্রবল পরাক্রমশালী সম্রাট প্রভূত হীরা জহরৎ ও অন্যান্য বহুমূল্য উপঢৌকন পাঠিয়ে রূপসী তন্বী যুবতী বদর-এর পাণি প্রার্থনা করলেন।

সম্রাট ঘায়ুর তার বেটি বদর-এর কাছে প্রস্তাবটি পাডলেন। সাধ্যমত বুঝাতে চেষ্টা করলেন, এতবড় সম্রাটের বেগম হওয়া নসীবের ব্যাপার।

ঘায়ুর-এর পরিশ্রম-প্ৰয়াস পুরােপুরি বিফলে গেল। উপরন্তু তার বেটি গেল বিগড়ে। সে তার আব্বার মুখের ওপর বলে দিল—“আব্বা তুমি আমার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছ। তােমার নির্মম নিষ্ঠুর আচরণ আমাকে আত্মঘাতী হওয়ার পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে। এ জান খতম না করলে দেখছি তুমি আমাকে রেহাই দেবে না । 

সম্রাট ঘায়ুর দেখলেন, একী মহা সমস্যায় পড়া গেল! দেখা যাচ্ছে যা-ই করা হচ্ছে বিলকুল হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি বলতে বাধ্য হলেন, ভবিষ্যতে আর কোনদিনই তার শাদীর কথা মুখেও উচ্চারণ করবেন না। বেগম শাহরাজাদ কিসসার এ পর্যন্ত বলার পর ভােরের পূর্বাভাষ পেয়ে কিসসা বন্ধ করলেন।

পরের রাত্রে বাদশাহ শারিয়ার আবার বেগম শাহরাজাদ-এর কামরায় এলেন। বেগম তার কিসসা শুরু করতে গিয়ে বললেন—“জাহাপনা সম্রাট ঘায়ুর তার লেড়কির শাদীর কোশিস আর করলেন না। তিনি দিল থেকে ব্যাপারটি মুছে ফেললেন।

আফ্রিদি দানাশ কিসসার এ পর্যন্ত বলে জিন মাইমুনাহর দিকে আবেগ-বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল। বলল—‘মাইমুনাহ, সে বেহেস্তের পরীকে আমি নিজের চোখে দেখে এসেছি। তােমার দিল্ চাইলে আমার সঙ্গে যেতে পার, দেখে চোখ দুটোকে সার্থক করে তুলবে। মাইমুনাহ তাচ্ছিল্যের স্বরে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল—কথাটি বলতে তােমার মুখে এতটুকুও বাঁধল না! সামান্য এক লেড়কির সুরৎ দেখেই তােমার দিমাক বিগড়ে গেছে। বলিহারি তােমার সুরতের বিচার! আসলে সুরৎ কাকে বলে তুমি বােঝই না।

আফ্রিদি দৈত্য দানাশ বােকার মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। জিনি মাইমুনাহ বলে চলল–হ্যা, আমি ঠিকই বলেছি। খুবসুরৎ কাকে বলে, তুমি জানই না। আমি যে নওজোয়ানকে পেয়ার মহব্বৎ দিয়েছি তাকে দেখলে তাে তােমার শির ঘুরে যাবে। আর মুখে রা পর্যন্ত সরবে না।

–তাই বুঝি ?’ তাচ্ছিল্যের সঙ্গে দৈত্য দানাশ বলল-কে সে? কোথায় তার ঘর?’

—এক শাহজাদা। বাদশাহের লেড়কা। আমি যে ইদারায় থাকি তারই লাগােয়া এক ভাঙাচোরা বাড়িতে তাকে দেখে এসেছি। বন্দীজীবন যাপন করছে।

—“তবে যাই, একবারটি দেখে আসি গে। কথা বলতে বলতে দৈত্য দানাশ ঘােরার কোশিস করল। জিনি আচমকা তার হাত চেপে ধরে বলল—“সে কী, কোথায় চললে? খবরদার! তুমি একা যাবে না সেখানে। যেতে চাও তাে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাব। তােমাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। ঈর্ষার বশে হয়ত তাকে খতমই করে দেবে। বহুৎ খুবসুরত নওজোয়ান দেখলেই তােমার হাত দুটো নিসপিস করতে থাকে। তার জান না নেয়া পর্যন্ত তােমার দিমাক ঠাণ্ডা হয় না।

ঠোটের কোণে হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে আফ্রিদি দৈত্য দানাশ বলল--তুমি কি যে বল সুন্দরী, বুঝে পাই না। তুমি যাকে পেয়ার মহব্বৎ কর তার অনিষ্ট আমি কখন করতে পারি? আমি আল্লাতাল্লার নামে কসম খেয়ে বলছি, কোনদিন আমি একা একা তােমার মেহবুবের কাছে যাবনা। চল, দূর থেকে এক ঝলক দেখেই চলে আসব।'

জিনি মাইমুনাহ এবার পিছন ফিরে আবার শূন্যে ভেসে চলল। আফ্রিদি দৈত্য দানাশ তাকে অনুসরণ করল।

চোখের পলকে তারা সে পোড় বাড়ির চিলেকোঠার জানালার কাছে হাজির হল। তারপর জানালা দিয়ে গলে গেল। কামরার ভৈতরে ঢুকে জিনি মাইমুনাহ বলল—“খবরদার কোনরকম শব্দ কোরাে না! এর ঘুম ভাঙলে কেলেঙ্কারী হয়ে যাবে কিন্তু।

আফ্রিদি দৈত্য দানাশ আবেগে-উচ্ছ্বাসে অভিভূত হয়ে বলে উঠল--বাঃ চমৎকার! কোন পুরুষের মধ্যে এমন সুরতের মেলা বসতে পারে এ যেন কল্পনারও অতীত। এ যেন সদ্য বেহেস্ত থেকে নেমে এসেছে। এবার মাইমুনাহর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল—“আমি আমার মেহবুবা যে শাহজাদীর সুরতের বর্ণনা তােমাকে দিয়েছিলাম সে তােমার মেহবুব এ-শাহজাদার সুরতের তুলনায় খুবই নগণ্য।

জিনি মাইমুনাহ তার পাখা দিয়ে দানাশ-এর মুখে আচমকা এক ঝাপটা দিয়ে বলল-“খুব হয়েছে। এবার মানে মানে এখান থেকে কেটে পড়। এভাবেই তােমার মধ্যে ঈর্ষার উদ্ভব হয়। তারপরই তুমি তার জান খতম—ভাগ ভাগ বলছি। নইলে এমন এক আছাড় মারব যে তােমার দফা একেবারে রফা করে ছাড়ব। যাও, সােজা তােমার পেয়ারের বদর-এর কাছে চলে যাও। এবার দু’পা এগিয়ে তার মুখােমুখি দাঁড়িয়ে বলল—“তােমার রূপসীকে আজ রাত্রেই এখানে নিয়ে আসা চাই। তাদের পাশাপাশি রেখে আমি যাচাই করে দেখতে চাই, কার সুরৎ সবচেয়ে বেশী, আমার মেহবুব, নাকি তােমার মেহবুবা ওই শাহজাদী বদর-এর খেয়াল রেখাে, আজ রাত্রেই আমি তাকে এখানে দেখতে চাই নইলে এমন এক আছাড় মারব যে হাড্ডি একেবারে ওঁড়া হয়ে যাবে। যাও জলদি গিয়ে তাকে এনে এখানে হাজির কর। জিনি মাইমুনাহ-র ধমক খেয়ে আফ্রিদি দৈত্য দানাশ-এর কলিজা ডরে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। ভীত-সন্ত্রস্ত দিল নিয়ে ডরে জড়ােসড়াে হয়ে সে জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেল। প্রায় এক ঘণ্টা পরে সে ঘুমন্ত শাহজাদী বদরকে নিয়ে এল।

তাকে জানালায় দেখেই জিনি মাইমুনাহ ফোস করে উঠল—কী ব্যাপার, এত দেরী হল কেন? পশ্চিম চিনে যাতায়াতে এত সময় তােমার লেগে গেল। আমাকে শেখাচ্ছ। হতচ্ছাড়া শয়তান কাহিকার! বুঝেছি, পিঠের ওপর এমন যৌবনের জোয়ার লাগা কুমারী। ফিনফিনে একটি কামিজ ছাড়া গায়ে কিছুই নেই। তার ধবধবে শরীরের রােমগুলি পর্যন্ত কামিজ ভেদ করে নজরে পড়ছে। দেহের প্রতিটি ভাজ ফুলে ফেঁপে উঠছে। এত কিছু দেখে তােমার দিমাক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কলিজায় আগুন ধরে গিয়েছিল বুঝি। কামজ্বালায় দগ্ধ হতে হতে এক সময় শাহজাদী বদরকে পথের মাঝে নামিয়ে—“ছিঃ মুখ ফুটে বলা তাে দুরের কথা ভাবতেও পারছিনে। তােমাকে আমি চিনি না? তােমার দিলে যদি একবার সম্ভোগের বাসনা জাগে তখন ভােগ না করা পর্যন্ত তােমার দিল ঠাণ্ডা হবার নয়।

আফ্রিদি দৈত্য দানাশ মুখ গােমড়া করে, নিতান্ত অপরাধীর মত মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। টু-শব্দটিও করল না।

জিনি মাইমুনাহ এবার শাহজাদী বদর-এর দিকে দৃষ্টি ফেরাল। অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলে কয়েক মুহুর্ত অপলক চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে। তার বিবস্ত্র প্রায় দেহপল্লবটিকে খুটিয়ে খুটিয়ে নিরীক্ষণ করে এক সময় আবেগভরে বলে উঠল—“বাঃ কী সুরৎ! চোখে ধাধা লাগিয়ে দেয়!’ এবার আলতাে করে তার গা থেকে কামিজটি খুলে নিল। আবার নিরীক্ষণে লিপ্ত হ’ল। আপন মনে বিড় বিড় করে বলতে লাগল—একমাত্র বেহেস্তের হুরীদের দেহেই এরকম সুরৎ দেখা যায়। দানাশ এর সুরতের যে বিবরণ দিয়েছিল তার চেয়ে অনেক-অনেক বেশী সুরতের সমাবেশ ঘটেছে এর দেহে। এবার জিনি মাইমুনাহ শাহজাদার দিকে দৃষ্টি ফেরাল। উভয়কে পাশাপাশি রেখে বিচার করল। একসময় মুখ খুলল—‘দানাশ ঝুটবাৎ বলে নি। ( চলবে ) 

Post a Comment

0 Comments