সুচনা ঃ
আরব্য রজনীর গল্প গুলি পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আজও সমান ভাবে সমাদৃত । এর গল্প গুলি বিভিন্ন ভাষায় ও বিভিন্ন রুপ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত গল্প গুলির বেশিরভাগই কাল্পনিক হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সভ্যতার ছোঁয়াও রয়েছে । আরব্য রজনীর গল্প গুলি "আলিফ লায়লা" নামেও পরিচিত । আজ পর্যন্ত আলিফ লায়লা অর্থাৎ আরব্য রজনীর গল্প ইংরেজী ভাষায় যত অনূদিত হয়েছে তাদের মধ্যে ডঃ জে সি মাদ্রুস এর বইটিকেই পূর্নাঙ্গ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
আরব্য রজনীর গল্প গুলি পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আজও সমান ভাবে সমাদৃত । এর গল্প গুলি বিভিন্ন ভাষায় ও বিভিন্ন রুপ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত গল্প গুলির বেশিরভাগই কাল্পনিক হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সভ্যতার ছোঁয়াও রয়েছে । আরব্য রজনীর গল্প গুলি "আলিফ লায়লা" নামেও পরিচিত । আজ পর্যন্ত আলিফ লায়লা অর্থাৎ আরব্য রজনীর গল্প ইংরেজী ভাষায় যত অনূদিত হয়েছে তাদের মধ্যে ডঃ জে সি মাদ্রুস এর বইটিকেই পূর্নাঙ্গ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
এক কাল্পনিক উপাখ্যানের মাধ্যমে আলিফ লায়লার কাহিনীগুলি সূতােয় গাঁথা ফুলের মত একের পর এক এসে হাজির হয়েছে। আর হাজার এক কাহিনীরও সূত্রপাত হয় নিছকই কল্পনার পথ ধরে। এর বিষয়বস্তু মােটামুটি এরকম—-বাদশাহ শাহরিয়ার এর অনুজ সমরখন্দের অধিপতি শাহজামান হঠাৎ আবিষ্কার করলেন তাঁর প্রিয়তমা বেগম তারই রসুইখানায় এক নিগ্রো পাচকের সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত। এমন জঘন্য অভাবনীয় দৃশ্য দেখে তার মাথায় খুন চেপে গেল। নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। তিনি তরবারির আঘাতে উভয়ের দেহই দ্বিখণ্ডিত করে ফেললেন।শাহরিয়ার প্রাসাদে উপস্থিত হলেন। একমাত্র অনুজকে দীর্ঘদিন পরে কাছে পেয়ে বাদশাহ শাহরিয়ার খুশীতে ডগমগ হয়ে তাকে আলিঙ্গন করেন।কিন্তু শাহজামানের মনে তিলমাত্র আনন্দও নেই, তাকে সর্বদা গােমড়া মুখে বসে থাকতে দেখে বাদশাহ শাহরিয়ার যার পর নাই ভাবিত হয়ে পড়েন। কিন্তু অনুজের কাছ থেকে কোন সদুত্তর না পেয়ে তিনিও বিষন্নতার মধ্যে কাল যাপন করতে থাকেন। একদিন বাদশাহ শাহরিয়ার তার কয়েকজন অনুচরকে নিয়ে শিকারে যান। শাহজাদা কিছুতেই অগ্রজের সঙ্গে শিকারে যেতে রাজী হলেন না। তিনি প্রাসাদে নিজের কক্ষের জানালার ধারে বসে বিষগ্নমনে বিনিদ্র রাত্রিযাপন করতে লাগলেন। এক সময় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য তার নজরে পড়ল। দেখলেন, প্রাসাদ সংলগ্ন বাগিচায় অগ্রজ শাহরিয়ারের খুবসুরৎ নওজোয়ান বেগম তার দৈত্যাকৃতি নিগ্রো মেহেবুবের সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত। এমন এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য চাক্ষুষ করায় তাঁর মনের বিষণ্ণতা ও হাহাকার অনেকাংশে লাঘব হল। তিনি বুঝলেন, কেবলমাত্র তার বেগমই নয়, আদতে নারী জাতটাই বিশ্বাসঘাতিনী ও ছলনাময়ী। দুনিয়ার অধিকাংশ মরদই হয়ত তাঁর বিবির অশুভ কামনা থেকে রেহাই পায় না। অতএব তিনিও তাে দুনিয়ারই একজন। তবে কেনই বা তিলে তিলে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবেন? মন থেকে বিষাদ-হাহাকার নিঃশেষে মুছে ফেলে দিলেন। মুখে ফুটিয়ে তুললেন হাসির রেখা। অগ্রজ শাহরিয়ার পরদিন শিকার থেকে ফিরে অনুজ শাহজামানের মানসিক অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তনটুকু লক্ষ্য করে যার পর নাই বিস্মিত হলেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও পীড়াপীড়ির ফলে শাহজামান অগ্রজের কাছে বাগিচায় দেখা তার বেগমের ব্যাভিচারের দৃশ্যটির কথা ব্যক্ত করলেন। বাদশাহ শাহরিয়ার কিছুতেই তা বিশ্বাস করলেন - না প্রমাণ চাইলেন। শাহজামানের পরামর্শে তিনি সে রাত্রে শিকারে যাবার নাম করে প্রাসাদেই আত্মগােপন করে রইলেন। যথা সময়ে দেখলেন তার কলিজার সমান বেগম নিগ্রো নওজোয়ানের সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়েছেন। ব্যস, তার মাথায় খুন চেপে গেল। তিনি নিজেহাতে বেগমকে কোতল করে মনের জ্বালা নেভালেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, আজ থেকে একটি সতী নারীকেও তিনি অসতী হতে দেবেন না। আর প্রতি রাত্রে একটি করে কুমারী মেয়ে তার বেগম হয়ে প্রাসাদে আসবে।
তিনি সারারাত্রি তাকে নিয়ে সম্ভোগে মেতে থাকবেন। শেষে ভাের হওয়ার আগেই তাকে নিজহাতে কোতল করবেন। এভাবে চলতে চলতে এক সময় দেশে কুমারী মেয়ের অভাব দেখা দিল। এবার দেশে কুমারী বলতে রয়েছে একমাত্র তার উজিরের লেড়কি শাহরাজাদ। শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়ের অন্যান্য হতভাগিনীদের মতাে হাল হবে ভেবে বৃদ্ধ উজিরের কলিজা শুকিয়ে গেল। ব্যাপার বুঝতে পেরে শাহরাজাদ বাবাকে সান্ত্বনা দিলেন বাদশাহের তরবারি থেকে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল তার জানা আছে। তবু দুরু দুরু বুকে বৃদ্ধ উজির তার নওজোয়ান লেড়কি শাহরাজাদকে নিয়ে প্রাসাদে গিয়ে বাদশাহের হাতে তুলে দিলেন।
বাদশাহ শাহরিয়ারের শয্যায় শুয়ে শাহরাজাদ অঝােরে কাঁদছেন কেন কারণ জানতে চাইলে বললেন, তার এক অভিন্ন হৃদয় ছােট বহিন আছে, রাত পােহাবার আগে তাকে কিছু সময় নিজের কাছে রাখতে চান।
বাদশাহের হুকুমে উজিরের প্রাসাদ থেকে তার ছােট লেড়কি দুনিয়াজাদকে কাছে পৌঁছে দেওয়া হল। দুনিয়াজাদ তার বহিনজীর কাছে কিসসা শােনানাের জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল। শাহরাজাদ এবার বাদশাহের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কিসসা বলা শুরু করলেন।
তার মুখের কিস্সা শুনে বাদশাহ অভিভূত হয়ে পড়লেন। কিন্তু কিস্সাটি খতম হওয়ার আগেই ভাের হয়ে গেল। কিন্তু কিস্সাটি শেষ পর্যন্ত না শুনে বেগমকে কোতল করতে বাদশাহ শাহরিয়ার কিছুতেই উৎসাহ পেলেন না ।
শাহরাজাদ এমন করে বাদশাহ শাহরিয়ার ও তার ছােট বহিন দুনিয়াজাদকে কিস্সা শুনিয়ে হাজার এক রজনী অতিক্রম করে দিলেন।
বেগম শাহরাজাদ হাজার এক রজনী কিসসা বলার পর তবে থামলেন। বাদশাহ শাহরিয়ার ও শাহরাজাদের মােলাকাতের বা কিসসা শুরু করার পর থেকে কিসসা শেষ করার মধ্যবর্তী সময়ে তাঁদের তিনটি পুত্র জন্মলাভ করে।
কিসসা শুনিয়ে খুসী করার বিনিময়ে শাহরাজাদ বাদশাহ শাহরিয়ারের কাছে কিছু ইনাম প্রার্থনা করলেন। বাদশাহ খুশী হয়ে তাকে ইনাম দিতে সম্মত হলেন।
বেগম শাহরাজাদ এবার শিশু তিনটিকে বাদশাহের সামনে হাজির করে বললেন—জাঁহাপনা কিসসা শুনিয়ে আপনাকে খুশী করা ছাড়াও ইতিমধ্যে আপনার ঔরসজাত এ তিনটি শিশু পুত্রকে আমি গর্ভে ধারণ করে জন্মদান করেছি। সব কিছুর বিনিময়ে আমি এখন আপনার কাছে আমার প্রাণভিক্ষা চাইছি। তবে এ-ও জানবেন, আমার নিজের জন্য নয়, এদের মুখের দিকে তাকিয়েই আজ আমি বেঁচে থাকতে আগ্রহী। আমার অবর্তমানে এরা যে অনাথ হয়ে পড়বে জাঁহাপনা।
বাদশাহ শাহরিয়ার শাহরাজাদ-এর অনুরােধ রক্ষা করলেন। শুধু কি এই? তিনি সমরখন্দ থেকে ছােট ভাই শাহজামানকে তলব করে আনালেন। কাজীর তলব পড়ল। কাজী সাহেব বাদশাহ শাহরিয়ার ও শাহরাজাদের আর শাহজামান ও দুনিয়াজাদের শাদীর শাদীনামা তৈরী করলেন। বাদশাহী জাঁকজমকের সঙ্গে তাদের শাদী মিটে গেল।
বাদশাহ শাহরিয়ার তার দরবারের অনুলেখককে বেগম শাহরাজাদ কথিত হাজার এক রজনীর কিসসাগুলি লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য হুকুম দিলেন। এভাবে আরব্য রজনীর কিসসা সম্পূর্ণ হয়েছে।...........To be continued/চলতে থাকবে ...।

0 Comments